হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার নিরাপত্তা, পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কীভাবে বিদেশ থেকে আসা ফলের চালানের সঙ্গে কার্গো ভিলেজ পর্যন্ত পৌঁছাল, চালানটি কোন কোন ধাপ অতিক্রম করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল-এসব বিষয় এখন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


ফলের চালানের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ


মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিমানবন্দরের বর্তমান আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের গেট ৮(এ)-এর অভ্যন্তরে বিজিএমইএ শেডের পেছনে সন্দেহজনক একটি ফলের চালান শনাক্ত করা হয়। পরে চালানটি স্ক্যান ও ইনভেন্টরির জন্য কাস্টমস হাউস, ঢাকার অধীন এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিটের গেট-৯ এলাকায় নেওয়া হয়।


প্রথম দফায় ফলের চালানের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তবে চালানটি যে কাঠের সমতল পাটাতনের ওপর রাখা ছিল, সেটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পাটাতনটি স্ক্যানিং মেশিনে পরীক্ষা করলে এর ভেতরে স্বর্ণসদৃশ ধাতব বস্তুর অস্তিত্বের প্রাথমিক আলামত পাওয়া যায়।


এরপর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে কাঠের পাটাতন খুলে হলুদ রঙের স্কচটেপে মোড়ানো ১৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন এক কেজি করে। অর্থাৎ মোট ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়। জব্দ তালিকায় বারগুলোর গায়ে সিরিয়াল নম্বর এবং কয়েকটির গায়ে ‘KILO’ লেখা থাকার কথাও উল্লেখ রয়েছে।


পরবর্তীতে স্বর্ণ পরীক্ষক দি নিউ ইসলাম জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মাহফুজুল ইসলাম বারগুলোর ওজন ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে প্রত্যয়ন দেন। ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে স্বর্ণগুলো জব্দ করা হয়।


সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, স্বর্ণের বারগুলো ফলের চালানের কাঠামোর মধ্যে লুকানো ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস চালানটি শনাক্ত করে স্বর্ণ উদ্ধার করে। কার্গো এলাকায় স্ক্যানিং মেশিন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা জড়িত নন বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।


নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছে বেবিচক


কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না-এমন প্রশ্নে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে রয়েছে।


কার্গো ভিলেজের নিরাপত্তা দুর্বল-এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তবে ১৬ কেজির মতো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ফলের চালানের কাঠের পাটাতনের ভেতরে লুকিয়ে কার্গো এলাকায় পৌঁছানোর ঘটনা বিদ্যমান নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।


আমদানিকারকসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা


মামলার নথি অনুযায়ী, স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Food Link-এর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


চালানটি খালাসের জন্য ASYCUDA World System-এ A. RAZZAQUE TRADING নামের একটি সিএন্ডএফ এজেন্টকে ট্যাগ করা ছিল। সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিলের নথিতে FASTRACK CARGO SOLUTIONS LTD. নামের একটি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া যায়।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাস্টার ও হাউস এয়ারওয়ে বিলের মাধ্যমে আমদানি করা পণ্য ১৯ জুলাই ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভের কাছে ডেলিভারি দেওয়া হয়।


মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্দেহজনক চালানটির প্রাথমিক কার্যক্রমের সময় সংশ্লিষ্ট সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে একজন কাস্টমস সরকার উপস্থিত ছিলেন। ওই সময়ের কার্যক্রম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রতিনিধির বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।


অভিযান ও জব্দ প্রক্রিয়ার ভিডিও ফুটেজও বডি ক্যামেরায় ধারণ করা হয় এবং পরে চাহিদার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেনড্রাইভে সরবরাহ করা হয়েছে বলে কাস্টমসের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।


ফলে চালানটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কারা এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কার্গো ভিলেজে প্রবেশ থেকে স্বর্ণ শনাক্ত হওয়া পর্যন্ত এটি কী কী নিরাপত্তা ও ছাড়করণ ধাপ অতিক্রম করেছে-এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার ৬০ কেজির বেশি স্বর্ণ


