নবনির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এসময় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল প্রেসিডেন্টকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভোট গণনা শেষে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
পরদিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
রোববার বঙ্গভবনে প্রবেশের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হলো।
নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পদোন্নতিতে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ- ২০২৬’- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধের সব শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদ ও ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যারা দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত হয়েছেন- সবার অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।
এছাড়া তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনানীদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির জন্য রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর এই ত্যাগের জন্য নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে নৌ ও বিমান বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।
অনুষ্ঠানস্থলে সরকারপ্রধান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা কামনা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এর আগে গত ২৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।
সেসময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এম জে আরিফ বেগের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৮৯ সালে তিনি এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস এবং পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।
খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধান।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগণিত বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বাক্ষর করেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম
অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) প্রলোভন দেখান। পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে বলে আশ্বাস দেন। গাজী নজরুলের গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান আজ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান এমন দাবি করেন। ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি ও হামলার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ওবায়দুর রহমান গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারীর পাশাপাশি গাড়িচালকের কাজ করতেন। গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ওই তরুণীর আত্মীয় ওবায়দুর।
গাজী নজরুল সে সময় অভিযোগ করেছিলেন, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাঁকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওবায়দুর রহমান। ভিডিও ফাঁসও তিনিই করেছেন।
ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তখন গাজী নজরুল তাঁকে প্রথমে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িচালক হিসেবে চাকরির প্রস্তাবও দেন। তিনি অর্থের প্রস্তাব গ্রহণ না করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহের কথা বিবেচনা করে গাড়িচালকের কাজ নেন।
ওবায়দুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। এ সময় তিনি গাজী নজরুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। পরে ২০ জুন তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তখন গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন।
ওবায়দুরের দাবি, ওই সময় গাজী নজরুল তরুণীর মাধ্যমে তাঁকে কিছু টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তিনি টাকা নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর আরও বলেন, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীর অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন তিনি। পরে ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর কথামতো খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তাঁর ওপর হামলা চালান এবং তাঁকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।
ওই ঘটনার পর ২১ জুলাই পল্লবী থানায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। ওবায়দুরের দাবি, মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাঁদের জামিন দেন।
এর মধ্যে ২ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে তাঁর বোন ও তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন।
ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মা ও পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকতে হচ্ছে। এসব ঘটনায় ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।
জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদ হার, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ধীরগতির কারণে ও বিনিয়োগ স্থবিরতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ব্যাবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত, নীতিগত সংস্কার এবং রাজস্ব আদায়ের নামে হয়রানি বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।
সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব সমস্যা রাতারাতি নিরসন করা সম্ভব নয়, তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পথে থাকা সব ধরনের বাধা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের ষাণ্মাসিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার এবং সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের আলোচনার প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বেসরকারি খাতকেন্দ্রিক উন্নয়ন দর্শনে সরকার অটল থাকবে। তবে বিএনপি সব সময় বিধ্বস্ত অর্থনীতির সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে। এর ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। তবু সরকার টেকসই অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
বিনিয়োগে বাধা নিরসনে অর্থমন্ত্রী জানান, স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। ব্যাবসা সহজ করতে সরকার ডিরেগুলেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য বিশেষ কমিটি ও ওয়েবসাইট চালু করা হচ্ছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা সরাসরি সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। কাস্টমস ও বন্দরে পণ্য খালাসের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়ে ব্যাবসা করার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জ্বালানি খাতের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় বলে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোচ্ছে। বর্তমানে এক মাসের জ্বালানি রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এটিকে তিন মাসে উন্নীত করা হবে। গ্যাসের সংকট মেটাতে একাধিক এফএসআরইউ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং নিজস্ব গ্যাস রিজার্ভ বাড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও এসএমই প্যাকেজ, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা নিয়োগ দেওয়া হবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি নয় কিন্তু পরিস্থিতির শিকার, তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ প্যাকেজ ও সহজ এক্সিট পলিসি ঘোষণা করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিকল্প অর্থায়ন ও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার এখন শুধু আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর না করে বিকল্প অর্থায়নের দিকে নজর দিচ্ছে। হংকং-এ বাংলাদেশের জন্য একটি ডেডিকেটেড দুই বিলিয়ন ডলারের ফান্ড এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পান্ডা বন্ড ও স্যামুরাই বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিরোধ ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারি সব সেবায় টোটাল অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ মাত্র ৫ শতাংশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেসরকারি ঋণের এমন ধীরগতি বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগের বিষয়। শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত, রপ্তানির লিডটাইম কমানো এবং ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
তাসকীন আহমেদ বলেন, সিএমএসএমই খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশের বিপরীতে মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে আটকে আছে। ব্যাবসার খরচ বাড়ায় এ খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচলিত জামানতভিত্তিক ঋণের বাইরে ডিজিটাল স্কোরিংয়ের মাধ্যমে ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি একটি নেতিবাচক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। ফলে সংস্কার উদ্যোগের সুফল মিলছে না। করজাল সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করতে এ হয়রানি কমানোর পাশাপাশি সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কারের বাস্তবায়ন তদারকিতে ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নামেনি, বেসরকারি ঋণপ্রবাহ দীর্ঘদিনের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এবং বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। উচ্চ সুদ, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়, বিনিময় হার এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তায় ব্যাবসার খরচ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের আস্থা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার বলেন, নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমদানি পর্যায়ে উচ্চ শুল্কহার স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে তার প্রতিফলন নেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি।
সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন করতে হলে কর আহরণে বিল্পব ঘটাতে হবে এবং বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার সম্ভব খুবই কম। তিনি বলেন, বাজেটের ভালো উদ্যোগ থাকলেও মুদ্রানীতিতে সেটার প্রতিফলন নেই, ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুদ্রানীতির সংস্কার জরুরি। এছাড়াও জনগণ যে পরিমাণ কর দিচ্ছেন, সেটাও কোষাগারে জমা হচ্ছে না, বিষয়টি বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও বিদেশি ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উচ্চ সুদের হার, খেলাপি ঋণ, সরকারের ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নেওয়া, জ্বালানি সংকট ও দুর্বল লজিস্টিক ব্যবস্থাকে বেসরকারি খাতের গতি না ফেরার প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাদের মতে, শুধু সুদের হার কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে না; জ্বালানি ও অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যাবসা পরিচালনার অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কলকাতার একটি হোটেলে আগুনের ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে কলকাতা থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনা হয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নিহত হন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকেই কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করে।
আজ শনিবার সকালে সাতক্ষীরার এস এম আলীমুজ্জামানের মরদেহ ঘোজাডাঙ্গা-ভোমরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত এবং একই পরিবারের তিন সদস্য আফসানা শারমিন, শর্ণশিষ দত্ত ও মো. আকরাম আলীর মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে আজ বিকেলে দেশে আনা হয়। ঢাকার আমিনবাজারের নিহত বাবু আহমেদের মরদেহও একই সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়।
কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহন ও দেশে ফেরত পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এদিকে সাতক্ষীরার নিহত রেপতি সরকারের মরদেহ তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী গতকাল রাতে কলকাতায় সৎকার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ উপহাইকমিশন আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।