রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে- এ রকম একটা গুঞ্জন বুধবার সন্ধ্যা থেকেই আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায়। একটি ফেসবুক পোস্টের সুত্র ধরে অনেকে মেনেই নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন। তাহলে প্রশ্ন— আসলে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন? আবার অনেকের মনেই প্রশ্ন— তিনি কি আসলেই পদত্যাগ করছেন নাকি এটি শুধুই গুঞ্জন? কারণ আগেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকারকে শিগগির চিঠি লিখবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে ‘পদত্যাগের বিষয়টি’ তিনি তুলে ধরতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার কেউ বক্তব্য দিতে চাননি। এ নিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।
বুধবার ফেসবুকে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’
আসলে কী ঘটছে তা জানতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এসএমএসে তিনি বলেন, ‘আপনার মতো আমিও (খবরটা) দেখছি।’
বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রপতি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রায়ই বলেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।”
এদিকে প্রবাসী এক সাংবাদিক ফেসবুকে লিখেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অধ্যায়ের অবশেষে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তাকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার কথা। বলা হয়েছে ২৫ জুলাইয়ের আগেই তিনি যেন এই পদত্যাগপত্রে সই করেন। অর্থাৎ এবারের ৫ আগস্টের আগেই দেশ একজন নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে।
সম্ভাব্য অনেকের নাম নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও বলা হয়েছে শেষ মুহূর্তে যদি "সরকার" কাউকে তার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকেই হয়তো ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হতে পারে। পরবর্তীতে হয়তো সুবিধাজনক সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অথবা অন্য কাউকে এই পদের জন্য সরকার বিবেচনা করবেন।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো। পাঁচ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করলে, জামায়াত বা সমমনা দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে, এ রকম তথ্য সরকারের কাছে আছে। মূলত এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষা করাতেই তিনি যুক্তরাজ্যে যান।
১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
৯ দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ ও নথিতে ডিজিটালি অনুমোদন দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। লন্ডনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে তার অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতও হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিত করার রেওয়াজ রয়েছে। তবে তারেক রহমান বুধবার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন, এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। এ কারণে অনেকেই বলছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
পদত্যাগের কথা আগেও বলেছিলেন
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” সেদিন রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ‘নতুন সরকার আসলে… নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।’ কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও দাবি করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ওই বছরের ১৯ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো ‘দালিলিক প্রমাণ’ তার কাছে নেই। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার অবস্থান এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
পদত্যাগ করলে কী হবে
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ফলে পছন্দের তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ নেই। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে।
মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
রাজস্ব আদায়ে মাঠপর্যায়ে গতিশীলতা বাড়াতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মে আবারও পরিবর্তন আনছে সরকার। এখন থেকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের পরিবর্তে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দেওয়ার বিধান পুনঃপ্রবর্তন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ১৫তম দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কর্মদিবসে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২২তম বৈঠকে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বিধান কার্যকর হবে।
প্রতি কর মেয়াদেই রিটার্ন
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতি তিন কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশের পরিবর্তে প্রত্যেক কর মেয়াদ শেষ হওয়ার অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করতে হবে। অর্থাৎ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও করদাতাদের নিয়মিতভাবে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষে ভ্যাটের হিসাব দাখিল করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে এর উদ্দেশ্য হিসেবে মাঠপর্যায়ে রাজস্ব আদায়ে গতিশীলতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু করদাতার জন্য অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র জমা দিতে পারবে।
ছুটির দিনে বাড়তি সুবিধা
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে রিটার্ন জমার শেষ দিন সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে করদাতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে তার পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র জমা দেওয়া যাবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এখন আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অধ্যাদেশটি জারি করা হবে।
জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে অভিনন্দন
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
মন্ত্রিসভার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও সভায় অংশ নেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মন্ত্রিসভা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
দুই দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে গাজী নজরুল
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মাহবুবুল ইসলাম জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মো. ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা।
এজাহারে আরও বলা হয়, এসব নির্যাতনের বিষয় মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রমের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ-২০২৬ শুরু হয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আজ সোমবার নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
চলমান এই জরিপ গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে মশার প্রাদুর্ভাব ও লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৭২ জন মাঠকর্মী এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স (KoboToolbox)’ অ্যাপ্লিকেশন।
জরিপ শেষে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) নির্ধারণ করা হবে।
ব্রেটু ইনডেক্সের ভিত্তিতে ঝুঁকি নির্ধারণ:
জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এলাকাগুলোকে তিনভাগে চিহ্নিত করা হবে-
ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ১০ থেকে ১৯
সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ: ব্রেটু ইনডেক্স ১০-এর নিচে
জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপ ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র দেবে, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।”
নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপ (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।
নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।
এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেনের সইকৃত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবার সকালে সচিবালয়ে সরকারপ্রধানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয় বলে জানিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
তিনি বলেন, “এটি ছিল বিদায়ী সাক্ষাৎ। বৈঠকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।”
উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ সোমবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে এ অভিযোগ দাখিল করা হয় বলে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানিয়েছেন।
কামাল আহমেদ মজুমদার ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা এবং যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নাম রয়েছে এ মামলার আসামিদের তালিকায়। বাকি আসামিদের নাম প্রসিকিউশন এখনও প্রকাশ করেনি।
প্রসিকিউটর তামীম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ জুলাই এবং ১৮ ও ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও পল্লবীর কয়েকটি এলাকায় ৫০ জনের বেশি ‘নিরীহ ও নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে’ গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের ‘সশস্ত্র ক্যাডাররা’ জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসিকিউটর বলেন, “একটি ফরমাল চার্জের মধ্যেই ওই কয়েক দিনের ঘটনাগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ আসামির প্রত্যেকের ভূমিকা এবং কে কীভাবে অপরাধ সংঘটনে যুক্ত ছিলেন, তা তুলে ধরা হয়েছে।”
দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সেটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিলের পর অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দিলে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।