কাস্টমসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৬০ কেজি ১৮৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।


বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের এই তথ্য চোরাচালানের প্রবণতা এবং বিমানবন্দরের কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে একাধিক বড় চালান শনাক্ত হওয়ার পর পণ্য পরীক্ষা, স্ক্যানিং সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ


১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্গো নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ-চাঁদাবাজি, রোস্টার প্রভাবিত করা, পণ্য ছাড়করণে অনিয়ম এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সামনে এসেছে।


সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাস, কর্মী নম্বর পি-৩৬৭৩৯-এর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রটিতে ৩৭৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কার্গো শাখার সিএন্ডএফ এজেন্ট, রপ্তানি পণ্যের ফরওয়ার্ডার, হেলপার এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ বা চাঁদা আদায় করা হতো। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বদলি, চাকরিচ্যুতি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্ট নথি, সাক্ষ্য ও তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।


চার শিপমেন্টের কাগজপত্র নিয়েও অভিযোগ


অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বরের একটি ঘটনায় চারটি শিপমেন্টের কাগজপত্র ও এক্সিট নম্বর নিয়ে অনিয়ম হয়েছিল। বিমান কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দায় নির্ধারণ করা হলেও পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়।


এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিপমেন্টের নথি, এক্সিট রেকর্ড, ডেলিভারি তথ্য এবং তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই প্রয়োজন।


১,৯২১ কেজি পণ্যের হদিস নিয়ে প্রশ্ন


অভিযোগপত্রে চীন থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি চালান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৭৮৪-৬৯২৫৩৩৬৫-এর অধীনে ৫৬ পিস, মোট ১ হাজার ৯২১ কেজি পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই ওই পণ্য সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হয় এবং পরে পণ্যগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি। এর ফলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও কাস্টমসের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।


অভিযোগে এয়ারওয়ে বিল নম্বর ৬১৯-১০৭৭১৬৮১-এর অধীনে ১৩২ পিস এবং প্রায় ৩ হাজার ২৩৯ কেজি কার্গো পণ্য ছাড়করণ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জাল কাগজপত্র ব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে ওই পণ্য ছাড় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে মইনউদ্দিন লোটাস ডেলিভারি গেটে দায়িত্বে ছিলেন।


তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারওয়ে বিল, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, কাস্টমস ডকুমেন্ট, ডেলিভারি রেকর্ড, এক্সিট নম্বর এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


‘বকশিশ’ নেওয়ার বক্তব্য


অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত বলে দাবি করা হাতে লেখা দুটি বক্তব্যেও কার্গোতে অতিরিক্ত কাজের বিনিময়ে টাকা পাওয়ার প্রসঙ্গ রয়েছে।


মো. আলী-আশরাফুজ্জামান, জি-৫২৭৯৬-এর নামে থাকা একটি বক্তব্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে সেটিকে কাজের বিনিময়ে ‘বকশিশ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে মোরশেদ ও আশরাফের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।


অন্য একটি বক্তব্যে কার্গো হেলপার খোরশেদ আলম, জি-৫২৫০৯-এর নামে অতিরিক্ত কাজ, নাইট চেকিং ও মালামাল লোডিংয়ের সঙ্গে বকশিশ পাওয়ার কথা লেখা রয়েছে।


রোস্টার ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও অভিযোগ


কার্গো বিভাগের রোস্টার প্রণয়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একই কর্মকর্তা নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে বারবার দায়িত্ব পেয়েছেন এবং স্বাভাবিক রোটেশন অনুসরণ করা হয়নি। নিরাপত্তা বিভাগেও একই এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


এ অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য অন্তত গত এক বছরের ডিউটি রোস্টার, সংশোধিত রোস্টার, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং দায়িত্ব পরিবর্তনের অনুমোদনপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


