গজারিয়ার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রাম থেকে গত শুক্রবার অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ওই গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশে ফুলদী নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করেছে। তার নাম হালিমা আক্তার (১৯)। তিনি গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহাসিন বেপারীর মেয়ে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন হোসনে আরা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় শনিবার একটি মামলা করেন। একই দিন পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। এসআই (নিরস্ত্র) রনি দেবনাথ মামলাটির তদন্ত করছেন।
মুন্সীগঞ্জ পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের আম্বর আলীর ছেলে আবু কালাম (৪৮),
গজারিয়ার ভাটেরচরের ইছহাক আলীর ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪৪), ধন মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৪৪) ও মনির হোসেনের ছেলে মো. আলামিন প্রধানকে (৫০) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে সাক্ষ্য-প্রমাণে ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হতে জানা যায়, আবু কালামের কাছ থেকে ভিকটিম হালিমা আক্তার ২৫ হাজার টাকা ও আসামি রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন। ভিকটিমের সাথে আসামি জামাল শারীরিক সম্পর্ক করার সময় জামালের নিকট আত্নীয় দেখে ফেলায় ভিকটিম তাদের সম্পর্কের কথা অন্য কোথাও বলে দিতে পারেন এমন আশঙ্কায় ভিকটিমকে টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আসামি।
ঘটনার ১৫ দিন আগে আসামি আবু কালাম, জামাল, রাসেল ও আলামিন গজারিয়ার হামর্দদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হালিমা আক্তারকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। ২৬ মে সন্ধ্যার পর কৌশলে আসামিরা হালিমা আক্তারকে বড় ভাটেরচর নদীর পাশে ডেকে নিয়ে যায় এবং একটি নৌকায় করে নদীর ওপারে চকের ভেতরে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে কাপড় দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গোপন করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়। মামলাটি তদন্ত চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলার দুই আসামি পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, অভিযান চালানোর সময় আসামিরা চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেছে। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়েছে। পরে গুলিতে আহত দুজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ নিয়ে এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ১০ জন।
আদাবর থানা-পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকার কাঁচা বাজারের পাশের খেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন রাজিব হাওলাদার (৩০) ও সাগর (২৪)। তাঁদের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করার পর চিকিৎসার জন্য তাঁদের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুজন হলেন শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)।
আদাবর থানা-পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের ধরতে রাত দুইটার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন ছিলেন। গ্রেপ্তার করতে গেলে তাঁরা চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন আত্মরক্ষার্থে অভিযানে থাকা কনস্টেবলের হাতে থাকা শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করা হয়। পুলিশ আরও বলেছে, গুলিতে রাজিব আর সাগর আহত হন। তাঁদেরসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিরা চাপাতি নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় পুলিশ। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি জাহিদুল আরও বলেন, আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় করা মামলায় এর আগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও চারজন। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা আছে। আর রাজিব মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা আছে।
গত রোববার আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল চাপাতি, রামদা ও পিস্তল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ। ওই ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বাড়িটির মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও আছে।
ডিএমপির যুগ্ম–কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকায় ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে মন্তব্যের সূত্র ধরে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম–কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধার এবং একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তো তিনটি দাবিতে রাজপথে আছি। আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে বাদ দেওয়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার। এই দাবিগুলো সরকার মানছে না! দাবিগুলো মানলে তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে।’
এ প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক পুলিশের বক্তব্য জানতে চান। জবাবে যুগ্ম–কমিশনার বলেন, এটা অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় যে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তা না হলে, তিনি এই কথা বললেন কেন?
তাহলে কি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ? জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা আসলে আমি এখন বলতে পারব না। এটা হয়তো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।’
বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধার
এর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৯ হাজার পিস কাগজের মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানায় পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম–কমিশনার বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর তদন্তে যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালায়। এ সময় ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত কস্টিক সোডা দেড় কেজি, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, মারবেল ৫ কেজি, ১ ইঞ্চি তারকাঁটা ২ কেজি, ককটেল মোড়ানোয় ব্যবহৃত লাল কসটেপ ২০টি ও কালো কসটেপ ১১টি, অসৎ উদ্দেশ্যে কাগজ দিয়ে তৈরি ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ইলাস্টিক ৩০ প্যাকেট, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়। ইমন স্বীকার করেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সাহায্যে মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় দুটি মামলা রয়েছে।
রাজধানীর কদমতলী থানাধীন রাজধানী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর সামনে অভিযান চালিয়ে ডিএমপির তালিকাভূক্ত আন্তঃ জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ও ২ বছরের সাজাসহ একাধিক পরোয়ানাভূক্ত আসামি মোঃ ইকবাল হোসেন বাদশাকে (৫২) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৩।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৩।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধৃত আসামি ইকবাল হোসেন এর বিরুদ্ধে রাজধানীর শ্যামপুর থানায় ২০২১ সালের দস্যুতা মামলায় ৩৯৩ ধারায় অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ জজ আদালত-১০, ঢাকা কর্তৃক গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ধৃত আসামিকে ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
উল্লেখ্য যে, আদালত কর্তৃক সাজা প্রদানের পর থেকে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক অবস্থায় নিজের নাম ও বেশভূষা পরিবর্তন করে জীবন যাপন করে আসছে। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে রাজধানীর শ্যামপুর থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে এসআরবি-৩ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল আসামির অবস্থান শনাক্ত করে ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর ও কদমতলী থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
শিশু নিখোঁজ হলে বা হারিয়ে গেলে কী করা উচিত- এই প্রসঙ্গটি বাংলাদেশে সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে; বিশেষ করে কুমিল্লায় ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের নিখোঁজ হওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর।
পুলিশের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারাদেশে প্রায় ১৬ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়, যাদের মধ্যে দুই হাজারের বেশি শিশুর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। এই তথ্য জানানো হয়েছিল চলতি মাসের শুরুতে।
আবার বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, বছরের শুরু থেকে অগাস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত ৩৬টি নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সন্তান অপ্রতিমের নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সারাদেশে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। ওই ঘটনায় অপ্রতিমেরই পূর্ব-পরিচিত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান নিয়ে কাজ করা প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান জিরো মিসিং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান বলছেন, নিখোঁজের পর প্রথম তিন ঘণ্টায় অনেকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকে এবং সে কারণে ওই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ডকে শিশুটির উদ্ধারের জন্য কাজে লাগাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন, বাচ্চা নিখোঁজ হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে কল দিয়ে কিংবা স্থানীয় থানায় গিয়ে পুলিশকে জানাতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব তথ্য দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে জিডি করতে হবে। পুলিশের একজন মুখপাত্রও একই পরামর্শ দিয়েছেন।
শিশু হারালে কী করবেন
জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত ১০ই সেপ্টেম্বর সাত বছরের একটি শিশু স্কুলে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে ওই শিশুর মৃতদেহ তারই এক সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় পায় পুলিশ।
রপর সংবাদ সম্মেলন করে সেখানকার পুলিশ জানিয়েছিল যে ওই শিশুর সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।
গত ১৬ই সেপ্টেম্বর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নে নিখোঁজের সাত দিন পর দশ বছর বয়সের এক শিশুর টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবার বাংলাদেশের খুলনার ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ভারত থেকে উদ্ধারের ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল; ২০২৫ সালের ২৩শে জুলাই ওই কিশোরীটিকে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে উদ্ধারের পর ওই শিশু তারও উপর হওয়া নিপীড়নের মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়েছিল।
নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জিরো মিসিং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান বলছেন, শিশু হারালে বা নিখোঁজ হলে দ্রুততম সময়েই কিছু পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই শিশুটিকে ফিরে পাওয়া সম্ভব হতে পারে।
জিরো মিসিং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্ম মুন অ্যালার্ট নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান নিয়ে কাজ করে। এটি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় সামাজিক মাধ্যম ও বিলবোর্ডে নিখোঁজ শিশুর বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অ্যালার্ট দিয়ে থাকে।
সাদাত রহমান বলছেন, এফবিআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের পর প্রথম তিন ঘণ্টায় অনেক শিশু হত্যার শিকার হয় এবং সে কারণে ওই সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড শিশুটিকে খুঁজে পেতে কাজে লাগাতে হবে।
'গোল্ডেন আওয়ার' কাজে লাগানো
সাদাত রহমানের মতে, ওই তিন ঘণ্টাই গোল্ডেন আওয়ার, যার প্রতিটি মুহূর্ত শিশুকে খুঁজে পেতে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানাতে বা অ্যালার্ট ইস্যু করতে মুন অ্যালার্টের হটলাইন (১৩২১৯) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি শিশুর বিস্তারিত তথ্য দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে হবে এবং সেক্ষেত্রে থানায় যাওয়া এবং বাংলাদেশের পুলিশের জরুরি নম্বর ৯৯৯ এ কল করে পুলিশকে অবহিত করা উচিত বলেও মনে করেনি তিনি।
আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন, দ্রুত স্থানীয় থানায় গিয়ে শিশুর বিস্তারিত তথ্য-সহ জিডি করতে হবে। একই সঙ্গে, কারও সাথে পূর্ব-শত্রুতা থাকলে বা সন্দেহভাজন কেউ থাকলে অভিভাবকের উচিত সেটি পুলিশকে অবহিত করা। পাশাপাশি আগের কোনো শত্রুতা বা হুমকি থাকলে তাও পুলিশকে জানাতে হবে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইন জিডি সুবিধা চালুর ফলে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০। যদিও সাদাত রহমান বলছেন, নিখোঁজের ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার সুবিধা কাজ করে না। এ ধরনের জিডি করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় যেতে হয়।
আশেপাশে সন্ধান চালানো
চলতি মাসের শুরুতে পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল যে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জায় বা ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব কাজ করে।
সাদাত রহমান বলছেন, স্কুলের বাচ্চারা নিখোঁজ হলে শুরুতেই তাদের কোনো বন্ধু-বান্ধবের বাসায় গেলো কি না তার খোঁজ নিতে হবে। ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটি ঘটে এবং তাদের অনেককে পরে পাওয়া যায়। এছাড়া ছোটো শিশুর ক্ষেত্রে বাড়ির আশেপাশের ডোবা নালাসহ বিপজ্জনক জায়গাগুলো ভালো করে দেখতে হবে। বাচ্চারা অনেক সময় পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে যায়। এমন কারও কাছে গিয়েছে কি-না সেটি নিশ্চিত হতে হবে। কনস্ট্রাকশন সাইট কিংবা মাঠ থাকলে সেগুলোতে সন্ধান করতে হবে। তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে অনেকের বাসা থেকে রাগ করে বা পড়াশোনার ভয়ে বের হয়ে যাওয়ার উদাহরণও আছে।
আইনজীবী মিতি সানজানা বলছেন, শিশুটি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা করা যাবে এমন প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কোনো বিলম্ব না করে এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে জানাতে হবে।
আরও যেসব জায়গায় খোঁজ নিতে হবে
শিশুটি কোথায় যেতে পারে- সেই সম্ভাবনা ধরে কাছাকাছি থাকা হাসপাতাল, ক্লিনিক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। শিশুর নিয়মিত যাতায়াতের জায়গাগুলোতে ভালো করে সন্ধান চালাতে হবে।
নিখোঁজ বা হারিয়ে যাওয়া শিশু পেলে অনেক সময় আদালতের মাধ্যমে সরকারি শিশু সদনে রাখে পুলিশ। শিশুটি সেখানে আছে কি-না সেই খোঁজের জন্য আদালতের নন-এফআইআর শাখায় খোঁজ নিতে হবে।
শিশুকে যা শেখাবেন
সাদাত রহমান বলছেন, অনেক সময় শিশু হারিয়ে যাওয়ার পর লোকজন পেলেও কোনো তথ্য দিতে পারে না। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে মোবাইল নম্বর মুখস্থ করানোর চেষ্টা করতে হবে।একই সঙ্গে শিশুকে অপরিচিতদের কাছে না যাওয়ার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। পিতামাতাসহ পরিবারের অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি আরও দৃষ্টি দিতে হবে। তারা কী করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
সানজানাও বলছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে সচেতন করে তুলতে হবে অভিভাবকদেরই।
মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দু’পক্ষের সংঘর্ষ
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ সোমবার ফের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ফোরামের সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকালে এস আলমের সময়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া চট্রগ্রামের পটিয়া থেকে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের একাংশের সঙ্গে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে পটিয়া অঞ্চল থেকে আসা কিছু সাবেক কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয়। এতে দুই গ্রুপের পক্ষের অর্ধশতাধিক সদস্য আহত হন।
গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর উন নবী মানিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। যারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
অন্যদিকে, চাকরিচ্যুতদের ২৫ জনের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন শহিদুল ইসলাম নামের সাবেক এক কর্মী। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আজ উপস্থিত হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। ২০ থেকে ২৫ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালের ঘটনা আমি জানি না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু এটি কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান, তাই তাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।’
মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাকিবুল আলম ভূইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটালে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক তরুণীকে ঘিরে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে রাজধানীর সবুজবাগে খুন হয়েছেন কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭)। দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন সিফাত। এরপর তিনি জানতে পারেন সাজিদুল ইসলাম সাজিদ নামে আরেক যুবকের সঙ্গে চার বছর ধরে সম্পর্ক চলছে ওই তরুণীর। এ নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর মাদারটেক এলাকায় সিফাত হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় র্যাব সাজিদ ও তার সহযোগী আল আমিন হোসেন জয়কে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল সোমবার র্যাব-৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় ওই তরুণীর বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। এ খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় যায়। জয় তখন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। জয়ের সহযোগীরা বাসায় ঢুকে সিফাতের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তিতে জড়ায়। ধস্তাধস্তিতে সময় ইয়াছিন ও রাজু আহত হয়। পরে তারা নিচে নেমে আসে। সিফাতও মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে জয়ের সহযোগীরা তাকে পেছন থেকে হামলা করে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। স্থানীয়রা সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। র্যাব ৩-এর অধিনায়ক বলেন, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁও হাজিবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও শেখের জায়গাবাজার থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সিফাত প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন। ওই তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে সাজিদের সঙ্গেও তার চার বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সিফাতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
অন্যদিকে জয় ওই মেয়েটির সঙ্গে মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে পরিচিত ছিলেন। জয় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে জয়সহ তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে জয়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
র্যাব-৩ অধিনায়ক জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সবুজবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।