জমি বিক্রির টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে মারধর করে উঠানে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টায় অভিযোগে দুই ছেলে
জমি বিক্রির টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে মারধর করে উঠানে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টায় অভিযোগে দুই ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জমি বিক্রির টাকা না দেওয়া এ ঘটনার মুখোমুখি হন বলে দাবি মা-বাবার।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান। রোববারের ঘটনায় সোমবার অভিযোগ পেয়ে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দেন ওসি মাহফুজুর।
ভুক্তভোগী সত্তার মোল্লা বলেন, তার জমি বিক্রির টাকা ছেলেরা নিতে চায়। দিতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার দুই ছেলে রাসেল ও রানা তাকে ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। সত্তারের ভাষ্য, “একপর্যায়ে উঠানে কবর খুঁড়ে আমাদের দুজনকে জ্যান্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করে ছেলেরা। আমাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আমরা প্রাণে রক্ষা পাই।”
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, গ্রামের সত্তার মোল্লা ও আসমা বেগম দম্পতির ছয় সন্তান। এর মধ্যে বড় ছেলে রাসেল ও মেজো ছেলে রানা দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির লোভে বাবা-মাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।
প্রতিবেশী আক্কাস ভূঁইয়া বলেন, “শুনতে পাই ছেলেরা উঠানে কবর খুঁড়ছে বাবা-মাকে জ্যান্ত মাটি দিবে বলে। গিয়ে দেখি, সত্যিই কবর খোঁড়া হয়েছে।”
বৃদ্ধা আসমা বেগম বলেন, “যে সন্তানদের কষ্ট করে বড় করেছি, তারাই আজ আমাদের খেতে দেয় না। সরকারের দেওয়া একটি ঘরে আমরা থাকি। জমি বিক্রির টাকার জন্য তারা আমাদের মারধর করে জ্যান্ত কবর দিতে চেয়েছিল।”
ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “সোমবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সত্তার মোল্লা। অভিযোগ পেয়ে রাসেল ও রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে, তার বিচার জনগণ করবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে দাবি করেন, দলীয় পরিচয়ে তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে পরদিন সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সালমান মুক্তাদির জানান, তার কাছে সরাসরি কেউ চাঁদা চাননি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখলদারি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রভাব খাটানোর কিছু নেই, দুর্বৃত্ত তো দুর্বৃত্তই। মাটিকাটায় জমি দখলের ঘটনা রাতের অন্ধকারে হয়েছে, সেখানে ৯৯৯-এ ফোন করার পরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়েছে, গ্রেফতার করেছে এবং কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। ওখানে গোলাগুলি হয়েছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হচ্ছে এবং মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে সমালোচনা করে একজন (সালমান মুক্তাদির) বলেছেন, মামলা হয়েছে আমি জানি না। তা অন্তত আইনের বিষয়েও তো আমরা একটু খুঁটিনাটি চর্চা করি। কেউ যখন এজাহার নিয়ে যায়, তখন সেটা মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করার আগে একটু প্রাথমিক তদন্ত পুলিশকে করতে হয়। তা নাহলে দেখা যাবে ওই মামলায় আমাকে-আপনাদেরও আসামি করে ফেলেছে। যদি অ্যাজ ইট ইজ এজাহারে যা থাকে তাই যদি লিপিবদ্ধ করতে হতো, তাহলে দেখা যাবে যে বঙ্গভবনের ভূমি নিয়েও যদি কেউ আপত্তি তোলে, ওইটাও এজাহার হয়ে যাবে। সেজন্য প্রাথমিক একটা তদন্ত করতে হয়। সেটা করে কেস (মামলা) এন্ট্রি করতে হয়। যিনি মামলা করেছেন তিনি সেখানকার একজন এস্টেট কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে মামলা করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সুতরাং ঢালাও ব্লেম করার জন্য, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার জন্য এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার জন্য কেউ যদি বক্তব্য দিয়ে থাকে সেটা বিচার করবে জনগণ। সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ছিল না, তিনি (সালমান মুক্তাদির) নিজেই বলেছেন তার কাছে চাঁদা চাননি। কিন্তু তারপরও কেন বলছেন বিএনপি চাঁদাবাজ? এজাতীয় বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। তাছাড়া এ ঘটনার তদন্ত করছি, করবো। এখানে যেই জড়িত থাকুক-সে নিউগিনির প্রপার্টির হোক অথবা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক হোক তাদের সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত আইনানুগ অ্যাকশন নেওয়া হবে।
এদিকে আজ বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। চিঠিতে সালমান মুক্তাদিরের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চিঠিতে তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য, হিসাব খোলার ফরম, গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত নথি এবং হিসাবের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে নানান ‘সমস্যা’ ও ‘চ্যালেঞ্জ’ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়োর কোনো কারণ দেখছেন না’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “এর উত্তরে আমি একটাই কথা বলব যে, আমার মনে হয়, উভয় পক্ষই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের টিমকে আমাদের সময় দিতে হবে, এটা একেবারেই নিশ্চিত। যে কোনো এক সময়ে, দুটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের দুই নেতাই।
“আমাদের তো সবরকম সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমরা যদি মনে করি যে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকবে না, তা সত্যি ভুল হবে। তবে একসঙ্গে বসলে এমন কোনো একটা প্রশ্ন নাই যার সমাধান হবে না। তাই আমার মনে হয় দুই নেতা ও তাদের দুই টিমকে প্রয়োজনীয় সময় আমাদের দেওয়া উচিত। আর এগুলো সঠিক সময়ে প্রক্রিয়াধীন হবে।”
এর আগের দিন মঙ্গলবার তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার বার্তা দেন ভারতীয় হাই কমিশনার।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ত্রিবেদী। পরে এক সাংবাদিক জানতে চান, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হয়েছে কি না।
জবাবে ভারতের হাই কমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভিজিট নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা…আগে যা হয়েছিল, আবার আমি বলি-আমাদের ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এটা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে না এবারে কোনো তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে নিশ্চয় হবে।
“এভরিথিং ইজ ভেরি পজিটিভ। বাট উই মাস্ট গিভ ডিউ টাইম। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। দেওয়ার ইজ নো কোয়েশ্চেন অ্যাবাউট এনিথিং নেগেটিভ।”
আজ বুধবারও একইরকম বার্তা দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, “কিন্তু আগ্রহের যে জিনিসটা, দুই দেশের মানুষের যে আগ্রহটা, তা হচ্ছে নেতাদের দেখা করতে দিন। জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ ও খেলাধুলা চলতে দিন।
“তা পানিই হোক, ক্রিকেট হোক, ফুটবল হোক, বাণিজ্য হোক, কবিতা হোক, থিয়েটার হোক, চলচ্চিত্র হোক কিংবা গান হোক। একদমই, এগুলো আরও বেশি সাংস্কৃতিক... একদমই, পারস্পরিক নির্ভরতা। এরকম পারস্পরিক নির্ভরতা থাকা ভালো।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার সময় ‘সাধারণ মানুষের’ বিশেষ আগ্রহ থাকে মন্তব্য করে হাই কমিশনার বলেন, “আমি তো বলব যে আমি ভারতে যখন থাকি, এটা খুবই কৌতূহল জাগায়। এবং আমি দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তারা খুবই সতর্ক ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সত্যিই অনেক কৌতূহলী।
“আর আমি একটা কথা বলব যে, দুই দেশেরই একটা আগ্রহ আছে। আগ্রহ কী আছে? যখনই একটু কথা হয় যে সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সবাই দারুণ উৎসাহিত হয়। দুই দেশেই। তার মানে? তার মানেই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা। এটা সাধারণ মানুষ চায়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মানুষের কথা বলছি না, সরকারের কথা না, সাধারণ মানুষে এটা চায়।”
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “এটাতো মাথার ওপর দিয়ে গেল।”
এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “এটি হাই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত।”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য না বানিয়ে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে এটি ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন হয়েছে।
গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী
রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল তাকে সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এ সংক্রান্ত মামলার এজহারের চার নম্বর আসামি।
ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ বেলা পৌনে তিনটার দিকে সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ৬ জন এজাহারভুক্ত আসামি।
গত শনিবার রাতে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলায় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুইয়া বাদী হয়ে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। শাহরিয়া মাহমুদ নামে এক যুবককে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে এক নম্বর আসামি করা হয়। অপর আসামিদের মধ্যে আবুল কাশেম ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রোকন। এ ছাড়া বাবুল হোসেন ও মোহাম্মদ শাহিনুজ্জামান স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও মুন্না ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা এবং আসলাম অটোরিকশাচালক।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২২১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে ১২৮ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৭৩১ জনে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫১০ জন।
২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ পাওয়াদের মধ্যে বেশি ঢাকা বিভাগে ৪৬৬ জন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
একদিন আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও বাড়ি দখল, হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দেন ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তথ্য পুলিশের কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা হালনাগাদ করা হয়।
এর আগেও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজ ও তাদের আশ্রয়দাতাদের তালিকা তৈরি করেছিল, যা নিয়মিত হালনাগাদের কথা পুলিশ আগে থেকেই জানিয়ে আসছে। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, নতুন করে আলাদা কোনো তালিকা তৈরির বিষয় এটি নয়; অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা সামনে আরও জোরদার করা হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যেকোনো অভিযোগ পেলে পুলিশ তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করছে। এমনকি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলা দায়ের করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গড়ে ওঠা উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের পরেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বছর দেশের প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপ পর্যবেক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তরসহ জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের পরিচয়পত্রও সরবরাহ করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য পেতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের একটি অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও চার্জার লাইট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে প্রায় ৫০৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নির্দেশনায় আজ বুধবার পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
ভুতুড়ে এ বিলের ঘটনা জানাজানির পর দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। ভুক্তভোগী গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে তিনি কথা বলেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ওই গ্রাহককে মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও তিনি গ্রাহককে অনুরোধ করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিটার পরিবর্তনের সময় অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। এর ফলে ওই গ্রাহকের নামে অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
জানা গেছে, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন ২৩৫ ইউনিট। এই ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে স্বাভাবিক বিলের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ তা দাঁড়ানোর কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা। ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয়েছিল। বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর)। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে 'এলটি-এ (আবাসিক)' উল্লেখ করা হয়।
এর আগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছিলেন, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছিল। বিলটি দ্রুত সংশোধন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।