এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায় বলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যদের ডাকা হয়েছে।
রাত সোয়া আটটার পর সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।
গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
প্রতীকী ছবি
রাজধানীর মিরপুরে এশিয়ান ইউনিভার্সিটির একটি যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালে শাহ আলী থানার নবাবেরবাগ এলাকার দিয়াবাড়ী মিরপুর বেড়িবাঁধে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কল্যাণপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। বাস ও অটোরিকশার এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। ঘটনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
রাজধানীর কল্যাণপুরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের দুজন পুরুষ ও দুজন নারী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কল্যাণপুরের উত্তরপাড়ার নবাবের রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নবাবের রাস্তায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার সংঘর্ষ হয়।
এতে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে কল্যাণপুর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক তালহা বিন জসিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এখনো কাজ করছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধানমন্ডির ১০/এ তে একটি ভবনে ঘটনাটি ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রাকিবুল হাসান বলেছেন, এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধানমন্ডির ১০/এ তে একটি ভবনে আগুন লাগার খবর তারা পান।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের এই কর্মকর্তা।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সড়কে যানবাহন চলাচলও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনও আবার চালু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীগামী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা ১২ পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
নিরাপত্তার কারণে সকাল ১০টা ২২ মিনিট থেকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্টেশনটি আবার চালু করা হয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ‘বেলা ১২ পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে। সড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি জলকামান ও দুটি সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সংঘর্ষ থামার পর পরিস্থিতি শান্ত হলেও পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান রয়েছে।
মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন। ছবি: সংগৃহীত
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাক শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না। তবে মেট্রোরেলের অন্য স্টেশনগুলোতে ট্রেন চলাচল আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।
পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে পুলিশ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে আজ মঙ্গলবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিক্ষোভের সময় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তাদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলতে থাকায় স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না।
এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা।