তিক্ততা ভুলে মামদানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের আগে প্রার্থী জোহরান মামদানির নামে কত কী-ই না বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ‘কমিউনিস্ট উন্মাদ’সহ আরও অনেক কড়া ভাষায় মামদানির সমালোচনা করেছিলেন তিনি ।


পাল্টা মামদানিও কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করতে ছাড়েননি। তিনি ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই তিক্ত বাগযুদ্ধ ভুলে এবার বন্ধুত্বই দেখা গেল দুইজনের মধ্যে। নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে মামদানির জয়ের পরই কিছুটা সুর নরম করেছিলেন ট্রাম্প। 


এবার তিনি মামদানির প্রশংসায় হয়েছেন পঞ্চমুখ। গতকাল সোমবার মামদানির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প বলেছেন, “তিনি নিউ ইয়র্কের দারুণ মেয়র হবেন।”


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গেছেন ট্রাম্প। উঠেছেন ম্যানহাটনে মেয়র মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে। গতকাল সোমবার সেখানেই ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন মামদানি। দুইজন রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছেন। এর আগে হোয়াইট হাউজে দু’বার তাদের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল। 


তবে নিউ ইয়র্কে এটাই প্রথম। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে মূলত অভিবাসন এবং স্বল্প মূল্যে বাড়ি তৈরির প্রকল্প নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।


বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মামদানির আচরণকে বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে। আর ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানিকে নিয়ে যে উষ্ণ মন্তব্য ট্রাম্প করেছেন তা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক শোনাবে।


কারণ, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন প্রসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্ররা কয়েক মাস ধরে মামদানিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির ‘কমিউনিজম’ গ্রহণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে নিউ ইয়র্কের বৈঠকে ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন ট্রাম্প আর মামদানি। দু’জনেই একে অন্যের প্রশংসা করেছেন। 


ট্রাম্প এও বলেছেন যে, “মামদানিকে একজন সফল মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। এটাই আমার ইচ্ছা।” তবে কেবল তাই নয়, “মামদানির মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে” বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


ওদিকে, মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সদিচ্ছার প্রশংসা করেছেন। নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের কোম্পানির একাধিক আবাসন নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যার হাউজিয়ে বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে।”


নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের আগে কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ড এলাকায় ১২ হাজার বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। যাতে নাম মাত্র দামে মাথা গোঁজার ঠাঁই পান নিম্নবিত্তরা। গতকাল সোমবার বৈঠকের পরে ট্রাম্প বলেন, ওই এলাকা নিয়ে বহুবছর ধরে আলোচনা চলছে। এবার হয়ত কাজ হবে।


নিউ ইয়র্কের অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামদানি। তিনি বলেন, “কোন কোন ক্ষেত্রে নগর প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েই মূলত কথা হয়েছে।”


আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে নিউ ইয়র্কের ৩৪ বছর বয়সী প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানিকে যেন সম্মানই প্রদর্শন করলেন ট্রাম্প।


নিউ ইয়র্কের এই বাসভবনে ৪৫ বছর আগে সর্বশেষ কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রেখেছিলেন। ১৯৮১ সালে সেই সময়কার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানকার মেয়র এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন। 


তারপর গ্রেসি ম্যানসনে ট্রাম্পের এই পদার্পণটাই সেখানে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর।


ট্রাম্পকে কেন নিউ ইয়র্কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, জানতে চাইলে মামদানি বলেন, নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য ‘কিছু করতে পারেন’ এমন যে কারও সঙ্গে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে তারা দুজনই আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি।


দুই নেতার শরীরী ভাষাতেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে। মামদানি বক্তৃতার মঞ্চে কথা বলার সময় ট্রাম্প এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি মামদানির বাহুতে সস্নেহে দুবার হাত রাখেন।



সর্বশেষ সব খবর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি শিল্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আজ মঙ্গলবার তিনি বলেন, বিশ্বের বড় তেল কোম্পানিগুলো বায়ুমণ্ডলকে নর্দমার মতো ব্যবহার করছে।


গুতেরেস বলেন, ‘আমরা জানি, জীবাশ্ম জ্বালানির স্বার্থসংশ্লিষ্টরা নিজে থেকে সরে দাঁড়াবে না। কয়েক দশক ধরে বড় তেল কোম্পানিগুলো বায়ুমণ্ডলকে নর্দমা হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিপরীতে তারা বিপুল অর্থও আয় করেছে।’


জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিমা পাঁচটি বড় তেল কোম্পানি প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। বিপরীতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাপ খাইয়ে নেওয়ার তহবিলে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৪ বিলিয়ন ডলার।


জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পে ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে বড় তামাক কোম্পানির কর্মকাণ্ডেরও তুলনা করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি দূষণ ও মুনাফা অর্জন করছে তাদেরকেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে।


কিছুদিন আগে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ গ্রীষ্মকালে রেকর্ড তাপমাত্রার সাক্ষী হয়েছে। হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট বন্যায় নেপালে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক’শ মানুষ। এমন সময়ে জাতিসংঘ মহাসচিব তেল কোম্পানিগুলোর দ্বারা বায়ুমণ্ডল দূষিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুললেন।


গুতেরেস বলেন, ‘ঝুঁকি যেমন আছে, তেমন আশাও আছে।’ 


তিনি বিশ্বজুড়ে সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে বর্তমানে সবচেয়ে কম খরচে জ্বালানির উৎস হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘের ওপর থেকে আস্থা উঠে গেছে


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে জাতিসংঘের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 


আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কথা জানান।


আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া এক যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মধ্যেই তারা এই সফরে এসেছেন। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ইরানি জনগণের আইনি অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।


আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার’ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, এতেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে আন্তর্জাতিক শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের ওপর থেকে বিশ্ববাসীর আস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।


তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশ নিজেদের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক বিবেকের ঊর্ধ্বে মনে করে ইচ্ছামতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের স্বজনপ্রীতির কারণে ইসরায়েল ছাড় পাচ্ছে। অন্যদিকে মানবাধিকারের দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সর্বশেষ সব খবর

‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

হোয়াইট হাউসে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ভিডিও সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চ্যানেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি’। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে এটি পরিচালিত হচ্ছে।


হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চ্যানেলটিতে প্রশাসনের বিভিন্ন ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অতীতের নির্বাচিত ভিডিও ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৈরি ও বাছাই করা ভিডিওর মাধ্যমে সরকারি কর্মকাণ্ড সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।


এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


গত শনিবার ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। সিএনএনের প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনের পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।


নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের বিধিনিষেধ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার পরিপন্থী।


এর মধ্যে সোমবার হোয়াইট হাউসের যৌথ টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা পাঁচটি বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান-এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি-যৌথভাবে সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রাখে। হোয়াইট হাউস সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সিএনএনের পরিবর্তে বিকল্প কোনো সংবাদদল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।


হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ট্রাম্প টিভি’তে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, প্রশাসনের ঘোষণা, সংবাদ সম্মেলন এবং অতীতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নির্বাচিত অংশ দেখানো হবে।


তবে এই চ্যানেল স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিকল্প নয়। এর ভিডিও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তৈরি ও বাছাই করা হচ্ছে। ফলে এতে স্বাধীন সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনার সুযোগ নেই।


হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধের মধ্যেই নতুন এই চ্যানেল চালু হলো। তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলার মাধ্যমে এখন হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ান সোমবার টোকিওতে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টি আসার আগে ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে সেখানকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। কানাগাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলে ভূমিধসে একটি বাড়ি ধসে পড়ার পর সেখানে এক নারী জীবন্ত চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন দমকলকর্মীরা। অন্যদিকে, চিবা প্রশাসনিক অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করার সময় এক ব্যক্তি আটকা পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টাইফুনের কারণে ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।


বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজুয়ানের বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। কখনও কখনও ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে।


প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক আঘাত হানা ঝড়ের সর্বশেষটি হলো দুজুয়ান। এ বছরের ‘সুপার এল নিনো’ সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে ঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করায় এসব ঝড় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মানুষের জীবনের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি সবাইকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টাইফুনের প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর বিলম্বিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টোকিওর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বাসিন্দাদের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভের তলায় না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টির তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।


সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি কার্টুনের মাধ্যমে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘বেসমেন্টে পানি দ্রুত ঢুকে পড়তে পারে এবং বাইরে কী ঘটছে তা দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে সেখানে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের ‘অত্যন্ত সতর্ক’ থাকতে হবে।


দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাটি ম্যানহোলের ঢাকনার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে। বন্যার পানিতে এগুলো সরে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিক-এ অবস্থিত সামরিক ঘাঁটির সামগ্রিক দৃশ্য

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের একটি সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করা এবং পূর্ব উপকূলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মঙ্গলবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুজন জানিয়েছেন, পরিকল্পিত দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান সামরিক ঘাঁটি বন্ধ হওয়ার পর নারসারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’-এর ব্যবহৃত একটি সামরিক ফাঁড়ি।


মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা (১৪:৩০ জিএমটি) চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নির্ধারিত হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের আগে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত নাও হতে পারে।


এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্রও চুক্তির বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তিটি ‘গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত ও সুরক্ষিত করবে’।


ডেনমার্ক জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সামরিক প্রতিরক্ষা জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর তত্ত্বাবধানেও আসবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা অনেকাংশে ন্যাটোর দায়িত্বে থাকবে।


চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর করা হচ্ছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন। তিনি ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে জনমত জরিপে গ্রিনল্যান্ডের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।


জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হুমকির মাত্রা চরমে পৌঁছালে তা ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করে। পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসে। নতুন চুক্তিটি সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় করা হচ্ছে।


স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মী মোতায়েন ছিল। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা পিটুফিক স্পেস বেস, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন। নতুন দুটি স্থাপনা চালু হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ পিএম

গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলে যখন একটি গণকবরের সন্ধান মেলে, সেটি পরিকল্পিতভাবে খুঁড়ে তোলা কোনও কবরস্থান ছিল না। সে সময় জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশানের পরিধি বাড়াতে খননকাজ করছিলেন শ্রমিকরা, আর তখনই তারা সেখানে হঠাৎ মানব দেহাবশেষ খুঁজে পেতে শুরু করেন। এরপর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।


অগাস্টের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেখানে খননের তৃতীয় ধাপ শেষ করেন। এ সময় তারা শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান। সেখানে মৃতদের সঙ্গে তাদের নানা ব্যবহার্য জিনিসও পাওয়া যায়; যেমন: চুড়ি, স্কুলব্যাগ, দুধের বোতল।


এটি শ্রীলংকায় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে। এই গণকবরের অস্তিত্ব নিয়ে আগে কিছু গুঞ্জন ছিল।


শ্রীলংকায় কয়েক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় একজন তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখে পড়া এক সেনাসদস্য এমন একটি গণকবরের কথা বলেছিলেন, যেখানে শত শত মরদেহ ছিল।


মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, সেখানকার মরদেহগুলো নিখোঁজ হওয়া বেসামরিক মানুষদের। তবে এতদিন পর্যন্ত এর কোনও প্রমাণ ছিল না।


গণকবরের এই স্ন্ধান বিপর্যয়কর হলেও এটি জেয়ারুবি জেয়াবালানের মতো মানুষের মনে নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়ার ব্যাপারে আশার সঞ্চার করেছে। জেয়াবালানের বাবা ছিলেন সেই হাজার হাজার মানুষের একজন, যারা কয়েক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।


জেয়াবালান এবং তার মতো স্বজন হারানো পরিবারগুলো আশা করছে, তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তার জবাব হয়ত এই মৃতদেহগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে।


বহু তামিলের বিশ্বাস, এই গণকবরে রয়েছে গৃহযুদ্ধ চলাকালীন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার মানুষদের দেহাবশেষ। তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।


তবে চেম্মানিতে খনন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগিয়েছে, যেন এই পরিবারগুলোর ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে,যারা নিখোঁজ স্বজনের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল তার উত্তর খুঁজে ফিরছেন।


ওদিকে, আগে শনাক্ত করা একটি গণকবরের কাছে শত শত দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়ায় তামিলদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর পূর্ণ তদন্ত দাবি করে আসছিলেন।


অনেকের আশঙ্কা, সত্য উদঘাটনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে শেষ পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া গণকবরটি জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে চলে যাবে। ফলে গণকবরটি শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জবাবের অপেক্ষা


শ্রীলংকায় বিশেষ করে তামিল অধ্যুষিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চল কয়েক দশক ধরে সংঘাত জর্জরিত ছিল। ওই অঞ্চলে ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধ দেশটিকে জাতিগত বিভাজনের রেখায় ভাগ করেছে।


তামিল টাইগার বিদ্রোহীরা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে লড়াই করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর ধরে সিংহলী-প্রধান সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তারা।


২৬ বছর ধরে চলা সংঘাতে আনুমানিক এক লাখ মানুষ নিহত হয়। নিখোঁজ হয় প্রায় ২৩ হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগই তামিল। নিরাপত্তা বাহিনী এবং তামিল টাইগার দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতা ও অপরাধের অভিযোগ আছে।


১৯৯৫ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শ্রীলংকার সেনাবাহিনী লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই)-এর কাছ থেকে জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করে। আর সেটিই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে টাইগারদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।


৯০ এর দশকের শেষদিকে সেনাবাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ালে পুরো চেম্মানি এলাকাজুড়ে একটি কঠোর নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে ওঠে। সেখানে সেনা শিবির, তল্লাশি চৌকি ও নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।


চেম্মানিতে কবরস্থানের কাছেও একটি সেনা শিবির ছিল। তখন কেউ কেউ জাফনাকে একটি উন্মুক্ত কারাগার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সেইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধেও হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে গুম করার অভিযোগ ওঠে, যদিও শ্রীলংকা সরকার সবসময় তা অস্বীকার করে এসেছে।


জাফনার বাসিন্দা জেয়ারুবি জয়পালান বিবিসি-কে বলেন, "১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমি ১২ বছর বয়সী ছিলাম। সে সময় আমার বাবাকে চেম্মানি এলাকার কাছে একটি তল্লাশি চৌকি থেকে শ্রীলংকার সেনাবাহিনী আটক করে নিয়ে যায়। এরপর তার কী হয়েছিল, আমরা আজও জানি না।"


তিনি সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, তার বাবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল এবং মরিয়া হয়ে তার খোঁজে জাফনার বিভিন্ন সেনা শিবির ও পুলিশ স্টেশনে ঘুরে বেড়িয়েছিল।কিন্তু বাবা আর কখনও ফিরে আসেননি।


জেয়ারুবির বাবা কান্দাইয়া জয়পালান ছিলেন সরকারি কর্মচারী। পাশাপাশি তিনি চেম্মানির কাছেই একটি সড়কের পাশে ক্যাফে চালাতেন।


জেয়ারুবি বলেন, "আমি অনেকের সঙ্গে চেম্মানির গণকবর দেখতে গেছি, এ আশায় যে কোনও উত্তর পাব। কিন্তু আমরা কোনও বস্তুগত প্রমাণ পাইনি। আমরা মানবদেহের অবশিষ্টাংশের বিস্তারিত ফরেনসিক বিশ্লেষণ চাই।"


কান্দাইয়া জয়পালান নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় ১৮ বছর বয়সী তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্তি কুমারস্বামী নিখোঁজ হয়েছিলেন।


১৯৯৮ সালে কলম্বোর এক আদালত কুমারস্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে এবং তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যার অভিযোগে পাঁচ সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।


সেসময় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ কেড়েছিল। পরে তাদের মরদেহ চেম্মানি এলাকায় সমাহিত করা অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে যে গণকবর নিয়ে তদন্ত চলছে তা কুমারস্বামী ও অন্যদের দেহাবশেষ পাওয়া স্থানটির ১০০ মিটারের মধ্যেই অবস্থিত।


আদালতে দেওয়া এক সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক সেনাসদস্য সোমারাত্নে রাজাপাক্ষে অভিযোগ করেন, ৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিহত ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষকে চেম্মানিতে কবর দেওয়া হয়েছিল।


তার এই কথার সূত্র ধরেই এক বছর পর চেম্মানিতে প্রথম খননকাজ শুরু হয়। তখন তদন্তকারীরা ১০টিরও বেশি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেন। মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, এসব দেহাবশেষ গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়াদের হতে পারে। তবে বিচারিক ব্যবস্থায় এ ধারণাকে তেমন আমল দেওয়া হয়নি।


অধিকারকর্মীরা বলছেন, তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকায় তৎকালীন সরকার তদন্ত এগিয়ে নেয়নি এবং কেন নেয়নি তাও ব্যাখ্যা করেনি। একই এলাকাতেই আরেকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ায় এখন জবাবদিহিতার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।


অতীতের তদন্ত কোনটিই বিচার পর্যন্ত পৌঁছায়নি


সংঘাতের সময় নিখোঁজ হওয়াদের পরিবারগুলো নতুন গণকবরের সন্ধান মেলার পর প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মরণানুষ্ঠান আয়োজন করেছে।


তাদের একজন ৬৫ বছর বয়সী সুসিলা। তিনি তার ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধান করছেন, যাকে ২০০৭ সালে ২৪ বছর বয়সে শ্রীলংকার সামরিক বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল।


তিনি বিবিসি-কে বলেন, "সে ছিল আমার একমাত্র ছেলে। তার কথা মনে করে আমি রোজ ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠি। তাকে ছাড়া আমার জীবন শূন্য।"


তিনি চেম্মানির কবরস্থল পরিদর্শন করলেও তার ছেলে সেখানে আছে এমন কোনও প্রমাণ, অর্থাৎ পোশাক বা ব্যক্তিগত কোন ব্যবহার্য সামগ্রী, খুঁজে পাননি।


উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা এখনও করা হয়নি। চেম্মানি থেকে উদ্ধার হওয়া সব দেহাবশেষ আদালতের হেফাজতে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে।


গণকবরের প্রধান প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক রাজ সোমদেব বিবিসি-কে বলেন, "আমরা একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন তৈরি করছি। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সেটি আদালতে জমা দেওয়া হবে।"


সম্প্রতি কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে জোর করে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টির কোনও যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এবং কোনও ক্ষেত্রেই বিচার হয়নি।


আগের গণকবরগুলোর তদন্তে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণে নতুন গণকবর নিয়ে তদন্ত কী ফল বয়ে আনবে সে বিষয়ে অনেক তামিলেরই সংশয় আছে।


তারা ২০১৮ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মান্নারে সন্ধান মেলা আরেক গণকবরের তদন্তের ফলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ৩৫০টিরও বেশি কঙ্কালাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তদন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বহু পরিবারকে হতাশ হতে হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান


অতীতের অপরাধ তদন্তে শ্রীলংকার সরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অধিকার গোষ্ঠীগুলো কঠোর সমালোচনা করেছে।


বহু বছরের আন্তর্জাতিক চাপের পর ২০১৮ সালে সরকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন সংস্থা অফিস অব দ্য মিসিং পারসন্স (ওএমপি) গঠন করে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, তাদের নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সংস্থাটি খুব বেশি এগুতে পারেনি।


এ মাসের শুরুতে এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, "জোর করে গুম, নির্যাতন ও হত্যার বহু মামলা স্থবির হয়ে আছে। আর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।"


জাতিসংঘ শ্রীলংকাকে আহ্বান জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের মৃত্যুর কারণ জানতে এবং কারা দায়ী তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে।


জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান রোরি মাঙ্গোভেন বিবিসি-কে বলেন, "পরিস্থিতিটা এমন যেখানে ভুক্তভোগীরা খুবই হতাশ, কয়েক দশক ধরে বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন এবং অতীতের তদন্তের ওপর আস্থা হারিয়েছেন।”


তিনি বলেন, "আমি মনে করি আন্তর্জাতিক সহায়তা যোগ হলে এসব তদন্তে আস্থা জোরদার হবে।"


তবে শ্রীলংকার সব সরকারই যুদ্ধকালে সংঘটিত নৃশংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর