মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল এবং ওই পদে পাওয়া সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে একজন প্রবীণ চিকিৎসক ও শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাবেক শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ।
তারা বলেছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলেও তার দায় একজন ইমেরিটাস অধ্যাপকের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রশাসনিক কোনো ত্রুটি থাকলেও একজন গুণী শিক্ষক ও চিকিৎসকের সম্মান ক্ষুণ্ন না করেই বিষয়টির সমাধান করা যেত।
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত ছিল। এ কারণে তার আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ওই পদে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক, সাংবাদিক, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের দেওয়া পোস্টে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর দীর্ঘ চিকিৎসাসেবা, শিক্ষকতা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। ডা. আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অধিকাংশ পোস্টেই তাকে ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে একজন চিকিৎসক’, ‘গরিবের ডাক্তার’ এবং ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং তার পেশাগত সততা ও মানবিকতার জন্য মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, জাতীয় অধ্যাপক কোনো চাকরি নয়; এটি একজন শিক্ষকের সারাজীবনের গবেষণা, শিক্ষা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি। ফলে এমন সম্মান প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, এসব সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রেও যেমন যোগ্যতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত, তেমনি কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি থাকলেও তা সংশোধনের সময় একজন গুণী মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। দেশের লাখো মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত একজন চিকিৎসককে এভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা জাতির জন্য সুখকর বার্তা নয়।
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তার ভাতা ফেরতের নির্দেশকে ঘিরে। ভাতা ফেরতের নিদের্শের সমালোচনা করে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বলেছেন, ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে যে সম্মান ও ভাতা তিনি পেয়েছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গ্রহণ করেছেন। এখন সেই অর্থ ফেরত চাওয়া আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে বলেছেন, কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরে বাতিল হলেও এরই মধ্যে প্রদত্ত সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা ফেরত চাওয়ার নিচু মানসিকতার পরিচয়। এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।
বহু চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত তার পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার কারণে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান তার চিকিৎসক হিসেবে যাকে বেছে নেন, সেটি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পেশাগত আস্থার বিষয় বলেই তারা মনে করেন। একজন চিকিৎসক ফেসবুকে লেখেন, ‘ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ স্যারের মতো একজন মানুষের সারাজীবনের অবদানকে মূল্যায়ন না করে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।’
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং বিধিবহির্ভূতভাবে গৃহীত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংশোধনের অংশ। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাদের মতে, প্রশাসনিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন বরেণ্য চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিকল্প পথও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খোলা ছিল। তাদের মতে, গুণী মানুষকে সম্মান জানানো শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; গুণীজনদের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।
গুণী মানুষের মর্যাদাহারি এবং গরিবের ডাক্তারকে অসম্মান হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন কম টাকায় রোগী দেখা, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সহজপ্রাপ্য শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অনেকে লিখেছেন, চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং মানবিক আচরণের কারণে তিনি দেশের অন্যতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসকে পরিণত হয়েছেন। তার মতো এমন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় তার সারাজীবনের অবদানকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন: সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, বিষয়টি এখন আর শুধু একজন অধ্যাপকের নিয়োগ বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাদের গুণী মানুষদের মূল্যায়ন করে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় অধ্যাপক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়ার মতো সম্মান একজন শিক্ষক জীবনের দীর্ঘ সাধনা, গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্জন করেন। তখন তার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের জন্য তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাই বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। তাই এসব পদে নিয়োগ কিংবা পদ বাতিলের ক্ষেত্রে দল, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে একজন শিক্ষকের সামগ্রিক অবদানই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন লিখেছেন, এটি কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তিনি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত উনার পেশাগত উৎকর্ষতার কারণে। দলীয় পরিচয়ে নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে অসম্মান করা দেশের জন্য অসম্মান। দলীয় প্রতিহিংসার কারণে উনার নিয়োগ বাতিল করলেও উত্তোলিত অর্থ ফেরত চাওয়া প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থি।
আরেকজন লিখেছেন, জানি না, কে বা কার পরামর্শে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তিনি সারা জীবন মানুষের সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অর্থ-বিত্ত বা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা—কোনোটিই কখনো তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠেনি। একজন অধ্যাপক হয়েও তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থেকেছেন। তিনি রোগী দেখার জন্য কত সামান্য ফি নিতেন, কত অসহায় মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা দিয়েছেন—এসব দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। এমন একজন সহজ সরল সাদা মনের মানব হিতৈশী দেশপ্রেমিক ডাক্তারকে অসম্মানিত করে আমরা খুবই ছোট মনের পরিচয় দিলাম।
এক চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে দলমতের ঊর্ধ্বে একজন গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা ব্যক্তিত্ব। বহু অধ্যাপকের শিক্ষক। তার এমিরেটাস অধ্যাপক পদ বাতিলের বিষয়টি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল বলে মনে হয়। এই অনর্থক সিদ্ধান্তের কারণে বিএমইউ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এক গণমাধ্যমকর্মী লিখেছেন, অসম্ভব জ্ঞানী (মেডিকেল বিষয়ে), গুণী, বিনয়ী এবং সত্যিকারের সেবার ব্রত আছে তার মধ্যে। তার চেম্বারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত নামে পৃথক প্রেসক্রিপশন হতো বলে জানা নেই! সেই প্রেসক্রিপশনও আবার ৩০০ টাকার বিনিময়ে! গুণী মানুষ ‘কদর’ পায় না এদেশে। আগেও পায়নি, এখনো না এবং নিশ্চিত করে বলতে পারি দলীয় নষ্টামির এই প্র্যাকটিস চলতে থাকবে। সে কারণেই যোগ্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচে। কী বা করবে! এ বি এম আব্দুল্লাহ, কষ্ট নেবেন না। নষ্ট দেশের ভ্রষ্ট আর অযোগ্যরা, তাদের চারপাশে কেবল সমমানের মানুষগুলোকেই দেখতে চায়। সরি, স্যার। ভালো থাকবেন।
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম: অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা জগতের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মেডিসিন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার তত্ত্বাবধানে দেশের শত শত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছেন।
চিকিৎসাসেবা, গবেষণা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালে একুশে পদক, ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ, ইউজিসি প্রফেসরশিপ, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মেডিসিনের আন্তর্জাতিক পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস প্রিন্সিপলস অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের ২৪তম সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।
করোনা মহামারির সময় গণমাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসীত হয়েছিলেন। কম খরেচ রোগী দেখা ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবেও পরিচিত। ২০২২ সালে তাকে তিন বছরের জন্য বিএসএমএমইউর ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তিনিই প্রথম এই সম্মান অর্জন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এই স্বীকৃতি তাকে শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে আরও বেশি অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।
এই নির্বাসন প্রক্রিয়াটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে সম্পন্ন করা হয়। বাগডোগরায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিএসএফ সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।(ছবি-দ্য প্রিন্ট)
‘অবৈধভাবে’ বসবাসের অভিযোগে ভারতের কাশ্মীর থেকে অন্তত ১৫০ ‘বাংলাদেশিকে’ আটকের পর তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর খবর দিয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম। দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সোমবার ওই বাংলাদেশিদের আটকের পর তাদের ফেরত পাঠাতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমানে করে পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ভারতের কাশ্মীর থেকে এটিই প্রথম কোনো প্রকাশ্যে নথিভুক্ত বৃহৎ পরিসরের ফেরত পাঠানোর ঘটনা। দ্য প্রিন্ট লিখেছে, ভারতের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আটক ১৫০ জনও তাদেরই অংশ।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে, “কাশ্মীরে কর্মরত শ্রমিকদের নিবন্ধনের জন্য আধার কার্ড জমা দিতে বলা হয়েছিল। সে সময় আধার কার্ডের তথ্যে গরমিল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে বিষয়টি বাংলাদেশে পাঠিয়ে তাদের জাতীয়তা নিশ্চিত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট’ এর অধীনে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে দুটি ট্রানজিট পয়েন্ট আছে। একটি মালদা, আরেকটি বাগডোগরা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের পাহারা দিয়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছে। তার আগে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে তাদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়।” তবে মালদা নাকি বাগডোগরা, ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বাগডোগরা। এর অপরপাশে অর্থাৎ দক্ষিণ দিকে বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত। অন্যদিকে মালদা পশ্চিমবঙ্গে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা। এর অপরপাশে বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত। দ্য প্রিন্ট বলছে, জনমিতিগত পরিবর্তন রুখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভালকারের নেতৃত্বে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর পরিদর্শনের কয়েক মাস পর এই বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হলো। কমিটির নথিতে জম্মু ও কাশ্মীরে মোট ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়, যার মধ্যে ৪৬ জন জম্মুতে এবং বাকি ৪৫৮ জন কাশ্মীরে অবস্থান করছেন। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন আটক বাংলাদেশিদের আরও একটি দলকে ৭ অক্টোবর ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মো. কায়েস বলেন, “আমরা এ ধরনের খবর জেনেছি বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে কোনোভাবেই যেন পুশইন না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আগে থেকেই আছি। এ খবর পাওয়ার পর সীমান্তে সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি টহল বাড়িয়েছি।” তারা সকলের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছেন, বলেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগপত্র বঞ্চিত হয়েছেন ৮৩ জন। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র পেলেও শেষ পর্যন্ত তারা বঞ্চিতই রয়ে গেছেন। পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও চাকরিতে যোগ দেননি এমন প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। তারা অন্য কোথাও চাকরি করছেন বলে জানা গেছে। আর বড় একটি সংখ্যা নিয়োগপত্র নিয়েও যোগদান করেননি।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিএ) পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ২০২৫’ দুই ধাপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে মোট শূন্যপদ ছিল ১৪ হাজার ৩৮৫টি। এসব পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।
এদিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী। তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জেলাভিত্তিক নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়। কয়েক ধাপে জারি করা এ আদেশের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তাতে কাগজপত্র জমা দেন ১৩ হাজার ৮৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ৫৫২ জন কাগজপত্র জমা দেননি। আরেকজন মারা গেছেন।
এদিকে কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পান ১৩ হাজার ৭৪৮ জন। তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন ১২ হাজার ৮৩০ জন।
