ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে
সম্প্রতি এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকায় মশার উপদ্রব শুধু বেড়েই চলেছে এমন নয়; বরং তা মারাত্মক মাত্রা ছুঁয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর মশার ৯০ শতাংশই কিউলেক্স। মার্চে মশার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
বাংলাদেশে সাধারণত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার দেখা যায়- কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। এর মধ্যে কিউলেক্সের বিস্তারই বেশি। কিউলেক্সের কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়।
তবে এ দুটি রোগ দেশে ততটা প্রকট নয়। এডিসের কামড়ে ডেঙ্গু ও অ্যানোফিলিসের কামড়ে ম্যালেরিয়া হয়।
আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, জাপানি এনসেফালাইটিসে মৃত্যুর অনুমিত হার ২৫ শতাংশ। এ রোগে রাজশাহী, রংপুর ও পার্বত্য অঞ্চলে অতীতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশে এ রোগ বেশি দেখা যায় না। কারণ, এখানে শূকরের পালন খুব বেশি মাত্রায় নেই।
গবেষকেরা বলছেন, তিন কারণে এবার মশার প্রকোপ বেড়েছে। প্রথমত, এবার শীতের মাত্রা কম আর স্বাভাবিকের চেয়ে একটু আগেই শীত বিদায় নিয়েছে। আবার এ বছর মশার প্রকোপ আগেই শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি এগোচ্ছে না।
গবেষণায় যে সতর্কবার্তা
কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার ২৬ বছর ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। সর্বশেষ জরিপে তাঁর দল দুই ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছে- মশার লার্ভা বা শূককীটের ঘনত্ব ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি গণনা করে।
লার্ভা পরীক্ষা করতে বিভিন্ন জলাশয় থেকে ২৫০ মিলিলিটার পানি তুলে তাতে লার্ভার সংখ্যা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় সংগৃহীত পানিতে গড়ে ৮৫০টি লার্ভা পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় গড়ে ১ হাজার ২৫০-এ।
প্রাপ্তবয়স্ক মশার উপস্থিতি যাচাইয়ের পদ্ধতিটিও চমকে দেওয়ার মতো। একজন মানুষের হাঁটু পর্যন্ত পা ও বাহু উন্মুক্ত রেখে এক ঘণ্টায় কতটি মশা কামড়াতে আসে, তা গণনা করা হয়। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে গড়ে ৮৫০।
অধ্যাপক বাশারের আশঙ্কা, মার্চে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এক ঘণ্টায় পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই বিশ্বমানে তা বেশি। সেখানে ঢাকায় ৮৫০টি, এটি কেবল সংখ্যা নয়, এটি একটি বিপৎসংকেত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পাঁচ এলাকায় মশা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এখানে মশা বেড়ে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টানা মশার ফাঁদ রেখে এ গবেষণা করা হয়। গত ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি রাজধানীর পাঁচটি এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৯টি মশা পাওয়া যায়।
আর ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া যায় ২২ হাজার ৩৬২টি। ওই পাঁচ এলাকা হলো উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের পার্ক, মিরপুর ২ -এ ডিএনসিসির ভান্ডার শাখা অফিস, গুলশান ১-এর পুরাতন ভান্ডার শাখা অফিস, মিরপুর ১-এর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টার ও মোহাম্মদপুরের ডিএনসিসির আঞ্চলিক অফিস।
কোথায় বেশি, কোথায় কম
ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় কবিরুল বাশার ও তাঁর দলের করা গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর সর্বত্র সমানভাবে মশা নেই। কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ ও পরীবাগের মতো মধ্য রাজধানী এলাকায় তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে।
রাজধানীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সুমনা হক বলেন, বারান্দায় দাঁড়ানো যায় না। বিকেল হলেই মশার আক্রমণ শুরু হয়। কলাবাগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘পড়ার টেবিলে বসতে গেলেই মশা ঘিরে ধরে। অ্যারোসল ছিটালে কিছুক্ষণ কমে, তারপর আবার আগের মতো।
কেন বাড়ছে কিউলেক্স
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া ও দূষণ- দুটোই কিউলেক্স বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক জি এম সাইফুর রহমান বলেন, অতীতে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিউলেক্সের উপদ্রব বাড়লেও এ বছর তা ফেব্রুয়ারি থেকেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী কালবৈশাখের আগমন পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।
সাইফুর রহমান বলেন, চলতি বছর শীতকালের ব্যাপ্তি কম ছিল এবং গরম তাড়াতাড়ি শুরু হয়েছে। কিউলেক্স সাধারণত আগস্ট থেকে বংশবিস্তার শুরু করে। শীতে তাপমাত্রা কমে গেলে মশার শরীরে হরমোন ও এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে মশার লার্ভা বৃদ্ধি যেমন ব্যাহত হয়, তেমনি স্ত্রী মশার রক্তপানের আগ্রহও কমে যায়।
কিন্তু তাপমাত্রা বাড়লে এই প্রক্রিয়া উল্টো হয়, অর্থাৎ দ্রত জীবন চক্র সম্পন্ন করে এবং স্ত্রী মশার রক্তপানের চাহিদা বাড়ে। ঘনঘন ও বেশি পরিমাণে ডিম উৎপাদনে প্রয়োজনীয় বাড়তি প্রোটিন রক্তপান থেকে সঞ্চয় করে। ডিম দেওয়ার এ বাড়তি ক্ষমতা মশার দ্রুত বংশবিস্তার নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ও গড় তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কিউলেক্সের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তাপমাত্রার পাশাপাশি দূষণও বড় কারণ। আবর্জনা, বদ্ধ জলাশয় ও নর্দমা কিউলেক্সের প্রধান প্রজননক্ষেত্র।
ব্যবস্থাপনার সমস্যা
ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় আট হাজার বিঘা জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের বড় অংশ মশার উৎপত্তিস্থল। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, একবার পরিষ্কার করলে দ্রুতই আবার আবর্জনায় ভরে যায়। জলাশয় ব্যবস্থাপনা সত্যিই খুব জটিল। তাঁর মতে, অনেক এলাকায় খোলা নর্দমা, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকার ফলে কিউলেক্সের বংশবিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিধনের ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। অনেক জলাশয়ে মাছের চাষ হয়। সেখানে সিটি করপোরেশনকে কাজ করতে দেওয়া হয় না। এমন সমস্যাও রয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এলাকার লোকজনকে মোটামুটি চেনেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাঁরা লোকজনকে বোঝাতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের চেষ্টার ত্রুটি না থাকলেও সব ক্ষেত্রে তাঁরা জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হন না।
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ উদ্বোধনের প্রথম দিনেই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর নতুন বিমানবন্দর সড়কে নারীদের জন্য চালু হওয়া নতুন এই যানবাহনকে ধাক্কা দেয় বলাকা পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বলাকা বাসটিকে জরিমানা করেছে।
এদিকে মহিলা বাসটিকে ধাক্কা দেওয়ার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর বনানী এলাকায় পিংক বাসটি পৌঁছানোর পরপরই বলাকা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বলাকা বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হয়।
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ তিন জেলায় বিশেষ ‘মহিলা বাস’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বিআরটিসি জানিয়েছে, নারীবান্ধব ও নারী চালক দ্বারা পরিচালিত পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকারের অংশ। এর অংশ হিসেবে মোট ১৪টি বিশেষ বাস দিয়ে এই সেবা শুরু হয়েছে। ঢাকার ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলবে। ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল।
নারী বাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব, বিআরটিসি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় বাসগুলো চলবে নাতুন বাজার (কোকা-কোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর ১০-মতিঝিল, মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর ১২-মতিঝিল, মোহাম্মদপুর-মতিঝিল, আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং গাজীপুর-এবিআর-এর কর্মকর্তারা।
অন্য রুটগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা, বগুড়ার শেরপুর-মাটিডালি এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট-পতেঙ্গা।
ঢাকার রাস্তায় চলবে মহিলা বাস
রাজধানীর কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে আবারও পৃথক ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গোলাপি রঙের এসব বাসে চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নারীরা। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে নতুন এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মহিলা চালক ও কন্ডাক্টর দিয়ে পরিচালিত পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণপরিবহনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, কর্মজীবী নারী ও নারী যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পিংক বাস সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যেসব রুটে চলবে পিংক বাস
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুটে পিংক বাস সার্ভিস চালু করছে বিআরটিসি। এসব বাস নতুনবাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল, তালতলা-মতিঝিল, ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-মতিঝিল, মিরপুর-১০-মতিঝিল, মিরপুর-১২-মতিঝিল, আব্দুল্লাহপুর-কোয়ার্টার-জিপিও, মিরপুর-মতিঝিল এবং মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলবে। পাশাপাশি গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস পরিচালনার কথা রয়েছে।
নতুনবাজার থেকে মতিঝিলগামী বাস কোকাকোলা, নতুনবাজার, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে পৌঁছাবে। এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ডেমরা ও আব্দুল্লাহপুর থেকে চলাচলকারী বাসগুলো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যুক্ত করবে।
রাজধানীর বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি বাস চলবে। চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, লালখান বাজার।
নারীদের জন্য চালু করা এ উদ্যোগ গণপরিবহনে তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বিআরটিসি। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থান এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ইউপিএল প্রধান শাখায় চলছে মাসব্যাপী বিশেষ ক্লিয়ারেন্স সেল...
রাজধানীর ফার্মগেটে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান শাখায় চলছে মাসব্যাপী বিশেষ ক্লিয়ারেন্স সেল।
আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ বইমেলা চলবে। ফার্মগেটের আরএইচ হোম সেন্টারে আয়োজিত এ মেলায় ইউপিএলের বাছাই করা বইয়ে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রকাশনীর নির্বাচিত বইও পাওয়া যাচ্ছে।
ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘মানসম্পন্ন বই প্রকাশের পাশাপাশি পাঠক, লেখক ও গবেষকদের যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ইউপিএলকে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউপিএল গত ২০ বছর ধরে পাঠকদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড়ে বাত্সরিক প্রদর্শনী করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখানে ইউপিএল প্রকাশিত পুরোনো ও দুর্লভ কিছু বই যেমন থাকছে, তেমনি বাহ্যিক ত্রুটি বা প্রচ্ছদে দাগ থাকা কিছু আনকোরা বইও অবিশ্বাস্য মূল্যছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার দুপুর পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল থেকে আসা যুবলীগ কর্মী অর্ণব দাস (৩৮) শ্রদ্ধা জানাতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আসা যুবলীগ কর্মী নিপু মিয়া (৩০) আটক হন। এছাড়া আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় জানা যায়নি। চারজনকেই ধানমন্ডি থানায় পাঠানো হয়।
এদিকে মব সৃষ্টি করতে এসে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের মুখে পালিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধু ভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেদিন বিকেল ৪টা থেকে ভবনটির ভেতর থাকা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় সব স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখানে থাকা মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নসহ বই ও কাগজপত্র এবং মূল্যবান সামগ্রী পোড়ানো হয় অথবা লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি ‘বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত আরও তিনটি বহুতল ভবনে ভাঙচুর করা হয়। ওই দিন বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ধানমন্ডি লেকসংলগ্ন খোলা চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং বই ও স্মারক বিক্রির স্টলসহ অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু ভবন-সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন সান্তুর রেস্টুরেন্টেও ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ভবনের সামনে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও আশপাশের ভবনসহ সান্তুর রেস্টুরেন্ট থেকে কমপক্ষে চারটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ভবনে আরেক দফা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। সেই সময় এক্সক্যাভেটর (খননযন্ত্র), ক্রেন ও বুলডোজার এনে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সামনে-পেছনের তিনটি ভবনের অবশিষ্ট অংশ, সামনের উঁচু দেয়াল ও লোহার গেটগুলোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরের তিন-চার দিন সেখানে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙাভাঙি ও লুটপাট চলে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম
ঢাকা শহরের যানজট কমাতে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর কড়াকড়ি আরোপসহ অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে আয়োজিত এক সভায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এই পরিকল্পনার কথা জানান।
ডিএসসিসি প্রশাসক এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।’
আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।
রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে।
কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ এ কারণে রিকশা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুস সালাম।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এজন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।
আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।’
রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যত্রতত্র যেখান সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে-এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।’
আব্দুস সালাম বলেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।
শাহবাগ মোড়ে চালু হলো স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল
ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তীব্র যানজট ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা। এতে প্রতিদিন নাগরিকদের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা টেকসইভাবে সমাধানের লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচল আরো নিয়মতান্ত্রিক ও গতিশীল করতে একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ডিএসসিসির আওতাধীন আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হয়েছে। এগুলো হলো-বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, মিন্টো রোড, কাকরাইল সার্কেল, মৎস্য ভবন, কদম চত্বর, শিক্ষা ভবন ও শাহবাগ মোড়। এর মধ্যে শাহবাগ মোড়ে বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, এই সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সরাসরি কারিগরি সহায়তায় স্থাপন করা হয়েছে।
প্রশাসক জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর আরো ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে শিগগিরই ডিএসসিসির আওতাধীন আরো ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশকে আগের মতো সার্বক্ষণিকভাবে ম্যানুয়ালি সংকেত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলে জানান প্রশাসক।
তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা সফল করতে চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে হবে।
চালক ও পথচারীদের সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। ট্রাফিক সতর্কীকরণ সাইন, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং ও নির্দিষ্ট লেন মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে ইন্টারসেকশনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা ভাসমান দোকান রাখা যাবে না।
ডিএসসিসি প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের ফলে নগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘ সময় রোদ-বৃষ্টিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালনের চাপও কমবে। আধুনিক প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোয়াজ্জেম হোসেন ও প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।