জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উদযাপন।

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ এএম

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশে ডিমের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ নিয়মিত বাড়ছে। আগামীতে ডিম, মাছ ও মাংসের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।


সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। 


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য নমুনা পরীক্ষার তথ্য ও গবেষণা প্রস্তাব আবেদন সেবা অনলাইনকরণের শুভ উদ্বোধন করেন।


উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, পাঙ্গাস মাছ উৎপাদনে যে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা মন্দ কিছু নয়। তবে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো সেটা মাথায় রাখতে হবে। দেশের সবার খাদ্য নিরাপদ করতে আমাদের কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য প্রস্তুত করতে বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করছি৷ আগের চেয়ে এখন সার ও কিটনাশকের ব্যবহারও বেড়েছে। আমার দাদাদের সময়ে এত বেশি সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছিল না। এসব অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এসব আসলে কতটা স্বস্থ্যের জন্য ভালো সেটার বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।


সভায় তুলে ধরা হয়, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে পরীক্ষার কোন ডাটাবেজ সংরক্ষিত ছিল না এবং পরীক্ষার ফলাফল সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হতো না। এ প্রথমবারের বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্য নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ডাটাবেইজ আকারে প্রণয়ন শুরু এবং অনলাইনে প্রকাশের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ২ হাজার ৮৭২টি প্যারামিটার পরীক্ষা করা হয়। এর আওতায় ৭৮ প্রকারের খাদ্যের ১৭১৩টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়। খাদ্য নমুনা পরীক্ষার ডাটাবেজ ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা, খাদ্যের ঝুঁকি প্রোফাইল তৈরি এবং গবেষকদের গবেষণা কাজে সহায়ক হবে।


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ০৭টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ০৯ টি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০টি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ইতোপূর্বে গবেষণা প্রস্তাব আবেদন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো। এ বছর গবেষণা প্রস্তাবের আবেদন অনলাইন পদ্ধতিতে চালু হচ্ছে।




সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। 


আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 


সরকারপ্রধান বলেন, যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।


সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সৎ, দক্ষ, তাদের আমরা আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চাই। এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তাদের দণ্ডের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।


সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।


সকালে এই সম্মেলনে যোগ দেন সরকারপ্রধান। সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া থাকছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়েরও সুযোগ।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ পিএম

১৩ বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এই মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে রয়েছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে আমরা তাঁকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারবো বলে মনে করি। পর্যায়ক্রমে মামলার বাকি পলাতক আসামি যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদেরও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’


গতকাল সোমবার দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন আইসিটি কেস- ৫/২৬ মামলায় আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তদন্ত শুরুর পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। 


চিফ প্রসিকিউটর চিঠিতে দাবি করেছেন, তদন্ত সংস্থা আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ‘যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণ পেয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।


মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। সমাবেশটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। 


আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


প্রসিকিউশনের দাবি, ওই সময় বিজিবি’র মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অভিযানের অপারেশনাল পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করেন। 


তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী ৩২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ঘটনাতেই বিজিবি তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ। 


২৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-২ আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর


নবম পে স্কেল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ এএম

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সরকার গঠিত সচিব কমিটি। 


নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম বছরে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।


গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ই-বুকের ‘নবম পে স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শিরোনামে উপবিভাগে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও অগ্রগতি জানানো হয়। এদিকে চলতি বছরেই নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 


গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন-সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।


নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন পে স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি। 


অর্থমন্ত্রী বলেন, সবকিছুই হবে। তবে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সব বিষয়ে আলোচনা শেষে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে। পে স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান তিনি।


১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ


নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের পর নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কাজ করে সচিব কমিটি। কমিটির সব সদস্য চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের মূল সুপারিশের তুলনায় সচিব কমিটির সুপারিশে বেতন বাড়ার হার কিছুটা কমেছে। 


সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। 


কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।


ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে। 


পরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।


এর আগে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। 


বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ এএম

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাছাই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই তিনজনকে নিয়োগ দেন।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার তারা রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন।


সোমবার 'সাড়ে পাঁচ মাস কমিশন নেই, অকার্যকর হয়ে পড়ছে দুদক' শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এর পরদিনই বিচারপতি মো. রেজাউল হকের সভাপতিত্বে কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত বাছাই কমিটির সভা শেষে ছয়জনের নাম সম্বলিত তালিকাসহ সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।


রাষ্ট্রপতি এদিনই ছয়জনের মধ্য থেকে প্রথমে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্য থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


গত ৩ মার্চ দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ একযোগে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে সাড়ে পাঁচ মাস কমিশন শূন্য ছিল প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পদত্যাগের পর কমিশন নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি গতকাল ষষ্ঠ সভা করে ছয়জনের নাম চূড়ান্ত করেছিলেন।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (৫ নম্বর আইন)-এর ধারা ৬ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুসারে তাদেরকে কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছে। দুদক আইনের ২০০৪-এর ধারা ৫ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুসারে বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়।


দুদক আইন-২০০৪-এর ধারা ১৩ এর বিধান অনুসারে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের এবং কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ও ভারত এর পতাকা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ এএম

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছে। 


গতকাল সোমবার ঢাকায় আসা ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি আজ মঙ্গলবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। 


দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আজ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হবে। এফবিসিসিআই সভাকক্ষে বৈঠক শেষে যৌথ প্রেস ব্রিফিং করা হবে। এতে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক এবং চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বৈঠকের বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন।


প্রতিনিধি দলের এ সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন রয়েছে। সমুদ্র ও স্থলবন্দর ব্যবহারে ভারতের বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। 


এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরিতে ঢাকা থেকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। 


ভারতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গেও বৈঠক করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। 


প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি। এতে বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা রয়েছেন। সফরের আগে চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 


এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ, সিইপিএ ও ইপিএ করার উদ্যোগ জোরদার করেছে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সিইপিএ নিয়ে দরকষাকষিও শেষ হয়েছে। 


ভারত-বাংলাদেশের প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগোলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তা থমকে যায়। 


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান প্রতিনিধি দলটি সরকারি নয়। ফলে চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে শুরু করায় ভারতের ব্যবসায়ীরা বিষয়টি সামনে আনতে পারেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫১ পিএম

বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন সময়কাল করেছে সরকার। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। 


তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। 


এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর