• প্রকাশ : সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ২:০০ পিএম

মহান বিজয় দিবস আজ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কবল থেকে দেশ মুক্ত হওয়ার এই দিনটিকে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাতি বিজয় দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করবে।

পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার মুহূর্তকে স্মরণ করে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন শুরু হবে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এছাড়াও, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

এ উপলক্ষ্যে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো ইতোমধ্যেই জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।

মহান বিজয় দিবস দেশব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া হবে। এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী সকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শহরের তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করবে। সেখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হবে।

এছাড়াও, ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষ্যে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে। যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হবে, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে। এছাড়া, দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা একই রকম ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। সমস্ত অনুষ্ঠান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ওপর আবৃত্তি, প্রবন্ধ রচনা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দিবসটি উদ্‌যাপনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

সকাল ৯টায়, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবে। আজ বিকেল ৩টা থেকে নগরীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন।

এ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু খেলা আয়োজন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়াও, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। সারা দেশের সিনেমাহলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং দেশের অডিটোরিয়াম এবং উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো প্রবেশ ফি ছাড়াই সারাদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, অন্যদিকে দেশের সকল বিনোদন কেন্দ্রে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এছাড়াও, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা এবং পায়রা বন্দর, ঢাকা সদরঘাট, পাগলা এবং বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি জেটিতে সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডের জাহাজগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি, আহত প্রবীণদের সুস্থতা এবং দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এছাড়াও দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার সেন্টার, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নত খাবার পরিবেশন করা হবে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২০ এএম

টানা গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকেই এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার সকালে সামিট থেকে প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। শুরুতে সামিট থেকে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও রাতে ধাপে ধাপে তা বাড়ানো হয়।


একই রাতে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকেও আবার সরবরাহ শুরু হয়। বর্তমানে সেখান থেকে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাচ্ছে। দুই টার্মিনাল মিলে এলএনজি থেকে প্রায় ৭৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।


দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহ বাড়লেও চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনও যথেষ্ট।


সংকটের পেছনে দুই টার্মিনাল

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।


২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে অক্ষত বয়লার থেকে ৬ আগস্ট সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়। তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। মেরামতের পর রাতে আবার সরবরাহ শুরু হয়েছে।


অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালে নতুন এলএনজি কার্গো যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে কয়েক দিন সরবরাহ চালাতে হয়। মজুত কমে আসায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো শুরু হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি এবং বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সামিটের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে সামিট আবার গ্যাস দেওয়া শুরু করে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার সকালে তা প্রায় ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে।


এখনও অনিশ্চয়তা 

তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। এ সময় টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। ফলে ওই পরীক্ষা শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি চালু হলে এক্সিলারেটের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতিও কিছুটা কমার সুযোগ তৈরি হবে।


তবে দুই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

সেলিমা রহমান, আন্দালিব রহমান পার্থ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, শামীম কায়সার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৯ পিএম

সরকারের ছয় মাস পূর্তির আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের চাপ কমানো এবং সরকারের কাজের গতি বাড়াতে সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চারজন নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের মধ্যে সেলিমা রহমান ও আন্দালিব রহমান পার্থকে মন্ত্রী এবং শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।


ফলে মন্ত্রিসভায় আপাতত কোনো পরিবর্তন না করে নতুন চারজনকে যুক্ত করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন চাইবেন তখনই বাস্তবায়িত হবে।


আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। দিনটিকে সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা চলছে। তবে এই পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভার পরিবর্তন বা বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে।


গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।


জানা গেছে, সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে আরো মনোযোগ দেওয়ার জন্য নতুন মুখ যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।


মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হতে পারেন।


এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপি যুক্ত হতে পারেন বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। এই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় নির্ধারিত উপদেষ্টারা এবং বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

টানা সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে আজ মধ্যরাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার আশা করছে বলে জানিয়েছে সামিট কর্তৃপক্ষ।


বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সামিটের সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের জোগান নেমে গিয়েছিল প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। সামিট চালুর পর গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির কথা থাকলেও এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালটি বিকেলে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোট গ্যাস সরবরাহ না বেড়ে প্রায় ১৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ফলে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তীব্র হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে।


আজও লোডশেডিং


ছুটির দিন হলেও আজ শুক্রবারও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট।


রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটতি আরও বেড়েছে। রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।


সকালের দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। সকাল ৬টায় ৬০৯ মেগাওয়াট এবং সকাল ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। সকাল ৮টায় ঘাটতি ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় সমান ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট; অর্থাৎ ঘাটতি ছিল ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল মাত্র ২২ মেগাওয়াট।


অর্থাৎ শুক্রবার রাত ও ভোরে উল্লেখযোগ্য লোডশেডিং থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সামিটের গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আগামী দিনগুলোতে লোডশেডিংয়ের চাপও কমতে পারে।


সংকটের শুরু যেভাবে


মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা দিনে ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট হলেও শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ওপর সামিটের নির্ভরতা বেড়ে যায়।


একপর্যায়ে সামিট থেকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। পরে সরবরাহ প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি নিয়ে একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি।


টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি দিয়ে তখন সরবরাহ চালিয়ে যায় সামিট। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছিল ১০ কোটি ঘনফুট করে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।


এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে। অথচ বুধবারও সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।


বিদ্যুতে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে কমেছে


গ্যাসের মোট সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এ খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দিনে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত, এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে যাচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট।


তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করা হলেও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কারখানাগুলোর উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।


সামনে স্বস্তি কতটা


শুক্রবার সন্ধ্যায় সামিট থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুরুতে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট দেওয়া হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে তা প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


তবে সামিটের সরবরাহ বাড়লেই গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। ওই সময়ে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে।


পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে—প্রতিটির সক্ষমতা দিনে ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর প্রস্তুতি চলছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।


ফলে সামিট থেকে সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুটি এলএনজি টার্মিনালই পূর্ণ সক্ষমতায় না ফেরা পর্যন্ত সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ কম।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪০ পিএম

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে হাম-সংক্রান্ত রোগে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ জনে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে হাম-সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে চারজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগে ৭৯৫ জনের প্রাণ গেছে।


এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮৭ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৭২ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগী এক লাখ ২২ হাজার ৭৯৪ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ জন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের অবসর দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।


অবসরপ্রাপ্ত সাত কর্মকর্তা হলেন র‍্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দুজ্জামান, র‍্যাব-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকার আরআরএফের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জ জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।


এ আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট সাত কর্মকর্তা সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে গণ্য হবেন।


এদিকে পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পুলিশের ৪৯ জন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অবসর দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত নির্ধারিত ৪৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ করায় সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।


সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন। তাঁর এ সফরকে ঘিরে উভয় দেশের মধ্যে প্রস্তুতি চলছে। নয়াদিল্লি ও ঢাকার সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভােরতের গণমাধ্যম এনডিটিভি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি নয়াদিল্লি সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সফর সম্পন্ন হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।


এনডিটিভি জানিয়েছে, এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, সংযোগ (কানেকটিভিটি), জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। 


দুই দিনের এই সফরটিকে একটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সফরের সময়সূচির বিস্তারিত বিষয় এখনও চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে আলোচনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। 


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। নয়াদিল্লি আগামী সেপ্টেম্বরে রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর