প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ২৯ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য পৃথক তালিকায় এসব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের জন্য ৭ জন, ২০২৩ সালের জন্য ৭ জন, ২০২৪ সালের জন্য ৭ জন এবং ২০২৫ সালের জন্য ৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন ফরম অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত ফরম নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। এর দুই সেট হার্ডকপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট বা গ্রেডশিটের কপি জমা দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও প্রয়োজন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জমা দেওয়া সব কাগজপত্র যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক অথবা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসব কাগজপত্রের হার্ডকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরে জমা দিতে হবে।
হার্ডকপির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সফটকপি পিডিএফ আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এ জন্য darainju@gmail.com ঠিকানা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনোনীত ২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০২২ সালের তালিকায় রয়েছেন সাদ্দাম হোসাইন, রুমানা সিদ্দিকা মারুফা, আয়েশা আক্তার, রোকেয়া পারভিন, মো. বিল্লাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রোমা ও মুজতানিবা জাহান মাশরাকা।
২০২৩ সালের তালিকায় রয়েছেন মো. আনোয়ার শাহ, সারমিন আক্তার, সাদিয়া জান্নাত মিতু, জয় পাল, মোছা. শুমোনা আক্তার, তানজুম আহমেদ নূদী ও তাসনিমা আক্তার।
২০২৪ সালের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীতরা হলেন আরিফুল ইসলাম, আসমা আক্তার, মুহাম্মদ গোলাম রোহমান শাফি, সাদিয়া খানম, রাগিব শাহরিয়ার রাফি, জান্নাতুন নাহের উর্মি ও মো. মুহিব আহসান চৌধুরী।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের তালিকায় রয়েছেন সোমাইয়া তাবাসসুম, ফারিয়া আক্তার ইভা, শানজিদা সারমিন মৌরি, দীপান্বিতা বৈদ্য, আনিকা তাবাসসুম অন্তরা, আভা রহমান, বিদিশা অধিকারী ও মোছা. ফারিয়া ইয়াসমিন।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় বিক্ষোভ মিছিলে ‘২৪’এর অঙ্গিকার, চাকরি পাবে মেধা যার’, ‘চাকরিতে দলীয়করণ, মানি না মানবো না’, ‘শিক্ষাঙ্গণে দলীয়করণ, মানি না মানবো না’, ‘নিয়োগে বৈষম্য, মানি না মানবো না’, ‘মেধার প্রতি অবিচার, মানি না মানবো না’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, নিয়োগ বাণিজ্যের মাস্টার প্ল্যান’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। এনটিআরসিএ বাদ দিয়ে তারা দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল। এর আগে ভাইভার নাম্বার বাড়িয়ে দলীয়করণ করতে চেয়েছিল। এ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিবে না। শিক্ষক নিয়োগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারকে ভূতে ধরেছে। সরকার বারবার হাসিনার মত ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। ২৪’-এর অঙ্গিকার ছিল মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া।”
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “মেধাবীদের হয়রানি না করে নিয়োগ দিন। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ না দিয়ে আওয়ামী গুপ্তদের বাদ দিন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা উন্নত করুন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজী বন্ধ করুন। এ দেশের শিক্ষার্থীরা অবিচার ও বৈষম্য মেনে নেয়নি, নেবে না। আমরা সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে মেধাবীদের নিয়োগ বাস্তবায়ন করুন। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে দলীয়করণ ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।”
উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে ভেরিফিকেশন শেষে বিভিন্ন জেলার ১২ শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাদ পড়া অনেক প্রার্থীর দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই এবং নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও তাদের জানানো হয়নি।
বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষের জেরে নোবিপ্রবি বাসে হামলা, গ্রেপ্তার ২
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) গোমতী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর বাসচালককে মারধর ও বাসের লুকিং গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালীর সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত দুজন মোটরসাইকেলের আরোহী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনায় বাসচালক দিলীপ রবি দাস আহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, মোটরসাইকেলের দুই আরোহী তাকে মারধর করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী সকালে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস থেকে কবিরহাটের উদ্দেশে গোমতী বাস নিয়ে রওনা হন চালক দিলীপ রবি দাস। বাসটি সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে তিনি ইন্ডিকেটর দিয়ে বাসটি ঘোরাচ্ছিলেন। এ সময় কবিরহাটের দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে এসে বাসটির পেছনের দিকে আঘাত করে।
এ নিয়ে বাসচালক মোটরসাইকেল আরোহীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন চালক। পরে বাসটির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।
বাসচালক দিলীপ রবি দাস বলেন, আমি প্রায় ১২–১৩ বছর ধরে নোবিপ্রবিতে গাড়ি চালাচ্ছি। সকালে কবিরহাট যাওয়ার পথে সোনাপুর জিরো পয়েন্টে বাস ঘোরানোর সময় আমি ইন্ডিকেটর দিয়েছিলাম। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল বাসের পেছনের চাকার কাছে এসে পড়ে।"
তিনি আরো বলেন , এ নিয়ে কথা বলতে গেলে মোটরসাইকেলের একজন আরোহী আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগাল করেন। পরে আমাকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। আমি বাস থেকে নামার পর ওই ব্যক্তি চাবি দিয়ে তার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং লাথি মারেন।"
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকার টোল আদায়কারী সুমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ইন্ডিকেটর দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় কবিরহাটের দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটি অতিরিক্ত গতিতে এসে বাসের চাকার সঙ্গে ধাক্কা দেয়। পরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা বাসচালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।”
সুমন বলেন, “একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের আরোহীরা বাসচালককে নিচে নামতে বলেন। তিনি নামার পর তাকে ঘুষি মারা হয়। পরে বাসের হেলপারকেও মারধর করা হলে তিনি ভয়ে বাসের ভেতরে উঠে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা অপর ব্যক্তি বাসটির একটি লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলেন।”
ঘটনার পর বাসচালক দিলীপ রবি দাস বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘‘যেটা ঘটেছে, সেটা আসলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চালক ও হেলপারের ওপর হামলা হয়েছে, এটা দুঃখজনক। যারা হামলা করেছে, তাদের যেন বিচার হয়, সে জন্য আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।’’
নোয়াখলীর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’’
ছবি: বিশ্ব নদী দিবসে নোবিপ্রবিতে CoEN-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী, পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নিজস্ব সংগঠন Coastal Environment Network (CoEN)-এর উদ্যোগে এ র্যালির আয়োজন করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও CoEN-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নদী রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বন নেই তো নদী নেই, নদী নেই তো পানি নেই, পানি নেই তো জীবন নেই।’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিতে নদী, বন, জলাভূমি ও পানিসম্পদের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
র্যালিতে অংশ নেওয়া পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান সৈকত বলেন, “নদী আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু দখল, দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অনেক নদী আজ সংকটের মুখে পড়েছে। শুধু নদী দিবসে সচেতন হলেই হবে না, সারা বছর নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের এই র্যালির মাধ্যমে আমরা শুধু একটি দিবস পালন করছি না, বরং নদী রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছি।”
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো বর্ষায় বন্যা ও তীরভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মিঠাপানির জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় CoEN-এর মতো শিক্ষার্থীভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী শুধু পানির উৎস নয়, আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নদীকে শুধু একটি জলপ্রবাহ হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে বন, জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই নদী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।
Coastal Environment Network (CoEN)-এর সদস্যরা জানান, নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। নদী দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি নিয়মিত পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব নাগরিক ও নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রেও CoEN-এর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোবিপ্রবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে র্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে এদিন বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি মেলবন্ধন গড়ে তোলা। আমাদের দায়িত্ব হলো ঐতিহ্য রক্ষা করে পরিবেশ বান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করা। এ সময় বৈদেশিক মুদ্রা আয়সহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পর্যটন শিল্পের প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
র্যালিতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ ও ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। র্যালি শেষে দিবসটি উপলক্ষে শহিদ ক্যাডেট সার্জেন্ট রুমি ভবনের সম্মুখে বৃক্ষরোপণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
প্রসঙ্গত, দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটার রূপান্তর ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড কলেজ অব এডুকেশন লিমিটেডের (OCE) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আাজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের উপস্থিতিতে তার কনফারেন্স রুমে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানযোগ্যতা (employability) বাড়ানোর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন ও অনলাইন শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন এবং অক্সফোর্ড কলেজ অব এডুকেশন লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সিইও জসিম উদ্দিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক অনলাইন কোর্স, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও IELTS প্রস্তুতিমূলক অনলাইন কর্মসূচি এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অন্যান্য একাডেমিক ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাগত ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবে OCE।
সমঝোতার মাধ্যমে যোগ্য জবি শিক্ষার্থীরা OCE-এর বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মসূচির ধরন অনুযায়ী ইন্টারঅ্যাক্টিভ ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার উপকরণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, অনুশীলনমূলক প্রশ্নপত্র, মক টেস্ট, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া OCE-এর কোনো কোর্সের নির্ধারিত শর্ত সফলভাবে পূরণকারী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কোর্স সমাপ্তির সনদ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়ার সুযোগ থাকবে। যোগ্যতার মানদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জবির যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্সে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। তবে এসব কোর্সের নির্ধারিত ফি অংশগ্রহণকারীকে পরিশোধ করতে হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত, যোগ্যতার মানদণ্ড, ফি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করেই অংশগ্রহণ করতে হবে।
চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য সম্পাদিত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দুই প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম) অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, ছাত্র হল-১-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, অক্সফোর্ড কলেজ অব এডুকেশন লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ড. আশরাফ আবেদিল এবং উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. আবদুল্লাহ আল ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
কুবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ১০ শিক্ষার্থী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে আইসিটি, প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে ডাকা হলে সেখানে সমাধান করা হয়।
তবে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে প্রকৌশল অনুষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিয়ে দত্ত হলে গেলে সেখানে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারি বাধে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
কুবি মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “মারামারিতে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।”
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “সকালে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এরপরও ক্যাম্পাস গেট ও দত্ত হলে আবার মারামারি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”