প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬, সময় : ১১:৪৬ পিএম

হাসপাতালে হামের রোগী কমছে না। সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি থাকতে দেখা যাচ্ছে। 


জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ উদ্যোগ নিলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমানো সম্ভব।


গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়। এই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে ৩৬ হাজার ৫৫ জন ছাড়পত্র পায়। 


অর্থাৎ গতকাল সারা দেশে ৪ হাজার ১২১ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও হামের রোগী আছে, যারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে।


সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালে রোগী আসছে, ভর্তিও হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে হামের মতো সংক্রামক রোগের জন্য নির্ধারিত শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক হাসপাতালের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। কোন হাসপাতালে কত রোগী আছে, কত শয্যা খালি, আইসিইউ খালি আছে কি না-এসব তথ্য সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রকাশ করে না। অথচ কোভিড ১৯ মহামারির সময় এসব তথ্য দেওয়া হতো, যা রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক আবু আহমেদ আল মামুন বলেন, ‘সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের হামের রোগীর তথ্য আমরা নিয়মিত প্রকাশ করছি। প্রতিটি জেলার সিভিল সার্জন ও সিটি করপোরেশনগুলোর স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে আমরা রোগীর তথ্য পাই। তবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য পৃথকভাবে নেই।’


সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমছে না। ১ মে সারা দেশের হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন। সাত দিন পর ৭ মে ভর্তি রোগী ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ জন। আরও সাত দিন পর অর্থাৎ গতকাল শুক্রবার রোগী ছিল ৪ হাজার ১২১ জন।


মার্চ মাসের মাঝামাঝি হামের প্রাদুর্ভব দেখা দেওয়ার পর যেসব হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি ছিল, সেগুলোর একটি রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। 


কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৬৪৮টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ মে ৮৫টি শিশু ভর্তি ছিল। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. মাহবুবুল হক বলে, ‘রোগীর চাপ সামান্য কমেছে। তবে আইসিইউতে রোগীর চাপ কমেনি।’


সরকার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া শুরু করে ৫ এপ্রিল। 


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব উপজেলায় হামের সংক্রমণ কমে এসেছে। অনেকে মনে করেন, দেশব্যাপী হামের টিকার ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার এক-দেড় মাসের মধ্যে সারা দেশে সংক্রমণ কমে আসবে। তবে সামনের কোরবানির ঈদের ছুটিতে এই সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।


রাজধানীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এফ এ আসমা খান বলেন, এখন মাঝেমধ্যে ঝড়বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু শিশু সর্দি-জ্বরে পড়ছে। কোরবানির ঈদের ছুটির সময় বাচ্চারা অবাধভাবে হইচই করবে, একে অন্যের সংস্পর্শে আসবে, এতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। এই হাসপাতালে হামের রোগীর জন্য শয্যা বরাদ্দ ১০টি। গতকাল রোগী ছিল ৫৪ জন।


প্রতিরোধে জোর দিতে হবে


জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার টিকা দেওয়া ছাড়া হামের রোগী কমাতে আর কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, স্পষ্ট করে করণীয় সম্পর্কে বলতে হবে। 


তাঁরা মনে করছেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যে মাত্রায় প্রচার চালানো দরকার, তা হচ্ছে না। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালেরও কিছু করণীয় আছে।


বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, সব রোগী হাসপাতালে নেওয়ার বা যাওয়ার দরকার নেই। রোগীদের বাড়িতে আইসোলেশনের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। মানুষকে নিয়মিত সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। সব রোগীর রোগ শনাক্তের জন্য পরীক্ষার দরকার নেই, ক্লিনিক্যালি রোগনির্ণয়ই যথেষ্ট।


হাসপাতালগুলোতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন মাহমুদুর রহমান। এগুলো হচ্ছে- 


১. কোন শিশুর জ্বর ও কোন শিশুর শরীরে র‍্যাশ আছে তা দেখে হাসপাতালে ভর্তির আগেই আলাদা করতে হবে, প্রতিটি হাসপাতালে হামের জন্য পৃথক কর্নার করতে হবে, রোগীদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে; 


২. প্রাকৃতিকভাবে হাওয়া-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে; 


৩. সেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সার্জিক্যাল মাস্ক দিতে হবে; 


৪. সাবানপানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে, নিয়মিত হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের ব্যবস্থা রাখতে হবে; 


৫. হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় দর্শনার্থীর ভিড় কমাতে হবে, একটি শিশুর কাছে একজনের বেশি সেবাদানকারী রাখা যাবে না।


