ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১১ মে, ২০২৬, সময় : ৭:৩৯ এএম

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৫৯ শিশুর।


সোমবার (১১ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৩৪১। নিশ্চিত হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১৮। আর একই সময়ে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছেন ১০৭১ জন এবং ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১১৩০।


গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৬৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫০। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকায়।


১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৭ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৯৮০ জন। এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৩১ হাজার ৯৯২ জন।




রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ পিএম

ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 


আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।


পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি। 


উপ প্রেস সচিব জানান, এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।


এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’ 


তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।


রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’


যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।


প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ


পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’


রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। 


নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’


শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন-এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।


প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।


বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।


১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। 


ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৪ পিএম

দেশে দুর্ঘটনা ও আঘাতে প্রতিদিন গড়ে ২৬৮ জনের মৃত্যু হচ্ছে, স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন ৩৮০ জন। আহত হচ্ছেন ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ। এমন চিত্র উঠে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে। অথচ জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পর্যাপ্ত পুনর্বাসনব্যবস্থাও নেই।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কার্যকর ট্রমা সেন্টার, সমন্বিত জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা ও পুনর্বাসনসেবা গড়ে তুলতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আঘাতজনিত মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতার বোঝা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ, হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়কের পাশে নির্মিত ২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার মানুষের জীবন রক্ষা, দ্রুত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আজ শনিবার বিশ্ব ট্রমা দিবস পালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও দুর্ঘটনা জরিপটি যৌথভাবে পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। 


দেশের ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামের এক লাখ ১০ হাজার পরিবারের চার লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ সদস্যের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে দুর্ঘটনা ও আঘাতজনিত কারণে প্রায় ৯৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রধান চারটি কারণ হলো সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, পানিতে ডোবা ও পড়ে যাওয়া। এসব কারণে প্রতিদিন গড়ে ২১১ জনের মৃত্যু হয়।


সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে মারা যান ২৪ হাজার ২৩৩ জন, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জন। আত্মহত্যায় বছরে ২০ হাজার ৫০৫ জনের মৃত্যু হয়, প্রতিদিন গড়ে ৫৬ জন। পানিতে ডুবে বছরে প্রাণ হারান ১৮ হাজার ২৬৮ জন, দিনে গড়ে ৫০ জন। আর পড়ে গিয়ে বছরে মারা যান ১৪ হাজার ২৬৮ জন, প্রতিদিন গড়ে ৩৯ জন। 


এ ছাড়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, সহিংসতা, প্রাণী ও কীটপতঙ্গের কামড়, পুড়ে যাওয়া, বিষপান, শ্বাসরোধ এবং ধারালো বস্তু ও যন্ত্রপাতির আঘাতেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


২৪টি ট্রমা সেন্টার চালুর উদ্যোগে ধীরগতি


সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে ২৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করে সরকার। এগুলোকে নতুন নামে ‘অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্ট সেন্টার’ হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হলেও এখনও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরিকল্পনা ছিল, এসব কেন্দ্রে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অন্যান্য আঘাতের শিকার ব্যক্তিদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু নির্মাণের পর অধিকাংশ কেন্দ্রই দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন থেকেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য জনবলের অভাব এর অন্যতম কারণ।


স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১০টি এবং ২০১০ সালে আরও ১৪টি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এসব অবকাঠামো নির্মাণে অন্তত ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল এর আগে বলেছিলেন, শুধু ট্রমা সেন্টারের তালা খুলে দিলেই হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে তাদের নিয়োগ বা পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স সেবার সঙ্গে ট্রমা সেন্টারগুলোর সমন্বয় জরুরি। গুরুতর আহত হয়ে যাঁরা প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। তা না হলে তারা সমাজের বোঝা হয়ে থাকবেন। এটি অর্থনীতির জন্য আরও বড় হুমকি।


জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে দূরদূরান্তের রোগীদের রাজধানীতে ছুটতে হচ্ছে। হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে।


প্রতিদিন ৩৮০ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার


জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৮০ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হচ্ছেন পড়ে গিয়ে। এ সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ১৫৯ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন।


এ ছাড়া ভোঁতা বস্তুর আঘাতে প্রতিদিন ২৯ জন, ধারালো বস্তু ও যন্ত্রপাতির আঘাতে ১৮ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১৬ জন এবং সহিংসতায় ১৪ জন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। প্রাণী ও কীটপতঙ্গের কামড়ে ১২ জন এবং পুড়ে গিয়ে আটজন প্রতিদিন স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন।