যা বলছেন মইনউদ্দিন লোটাস ও বিমান কর্তৃপক্ষ


অভিযোগের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনউদ্দিন লোটাসের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়গুলো যাচাই করছেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে মইনউদ্দিন লোটাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


তিনি আরও জানান, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সেগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।


সব মিলিয়ে, ফলের চালানের কাঠের পাটাতনে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি চোরাচালান মামলা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। চালানটির প্রবেশ, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্বে ছিলেন, কোথায় নজরদারির ঘাটতি ছিল এবং কার্গো শাখাকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলোর সঙ্গে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার যোগসূত্র রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



সর্বশেষ সব খবর

র‍্যাব বিলুপ্তে বিল, সংসদে তর্ক-বিতর্ক

সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল


জাতীয় সংসদ অধিবেশন (ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ পিএম

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন এলিট ফোর্স স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের জন্য জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে র‌্যাব ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এসআরবি বিলের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬ উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 




পরে বিলটি চার দিনের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ ও দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একটি আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ, বিশেষায়িত ও জবাবদিহিমূলক ইউনিট থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়ার জন্যও এটি প্রয়োজন।



প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, র‌্যাবের সব জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত, দায়, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার এবং নথিপত্র এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে। নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা ও আদালতের কার্যক্রমসংক্রান্ত ২০০৫ সালের বিদ্যমান বিধিমালা কার্যকর থাকবে।



বিল অনুযায়ী, এসআরবি পুলিশ বাহিনীর অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। নিয়োগ বা প্রেষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীদের নিয়ে এ ইউনিট গঠিত হবে। ইউনিটটির নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক করা হবে।



এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিটটির নিজস্ব হাজত, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। জনসাধারণের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন করা হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিলটি উত্থাপন করলে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি এসআরবি নামে নতুন এলিট ফোর্স গঠনের আগে সংসদে বিশদ আলোচনার দাবি জানান।



বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও একই আহ্বান জানান। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে বিতর্ক হয়।



নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন সেলের কারণে র‌্যাব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপিও এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।



নাহিদ ইসলাম বলেন, র‌্যাব ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এটি বিলুপ্ত করা উচিত। যদি একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়, তাহলে আগে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। 



জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন উপদেষ্টা পরিষদে তিনি যদি এই প্রস্তাব দিতেন, তাহলে খুশি হতাম। কিন্তু ১৮ মাসে তার এ কথা মনে হয়নি।




তিনি আরও বলেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন কুখ্যাত বেনজীর। এ কারণে কি আমরা পুলিশ বিলুপ্ত করে দেব?



এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আমরা র‌্যাব বিলুপ্ত করার প্রস্তাবকে সমর্থন করি। তিনি বলেন, এটি বিলুপ্ত করা উচিত। নতুন কোনো সংস্থা গঠনের বিষয়ে আরও চিন্তা-ভাবনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।



জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা যে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করছি, সেখানে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে... কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে জড়িত হলে এখন তদন্ত ও বিচারের জন্য একটি সংস্থা থাকবে, যা আগে ছিল না।



পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর বিলটি চার কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।



আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬

স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬-ও সংসদে উত্থাপন করেন। বিলে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর অধীনে এপিবিএন গঠন ও পরিচালিত হবে।প্রস্তাবিত বিলে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে এপিবিএন সদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে।



এতে বলা হয়েছে, এই ইউনিটের কোনো সদস্য কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না বা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। তবে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো বা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের স্বার্থে তারা পেশাজীবী সমিতি বা সংগঠনে যোগ দিতে পারবেন। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এই ইউনিটের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে, প্রকাশে সহায়তা করতে বা প্রকাশের ব্যবস্থা করতে পারবেন না।

সর্বশেষ সব খবর

মির্জা আব্বাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে যোগ দেন। 


এর আগে, তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনে নিজ অফিসে দাপ্তরিক কাজ করেন। পরে হুইলচেয়ারে করে তিনি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানান।