মৃত্যু সাড়ে চার শ ছাড়াল


হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল আট শিশুর।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর দুটি ঢাকা বিভাগের আর একটি করে রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আট শিশুর তিনটি ঢাকা বিভাগের, তিনটি চট্টগ্রাম বিভাগের আর একটি করে রয়েছে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭৪ শিশু। মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো প্যারোল। বিধি মোতাবেক কেউ প্যারোল আবেদনের যোগ্য হলে তিনি আবেদন করতে পারেন।


জামিনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। জামিন হয় আদালতের নির্দেশে, কিন্তু প্যারোল হয় প্রশাসনিক আদেশে। জামিন পাওয়া ব্যক্তি বাইরে স্বাধীন থাকেন এবং তিনি কোনো আদালত বা পুলিশের জিম্মায় থাকেন না। কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি পুরো সময় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকেন। প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ কারাগারে নিয়ে আসবে।


আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, যে কোনো ধরনের বন্দি, কয়েদী বা হাজতিই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।


তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যে অপরাধের কারণে বা যে ধরন বা মেয়াদের শাস্তি ভোগরতই থাকুন না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে (যেমন নিকটাত্মীয়ের জানাজা) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন প্যারোলে মুক্তির জন্য। মন্ত্রণালয় দূরত্ব ও স্থান বিবেচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।


প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যত নীতিমালা

কোনো বন্দি প্যারোল পাবেন এবং প্যারোলের আওতায় তার সময়কাল কীভাবে দেখা হবে - তা নিয়ে একটি নীতিমালা আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

এ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ নীতিতে থাকা অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:


১. নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন;


২. নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, আপন ভাই-বোন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়;


৩. আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;


৪. প্যারোলে মুক্তি পেলেও সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে;


৫. কারাগারের ফটক থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশ বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কারাগারে ফেরত দিতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জুলাই আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারদের পুনর্বাসনের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা।


তিনি বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে যাদের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তাদের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি। বুধবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভায় তিনি এ কথা জানান।


তিনি বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধারা যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাদের জীবনযাত্রার মান সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সেই বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর রয়েছি।


সভায় উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫-এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম।


 মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বাংলাদেশ গড়বে, সেজন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সেই অঙ্গীকার থেকেই আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে সক্রিয় করে এর মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের জন্য কাজ করব। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক দলের নয়, এটি পুরো জাতির। সকল শহিদ পরিবার ও আহতদের পরিচর্যা ও সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।          



অন্যদিকে, তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই যোদ্ধাদের এবং শহীদদের তালিকায় যে সকল ভুলত্রুটি বা অভিযোগ আসছে, সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সংশোধন করা হচ্ছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে ডাক্তারি সনদসহ জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই অন্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনপূর্বক গেজেটভুক্ত করা হয়। আমাদের লক্ষ্য একটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেওয়া, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এতে সুযোগ না পায় এবং প্রকৃত কোনো জুলাই যোদ্ধা বা শহিদ পরিবার বাদ না পড়েন।             

 ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভা

বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৪৫ এর সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মাতা রোকেয়া বেগম। এছাড়া সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা; সরকার মনোনীত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজন প্রতিনিধি এবং জুলাই যোদ্ধাদের একজন প্রতিনিধি।


সভায় জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা এবং তাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী আলোচনা করা হয় ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ এএম


সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

নয়টি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিনের পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। 


আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন তার কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি জানান, গত এক বছরে তাকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা বা হত্যাচেষ্টা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পরিবর্তন, জালিয়াতির অভিযোগ এবং দুর্নীতির মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর সবগুলোতেই তিনি সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা সর্বশেষ এক মামলায় খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা। ওইদিন রাতেই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।


২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে তার জামিন বহাল হলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে এতদিন তিনি কারামুক্ত হতে পারেননি। 


২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ এএম


ঈদে-মিলাদুন্নবী

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে সরকার। গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। 


ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।


বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।


ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হবে।


এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলারও আয়োজন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।


বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে।


শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।


এদিকে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে।


দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম।


তিনি জানান, আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দীপু মনির মেয়ে তানি দিপাবলি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রবেশ করেন। পরে কারাগার থেকে বের হয়ে মায়ের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিমের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন তিনি।


আইনজীবী গাজী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা চার দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলাম। তবে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’


উল্লেখ্য, ডা. দীপু মনির স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ মঙ্গলবার রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে ডা. দীপু মনির প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।


বর্তমানে ডা. দীপু মনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৮টি শিশু। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮২৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে এই সময়ে মোট ৯২২টি শিশু মারা গেছে।


এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৮৭টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৩১। এই সময়ে ৭৮৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯২৫টি শিশু।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৭১১, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।


সর্বশেষ সব খবর