জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
প্রশাসন সংস্কার ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে বাড়ছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য, ওএসডি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি দেওয়া এবং মেধাবী কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগের পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ঘটনা ঘটছে। এতে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয় গত ২৫ মার্চ। পরে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়।
বিএনপি সরকারের গত সাড়ে পাঁচ মাসে নানা কারণে ১১ জন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। পদোন্নতি পেলেও তাদের কোথাও কাজে লাগাতে পারছে না সরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব করা হয় ১৭৯ জনকে। তাদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। কিন্তু ২৪ ও ২৫ ব্যাচে মেধা তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়নি।
২৪ ব্যাচের দুই কর্মকর্তা দুই দফায় বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হযেছে। মেধা তালিকা মানা হয়নি। আন্তঃক্যাডার কর্মকর্তাদের বৈষম্য আরও বেড়েছে।
আগের চেয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হওয়া কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ১৭ বছর কোনো পদোন্নতি পাইনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সচিব হিসেবে পদোন্নতির পর কেন জনপ্রশাসনে সংযুক্ত হলাম- কিছুই বুঝতে পারছি না।’
সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে মেধাভিত্তিক জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছে। বিএনপির ইশতেহারে বলা হয়েছে, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটা অনেক ভালো দিক। কিন্তু এই সংস্কারে আমলাতন্ত্রই প্রধান বাধা। কারণ তারা নতুন কিছু চায় না।
তিনি বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমলাদের আন্তরিকতার সঙ্গে ফাইল উপস্থাপন করতে হবে। এর পর মন্ত্রী-এমপিরা সিদ্ধান্ত দেবেন। কিন্তু আমলারা সংস্কারের সেই প্রস্তাব উপস্থাপনই করেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ ছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রস্তাব তারা বাদ দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনকে পরিবর্তন করতে হলে সরকারপ্রধানকে সরাসরি তদারক ও সমন্বয় করতে হবে।
সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নেই
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশে মেধাভিত্তিক নিয়োগ-পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল। একই ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে জুলাই ঘোষণাপত্র, ৩১ দফা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও। কিন্তু প্রশাসনের বর্তমান চিত্রে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, কেবল সরকার পরিবর্তন করলেই প্রশাসনের চরিত্র বদলায় না। পদোন্নতি, পদায়ন, মূল্যায়ন ও জবাবদিহির কাঠামোয় মৌলিক সংস্কার ছাড়া একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ: মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের কম সময়ে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের অগ্রগতি নেই। জনপ্রশাসন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ; সরকারি কর্মচারীর জন্য নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন; সরকারি চাকরিতে যোগদানের সময় হলফনামায় সই করার মতো সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই।
দণ্ডপ্রাপ্তরা পেলেন পদোন্নতি
আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আন্তঃক্যাডার বৈষম্য কমেনি বরং আরও বেড়েছে। কারণ শিক্ষা ক্যাডারের বদলি নীতিমালা-২০২৬ এ প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষমতা বেড়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এডিসি শিক্ষা কর্মকর্তাকে বদলির ক্ষমতায় যুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেও শিক্ষা ক্যাডারের বদলিতে প্রশাসন ক্যাডারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। যুগ্ম সচিবের পদোন্নতির তালিকায় থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত উপসচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। ডেমরার সহকারী কমিশনার (ভূমি) থাকাকালে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁকে তিন বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করলেও তাঁর দণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. শাহীনুর ইসলামকে বালুমহাল কেলেংকারিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়। নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) থাকাকালে তিস্তা নদীর বালুমহালের ইজারা গ্রহীতার চেক ব্যাংকে জমা না দিয়ে অর্থপ্রাপ্তির ভুয়া চুক্তি করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক বছরের জন্য বেতন গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপে অবনমিতকরণের দণ্ড দেওয়া হয়। তিনিও পদোন্নতি পেয়েছেন।
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপসচিব মুহাম্মদ মকবুল হোসেনকে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে দুর্নীতির দায়ে শাস্তি দেওয়া হয়। রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে কর্মরত থাকাকালে নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায়ে তাঁকে দুই বছরের জন্য দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল তাঁর এ দণ্ড বাতিল করেন। তিনিও আছেন পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে।
কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত জনপ্রশাসনের অঙ্গীকার- এসব প্রত্যাশা নিয়ে প্রশাসনে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আগের সরকারের সময়কার বিতর্কিত ধারা বহুলাংশে বহাল রয়ে গেছে।
মেধা ও কর্মদক্ষতার বদলে নানা বিবেচনায় পদোন্নতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এতে যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ আবারও বঞ্চিত। অনেকে দ্বিতীয় দফায় ওএসডি হয়েছেন।
অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বা বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তার যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি প্রশাসনের ভেতরে নতুন অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং মাঠ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসনের সংস্কার নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, বাস্তবে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ছে
একদিকে নিয়মিত পদোন্নতি ও পদায়নে জটিলতা, অন্যদিকে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে শুধু সচিব পদে ২২ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। এতে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, অবসরোত্তর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ব্যতিক্রম হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মে পরিণত হচ্ছে।
এসএসবির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে
পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বোর্ডের কার্যক্রম যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। মূল্যায়নের সুস্পষ্ট মানদণ্ড প্রকাশ না হওয়ায় পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি দেওয়ার পর তা বাতিল করা হয়।
প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা, সততা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরিবর্তে অন্য বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে- এমন ধারণা প্রশাসনের ভেতরে জোরালো হচ্ছে। বাড়ছে বঞ্চনাবোধ।
দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এর লোগো
শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’বই বিক্রি নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলেও পাওয়া গেছে অভিযোগ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউপিএল-এর বিক্রয়কেন্দ্রে দুই যুবক ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনতে চাইলে তাদের বইটি দেখানো হয়। এ সময় তারা বইটিকে ‘নিষিদ্ধ’ দাবি করে এটি কেন বিক্রি করা হচ্ছে, তা জানতে চান। একপর্যায়ে তারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজন জড়ো করেন। পরে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, তুলে নেওয়া দুই কর্মীকে থানায় আনা হয়নি। তাদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার পর সেখান থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই যুবক বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি কিনতে চান।
বিক্রয়কর্মীরা তাদের বইটি বের করে দিলে ওই দুই যুবক বইটি বিক্রি নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, ‘বইটি নিষিদ্ধ’। এ সময় তারা আশপাশের লোকজন জড়ো করে ওই বিক্রয়কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এদিকে প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের জানানো হয়েছে যে, বইটি নিষিদ্ধ নয়। ইউপিএল তার প্রকাশিত প্রতিটি বইকে ধারণ করে। কোনো বইকে নিষিদ্ধ করতে হলে একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবাইকে জানাতে হয়। কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। এ বইয়ের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছে বলে ইউপিএল জানে না। সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউপিএল সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি এখন ঘরে বসেই দ্রুত ও সহজ উপায়ে পুলিশি সেবা পাচ্ছেন নাগরিকরা।
অনলাইন জিডি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো সময় অভিযোগ দাখিল, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ এবং জিডির সার্টিফাইড ডিজিটাল কপি সংগ্রহের সুযোগ মিলছে। ফলে এ ব্যবস্থা সময়, যাতায়াত খরচ ও হয়রানি কমিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে চালুর পর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পুলিশের ২৪টি থানায় অনলাইন জিডি সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়। এর মাধ্যমে বর্তমানে দেশের সবকটি থানায় এ সেবার পূর্ণাঙ্গ আওতা তৈরি হয়েছে।
অনলাইন জিডি করে উপকৃত হয়েছেন রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা মাহিরা নূর। তিনি জানান, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদ হারিয়ে যাওয়ার পর ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিডি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। এতে তাকে কোনো ভোগান্তি বা বাড়তি যাতায়াত খরচের মুখে পড়তে হয়নি।
একই অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, আমার মানিব্যাগ হারিয়ে গেলে ক্রেডিট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে জিডির দরকার পড়ে। অফিসে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে অনলাইন জিডি সম্পন্ন করতে পেরেছি এবং পরবর্তীতে অনলাইনে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও জিডির কপি সংগ্রহ করতে পেরেছি।
অনলাইন জিডির সার্বিক বিষয়ে এডিশনাল আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, অনলাইন জিডি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময় সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ পাঠাতে পারছেন। হারানো বা প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়সহ নানা ধরনের অভিযোগ এতে সহজে দাখিল করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সময় ও যাতায়াত উভয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ডিএমপির ৫০টি থানায় সরাসরি জিডি গ্রহণের পাশাপাশি অনলাইনেও সমানভাবে জিডি নেওয়া হচ্ছে। মানুষের কর্মব্যস্ততা ও যাতায়াত ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সরকার বাসা, অফিস বা সুবিধাজনক স্থান থেকে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে এ সেবা সুনিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন মিয়ানমার উপকূলে আবারও গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মিয়ানমারের কিয়াইকতো এলাকার ওপর দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
এর কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়ায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, দিনব্যাপী সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সফরের শুরুতে পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ফুলগাজীতে বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে সফরসূচির এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তার বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি পরশুরাম উপজেলায় পৌঁছাবেন। এরপর খেয়াঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় গিয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধন ও স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজের উদ্দেশে রওনা হবেন। দুপুর দেড়টায় কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
এরপর দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাবেন। সেখানে ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। পরে সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম নেবেন তিনি।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান করার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ত্যাগ করবেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধনস্থল, জনসভাস্থল এবং প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও সফরকে ঘিরে সড়ক সংস্কার, সভাস্থল প্রস্তুত ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ চলার কথা জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
জনসভায় অংশ নেওয়া মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সভাস্থলে পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ স্যানিটেশন ব্যবস্থা করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়ক মেরামতসহ বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।
সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে মেরামত ও সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের জনসভাস্থলের আশপাশেও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। একইভাবে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফরের কথা ছিল। পরে ওই সফর স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
রাজস্ব আদায়ে মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বাড়াতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মে আবারও পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বিধান কার্যকর হবে।
প্রতি কর মেয়াদেই রিটার্ন
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও করদাতাদের নিয়মিতভাবে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষে ভ্যাটের হিসাব দাখিল করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এর উদ্দেশ্য হিসেবে মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু করদাতার জন্য অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।
ছুটির দিনে বাড়তি সুবিধা
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রিটার্ন জমার শেষ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে করদাতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে তার পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র জমা দেওয়া যাবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এখন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যাদেশটি জারি করা হবে।
জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অভিনন্দন
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মন্ত্রিসভার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও সভায় অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মন্ত্রিসভা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মো. ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব নির্যাতনের বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।