পড়ে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ বয়স্ক। তাদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা ও যথাযথ পুনর্বাসনের অভাব স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 


অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় কর্মক্ষমতা হারালে একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁর পুরো পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়তে পারে।


প্রতিদিন আহত ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ


জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৪৫ হাজার ৪০৮ জন দুর্ঘটনা ও আঘাতের শিকার হন। তাদের মধ্যে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশের আঘাত মাঝারি ধরনের। গুরুতর আঘাতের শিকার ৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মারাত্মক আঘাতের শিকার ১ দশমিক ৩ শতাংশ।


সব আহত ব্যক্তির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন না হলেও গুরুতর ও ভয়াবহ আঘাতের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত উদ্ধার, প্রশিক্ষিত জরুরি সেবাকর্মী, কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স, অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পরিচর্যার সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে অনেকের জীবন বাঁচানো সম্ভব। দুর্ঘটনার পর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনও গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর দুর্ঘটনা, সহিংসতা বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আহত ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত করতে হবে।


জরুরি সেবায় নতুন উদ্যোগ


সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ৬০টি ‘পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স অ্যাম্বুলেন্স’ দিয়েছে। ঢাকা মহানগরে দুর্ঘটনা-পরবর্তী সেবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স। এ ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের জন্য রয়েছে ৮০টি প্যাট্রল মোটরসাইকেল।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কের তিনটি করিডোরে বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ৬০টি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। করিডোরগুলো হলো জয়দেবপুর থেকে রাজশাহী ২২৭ কিলোমিটার, জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ ১০০ কিলোমিটার এবং হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া হয়ে রংপুর ১৭০ কিলোমিটার।


তবে জরুরি সেবা কার্যকর করতে শুধু অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে রোগী উদ্ধার, দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং হাসপাতালগুলোর মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আঘাতজনিত মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধিতা জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণ, চালকের ক্লান্তিজনিত ঝুঁকি কমানো, নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং শিশু ও বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. শরিফুল আলম বলেন, সড়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে পথচারীরা অন্যতম। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের’ মূল দর্শন হলো, মানুষ ভুল করলেও সেই ভুল যেন মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের কারণ না হয়। তাই সড়কের নকশা, অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।


সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।


তিনি বলেন, একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেটের মান হালনাগাদ, গতিসীমা কার্যকর করা, দুর্ঘটনার পর জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


জুলাই সনদ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সই করার এক বছর পূর্ণ হলো। তবে সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার আনা হয়েছিল, এই সময়ের মধ্যে সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ কাউন্সিল বিষয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। পরে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনও আর গঠিত হয়নি। এসব সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) না থাকলেও বিএনপি সরকার গঠনের পর এগুলো টেকেনি।


রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই সনদ প্রণয়নের সময় জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় রাশ টানা হবে। নির্বাহী, বিচার এবং আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। এই লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের যেটুকু ক্ষমতা কমেছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 


টিআইবি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসী উদ্যোগের ঘাটতি এবং আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপসের কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি তৈরি হয়নি।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সংবিধান সংশোধন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটও জনস্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারে সহায়ক ভূমিকা রাখার বদলে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যস্ত রয়েছে।


গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে সই করে রাজনৈতিক দলগুলো। তখন বলা হয়েছিল, এই সনদ হবে ভবিষ্যতের পথরেখা। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৯ মাসের সংলাপে সনদ প্রণয়ন করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। বিএনপি-জামায়াতসহ অধিকাংশ দল এতে সই করলেও কয়েকটি দল সই করেনি। জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ওই সময় সই করেনি। চার মাস পর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তারা সনদে সই করে।


বিএনপি সনদ সই করার সময় এটিকে রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল আখ্যা দিয়ে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা জানায়। 


তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচনের আগেই সনদ বাস্তবায়নের দাবি তোলে।


গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সংবিধান-সংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৮টি বাস্তবায়নের বাধ্যবাদকতাসহ অনুমোদিত হয়। কিন্তু আট মাসেও এগুলো এখনও কার্যকর হয়নি। 


সংবিধান সংস্কার পরিষদে ভোটের অনুপাতে সংবিধান সংশোধন অনুমোদনের ক্ষমতাসহ সংসদের উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গঠন পদ্ধতি গণভোটে অনুমোদন পেলেও কার্যকর হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। 


বিএনপি বলছে, যেসব প্রস্তাবে দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর দাবি, গণভোটে যেভাবে অনুমোদিত সেভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে, সংশোধন নয়। এ দাবিতে রাজপথে নামা জামায়াত-এনসিপির জোট সরকারের গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটিতে অংশ নেয়নি। 


সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সংলাপের সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও দ্বিমত ছিল না। এর ভিত্তিতেই সনদ প্রণয়ন করা হয়, যা এতে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জনগণের চুক্তিপত্র। জনগণ গণভোটে সনদ অনুমোদন করে, তারাও চুক্তিতে অংশ নিয়েছেন। সুতরাং এই চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। 


সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, পুলিশ কমিশনসহ যেসব সংস্কার অধ্যাদেশের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার করেছিল, সেগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে করা হয়েছিল বলে জানান আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, সংলাপে একমত হয়েও পরে বাতিল করা হয়েছে; যা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে যাওয়ার শামিল। ফলে জুলাই সনদ কতটা বাস্তবায়ন হবে, এ নিয়ে সংশয় রয়ে যায়।


কী হওয়ার কথা ছিল


রাজনৈতিক দলগুলো সনদ স্বাক্ষরের পর গত বছরের ১৩ নভেম্বর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়েছিল, নির্বাচনের দিনে গণভোট হবে। গণভোটে জনগণের কাছে জানতে চাওয়া হবে তারা জুলাই আদেশ অনুমোদন করেন কিনা। অনুমোদন করলে, আদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। 


আদেশে বলা হয়েছিল, এই পরিষদে ভোটের অনুপাতে সংবিধান সংশোধন অনুমোদনের ক্ষমতাসহ ১০০ আসনের সংসদের উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গঠন-সংক্রান্ত আটটি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। 


আদেশ অনুযায়ী, ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিষদে সংবিধান সংস্কার করার বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করার পর সংসদে গণভোট অধ্যাদেশ পাস করা হয়নি। জুলাই আদেশও উত্থাপন করা হয়নি। 


তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে সরকার। কমিটি জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এরপর আসবে সংবিধান সংশোধন বিল। সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদের পরিবর্তনের কারণে এই বিল সংশোধনে পাসের পর, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে আবার গণভোট হতে পারে। 


এ বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য জানা যায়নি।


তবে তিনি গত মঙ্গলবার বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারি দলের আন্তরিকতার অভাব নেই। বিরোধী দল না এলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। 


এ বিষয়ে আলী রীয়াজ বলেন, ‘সরকার যে কোনো বিষয়ে গণভোট আয়োজন করতে পারে। কিন্তু সংবিধান সংস্কারের জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে যে জনগণ তাদের সম্মতি দিয়েছে, তারা কী আবার একই বিষয়ে ভিন্নমত দেবে?’ 


জুলাই সনদ প্রণয়নের সংলাপে দলের প্রতিনিধিত্ব করা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি যা বলছে তা সহজ কথায় বিশ্বাসঘাতকতা। গণভোটে সনদ অনুমোদনের পর তো আর বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে জবাবদিহিহীন সরকার, অপরিসীম ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীসহ পুরোনো সব বন্দোবস্ত রেখে দিয়েছে। 


তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেমন হবে


জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংসদের মেয়াদপূর্তির ১৫ দিন আগে এবং মেয়াদ অবসান ছাড়া অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। ৯০ দিন মেয়াদি এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। 


সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধী দল থেকে মনোনীত ডেপুটি স্পিকার এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধির সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত করবে। 


তবে প্রধান উপদেষ্টা বাছাইয়ের একটি ধাপে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বলেছিল, পরবর্তী সংসদে ধাপটি ঠিক করবে। বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা, বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই দুই ধাপে এমন পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না। 


এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপির নোট অব ডিসেন্টকে নাকচ করে জনগণ গণভোটে জুলাই সনদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অনুমোদন করেছে। বিএনপি বিশেষ কমিটির নামে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাইছে। 


যেসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি, হবে কিনা প্রশ্ন


জুলাই সনদে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের এমপিদের গোপন ব্যালটের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এতে সব দল একমত হয়েছিল। কিন্তু গত আগস্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচন হয়েছে প্রকাশ্য ব্যালটে। 


সনদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগ ক্ষমতা দিতে আপত্তি রয়েছে বিএনপির।


সনদে বলা হয়েছে, কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। সংবিধান সংশোধনের আগে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে না। বিএনপি এই সংস্কার বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে। 


সনেদ বলা হয়েছে, ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন লাগবে। বিপরীতে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, বিএনপির ৩১ দফা অনুযায়ী সংসদে আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। 


সনদে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। তবে আপিল বিভাগে বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা পাঁচজন। একসময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৭। এই প্রস্তাবে নোট ডিসেন্ট না থাকলেও কার্যকর করা হয়নি। 


প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগে কাউন্সিল গঠন করেছিল। এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে বিচারপতি নিয়োগও হয়। সনদে প্রস্তাব ছিল, কাউন্সিলকে কমিশনে রূপান্তর করা হবে। তা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত না করে এ-সংক্রান্ত আইন করার প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির। তবে গত এপ্রিলে অধ্যাদেশ বাতিল করায় কাউন্সিল বিলুপ্ত হয়ে গেছে।


প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং  সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে জুলাই সনদে। তবে বর্তমান সরকার আগের মতোই পিএসসি এবং দুদকে নিয়োগ দিয়েছে নির্বাহী ক্ষমতায়। 


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিদায় জানাতে আসেন স্বজনরা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীসহ বিভিন্ন যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছতে বিকল্প আকাশ পথ ব্যবহার করছেন। শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদির রিয়াদ ও দাম্মামগামী বেশ কয়েকজন যাত্রী এমন কথা জানিয়েছেন। 


বিমানবন্দরে রাসেল নামে এই যাত্রী জানান, তার আরও দুই সপ্তাহ ছুটি আছে। কিন্ত সৌদির রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে তার কফিল (মালিক) বলেছেন, ছুটি শেষ না করেই বিকল্প পথে দ্রুত কর্মস্থলে আসার জন্য। 


তিনি বলেন, ‘আমার টিকিট কাটা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের। কিন্ত এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার কারণে সৌদির কর্মস্থলের মালিকের কথায় ওই টিকিট পরিবর্তন করে একই এয়ারলাইন্সের মদিনাগামী ফ্লাইটের টিকিট সংগ্রহ করেছি।’ 


শুক্রবার এ রুটে সৌদির গন্তব্য পৌঁছতে কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকায় থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন তিনি। বিমানবন্দরে ছেলেকে বিদায় জানাতে আসা রাসেলের বাবা মো. আলী আহমেদও একই তথ্য জানান। রাসেলের মতো এমন অনেকেই টিকেট পরিবর্তন করে বিকল্প পথে তারা গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। 


সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ১০ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে এসব বিমানবন্দরগামী ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে আটকা পড়েছেন ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী।


এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।


এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ৬৩টি। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারের ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি ফ্লাইট রয়েছে। 


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং বিমানবন্দরগুলো স্বাভাবিক কার্যক্রমে না ফেরা পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


তিনি বলেছেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বাণীতে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় তথা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণীতে বলা হয়েছে, হিন্দু ধর্মমতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন এবং ভক্তদের কল্যাণ সাধন করে শত্রুর বিনাশ ও সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের এই আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।


দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতিটি গোষ্ঠী-গোত্র-সম্প্রদায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে যার যার ধর্ম পালন করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করছে, করবে, এটিই বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সৌন্দর্য।


এভাবে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরিস্ফুটিত হয়ে ওঠে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের বিভিন্ন ধর্ম-গোত্র-সম্প্রদায়ের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব।


সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা। সুতরাং যার যার ধর্মীয় বিধান এবং সংস্কৃতি অনুশীলনের পাশাপাশি মানুষে মানুষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ বহাল ও বজায় রাখা সবার জন্যই জরুরি।


তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর এবার বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ।


দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য একটি কল্যাণমূলক, নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।


দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক আমাদের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ। ধর্ম যার যার-রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার-নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।


হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই ও বোনেরা, আপনারা উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে, নিশ্চিন্তে, নিরাপদে সারা দেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।


‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩২ পিএম

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিনটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বইগুলো কিনে লাইব্রেরিতে রাখতে বলা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


চিঠিতে উল্লেখ করা তিনটি বই হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। 


নির্দেশনায় বলা হয়, ‘জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত বইগুলোর এক সেট করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’


চিঠির সূত্র হিসেবে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা, ১১/১ বাংলাবাজার, ইসলামী টাওয়ার, ঢাকার ২৩ আগস্ট তারিখের একটি পত্রের উল্লেখ রয়েছে।


নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।


এ ছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং নিমিউ অ্যান্ড টিসিকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।


চিঠিতে বইগুলো কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজেট, বরাদ্দ বা ক্রয়প্রক্রিয়ার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।