পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী সব ট্রেনে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী সব ট্রেনে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে ১১টি সেতুতে 'এক্সট্রা ডিস্ট্যান্স অব পন্টেজ' চার্জ আরোপ করায় ২০ ডিসেম্বর থেকে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হবে। সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ছে ৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত। মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর পূর্বাঞ্চল রেলের বাণিজ্যিক বিভাগ নতুন ভাড়া কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে, যা ১০ ডিসেম্বর থেকেই অগ্রিম টিকিটে প্রযোজ্য হয়েছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানায়, পুরনো সেতু ও কালভার্টের রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাড়তি বিনিয়োগের অর্থ উত্তোলনের উদ্দেশ্যে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হয়েছে। আগে প্রতি কিলোমিটার সেতুকে ১৭ কিলোমিটার হিসেবে ধরা হলেও নতুন নিয়মে প্রতি কিলোমিটার সেতু ২৫ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে বিভিন্ন রুটে দূরত্ব বাড়ছে ৪ থেকে ৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত। দূরত্ব বাড়ায় রুটভেদে ভাড়া বাড়ছে ৫ থেকে ২২৬ টাকা পর্যন্ত।
ভাড়া বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, 'রেলের ভাড়া ২০১৬ সালে সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছিল। পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি রেলওয়ে অবকাঠামো স্থাপনের পর পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হলেও পূর্বাঞ্চলে করা হয়নি। এখন পূর্বাঞ্চলের মাত্র ১১টি সেতুর জন্য পন্টেজ চার্জ যুক্ত করা হচ্ছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রামের সর্বনিম্ন ভাড়া বাড়ছে মাত্র ১৫ টাকা। সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া কম বাড়ানো হয়েছে।'
ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে ভাড়ার দূরত্ব ৩৪৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮১ কিলোমিটার। এতে আন্তঃনগরসহ সব শ্রেণির টিকিটে ভাড়া ১৫ থেকে ১৫৯ টাকা পর্যন্ত বাড়ছে। ঢাকা–কক্সবাজার রুটে দূরত্ব ৫৩৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৮৬ কিলোমিটার, যেখানে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ছে। ঢাকা–সিলেট রুটে দূরত্ব বেড়ে ৩৫০ কিলোমিটার হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণিতে ১৫ থেকে ১২৭ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ছে। চট্টগ্রাম–সিলেট রুটেও অতিরিক্ত দূরত্ব যোগ হওয়ায় ভাড়া বৃদ্ধি হচ্ছে ১০ থেকে ৮৭ টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম–জামালপুর রুটে ১৭ কিলোমিটার বাড়ায় ভাড়া বাড়ছে ১০ থেকে ৬৯ টাকা পর্যন্ত। ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রুটে বাড়তি ৪ কিলোমিটার দূরত্বের ভিত্তিতে ভাড়া সামান্য সমন্বয় করা হয়েছে—কিছু শ্রেণিতে ৫ থেকে ১৭ টাকা পর্যন্ত।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৬ সালের পর রেলের ভাড়া আর বাড়ানো হয়নি। পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে আয় সমন্বয় করতে পন্টেজ চার্জসহ বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে পদ্মা সেতু এবং পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বড় সেতুতে পন্টেজ চার্জ আরোপ করা হলেও পূর্বাঞ্চলে তা কার্যকর হয়নি। এবার পূর্বাঞ্চলের ১১টি সেতুতে চার্জ আরোপ করায় ভাড়া সমন্বয় করা হলো।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন
শারীরিক তীব্র যন্ত্রণার কাছে থমকে গেছে চেনা জীবনের ছন্দ। বিগত দুদিন ধরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেই পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। ডান পায়ের পুরোনো রোগটি হঠাৎ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় এখন ব্যথার সাথে এক নিরন্তর লড়াই চলছে তার। চিকিৎসকের নির্দেশে টানা তিন সপ্তাহ চিকিৎসাকেন্দ্রিক এই কঠিন পথ পার করতে হবে তাকে।
শারীরিক কষ্টের মাঝে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন শুধু আরোগ্য আর সুস্থতার প্রতীক্ষায়। সাবেক রাষ্ট্রপতির এক স্বজন কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের এক স্বজন কালবেলাকে বলেন, ‘তিনি দুদিন ধরে খুবই অসুস্থ। ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইনজেকশন নিয়েছেন।’
ওই স্বজন আরও বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টানা ৩ সপ্তাহ তাকে এই ইনজেকশন নিতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না।’
অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে দেখিয়েই বঙ্গভবন ছেড়েছিলেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠান মোঃ সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান স্পিকার।
একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের কথাও ঘোষণা করেন। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন মোঃ সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের একদিন পর বঙ্গভবন ছাড়েন মোঃ সাহাবুদ্দিন। পরে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় ওঠেন তিনি। বর্তমানে সেখানে অবস্থান করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদেরকে ‘চোখে চোখে’ নজরদারিতে রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী আছে, অনেক রটনাকারী আছে। এদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে এরা অতীতে কী করেছে? সেই অতীত বিবেচনা করে আমাদের তাদেরকে চোখে চোখে রাখতে হবে, অতীত বিবেচনা করেই ভবিষ্যতে তারা কী করছে সেদিকে আমাদেরকে নজর রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে আমাদের স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোন বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হলে চলবে না। বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করতে আসে অতীতের মত তাদেরকে সমুচিত জবাব দিতে হবে।’
আজ রোববার বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে জেলার নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে সন্মানি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক অনুদানের চেকও দেন তিনি। একজন প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন চাকুরির নিয়োগপত্র।
প্রধানমন্ত্রী অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকালে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘এরা অতীতে কী করেছে তা বিবেচনায় নিয়ে এদের চোখে চোখে রাখতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং বিগত ১৭ বছরের জনগণের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না।’
তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর নেতাকর্মীরাই গুম, খুন, নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন।
সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে রাজপথে অনুপস্থিত থেকে যারা আজ সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলছেন, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বিএনপিই ২০২২ সালে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল। এরও আগে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই দেশে সংস্কারের প্রথম প্রস্তাবনা তৈরি হয়।’
জনকল্যাণমূলক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন মিল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে পেছনে রেখে বা তাদর সঠিকভাবে তৈরি করতে না পারলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারা যাবে না। আমরা যত যতই বড় স্লোগান দেই না কেন, মানুষকে যদি আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে না পারি, দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে যদি আমরা অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কখনোই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে পারবো না।’
অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন এক বাংলাদেশ তৈরি করা হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পেছনে ফেলে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও ক্ষমতায়িত করতেই ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।’
‘এছাড়া সেচ সুবিধা ও পানি সংকট দূরীকরণে আগামীতে দেশব্যাপী আড়াইশ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতকরনে ও তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং ভাষার দক্ষতায় পারদর্শী করে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেধা ও প্রতিভাকে সঠিকভাবে বিকাশ ঘটাতে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।’
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজের দিকনির্দেশক হিসেবে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের আত্মনির্ভরশীল রাখতে বিশেষ সামাজিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি অসচ্ছল, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের সময় বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিএনপি সরকার।’
বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে এমন রাজনীতি করে, যে রাজনীতি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, শিক্ষায় সহায়তা দেয়, কৃষকের ফসল বাড়াতে ভূমিকা রাখে এবং কলকারখানা গড়ে তোলে- সেটিই বিএনপির রাজনীতি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এই উন্নয়ন যাত্রার প্রত্যক্ষ সাক্ষী দেশের সাধারণ মানুষ।
তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের জন্য কাজ করা, মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারলেই একমাত্র দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যাবে।’
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে। এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে। সরকারের কমিটমেন্ট আছে, এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।
জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না, কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন, পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হতে পারে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির শেষ বৈঠকে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্যই সই করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারবে। এখন অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করবে।
জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে স্কেলের আর আসেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতনের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যে পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাস পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। আমরা জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সবার বিষয়ে সুপারিশ করেছি।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে বেতন, পরের বছর দেওয়া হয় ভাতা। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এর পর মন্ত্রিসভা যা ভালো মনে করবে, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে এম শহীদুল করিম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ নেই। সম্ভাব্য এ সফরের আগে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একে এম শহীদুল করিম।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট নয়া দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
শহীদুল করিম বলেন, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্তদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখবে।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘সবাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কথা বলছেন। আমরা এক ধরনের সমস্যার মধ্যে আছি। আমাকে স্বীকার করতেই হবে, এটা অতীত থেকে পাওয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিষয়ে কোনো কিছুই ৬ মাসের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। ১ বছরের মধ্যেও কোনো সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য সর্বনিম্ন ২ বছর সময় লাগবে। আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই সমস্যা নিয়ে লড়াই করছি।’
আজ রোববার রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে বক্তব্যের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া যে অর্থনীতির কথা বলছেন, তা আসলেই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। তবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবকিছু করার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে আমরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করছি না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রে- ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, অনশোর (স্থলভাগ) স্টোরেজ সুবিধার সব বিষয় চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তবে সঞ্চালন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্যি বলতে, আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান আসছে, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক কম। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পাওয়ার মিক্স বা এনার্জি মিক্স এমন একটি বিষয়, যা নীতির জায়গা থেকে আমরা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি থাকবে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ থাকবে। কয়লা এমন একটি সম্পদ যা আমাদের রয়েছে, আমরা কয়লাভিত্তিক বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। তাই জ্বালানির একটি সমন্বিত মিশ্রণ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এই সংমিশ্রণটি আমরা মোটামুটিভাবে নির্ধারণ করে ফেলেছি। আশা করি, যথাসময়ে আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে একটি বড় পরিবর্তন দেখতে পাব।’
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
বেলা ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের সিইসির সভাকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ায় অপরটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য ভোটার। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।