স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'দীর্ঘ ৫ মাস চিকিৎসার পর আপনি দেশে ফিরে এসেছেন। আমরা আপনাকে এই সংসদে স্বাগত জানাচ্ছি।'


বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এক পর্যায়ে মির্জা আব্বাসকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।


বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'আপনারা জানেন আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম এবং আছি। নির্বাচনের পরপর কোনো এক মিটিংয়ে গুরুতর রোগাক্রান্ত হই। তারপর থেকে আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম, এখনো আছি।'


তিনি বলেন, 'আবেগ-ভালোবাসার কারণে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার চিকিৎসা শেষ হয়নি।' এরপর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। 


মির্জা আব্বাস বলেন, 'আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও বিশেষ স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আজ আমি মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি সংসদ সদস্য হিসেবে।'


'এমন আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে? অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে বর্তমান সংসদ যাত্রা শুরু করার পর পরই গত ১১ মার্চ স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। দীর্ঘসময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া থাকতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনের নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি। চিকিৎসা শেষে বলা ভুল হবে, আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। চিকিৎসার মাঝপথে প্রথমবারের মতো আমি সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি,' বলেন তিনি।


দোয়া ও খোঁজখবর নেওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ আরও বলেন, 'আমার অসুস্থতার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বক্ষণিক আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য আমি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আপনাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।'


স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখতে পারিনি, আমি তখন অচেতন ছিলাম। আমি পরে জেনেছি। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সুন্দর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।'


এরপর আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা আব্বাস আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি শুধু মানুষের মতপার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।'


'আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন যেন আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময়টুকু আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারি। ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমি শুধু এই কথা বলতে চাই, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য,' বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।


পুরো সময় পাশে বসা ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান তাকে সহযোগিতা করেন বক্তব্য দিতে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ পিএম

অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে ৩৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৯৬ জনকে আটক করেছে ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার গ্রাদিসকা বর্ডার পুলিশ।


দেশটির সংবাদমাধ্যম সারাজিভো টাইমস ও ফার্স্ট বলকান মিডিয়ায় আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, গ্রাদিসকা বর্ডার পুলিশ দেশটির কনফেডারেশন রিপাবলিকা সের্পস্কার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বুধবার দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে এই ৯৬ জনের বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।


বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সীমান্ত পুলিশের বরাতে খবরে বলা হয়, বুধবার বিকেলের দিকে বিস্ত্রিকা শহরে ৬৩ জনের সীমান্ত অতিক্রমের একটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তাদের মধ্যে ৪০ জন পাকিস্তানের এবং ২৩ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।


বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার প্রসিকিউটর অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৌঁসুলির নির্দেশনায় ঘটনাস্থল থেকে দুটি নৌকা জব্দ ও মানবপাচারে জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়।


একই দিন রাতে বিস্ত্রিকা শহরে আরও ৩৩ জনের বেআইনিভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়। ওই দলে ১৩ বাংলাদেশি, ১৮ জন আফগান ও ২ পাকিস্তানি ছিলেন।


কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ঘটনার বিষয়ে ‘সার্ভিস ফর ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স’-এর বানিয়া লুকা ফিল্ড সেন্টারকে অবহিত করা হয়েছে এবং মামলাটির আইনি কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে।

সর্বশেষ সব খবর

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ‘রেঞ্জ রোভার’ গাড়ি (ইনসেটে মন্ত্রী)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৮ পিএম

উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে এ ঘটনা ঘটে।


ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, সকাল ৯টার দিকে সার্কিট হাউস সড়কের উল্টো পথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল মন্ত্রীর গাড়িটি। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ পতাকাবাহী গাড়িটি থামিয়ে দেয়। পরে উল্টো পথে চলার অভিযোগে গাড়িটির বিরুদ্ধে একটি ও চালকের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করা হয়। দুই মামলায় তিন হাজার টাকা করে মোট ছয় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।



ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ‘রেঞ্জ রোভার’ এ গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অতিক্রম করছিল। 


ওই ঘটনার সময় গাড়িতে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জমান মিল্লাত ছিলেন। এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 


পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের শীর্ষ মহল থেকে আমাদের কাজ করার সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো পথে চলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এটা নজিরবিহীন। সাধারণ মানুষেরও আইন ভঙ্গ করার আর সুযোগ থাকবে না।’



এদিকে মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো পথে চলায় মামলা ঠুকার খবর এদিন সচিবালয়ে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জোগায়। 


কী বার্তা দিলো পুলিশ

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক আইন মেনে সচিবালয়ে যাওয়া-আসা করছেন। যানজটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছে। সেখানে মন্ত্রী কিংবা সচিবের গাড়ি উল্টোপথে যাওয়ার এই ঘটনার পরিণতি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৯ পিএম

দেশের ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর নামে ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ ও আত্মসাতের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


মামলার অন্য আসামি হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক সভাপতি এবং এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ওই তথ্য জানান।


ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের অনুকূলে তহবিল সংগ্রহ করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতিসাধন করে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।


মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা ‘পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে’ ৪১টি ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে মোট ২৭৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুকূলে সংগ্রহ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি - এআই দিয়ে বানানো।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৫ পিএম

জ্বালানি তেল, এলপিজি ও নিত্যপণ্যের চড়া দামে এমনিতেই দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এর মধ্যেই সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়ে চেপে বসেছে বিদ্যুতের বাড়তি বিলের বোঝা। গত জুনে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৬.৬৮ শতাংশ। আবাসিক গ্রাহকদের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ছয় ধাপে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করায় সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। স্লাব পরিবর্তন হওয়ায় একটি পরিবারের জন্য নিতান্ত প্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান ও আনুসঙ্গিক প্রয়োজন মেটাতে যেটুকু বিদ্যুৎ লাগে সেটুকু ব্যবহারেও এখন গ্রাহককে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার্জ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা প্ল্যাটফর্মে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিরক্ত হয়ে ফুঁসে উঠেছে মানুষ।


ইস্যুটি নিয়ে নওরোজের পক্ষ থেকে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। সাধারণ নাগরিকদের মনোভাব জানার চেষ্টা করেছেন। মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা নওরোজকে জানিয়েছেন তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা। 


তারা জানিয়েছেন- বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। সাধারণ পরিবারগুলো বলছে- ন্যূনতম জীবনযাপনের জন্য যে পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন সেই ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার করে একই রেট নির্ধারণ করতে হবে। শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ নওরোজের কাছে এমন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে অন্যান্য অতিরিক্ত যেসব খরচ যুক্ত হয় যেমন ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া সেগুলোও বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। 


গ্রাহকদের বক্তব্য- ‘নিজের টাকায় বসানো মিটারে কেন ভাড়া গুণতে হবে আমাদের।’ তাদের ভাষ্য, দেশের বিদ্যুৎ খাতে কাঠামোগত সংস্কার বিশেষ করে বিদ্যুতের ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো সংস্কার না করে উল্টো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। 


গ্রাহকরা বলেন, সাধারণ মানুষ ২০০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করে থাকে। এটিও যখন বাড়ানো হচ্ছে তখন আমাদের বিলাসিতার ওপর নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় যে চাহিদা সেটার ক্ষেত্রে এই খরচ বাড়ানো হচ্ছে। 


মূল্যবৃদ্ধিতে ধাপ (স্ল্যাব) পরিবর্তন


ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মাথায় জুনে এসে বাড়িয়েছে বিদ্যুতের দাম। প্রথম ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করেছে বিইআরসি। এটি সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ধাপ যারা মূলত বাতি ও একটি ফ্যান চালান। এ শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। 


এরপর ৭৫ ইউনিট (০ থেকে ৭৫) পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা প্রথম ধাপের গ্রাহক। এই ধাপের গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৬ টাকা ১৮ পয়সা। এ শ্রেণির গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। 


দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ টাকা ৫০ পয়সা; 


তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীর জন্য দাম ৭ টাকা ৫৯ পয়সা থেকে ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৯ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছে। 


চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ২ পয়সা থেকে ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহারকারী বিদ্যুতের দাম ১২ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ টাকা ০১ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ১৪ টাকা ৬১ পয়সা থেকে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা করা হয়েছে। 


এভাবে ধাপে ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকের ব্যবহৃত ইউনিটের পরিমাণ অনুযায়ী মাসিক বিলও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। 


চাপে প্রথম ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহকরা 


ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর। কারণ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা আগে যে হারে বিদ্যুৎ বিল দিতেন নতুন মূল্যবৃদ্ধির পর ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য অতিরিক্ত হার আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে কেউ যদি ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাহলে পুরো ইউনিটের বিলই উচ্চ হারে গণনা করা হচ্ছে। এ কারণে পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। 


বিল বৃদ্ধির তুলনামূলক চিত্র


একটি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। আগে ২০০ ইউনিট বিদ্যুতের জন্য (ভ্যাট ও ডিমান্ড চার্জ ছাড়া) বিল আসতো ১ হাজার ২৯৫ টাকা। এর মধ্যে প্রথম ৭৫ ইউনিটের জন্য প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা এবং বাকি ১২৫ ইউনিটের জন্য ৭ টাকা ২০ পয়সা করে হিসাব করা হয়। এখন শুধু স্ল্যাব পরিবর্তন হওয়ায় একই পরিমাণ বিদ্যুতের বিল বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজার ৪৪০ টাকায়। কারণ তখন পুরো ২০০ ইউনিটই উচ্চ হারে গণনা হবে। অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ২০ পয়সা করায় ২০০ ইউনিট ব্যবহারের বিল দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ৬৪০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এতে গ্রাহকের মাসিক বিল বাড়বে ৩৪৫ টাকা ৫০ পয়সা। এর বাইরে বিলের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট যুক্ত হবে। 


প্রভাব ফেলেছে ১ কোটি ৫৩ লাখ গ্রাহককে 


পিডিবির হিসাব বলছে- শুধু স্ল্যাব পুনর্গঠনের কারণেই প্রায় ৩৫ শতাংশ গ্রাহক বাড়তি বিলের চাপে পড়বেন। এর মধ্যে ২৩ শতাংশই নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ৩১ লাখের বেশি আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ শতাংশ লাইফলাইন গ্রাহক, যারা মাসে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। আরও ২২ শতাংশ গ্রাহক ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। অন্যদিকে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ গ্রাহক মাসে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। বাকি চারটি ধাপ যথাক্রমে ২০০ থেকে ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ শতাংশ।


স্ল্যাব পরিবর্তনে সে কারণে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে এই শ্রেণির ওপর; যারা বিলাসিতা নয় নিতান্ত প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও কিন্তু অতিরিক্ত চার্জে বিল দিচ্ছেন। এমন গ্রাহকদের বেশিরভাগই সাধারণত বাসায় নিয়মিত একাধিক বাতি, ফ্যান, ফ্রিজ ও টিভি চালাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন।


কী বলছেন গ্রাহকরা


রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মোখলেসুর রহমান নওরোজকে বলেন, আমার পরিবারের চারজন সদস্য। শুধু ফ্যান, লাইট ও ফ্রিজ ব্যবহার করি। এতেই আগে যে বিল আসতো সেই তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি টাকা এখন মাসিক বিলে গুণতে হচ্ছে আমাকে। অথচ আয় বাড়েনি। তাহলে কীভাবে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করবো?