হিসাব অনুযায়ী- কাগজপত্র জমা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেননি ৯১৮ জন। আর কাগজপত্র জমা দেননি ৫৫৩ জন। সেই হিসাবে ১ হাজার ৪৭১ জন চাকরিতে যোগদানে আগ্রহ দেখাননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) আবদুর রহিম বলেন, অনেকে কাগজপত্র জমা দেননি। তারা কোনো আগ্রহই দেখাননি। আবার অনেকে নিয়োগপত্র হাতে পেয়েও যোগদান করেননি। হয়তো তাদের অন্যত্র চাকরি হয়েছে। সেটিকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। সব সরকারি নিয়োগে এমন ঘটনা ঘটে থাকে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সহকারী শিক্ষক পদে ১ হাজার ৪৭১ জন যোগ না দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আমাদের এতবড় নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালানো কষ্টসাধ্য। এর সঙ্গে সরকারের যে বাড়তি খরচ, সে বিষয়টিও রয়েছে। পাশাপাশি পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট পড়বে। আমরা শিগগির আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেটি হয়ে গেলে আর সংকট থাকবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে পুনঃস্থাপন করা হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ চাইলেই তা সহজে বাতিল করতে না পারে। ভবিষ্যতে এটি সরাতে হলে জনগণের মতামত নিতে ‘গণভোট’-এর প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এদিন বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়গুলো সংবিধান সংশোধনীতে প্রতিফলিত হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রাষ্ট্রপতি যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন না- সে বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি এসেছে, তা বৈঠকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে থাকা অনেক বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোও স্বীকার করেছে। এসব বিষয় সংবিধানে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে তফসিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার আন্তরিক। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। সরকার অন্যান্য মামলার বিষয়গুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে যাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে তা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার মতামতই ধারণ করার চেষ্টা করবে বিশেষ কমিটি।
সংবিধান সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন পক্ষের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, লংমার্চ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ তা করতে পারেন। তবে লংমার্চ বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে তো আর সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধন করতে হলে অবশ্যই সংসদীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশেও এক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে এবং এক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও সুযোগ রয়েছে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, আইটি, আউটসোর্সিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এ সময় কানাডার হাইকমিশনার দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
একইসাথে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডা সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রদান করেছে।
অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।
তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে কারিগরি, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন।
৭ নভেম্বর ছুটি ঘোষণা
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে দিনটিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ২৩তম মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি থাকবে। এদিনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।
অন্যদিকে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দুর্গাপূজায় থাকছে টানা পাঁচদিনের বন্ধ। তবে, ২২ অক্টোবরের এই ছুটির পরিবর্তে দেশের সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ১৭ অক্টোবর খোলা থাকবে।
সরকারি ছুটির পূর্বনির্ধারিত তালিকায় ২০ ও ২১ অক্টোবর ছুটি ছিল। ২২ অক্টোবর অফিস খোলার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে ওই দিনও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
গত সোমবার একদিনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১। আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে এই মুহূর্তে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। আর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একজন, বরিশাল বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের একজন এবং ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে), ৪৮০ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪২, বরিশাল বিভাগে ২০৩, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬, রংপুর বিভাগে ৭৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে দীর্ঘমেয়াদে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তবে এখনই দেশে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়ামে মঙ্গলবার ‘ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ সেমিনারের আয়োজন করে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বে বর্তমানে কয়েকটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে। বাংলাদেশেও এ নিয়ে চিন্তাভাবনা ও আলোচনা চলছে। তবে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কাজ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি জাপান সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাপানেও একটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দাবি, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সব ধরনের ভ্যারিয়েন্টই দেখা যাচ্ছে। তিনি এটিকে ‘ইউনিক সায়েন্টিফিক ফাইন্ডিং’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ডা. এম এ মুহিত বলেন, মৃত্যুর হার ও আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে হলে প্রথমেই প্রতিরোধের জন্য কাজ করতে হবে। শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো দেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মশার লার্ভা ধ্বংস ও মশা নিধনে কাজ করছে।
এ বছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হতো। এবার পরিস্থিতি তৈরির প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রচার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হালনাগাদ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত রেফারেল এবং হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জনগণ ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
সেমিনারে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগীর অতিরিক্ত চাপ, সীমিত জনবল ও হাসপাতাল সুবিধা, বিলম্বিত রোগ শনাক্তকরণ এবং গুরুতর রোগীর দ্রুত অবনতি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীকে নিয়মিত ও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সময়মতো সিবিসি ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষা এবং সতর্কতার সঙ্গে ফ্লুইড ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে রোগীর সামগ্রিক ক্লিনিক্যাল অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও অতিরিক্ত ফ্লুইড দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ডেঙ্গু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড, পর্যাপ্ত আইসিইউ ও এইচডিইউ, দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন যথেষ্ট নয়; এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ মশা, ভাইরাস, মানুষের আচরণ, পরিবেশ, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, ফগিংয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করা যায় না। তাই পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকেও মশার কামড় থেকে নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃখাত সমন্বয়, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ মিনিট বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম সতর্কতা এবং টিকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ। ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য দেন।