পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গতকাল বুধবার সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। খলিলুর রহমান সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
আজ বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ওআইসি সাধারণ সচিবালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওপেন-এন্ডেড এক্সিকিউটিভ কমিটির জরুরি বৈঠক আয়োজন করছে ওআইসি।
বৈঠকে ইসরাইলি দখলদার কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ইসরাইলের এসব সিদ্ধান্ত বসতি সম্প্রসারণ, সংযুক্তকরণ এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করছে।
ওআইসি জানিয়েছে, জরুরি অধিবেশনে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর অবস্থান সমন্বয় করা হবে। ইসরাইলের অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্প্রতি ইসরাইল দখলকৃত পশ্চিম তীরের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই পদক্ষেপকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত, রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত অবস্থান পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে। সরকারের কমিটমেন্ট আছে, এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।
জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না, কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন, পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হতে পারে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির শেষ বৈঠকে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্যই সই করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারবে। এখন অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করবে।
জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে স্কেলের আর আসেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতনের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যে পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাস পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। আমরা জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সবার বিষয়ে সুপারিশ করেছি।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে বেতন, পরের বছর দেওয়া হয় ভাতা। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এর পর মন্ত্রিসভা যা ভালো মনে করবে, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে এম শহীদুল করিম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই। সম্ভাব্য এ সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে এম শহীদুল করিম।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট নয়া দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
শহীদুল করিম বলেন, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখবে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সবাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কথা বলছেন। আমরা এক ধরনের সমস্যার মধ্যে আছি। আমাকে স্বীকার করতেই হবে, এটা অতীত থেকে পাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিষয়ে কোনো কিছুই ৬ মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। ১ বছরের মধ্যেও কোনো সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সর্বনিম্ন ২ বছর সময় লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই সমস্যা নিয়ে লড়াই করছি।’
আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে বক্তব্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া যে অর্থনীতির কথা বলছেন, তা আসলেই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবকিছু করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করছি না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রে- ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, অনশোর (স্থলভাগ) স্টোরেজ সুবিধার সব বিষয় চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তবে সঞ্চালন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যি বলতে, আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান আসছে, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক কম। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পাওয়ার মিক্স বা এনার্জি মিক্স এমন একটি বিষয়, যা নীতির জায়গা থেকে আমরা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি থাকবে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ থাকবে। কয়লা এমন একটি সম্পদ যা আমাদের রয়েছে, আমরা কয়লাভিত্তিক বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। তাই জ্বালানির একটি সমন্বিত মিশ্রণ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই সংমিশ্রণটি আমরা মোটামুটিভাবে নির্ধারণ করে ফেলেছি। আশা করি, যথাসময়ে আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে একটি বড় পরিবর্তন দেখতে পাব।’
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ায় অপরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোটার। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এটি বৈধ ঘোষণা করেন।
নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হওয়ায় অপরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ভোটার কেবল সংসদ সদস্যরা। তাদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার আবারও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির আদালত। এটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না।
ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেছেন, প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতই নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত যাচাই করা হবে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে কবে দেশে ফিরতে চান—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ডিসেম্বরকে বিজয়ের মাস উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর দল আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ রয়েছে।
ভারতের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধকে দিল্লি ও ঢাকার বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সরে এসে বিষয়টির সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র বলেছিলেন, বিষয়টি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালের দুই দেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আইনি নথি সংযুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় দুই বছর ধরে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে আশ্রয় ও নিরাপত্তায় রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, ভারতে আশ্রয়ে থাকার সময়ও শেখ হাসিনা বাংলাদেশে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। মাঝে মাঝে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেছেন। অবসর সময়ে নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলেন বলেও তাঁরা জানান। ৭৮ বছর বয়সী এই নেত্রী বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলেও তাঁরা দাবি করেন।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়কে ভিত্তি করেই ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর চাপ দিয়ে আসছে।
তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে যদি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আদালতীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই রায়কে বিভিন্ন আইনি কারণে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাঁদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া হয়েছিল এবং তখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
২০১৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশ একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। ওই চুক্তিতে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, দোষী সাব্যস্ত হওয়া অথবা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য তাঁকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণযোগ্য কোনো অপরাধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের অনুরোধ গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে। তবে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই আইনে ভারত থেকে পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয় দেখভালের জন্য ভারতের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা বিভাগ নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট প্রত্যর্পণ চুক্তি বা ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনা করে ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে মামলাটি তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।
তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনুরোধকারী দেশের কাছে হস্তান্তরের মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তাহলে তিনি তাঁর প্রতিবেদনে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে তদন্ত শেষে যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন, বিদেশি দেশের অনুরোধের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট মামলা তৈরি হয়নি, তাহলে তিনি ওই পলাতক ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারেন।
ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ এখন শুধু দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত ভারতের আদালতের আইনি প্রক্রিয়াই তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস