ঢাকায় লোডশেডিং শুরু
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈরী আবহাওয়ায় সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমেছে।
জ্বালানির এই সংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে না পারায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বাইরে তীব্র লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতির চাপে এখন ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আজ বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি।
সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর শুরুর দিকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছে সামিট। এরপর সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত সোমবার এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা যায়নি। তাই সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পেট্রোবাংলার নির্দেশে সরবরাহ কমিয়ে দেয় সামিট।
শনিবার বাড়তে পারে গ্যাস সরবরাহ
দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
এখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। এতে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। গতকালও এটি ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট।
এতে গ্যাস সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা সরবরাহ পায় ১৫৫ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমার পর এটি ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল। আজ সন্ধ্যার পর থেকে এটি আরও কমতে পারে।
খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে সামিট।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে বলেন, আগামীকাল রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে সামিট। শুক্র-শনি ছুটির দিনে বিদ্যুৎ-জ্বালানির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম হতে পারে।
ঢাকায় ১ ঘণ্টা করে লোডশেডিং
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সংকট সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেশি সমস্যায়। দেশে মানুষের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ আছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ যাতে না কমে, পেট্রোবাংলাকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই শিল্পে কমেছে গ্যাসের সরবরাহ। বাসাবাড়িতেও রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে।
তবে গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে রোববার থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির বড় রকমের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো। এ সংস্থা দুটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১১টা থেকে এটি শুরু হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়।
গতকাল মধ্যরাতে পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, মণিপুরি পাড়াসহ বেশি কিছু এলাকা থেকে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। কেউ কেউ বলেছেন, একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে তাঁর এলাকায়।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন।
রাজস্ব আদায়ে মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বাড়াতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মে আবারও পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বিধান কার্যকর হবে।
প্রতি কর মেয়াদেই রিটার্ন
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও করদাতাদের নিয়মিতভাবে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষে ভ্যাটের হিসাব দাখিল করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এর উদ্দেশ্য হিসেবে মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু করদাতার জন্য অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।
ছুটির দিনে বাড়তি সুবিধা
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রিটার্ন জমার শেষ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে করদাতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে তার পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র জমা দেওয়া যাবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এখন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যাদেশটি জারি করা হবে।
জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অভিনন্দন
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মন্ত্রিসভার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও সভায় অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মন্ত্রিসভা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মো. ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব নির্যাতনের বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রমের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ-২০২৬ শুরু হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আজ সোমবার নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
চলমান এই জরিপ গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে মশার প্রাদুর্ভাব ও লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৭২ জন মাঠকর্মী এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স (KoboToolbox)’ অ্যাপ্লিকেশন।
জরিপ শেষে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে।
ব্রেটু ইনডেক্সের ভিত্তিতে ঝুঁকি নির্ধারণ:
জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এলাকাগুলোকে তিনভাগে চিহ্নিত করা হবে-
ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ১০ থেকে ১৯
সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ১০-এর নিচে
জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপ ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।”
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপ (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেনের সইকৃত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, “এটি ছিল বিদায়ী সাক্ষাৎ। বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।”
উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ সোমবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ দাখিল করা হয় বলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানিয়েছেন।
কামাল আহমেদ মজুমদার ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এবং যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নাম রয়েছে এ মামলার আসামিদের তালিকায়। বাকি আসামিদের নাম প্রসিকিউশন এখনও প্রকাশ করেনি।
প্রসিকিউটর তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ জুলাই এবং ১৮ ও ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও পল্লবীর কয়েকটি এলাকায় ৫০ জনের বেশি ‘নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে’ গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের ‘সশস্ত্র ক্যাডাররা’ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর বলেন, “একটি ফরমাল চার্জের মধ্যেই ওই কয়েক দিনের ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ আসামির প্রত্যেকের ভূমিকা এবং কে কীভাবে অপরাধ সংঘটনে যুক্ত ছিলেন, তা তুলে ধরা হয়েছে।”
দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সেটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিলের পর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।