রাজশাহীর গৃহিণী লাবণী আক্তার বলছেন, বিদ্যুৎ খরচ দিন দিন লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছে। মাসিক চার্জ যেভাবে বাড়ছে তাতে আমাদের নাভিশ্বাস অবস্থা। এই অবস্থা থেকে আমরা নিষ্কৃতি চাই। আমাদের সামর্থের কথা ভেবে প্রথম ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলে অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহার করা উচিত সরকারের। 


দিনাজপুরের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব দেখে আমরা দিশেহারা। একদিকে বাড়ির বিদ্যুৎ খরচ, অন্যদিকে জমিতে সেচের জন্য বিদ্যুতের খরচ সব মিলিয়ে যে টাকা আসে তা জোগাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে আমাদের। এটি আমাদের ওপর এক ধরনের জুলুম। সরকারের উচিত বিদ্যুৎ বিলের লাগাম টেনে ধরা। 


নীলফামারীর ব্যবসায়ী মাসুদ রানা বলেন, আমার একটি তেলের মিল আছে। সরিষাসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের যে দাম সে তুলনায় তেলের যে দাম তাতে কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না আগে থেকেই। এখন বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি বাসার বিলও বেড়ে যাচ্ছে প্রতি মাসে। জানি না- ভবিষ্যতে এই মিল চালিয়ে যেতে পারবো কিনা। বিদ্যুৎ খরচ আমাদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে যাচ্ছে। এই বিল কমানো উচিত সরকারের।       


প্রথম ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ‘অযৌক্তিক’


এদিকে প্রথম ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না বলে জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক ও বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনের বক্তারা। এ ব্যাপারে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ) এর নেতা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসু বলেন, প্রথম ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না। দেশের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা ভেবে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সাধারণ মানুষ ২০০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করে থাকে। এটিও যখন বাড়ানো হচ্ছে তখন তাদের বিলাসিতার উপর খরচ বাড়ানো হচ্ছে না, নিত্য প্রয়োজনীয় যে চাহিদা সেটার ক্ষেত্রে এই খরচ বাড়ানো হচ্ছে। 


তিনি বলেন, নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে প্রথম ২০০ ইউনিটে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে প্রথম ২০০ ইউনিট বিদ্যুতের দাম এক টাকাও না বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার খরচ কমানোর জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার মূল্য সহনশীল রাখতে হবে। 


বিদ্যুতের বিলাসী ব্যবহারের ওপর এক ধরনের কর আরোপ করা যেতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এই ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেবে না এটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে দুই থেকে তিনশ’ ইউনিটের পর প্রতি ইউনিটের জন্য বিদ্যুতের ব্যয়ের হার বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ৪০০ ইউনিট ক্রস করলে আরও বেড়ে যাবে তাতে সমস্যা নাই। কিন্তু নিত্যান্ত সামান্য যে প্রয়োজন সে বিদ্যুৎটুকুতেও যদি বাড়তি মূল্য বসানো হয় সেটি জনগণের জন্য একটি জুলুম। 


নাগরিক সমাজের তীব্র বিরোধিতা


বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে বিইআরসির গণশুনানিতে লিখিত বক্তব্যে সংস্থাটি বলেছে, দাম বাড়ানো হলে মাসের খরচ বাড়বে, একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ কারণে মানুষের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হবে। তবে তাদের আপত্তির দিকে কর্ণপাত করেনি সরকার।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, কী কী করলে বিদ‍্যুতের দাম কমানো যেতে পারে, এ পরিকল্পনা কেন নেই। সংকটের অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়। ক‍্যাপাসিটি চার্জ কমানোর কথা বলে না। 


ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সরকার যেন মুনাফাখোর না হয়, সেটাই জনগণের প্রত‍্যাশা। কল‍্যাণের অর্থনীতি থেকে বিবেচনা করলেও বিদ‍্যুতের দাম কমানো যায়। 


সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী মানুষকে স্বস্তি দিতে চান, আর এখানে হচ্ছে উল্টোটা। সরকার মুনাফাভোগী হতে পারে না, ব্যবসা করতে পারে না। বিইআরসির আইন সংশোধন করতে হবে। লুটপাটের বাংলাদেশ থেকে বের হতে হবে। 


ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, খরচ না কমিয়ে লুণ্ঠনের সুযোগ দিয়ে যাচ্ছে সরকার। আর ঘাটতির সংকট দেখিয়ে ভোক্তার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পিডিবি দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিতে পারে, ঘাটতি পূরণের কৌশল বলে দিতে পারে না। বিদ্যুৎ বিলের ধাপ পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। এর মানে হলো- নিম্নমধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা।


অধ্যাপক শামসুল আলম বিতরণ সংস্থাগুলোর এই ‘অযৌক্তিক ব্যয়’ গ্রাহকদের ওপর চাপানোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ১০-১৫ বছর ধরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দাম নিয়ে সংস্থাগুলো যে মুনাফা করেছে, তার হিসাব কোথায়? তাদের জবাবদিহিতার আওতায় না এনে খরচের দায় সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ম. তামিম বলেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি কেবল বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর। বিশেষ করে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।


বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিস্টেম লস, ক্যাপাসিটি চার্জের মতো বিষয়গুলো বন্ধ করার দাবি ছিল ভোক্তাদের। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ওপর খড়্গ নামানো হলো, যা খুবই দুঃখজনক। যেখানে বিভিন্ন দেশ ক্ষুদ্র প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য বিল মওকুফের কথা বলছে, সেখানে ভর্তুকি কমানোর কথা বলে ক্ষুদ্র গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের জ্বালানি অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি হলে স্বাভাবিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মূল্যস্ফীতি উসকে দেবে।’


৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব


গণশুনানিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিনা পয়সায় বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স)। 


তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাংবিধানিক অধিকার। এটি সেবা খাত, লাভজনক বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মানুষের পকেট কেটে টাকা নেওয়ার নতুন নতুন প্রস্তাব নিয়ে এসেছে পিডিবি। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না দেখার কেউ নেই, ধাপ বদল করে আরও টাকা নিতে চায়। এমন প্রস্তাব যারা দেয়, তাদের মধ্যে জনস্বার্থ নেই। তাই দাম বাড়ানো অনৈতিক। 


জানা গেছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে নতুন এই কৌশল নিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের ধাপ (স্ল্যাব) বদল করে আয় বাড়াতে চায় সংস্থাটি। এতে কম দামে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুবিধা হারাচ্ছেন গ্রাহকদের একটি বড় অংশ। এ ছাড়া বছরে দুবার দাম সমন্বয় চায় পিডিবি। 


দাম বাড়ানোর আগমুহূর্তে পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেছিলেন, আর্থিক ঘাটতির কারণে জ্বালানি (তেল, কয়লা) কেনা যাচ্ছে না, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল দেওয়া যাচ্ছে না। খরচ কমিয়েও ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। কয়েক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। জ্বালানির দাম বাড়তি। তাই বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। ঘাটতি কমাতেই আবাসিকের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধাপ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। 


বিইআরসি বলছে, উৎপাদন, সঞ্চালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অদক্ষতা, ক্যাপাসিটি চার্জ বৃদ্ধি ও অনিয়ম-দুর্নীতি দেশের বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় বাড়িয়ে তুলছে। যার দায়ভার বছরের পর বছর বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাকে। 


এসব বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।


পাঠকের প্রতি নওরোজের ঘোষণা


অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ নানা প্ল্যাটফর্মে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এ নিয়ে নানা পোস্ট করছেন, কমেন্টস করছেন। জনমত বলছে- মানুষ এ থেকে নিষ্কৃতি চাচ্ছে। 


আপনাদের দুর্ভোগের বিষয়টি উপলব্ধি করে নওরোজ এ ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। 


আপনারা নওরোজের পেজটি লাইক দিন, শেয়ার করুন এবং আপনাদের মতামত কমেন্টে আমাদের জানান। পরবর্তীতে আমরা এ ব্যাপারে ধারাবাহিক প্রতিবেদন আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এবং আপনাদের দাবির প্রতি সোচ্চার থাকবো।   

সর্বশেষ সব খবর