র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৯ মে, ২০২৬, সময় : ৭:১১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, এক অর্থে সেইভাবে র‍্যাব থাকছে না, নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।




সংবাদ সম্মেলনে সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।


গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা, দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ এসেছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল।


গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।


আজকের সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, গতকাল র‍্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল এবং ঘটনাচক্রে তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। র‍্যাব বিলুপ্তি নিয়ে যেটা বলা হয়েছে, যে দাবি হয়েছিল, এখনো র‍্যাব এক অর্থে আগের মতো করে থাকছে না। গতকালই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, র‍্যাবের জন্য নতুন একটি আইন হবে।


উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্তির যে দাবি বিএনপি করেছিল, এক অর্থে, আবারও বলছি, এক অর্থে সেইভাবে র‍্যাব থাকছে না, নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। সম্ভবত বলছি, কারণ এই ধরনের অপশন গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। সেটাও জানিয়েছেন, এই আইন করার জন্য তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।’


রাষ্ট্রে একটি এলিট ফোর্স থাকা দরকার আছে বলে মনে করেন জাহেদ উর রহমান। বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র‍্যাব নামে বা ভিন্ন নামে হোক এবং বিস্তারিত সংজ্ঞায়িত একটি আইন থাকবে।




সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর


নবম পে স্কেল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ এএম

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সরকার গঠিত সচিব কমিটি। 


নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম বছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।


গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ই-বুকের ‘নবম পে স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে উপবিভাগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি জানানো হয়। এদিকে চলতি বছরেই নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 


গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।


নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। 


অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছুই হবে। তবে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সব বিষয়ে আলোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে। পে স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।


১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ


নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের পর নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ করে সচিব কমিটি। কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় সচিব কমিটির সুপারিশে বেতন বাড়ার হার কিছুটা কমেছে। 


সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। 


কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।


ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। 


পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।


এর আগে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। 


বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।


সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ এএম

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাছাই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই তিনজনকে নিয়োগ দেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার তারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন।


সোমবার 'সাড়ে পাঁচ মাস কমিশন নেই, অকার্যকর হয়ে পড়ছে দুদক' শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এর পরদিনই বিচারপতি মো. রেজাউল হকের সভাপতিত্বে কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির সভা শেষে ছয়জনের নাম সম্বলিত তালিকাসহ সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।


রাষ্ট্রপতি এদিনই ছয়জনের মধ্য থেকে প্রথমে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্য থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


গত ৩ মার্চ দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে সাড়ে পাঁচ মাস কমিশন শূন্য ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পদত্যাগের পর কমিশন নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গতকাল ষষ্ঠ সভা করে ছয়জনের নাম চূড়ান্ত করেছিলেন।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (৫ নম্বর আইন)-এর ধারা ৬ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুসারে তাদেরকে কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে। দুদক আইনের ২০০৪-এর ধারা ৫ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়।


দুদক আইন-২০০৪-এর ধারা ১৩ এর বিধান অনুসারে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ ও ভারত এর পতাকা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ এএম

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছে। 


গতকাল সোমবার ঢাকায় আসা ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আজ মঙ্গলবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। 


দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আজ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে। এফবিসিসিআই সভাকক্ষে বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করা হবে। এতে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বৈঠকের বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।


প্রতিনিধি দলের এ সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন রয়েছে। সমুদ্র ও স্থলবন্দর ব্যবহারে ভারতের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। 


এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিতে ঢাকা থেকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। 


ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গেও বৈঠক করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। 


প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। এতে বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা রয়েছেন। সফরের আগে চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 


এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, সিইপিএ ও ইপিএ করার উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সিইপিএ নিয়ে দরকষাকষিও শেষ হয়েছে। 


ভারত-বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগোলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তা থমকে যায়। 


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান প্রতিনিধি দলটি সরকারি নয়। ফলে চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে শুরু করায় ভারতের ব্যবসায়ীরা বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ পিএম

বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। 


তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। 


এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।


সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫২ পিএম

চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 


আজ সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।


এ বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।’


তিনি বলেন, ‘সবই হবে, তবে অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে। আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অন্যান্য বিষয় আছে। সেসব আলোচনার পর পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’


পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান। পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।


ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার রায় যেকোনো দিন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৭ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়েছে। 


মামলাটি এখন রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে। আজ সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইবুনাল-২ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এই আদেশ দেন। 


এদিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেন।


মামলার অপর আসামিরা হলেন-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।