মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা গাড়ি-বাড়িসহ ১৩ সুবিধা পাবেন

বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:১৮ পিএম

গাড়ি-বাড়ি, বেতন ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচসহ অন্তত ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। 


মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এসব সুবিধাভোগী হবেন। বিগত সরকারগুলোর মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারাও এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসেছেন।


মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণ করা আছে সংবিধানের দ্য মিনিস্টার্স এবং মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলাইজ) অ্যাক্টে। এর বাইরে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে এমপিদের দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রাজধানীতে যাদের থাকার স্থায়ী জায়গা নেই, তাদের অনেককে প্লটও বরাদ্দ দিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এবার এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।


বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।গতকাল মঙ্গলবার এমপিদের শপথ গ্রহণ শেষে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকেও একই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


অতীতের রেওয়াজ থেকে এটা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। 


তিনি বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। পাশাপাশি এটাও বলব, জুলাই সনদে ৩২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে।


সেখানে ৭৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, যে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দেবেন। সেটা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। এভাবে প্রতি বছর তারা সম্পদের হিসাব দেবেন। এখন আমাদের কাজ হবে তারা এগুলো করছে কিনা ফলোআপ করা।


রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন। হুইপরা ভোগ করেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা। স্পিকারের পদমর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর পরই। এ ছাড়া ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন।


বেতন-বাড়ি


একজন মন্ত্রী পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পাবেন বিনা ভাড়ায়। এ ছাড়া যখন প্রয়োজন বাসার সব মেরামতও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে তারা কেউ সরকারি বাড়িতে থাকতে না চাইলে একজন মন্ত্রী বাসা ভাড়া বাবদ মাসে ৮০ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা। নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকলে ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা তারা প্রতিবছর পাবেন। বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। সরকারি বাড়ির সাজসজ্জার জন্য একজন মন্ত্রী পাঁচ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী চার লাখ টাকা পাবেন প্রতিবছর।


গাড়ি সুবিধা


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে গাড়ি পাবেন। সরকারের পরিবহন পুল থেকে এই গাড়ি সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি তেল বা সমপরিমাণ অর্থ পাবেন গাড়ির জ্বালানি বাবদ। সরকারি প্রয়োজনে বা নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের সময় মন্ত্রণালয়ের অধীন যে কোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ পাবেন তারা। দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা পাবেন তারা।


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সহায়ক ব্যক্তি সুবিধা


একজন মন্ত্রী তাঁর পছন্দ অনুযায়ী উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পাবেন। এ ছাড়া তারা একজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। পাবেন দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। এগুলো তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে তারা নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ছাড়া একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন বাবুর্চি পাবেন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কিছুটা কম পাবেন। দুজনের পরিবর্তে একজন অফিস সহকারী, একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পাবেন তারা।


চিকিৎসা


মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। সেই খরচের কোনো সীমা আইনে বেঁধে দেওয়া নেই। তবে চিকিৎসা খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।


আপ্যায়ন


দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা করে আপ্যায়ন ভাতা পাবেন। আর প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত হাজার টাকা। উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ হাজার টাকা।


এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ


নিজের নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত লাখ এবং উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ লাখ। এ টাকার মধ্যে একজন মন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী দিতে পারবেন ৩৫ হাজার ও উপমন্ত্রী দিতে পারবেন ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করা রয়েছে দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টের মাধ্যমে। 


সেখানে বলা আছে, একজন প্রধানমন্ত্রী মাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া হিসেবে পাবেন এক লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনোদনের জন্য ব্যয় করা সম্পূর্ণ অর্থই তিনি পাবেন ভাতা হিসেবে। তাঁর অফিস থেকে বাসা এবং বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের সব খরচও বহন করবে রাষ্ট্র। এ ছাড়া তিনি আরও অনেক সুবিধা রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পেয়ে থাকেন। 


এমপিদের সুযোগ-সুবিধা


এমপিরা মাসে বেতন হিসেবে ৫৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তবে অতীতে দেখা গেছে, বেতনের বাইরেও এলাকার উন্নয়নে তাদের পৃথকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাত দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের নজির রয়েছে। এ ছাড়া তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি নিয়েছেন। প্লটও পেয়েছেন অনেকে।




আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতে নিষেধ করা হয়েছিল


শেখ হাসিনা, মানবতা, বিরোধী অপরাধ, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, আওয়ামী লীগ, গুলি


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ শাহরিয়ার হোসেনকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তাঁর বাবা মো. মনির হোসেন। 


জবানবন্দিতে তিনি বলেন, তাঁর ছেলের মৃত্যু সনদপত্র দিতে অস্বীকার করেন চিকিৎসক। একটি সাদা কাপড় দিয়ে চিকিৎসক বলেছিলেন, শাহরিয়ারের শরীর ঢেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। পথিমধ্যে কেউ জিজ্ঞেস করলে শাহরিয়ারের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বলতেও নিষেধ করেন সেই চিকিৎসক।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এ জবানবন্দি দেন মনির হোসেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।


মনির হোসেন কাঁচামালের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি মোহাম্মদপুরে ব্যবসা করেন। জুলাই শহীদ শাহরিয়ার হোসেন তাঁর বড় ছেলে।


জবানবন্দিতে মনির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শাহরিয়ার মোহাম্মদপুরে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা আন্দোলনকারীদের গুলি করে। তাঁর দুই ভাগনে এসে শাহরিয়ারের শরীরে গুলি লাগার কথা জানান। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় চিকিৎসকের পরামর্শে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন।


তাঁর ছেলেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন মনির হোসেন। এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ অনেককে দায়ী করেন তিনি।


এ মামলায় মোট আসামি ২৮ জন। এর মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন আনসারের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল ও সাবেক সহসভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং যুবলীগ কর্মী কে এম ফজলে রাব্বী।


সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক। পলাতক অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, পুলিশ সদর দপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সাবেক এডিসি রৌশানুল হক সৈকত প্রমুখ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

এলএনজি কার্গোর অভাবে অবশেষে মজুত ফুরিয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ)। 


আজ বুধবার দুপুরে টার্মিনালটি পুরোপুরি গ্যাসশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এখন সামিটের টার্মিনাল থেকেই মূলত আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হবে।


এদিকে এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহও এক দফা কমেছে। 


আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুই টার্মিনাল থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে দাঁড়ায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় কূপ থেকে সরবরাহ ছিল প্রায় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। ফলে সন্ধ্যায় জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট গ্যাস প্রবাহ ছিল ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।


পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ কমেছে ১০ কোটি ঘনফুট।


আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তা জানান, আজ বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে মজুত এলএনজি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়। ফলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৫৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে দেওয়া হচ্ছে।


এভাবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পেছনে কার্গো সংকটকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টার্মিনালের বয়লার মেরামত নিয়েও তথ্যের বিভ্রাট ছিল বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। 


তার ভাষ্য, এক্সিলারেটের পক্ষ থেকে বয়লার সচল করতে ৭২ ঘণ্টা বিরতির কথা জানানো হয়েছিল। পরে বয়লার ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলেও ততক্ষণে কার্গোর সংকট তৈরি হয়ে যায়। ফলে টার্মিনাল সচল রাখার মতো এলএনজি মজুত ছিল না।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্গো সময়মতো না আসায় টার্মিনাল সচল থাকার পরও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে গ্যাসের ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরিভিত্তিতে বেশি দামে কার্গো কিনতে হচ্ছে। নতুন কার্গো ২৩ আগস্ট সময়মতো দেশে না এলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো প্যারোল। বিধি মোতাবেক কেউ প্যারোল আবেদনের যোগ্য হলে তিনি আবেদন করতে পারেন।


জামিনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। জামিন হয় আদালতের নির্দেশে, কিন্তু প্যারোল হয় প্রশাসনিক আদেশে। জামিন পাওয়া ব্যক্তি বাইরে স্বাধীন থাকেন এবং তিনি কোনো আদালত বা পুলিশের জিম্মায় থাকেন না। কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি পুরো সময় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকেন। প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ কারাগারে নিয়ে আসবে।


আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, যে কোনো ধরনের বন্দি, কয়েদী বা হাজতিই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।


তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যে অপরাধের কারণে বা যে ধরন বা মেয়াদের শাস্তি ভোগরতই থাকুন না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে (যেমন নিকটাত্মীয়ের জানাজা) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন প্যারোলে মুক্তির জন্য। মন্ত্রণালয় দূরত্ব ও স্থান বিবেচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।


প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যত নীতিমালা

কোনো বন্দি প্যারোল পাবেন এবং প্যারোলের আওতায় তার সময়কাল কীভাবে দেখা হবে - তা নিয়ে একটি নীতিমালা আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

এ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ নীতিতে থাকা অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:


১. নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন;


২. নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, আপন ভাই-বোন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়;


৩. আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;


৪. প্যারোলে মুক্তি পেলেও সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে;


৫. কারাগারের ফটক থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশ বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কারাগারে ফেরত দিতে হবে।


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসনের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা।


তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।


বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় তিনি এ কথা জানান।


তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।


সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।


 মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সকল শহিদ পরিবার ও আহতদের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।          



অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহিদ পরিবার বাদ না পড়েন।             

 ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভা

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।


সভায় জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা এবং তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা করা হয় ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম


সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

নয়টি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। 


আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন তার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি জানান, গত এক বছরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পরিবর্তন, জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর সবগুলোতেই তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা সর্বশেষ এক মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওইদিন রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।


২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তার জামিন বহাল হলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে এতদিন তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি। 


২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম


ঈদে-মিলাদুন্নবী

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে সরকার। গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। 


ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।


বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।


এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলারও আয়োজন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।


শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।


এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।