আজ সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ এএম

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠন করা জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি আজ মঙ্গলবার প্রথম বৈঠকে বসছে। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোর কী হবে, সংবিধান সংশোধন কমিটি কীভাবে কাজ করবে, কত দিনের মধ্যে এ কমিটি প্রতিবেদন দেবে- এসব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 


আজ প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার কথা রয়েছে।


সংবিধান সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছিল, সেটি অনুসরণ করছে না নির্বাচিত বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করে জাতীয় সংসদ।


এই কমিটির কার্যপরিধি হলো, ‘সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিমিত্ত সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক সংসদে রিপোর্ট পেশ’। এ কাজ করার ক্ষেত্রে কমিটি কী কী করবে, কীভাবে কাজ করবে, তার বিস্তারিত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হয়নি। কত দিনের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন দিতে হবে, সেটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কমিটির সংসদে প্রতিবেদন দিতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে। সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত কমিটিও অংশীজনদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে আলোচনা করবে। এ ছাড়া কমিটি বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব, বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত যেসব দফা ছিল, সেগুলোও পর্যালোচনা করবে। এসবের ভিত্তিতে সংবিধানের কোথায় কোথায় কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, সে সুপারিশ করবে বিশেষ কমিটি।


সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম বৈঠকে কমিটি নিজেদের কর্মকৌশল ঠিক করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অঙ্গীকার আছে। এর বাইরেও বিএনপির নিজস্ব কিছু অঙ্গীকার আছে। সংবিধানে কী কী সংশোধনী আনা যায়, তা নিয়ে বিশেষ কমিটি সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ সব স্তরের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবে। এরপর কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে পেশ করবে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংসদে বিল আনবে। সে বিলের ওপর আবার সংসদে আলোচনা হবে। তারপর বিলের ওপর ভোটাভুটি হবে।


বিরোধী দল থেকে এই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সরকারি দল। তবে কারও নাম দেয়নি বিরোধী দল। গঠনের দিনই এ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিল বিরোধী দল। 


সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, এ ধরনের কমিটি গঠনের বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত মতপার্থক্য আছে। তাঁরা সংবিধান সংস্কার চান।


সংবিধান সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর একটি ছিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা, জনমত জরিপসহ বিভিন্নভাবে নেওয়া মতামতের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ওই কমিশন বিস্তারিত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। 


পরে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফায় দীর্ঘ আলোচনা করে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ।


সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধানসহ এ ধরনের কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আসবে। তবে এ ধরনের কিছু প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল।


ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলো বিএনপি যেভাবে চায়, সেভাবে নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছিল। যেমন তারা একটি দলের নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলেছে। জুলাই সনদের প্রস্তাবে নিম্নকক্ষে সারা দেশে পাওয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টনের কথা বলা আছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের নভেম্বরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়েছিল। সেটার আলোকে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমতের বিষয়গুলো গণভোটে উল্লেখ ছিল না। 


অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের মূল প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট হয়েছে। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।


জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির সংসদ সদস্যরা নেননি। ফলে ওই সংস্কার পরিষদও গঠিত হয়নি। বিএনপি দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ। এ ধরনের শপথ নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। তবে জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে তারা ভিন্নমতসহ স্বাক্ষর করেছে, সেভাবে বাস্তবায়ন করবে।


বিশেষ কমিটি কি জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে, নাকি সেগুলোকে কেবল বিবেচনায় রেখে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে নতুন করে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরি করবে- এমন প্রশ্নও আছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, সংবিধান সংস্কারে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ যে আঙ্গিকে ঐকমত্য ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেগুলো সে মতে বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।



সর্বশেষ সব খবর

দূর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি

নির্বাহী আদেশে বাড়লো একদিন


সরকারি-ছুটি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৫ পিএম

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দুদিনের ছুটি নির্ধারিত আছে। পূজার ছুটির পর একদিন অফিস খোলা থাকবে, এরপর আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে কর্মদিবসটিতেও ছুটি ঘোষণা করবে সরকার। 


খোলা থাকা দিনটিতে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবছর টানা পাঁচদিনের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে।


এরপর ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা। পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটি। 


২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এরপর ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা। পরের দুদিন শুক্র ও শনিবার (২৩ ও ২৪ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটি। 

সর্বশেষ সব খবর

সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০০ পিএম

বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।


আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এয়ারবাস কিনছি। ১০টি কিনছি। ইনশা আল্লাহ, অক্টোবরে চুক্তি হয়ে যাবে।’


সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ নিয়ে মোট চুক্তি স্বাক্ষর হলো ২৫টি। অনেকের প্রশ্ন এতগুলো বোয়িং এই মুহূর্তে কেন কেনা হলো। চুক্তি স্বাক্ষর করা মানেই কিন্তু এখন নেওয়া নয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম এয়ারক্রাফটটি আসবে ২০৩১ সালে। এই ২৫টি আসতেও ১১ থেকে ১২ বছর লাগবে। আর এখন কোনো টাকাও দেওয়া লাগছে না। একটা করে এলে তারপরে টাকা।


মন্ত্রী বলেন, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছর পর দেশের এভিয়েশন খাত কোথায় যাবে সেই চিন্তা করেই এই স্বাক্ষরগুলো করা হচ্ছে। 


এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোত্থেকে কী কিনব, এটা তো ডেফিনেটলি আমাদের নিজস্ব একটা বিষয় থাকে। কোন এয়ারক্রাফটটা কীভাবে আমাদের জন্য সুইটেবল, সেটা চিন্তা করেই কিন্তু আমরা করছি। কারও লেভেল প্লেইং ফিল্ড হলো কি হলো না- সেটা দেখার বিষয় আমাদের নয়।’


মন্ত্রী বলেন, দেশের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী করা দরকার। ইথিওপিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে জিডিপির হার অনেক কম। কিন্তু তাদের এয়ারলাইনস এখন ১৬৭টি ফ্লিট নিয়ে চলছে। তাদের জিডিপিতে এভিয়েশন থেকে একটা বড় ধরনের কন্ট্রিবিউশন করতে পারছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ খুবই পিছিয়ে।

সর্বশেষ সব খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩২ পিএম

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং সংকটকালীন ও পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা একই থাকার পরও শুধু জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে কীভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।


মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।


বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


এ ছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।


বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে নিশ্চিত হাম ও উপসর্গে মোট ১ হাজার ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৩৯ জন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ২৫৫ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার ৫১৯ জন।


গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৮৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৩৯২ জন।


গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৭৯৮ জন।


গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট এক হাজার তিনজন মারা গেছেন।


গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ এএম


দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এর লোগো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ পিএম

শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’বই বিক্রি নিয়ে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মীকে তুলে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় বলেও পাওয়া গেছে অভিযোগ। সোমবার  বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউপিএল-এর বিক্রয়কেন্দ্রে দুই যুবক ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিনতে চাইলে তাদের বইটি দেখানো হয়। এ সময় তারা বইটিকে ‘নিষিদ্ধ’ দাবি করে এটি কেন বিক্রি করা হচ্ছে, তা জানতে চান। একপর্যায়ে তারা সেখানে হট্টগোল শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজন জড়ো করেন। পরে বিক্রয়কেন্দ্রের দুই কর্মী আমিনুল ইসলাম ও হুমায়ূন কবীরকে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।


এ ব্যাপারে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, তুলে নেওয়া দুই কর্মীকে থানায় আনা হয়নি। তাদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়ার পর সেখান থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই যুবক বাংলাবাজারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি কিনতে চান। 


বিক্রয়কর্মীরা তাদের বইটি বের করে দিলে ওই দুই যুবক বইটি বিক্রি নিয়ে আপত্তি তুলে বলেন, ‘বইটি নিষিদ্ধ’। এ সময় তারা আশপাশের লোকজন জড়ো করে ওই বিক্রয়কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেন। 


এদিকে প্রকাশনা সংস্থা ইউপিএল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের জানানো হয়েছে যে, বইটি নিষিদ্ধ নয়। ইউপিএল তার প্রকাশিত প্রতিটি বইকে ধারণ করে। কোনো বইকে নিষিদ্ধ করতে হলে একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবাইকে জানাতে হয়। কিছু আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। এ বইয়ের ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেছে বলে ইউপিএল জানে না। সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউপিএল সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩০ পিএম

থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি এখন ঘরে বসেই দ্রুত ও সহজ উপায়ে পুলিশি সেবা পাচ্ছেন নাগরিকরা।


অনলাইন জিডি ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো সময় অভিযোগ দাখিল, আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ এবং জিডির সার্টিফাইড ডিজিটাল কপি সংগ্রহের সুযোগ মিলছে। ফলে এ ব্যবস্থা সময়, যাতায়াত খরচ ও হয়রানি কমিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।


পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে চালুর পর ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পুলিশের ২৪টি থানায় অনলাইন জিডি সুবিধা সম্প্রসারিত করা হয়। এর মাধ্যমে বর্তমানে দেশের সবকটি থানায় এ সেবার পূর্ণাঙ্গ আওতা তৈরি হয়েছে।


অনলাইন জিডি করে উপকৃত হয়েছেন রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা মাহিরা নূর। তিনি জানান, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সনদ হারিয়ে যাওয়ার পর ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জিডি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। এতে তাকে কোনো ভোগান্তি বা বাড়তি যাতায়াত খরচের মুখে পড়তে হয়নি।


একই অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, আমার মানিব্যাগ হারিয়ে গেলে ক্রেডিট কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরুদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে জিডির দরকার পড়ে। অফিসে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে অনলাইন জিডি সম্পন্ন করতে পেরেছি এবং পরবর্তীতে অনলাইনে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও জিডির কপি সংগ্রহ করতে পেরেছি।


অনলাইন জিডির সার্বিক বিষয়ে এডিশনাল আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, অনলাইন জিডি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টার যেকোনো সময় সরাসরি পুলিশের কাছে অভিযোগ পাঠাতে পারছেন। হারানো বা প্রাপ্তি সংক্রান্ত বিষয়সহ নানা ধরনের অভিযোগ এতে সহজে দাখিল করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সময় ও যাতায়াত উভয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মো. আকতার হোসেন বলেন, ডিএমপির ৫০টি থানায় সরাসরি জিডি গ্রহণের পাশাপাশি অনলাইনেও সমানভাবে জিডি নেওয়া হচ্ছে। মানুষের কর্মব্যস্ততা ও যাতায়াত ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সরকার বাসা, অফিস বা সুবিধাজনক স্থান থেকে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে এ সেবা সুনিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর