ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ এএম

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব বিষয়ের ওপর তারা ‘নিবিড়’ নজর রাখছেন। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুর সাংবাদিক কল্লোল ভট্টাচার্য।


তিনি জানতে চান, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যেসব মন্তব্য আসছে, সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী।


কল্লোল বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই চুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ এতে যোগ দেবে কি না, তা একান্তই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং এটি নিয়ে কারও অস্বস্তির কিছু নেই। তিনি এ চুক্তিকে ‘ইসলামি পরিবারের নিজেদের বিষয়’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।


এ প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আপনার প্রশ্নের জবাবে আমার এটুকুই বলার আছে যে, ভারতের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সব গতিবিধির দিকে আমরা নিবিড়ভাবে নজর রাখছি এবং আমাদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করব।"


গত ৭ অগাস্ট সৌদি আরবের মক্কায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে এই ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের আদলে তৈরি এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো যৌথ নিরাপত্তা।


চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে, তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বলেন, সদস্য দেশগুলো যদি বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, তবে ঢাকা তা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।


এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও বলেছিলেন, সরকার এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং দেশের অর্থনীতি, মানুষ ও পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থ মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয়।


সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী প্রশ্ন করতে গিয়ে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারগুলোকে ‘নিশানা’ করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার সেখানে যথাযথ পদক্ষেপ ‘নিচ্ছে না’। এ নিয়ে ভারতের কোনো উদ্বেগ রয়েছে কি না?


জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলেন, "বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।"




আইরিন জুবাইদা খান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ এএম

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খ্যাতিমান মানবাধিকার কর্মী আইরিন জুবাইদা খান। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তিনি পরিচয়পত্র পেশ করেন বলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।


এর মধ্য দিয়ে আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।


জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার হিসাবে ২০২০ সালের ১ অগাস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আইরিন খান। এই পদে কাজ করা প্রথম নারী তিনি।


গেল ৮ জুলাই আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা এবং সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।


২০০১ সাল থেকে আট বছর মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।


সালাহউদ্দিন নোমানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে এনে পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আইরিন খান জেনিভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষক।


২০১২ সাল থেকে ২০১৯ সময়ে তিনি আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) নেতৃত্ব দেন।


২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ল স্কুলের ভিজিটিং অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করা আইরিন খান যুক্তরাজ্যের স্যালফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ছিলেন ২০০৯ থেকে ২০১৫ সময়ে।


জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে কর্মজীবন শুরু করে সেখানে ২১ বছর কাজ করেছেন তিনি, দায়িত্ব পালন করেছেন সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন দেশে। ভারতে ইউএনএইচসিআরের মিশন প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন।


বিশ্ব ব্যাংকের জেন্ডার উপদেষ্টা পরিষদ, ইউএনএইডসের এইচআইভি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল এবং জাতিসংঘের গ্লোবাল কমপ্যাক্ট বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসাবেও আইরিন খান দায়িত্ব পালন করেছেন।


যুক্তরাজ্যের ওভারসিজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক এবং উগান্ডার ‘বেয়ারফুট ল’ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যও ছিলেন তিনি।


২০১০-২০১১ সময়ে ডেইলি স্টার পত্রিকার কনসাল্টিং এডিটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন আইরিন খান।


তিনি পড়াশোনা করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড ল স্কুলে।


মানবাধিকারের লড়াইয়ে অবদানের জন্য ২০০৬ সালের সিডনি শান্তি পুরস্কারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন আইরিন খান।

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু খুলনায়

আরও ৩৪২ নতুন আক্রান্ত হাসপাতালে


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ এএম

সারা দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৯০ জন। এ সময় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৮ জন। অধিকাংশ রোগী ও মৃত্যুর হার রাজধানীকেন্দ্রিক। তবে চলতি বছর ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন খুলনা বিভাগে। 


এ বছর খুলনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়। দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশ খুলনায়। এ সময় খুলনায় রোগটি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন বছর আগে ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ ছিল বরিশাল ও চট্টগ্রামে। ওই সময় বরিশালে ৩৮ হাজার ৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২০৯ জন মারা যান। ২০২৪ সালে ঢাকার বাইরে মৃত্যুর হিসাবে তৃতীয় শীর্ষে উঠে আসে। 


গত বছরও প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থা ছিল। এ বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর মৃত্যুচিত্রে ভৌগোলিক পরিবর্তন ঘটছে। চলতি মাসের শেষদিকে ঢাকার বাইরে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এ বছর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এডিস মশা নিধনে জোর দিতে হবে। সেপ্টেম্বর মাসে এডিস মশার প্রজনন রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা খুলনা এলাকায় আরও বাড়তে পারে। 


আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক রোগ নয়। গত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা ও মৃত্যুর কেন্দ্র পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বছর ঢাকার বাইরে খুলনা অঞ্চলে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। বর্ষার শেষভাগে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে, ফলে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সেখানে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়াটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।


ঢাকার বাইরে মৃত্যুতে দ্বিতীয় বরিশাল-ময়মনসিংহ ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৩১, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১১ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। খুলনায় এ বছর এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যার মধ্যে শুধু খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৩ জন। খুলনা বিভাগের পরই ঢাকার বাইরে প্রাণহানির তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ। এই দুটি বিভাগের প্রতিটিতেই ডেঙ্গুতে আটজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। বরিশালে মৃত আটজনের মধ্যে চয়জন মারা গেছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ছাড়া পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় একজন করে মোট দুইজন রোগী মারা গেছেন। বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৪৪৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে মৃত আটজনের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলা সদরে মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। যাদের সবাই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া শেরপুর জেলায় একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে এ পর্যন্ত রোগটি শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৯৬ জনের। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।


শনাক্তের হিসেবে অধিকাংশই পুরুষ, মৃত্যুহার বেশি নারীর ডেঙ্গু শনাক্তের হিসেবে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর হিসেবে নারীর সংখ্যাই বেশি। এ বছর শনাক্ত ৩২ হাজার ৫৯০ রোগীর মধ্যে ২০ হাজার ৩৮ জন পুরুষ। আর ১২ হাজার ৩৫৫ জন নারী। অর্থাৎ, ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ, আর ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী। এ বছর মোট মারা যাওয়া ৮৮ জনের মধ্যে ৫১ জন নারী, আর ৩৬ জন পুরুষ। অর্থাৎ, ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী, আর ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ।


ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ২ হাজারের বেশি রোগী ডেঙ্গু নিয়ে নতুন ৩৪২ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮০ জন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ৬১৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে। এ ছাড়া খুলনায় ৫৭৫, বরিশালে ৩৫৬, ময়মনসিংহে ১৭৯, চট্টগ্রামে ১৬৩, রাজশাহীতে ১৫৩, রংপুরে ৩০ ও সিলেট বিভাগে সাতজন চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩২ হাজার ৫৯০ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩০ হাজার ৪২২ জন।

বিষয় : ডেঙ্গু


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে নতুন রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করেন তিনি।


ঢাকার রুশ দূতাবাস জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের মঙ্গলকামনা, সুস্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের কল্যাণে তার ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টায় সাফল্য কামনা করেন তিনি।


রুশ প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে।


গত ২০ আগস্ট বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান হয়। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬১ জন মারা গেছে, আর হামে মারা গেছে ৯৯ জন।


এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৫১, চট্টগ্রামে ৬৪, খুলনায় ৩৩, ময়মনসিংহে ৭৪, রাজশাহীতে ৯২ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১০০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২ জনের। একই সময়ে ৭০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৭৯৬ জনের।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে এক গ্যাস প্ল্যান্টে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় সাত হাজার কিলোমিটার দূরে আমুর অঞ্চলে অবস্থিত কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (এজিসিসি) প্রকল্পের সিনোপেক গ্যাস ফিল্ডে গত ২৫ আগস্ট গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ কর্মী মারা যান।


নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা জাকির হোসেন রয়েছেন। অন্য নিহতদের মধ্যে চীন ও রাশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।


ওই দুর্ঘটনায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাল হোসেন রাজু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় ৩৫ বাংলাদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মস্কো নেওয়া হচ্ছে।


আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস।


এরই মধ্যে দূতাবাস একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।নিহত জাকির হোসেনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে তার বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এলএলসি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:১৯ পিএম

আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ২৩তম ওআইসির কাউন্সিল অব ফরেন মিনিস্টারস বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।


বৈঠকে দুদেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানান।


দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে উভয়পক্ষ বিদ্যমান সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কূটনীতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে অভিন্ন আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফর করবেন।