বিটিআরসি ভবন। ছবি : সংগৃহীত
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাতিলের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
এ ঘটনায় ২৪ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ হামলা চালায়। ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেখা যায়, বিটিআরসি ভবনের করিডোরের গ্লাস ভাঙা। ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে মূল ভবনের গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর বিটিআরসি ভবনের সামনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, পূর্বঘোষিত এনইআইআর বাস্তবায়ন হওয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালান। বিটিআরসি ভবনের বাইরে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে এই ভাঙচুর চালানো হয়। তবে এ হামলায় বিটিআরসির কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে, অবৈধ মোবাইলফোন বন্ধে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে দুপুরের পর থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এ সময় বিটিআরসি ভবনে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে এই ভাঙচুর শুরু হয়। বিটিআরসি ভবনের বাইরে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে ভাঙচুর চালানো হয়।
হামলায় বিটিআরসির মসজিদের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।
ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে বিটিআরসি ভবনের করিডোর ও মূল ভবনের গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ এমন হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। এছাড়া বিটিআরসি ভবনের পাশের গলিতে রাখা বিআরটিসির একটি বাসও ভাঙচুর করা হয়।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিটিআরসি ভবনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ে মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বাড়াতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মে আবারও পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বিধান কার্যকর হবে।
প্রতি কর মেয়াদেই রিটার্ন
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও করদাতাদের নিয়মিতভাবে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষে ভ্যাটের হিসাব দাখিল করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এর উদ্দেশ্য হিসেবে মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু করদাতার জন্য অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।
ছুটির দিনে বাড়তি সুবিধা
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রিটার্ন জমার শেষ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে করদাতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে তার পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র জমা দেওয়া যাবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এখন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যাদেশটি জারি করা হবে।
জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অভিনন্দন
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মন্ত্রিসভার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও সভায় অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মন্ত্রিসভা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মো. ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব নির্যাতনের বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রমের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ-২০২৬ শুরু হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আজ সোমবার নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
চলমান এই জরিপ গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে মশার প্রাদুর্ভাব ও লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৭২ জন মাঠকর্মী এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স (KoboToolbox)’ অ্যাপ্লিকেশন।
জরিপ শেষে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে।
ব্রেটু ইনডেক্সের ভিত্তিতে ঝুঁকি নির্ধারণ:
জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এলাকাগুলোকে তিনভাগে চিহ্নিত করা হবে-
ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ১০ থেকে ১৯
সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ১০-এর নিচে
জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপ ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।”
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপ (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেনের সইকৃত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, “এটি ছিল বিদায়ী সাক্ষাৎ। বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।”
উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ সোমবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ দাখিল করা হয় বলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানিয়েছেন।
কামাল আহমেদ মজুমদার ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এবং যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নাম রয়েছে এ মামলার আসামিদের তালিকায়। বাকি আসামিদের নাম প্রসিকিউশন এখনও প্রকাশ করেনি।
প্রসিকিউটর তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ জুলাই এবং ১৮ ও ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও পল্লবীর কয়েকটি এলাকায় ৫০ জনের বেশি ‘নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে’ গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের ‘সশস্ত্র ক্যাডাররা’ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর বলেন, “একটি ফরমাল চার্জের মধ্যেই ওই কয়েক দিনের ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ আসামির প্রত্যেকের ভূমিকা এবং কে কীভাবে অপরাধ সংঘটনে যুক্ত ছিলেন, তা তুলে ধরা হয়েছে।”
দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সেটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিলের পর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।