দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনাকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীন সই করলেও গতকাল সোমবার তা শিক্ষা মন্ত্রালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
এ নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির ওপর যৌথ দায়বদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত বা বাতিল এবং পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নীতিমালার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা। টিউশন ফি, ভর্তি ফি, সেশন চার্জসহ প্রতিষ্ঠানের সব আয় তপশিলি ব্যাংক বা সোনালি পেমেন্ট গেটওয়ের (এসপিজি) মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। অনলাইন গেটওয়ে চালুর পর কোনো অবস্থাতেই সরাসরি নগদ অর্থ নেওয়া যাবে না।
আদায় অর্থ দুই কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো নতুন খাতে ফি আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের জরুরি ঋণ সুবিধা
নীতিমালায় মানবিক দিক বিবেচনায় শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির অনুমোদনক্রমে তারা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ছয় মাসের সমপরিমাণ অর্থ অগ্রিম বা ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন, যা পরবর্তীতে মাসিক কিস্তিতে সমন্বয় করা হবে।
মাল্টায় শুল্ক ১০৭ টাকা!
ডেঙ্গুর সময়ে রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমদানি পর্যায়ে যে মাল্টার প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা, সেই মাল্টার জন্যই শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা।
অথচ চলতি অর্থবছরের ট্যারিফ অনুযায়ী, টেসলা বা মার্সিডিজ বেঞ্জসহ অন্তত ১৪৬টি এইচএস কোডভুক্ত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করের হার মাল্টার চেয়ে কম।
সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ার পর অবশ্য দাম কিছুটা কমে এখন কেজিপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা হয়েছে। তবে আমদানি পর্যায়ে পণ্যের দামের তুলনায় শুল্ক-কর বেশি হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে মাল্টার উচ্চ করভার।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত শুল্ক–কর নেই। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে মাল্টাসহ তাজা ফলে শুল্ক–কর গাড়ির চেয়েও বেশি।
২০০৬–০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক-করভার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তখন প্রতি কেজি মাল্টায় শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ১২ টাকা। এরপর ধাপে ধাপে করভার বাড়তে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। তখন প্রতি কেজিতে শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ৩৮ টাকা।
করভার আরও বাড়ে ২০২২ সালের মে মাসে। ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে। এতে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার বেড়ে প্রায় ১১৪ শতাংশে ওঠে।
এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করভার আরও বাড়িয়ে ১৩৬ শতাংশ করা হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন ফল আমদানিকারকেরা। পরে ২০২৫ সালের মার্চে বাড়তি শুল্ক-কর কিছুটা কমানো হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার নির্ধারণ করা হয় ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা এখনো বহাল রয়েছে।
একদিকে মাল্টাসহ তাজা ফলের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক–করের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো কোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির করভার মাল্টার প্রায় অর্ধেক।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলা আমদানি হয়েছে সাতটি। বছরভেদে এসব গাড়িতে শুল্ক-কর দিতে হয়েছে ৮৯ থেকে ৯২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৫০ হাজার ডলার মূল্যের টেসলা আমদানি করলে সর্বোচ্চ শুল্ক-করভার হবে ৮০ শতাংশ। আর ২৫ হাজার ডলারের বিওয়াইডি বা একই শ্রেণির বৈদ্যুতিক গাড়িতে করভার ৬৪ শতাংশ।
মার্সিডিজ বেঞ্জের ক্ষেত্রেও চিত্র একই। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে ২০২৬ সালে তৈরি তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি খালাস করেছে র্যানকন মোটরস লিমিটেড। ১ হাজার ৯৯৯ সিসির প্লাগ–ইন হাইব্রিড প্রতিটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ি আমদানিতে মোট শুল্ক-কর দিতে হয়েছে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হারে।
যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ২৩ গুণ বেশি
মাল্টা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি নিজে মাল্টা উৎপাদন ও রপ্তানি করলেও বিদেশ থেকেও ফলটি আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি কেজি মাল্টার সাধারণ শুল্কহার ১ দশমিক ৯ সেন্ট। আবার ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে মাল্টা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে যেসব দেশ থেকে মাল্টা আমদানি হয়েছে, সেসব চালানে গড় কার্যকর শুল্কহার ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার প্রায় ২৩ গুণ বেশি।
প্রতিবেশী ভারতেও মাল্টা আমদানিতে ৩০ শতাংশ মৌলিক শুল্ক রয়েছে। অন্যান্য করসহ দেশটিতে মোট করভার প্রায় ৩৩ শতাংশ।
বাড়তি করের চাপ ভোক্তার ওপর
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক ও আমদানিকারক জুনায়েদুল হক বলেন, আগে এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে শুল্ক–কর দিতে হতো প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। এখন দিতে হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। তার ভাষ্য, ফলের ওপর এত বেশি শুল্ক-কর আরোপের ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ছে ভোক্তার ওপরও।
বিশ্বব্যাংক
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণে ২০২৩ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে আছে। আজ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ বিশ্বব্যাংক এ কথা জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসার খরচ। তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ উন্নত হওয়ায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সংস্কার গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার দরকার। দরিদ্রদের সুরক্ষা ও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষিতে ভর্তুকি থাকলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। প্রতিবেদনে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে নগদ সহায়তা কর্মসূচির উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ যুক্ত করলে আরও ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে তোলা সম্ভব।
একই দিন প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, আর ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হবে।
বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, এআই মূল্য শৃঙ্খলার সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশে বিনিয়োগ করতে হবে।
এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গে বলেন, এআই শ্রম উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তবে এজন্য মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম পেমেন্ট গেটওয়ে ‘কিউক্যাশ’ এর সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে একযোগে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও অনলাইন লেনদেন সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে টানা প্রায় ছয় দিনের জন্য এই সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।
কিউক্যাশের মূল কােম্পানি আইটি কনসালট্যান্সের (আইটিসি) ওয়েবসাইটে যে নোটিশ প্রচার করা হয়েছে, তাতে সিস্টেম মাইগ্রেশনকে কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে নোটিশে প্রদত্ত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান– ‘এটা সিস্টেম আপগ্রেডেশন’। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়ে এবং গ্রাহকদের কোনো ধরনের আগাম নোটিশ না দিয়ে এভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা। কিছু ব্যাংকের গ্রাহকের দাবি, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পরও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্রাহকদের এ বিষয়ে নোটিশ করেনি।
ব্যাংকগুলো বলছে, কিউক্যাশের পক্ষ থেকে আগাম ঘোষণা না পাওয়ায় তারা গ্রাহকদের জানাতে পারেননি।
কিউক্যাশের সেবা গ্রহণকারী ব্যাংকগুলো হলো– অগ্রণী, বাংলাদেশ কমার্স, কৃষি, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক, আলফালাহ, কমিউনিটি, আইসিবি ইসলামিক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আইএফআইসি, যমুনা, জনতা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, মিডল্যান্ড, মধুমতি, ন্যাশনাল, এনসিসি, এনআরবি কমার্শিয়াল, এনআরবি গ্লোবাল, রূপালী, শাহ্জালাল ইসলামী, সীমান্ত, এসআইবিএল, সোনালী, সাউথ বাংলা, ট্রাস্ট, ইউনিয়ন, উত্তরা এবং উরি ব্যাংক।
আইটিসির নোটিশ অনুযায়ী, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ নির্ধারিত রয়েছে। এই সময়সীমায় কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) সেবা ব্যাহত হবে বলা হয়েছে।
ট্রাস্ট ব্যাংকের সিএফও মাহফুজুর রহমান বলেন, কিউক্যাশ বা আইটিসি আমাদের না জানিয়ে হঠাৎ করে সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল অক্টোবর মাসের ২৮ তারিখের দিকে ‘ডাউনটাইম’ নেওয়ার। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হুট করে বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নেটওয়ার্ক বন্ধ করার দিন রোববার সন্ধ্যায় আমাদের নোটিশ দিয়েছে। আমরা গ্রাহকদের নোটিশ দেওয়ার মতো এক দিন সময়ও পাইনি। এটি একটি চরম অপেশাদার কাজ হয়েছে। তারা নিজেদের সুনাম তো নষ্ট করলই, সেই সঙ্গে মেম্বার ব্যাংকগুলোর সুনামও কাস্টমারের কাছে নষ্ট করল।’
মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের প্রায় ছয় লাখ ডেবিট কার্ড দেশের ভেতরে ও বাইরে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। কারণ আমাদের ডেবিট কার্ড এনপিএসবি ও ভিসা নেটওয়ার্ক এবং আমাদের নিজস্ব সিস্টেমে চলে। তবে আমাদের ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড ও কিউক্যাশ এটিএম বুথ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, যে কোনো কারণেই হোক, এটা যে প্রযুক্তিগত সমস্যা, তা পরিষ্কার। ফলে তাৎক্ষণিক সমাধান নেই, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্ড ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে– এ ধরনের কোনো মেনটেইনেন্স করার অনেক আগে থেকেই পত্রিকা, টিভি এবং গ্রাহকদের মেসেজ পাঠিয়ে আগাম বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। কারণ গ্রাহকদের এভাবে বিড়ম্বনায় ফেলার অধিকার কোনো ব্যাংকের নেই।
তিনি আরও জানান, কিউক্যাশ বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এই সিস্টেম মাইগ্রেশনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। গ্রাহকদেরও আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খুব শিগগির সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাইবে, কেন তারা গ্রাহকদের আগে না জানিয়ে এককভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখল।
তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি কনসালট্যান্টসের (আইটিসি) পেমেন্ট গেটওয়ে কিউক্যাশ হলো ব্যাংকগুলোর কার্ডভিত্তিক লেনদেনের একটি যৌথ পেমেন্ট সুইচ ও এটিএম/পিওএস নেটওয়ার্ক। আইটিসির হেড অব প্লানিং ফাইজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আমাদের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ২৮ অক্টোবর থেকে সেবা বন্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ তারিখে এগিয়ে আনা হয়েছে। আগে থেকে কেন নোটিশ করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দেয়নি।
গ্রাহকদের ভোগান্তি
কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা না থাকায় রেস্তোরাঁয় বিল দেওয়া, কেনাকাটা করা কিংবা জরুরি ক্যাশ টাকা তোলার ক্ষেত্রে তীব্র বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক গ্রাহক এটিএম বুথে গিয়ে হঠাৎ জানতে পারছেন যে সেবা বন্ধ। এমনকি ডিপোজিট বা মেয়াদি আমানতের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে কিনা, তাও অ্যাপের মাধ্যমে দেখতে পারছেন না অনেকে। কিউক্যাশের দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেও গ্রাহকরা কোনো স্পষ্ট তথ্য বা সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
গত পাঁচ বছরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৩২ দফায় দাম বাড়িয়েছে। একই সময়ে কয়েক দফায় দাম কমানোও হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলে ৯৭৫ টাকা থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ২০২৬ সালের এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। এরপর বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম পরিবর্তন করা হয়।
পাঁচ বছরে দামের ওঠানামা
২০২১ সালে এপ্রিলের ৯৭৫ টাকা থেকে মে ও জুনে দাম কমে যথাক্রমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকা হয়। এরপর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ দফায় দাম বাড়ানো হয়। নভেম্বরের শেষে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৩ টাকা। পরে ডিসেম্বরে ৮৫ টাকা কমিয়ে তা ১ হাজার ২২৮ টাকা করা হয়।
২০২২ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানো হলেও পাঁচ দফায় কমানো হয়। বছরের শেষে ডিসেম্বরে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ২৯৭ টাকা। এর আগে জানুয়ারিতে দাম ছিল ১ হাজার ১৭৪ টাকা।
২০২৩ সালে সাত দফা দাম বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচ দফা কমানো হয়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ২৩২ টাকা থাকা সিলিন্ডারের দাম ডিসেম্বরের শেষে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৪ টাকা। ওই বছর সর্বনিম্ন দাম ছিল জুনে, ৯৯৯ টাকা।
২০২৪ সালে সাত দফায় দাম বাড়ানো হয়। বছরের শুরুতে ১ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে ১ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ টাকা হয়। পরে কয়েক দফা কমা-বাড়ার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দাম ছিল ১ হাজার ৪৫৫ টাকা।
২০২৫ সালে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। বছরজুড়ে দুই দফায় দাম বাড়লেও একাধিক দফায় তা কমানো হয়। ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১ হাজার ৪৭৮ টাকা। নভেম্বর মাসে তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ২১৫ টাকা।
চলতি বছরের প্রথম চার মাসে এলপিজির দামে আবার বড় পরিবর্তন আসে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে দাম বেড়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা হয়। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল।
এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অর্থাৎ, ২০২১ সালের এপ্রিলের ৯৭৫ টাকা থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাম বেড়ে হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
পরের মাসগুলোতে আবার কমেছে দাম
এপ্রিলের পর জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে এক দফায় ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
তবে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও বাজারে তা ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা এ পরিস্থিতির জন্য সংকটের কথা বলছেন। তবে এলপিজি মালিকরা দেশে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন।
আমদানির তথ্যেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার দাবি
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এলপিজি খাতের মালিকরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুত পরিস্থিতি ভালো বলে জানানো হয়। আমদানিকারক ও অপারেটররা জানান, বর্তমানে দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই।
কৃত্রিম সংকট খতিয়ে দেখতে ডিসিদের নির্দেশ
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশের কোথাও এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী। সচিবালয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত অনলাইন বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী জানান, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কোনো কোনো এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক রয়েছে বলে জানায় এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি বা অবৈধভাবে মজুত করা হলে সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নির্ধারিত দামে বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন
এলপিজির সরবরাহ নিয়ে একাধিক উদ্যোগ ও বক্তব্যের পরও সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার কিনতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, যে হারে এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাঁর মতে, বড় সমস্যা হলো বিইআরসির নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি বিক্রি না হওয়া। ফলে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এলপিজি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের দায়িত্ব বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, এলপিজি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াবে এবং রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নেবে না, এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
পণ্য না কিনে শুধুমাত্র ক্যাশআউট করার জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, ক্যাশলেস লেনদেন গড়ে তুলতে বাংলা কিউআরের প্রচলন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য প্রতিটি লেনদেনের ফুটপ্রিন্ট রাখা। এ সেবা দিতে কোনো ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএস গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন। গত জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো। তখন লেনদেনের পরিমাণ ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাংলা কিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য গড়ে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধির জন্য নতুন কিছু পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে সব বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে প্রদান করা হবে। এতে মার্চেন্টদের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব কমবে। এ ছাড়া বাংলা কিউআর পেমেন্টের ক্ষেত্রে অর্থগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ১ শতাংশ রহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের চার্জ শূন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অন্যদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মার্চেন্ট পয়েন্টে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনের বিপরীতে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে চালু হবে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যক্তি-টু-ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন। এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃব্যবহারযোগ্য অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
বাংলা কিউআর ব্যবহার করে বিকাশ থেকে ১০ হাজার টাকার বেশি পেমেন্ট করা যায় না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র বলেন, এমন অভিযোগ তাদের কাছেও এসেছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া তাদের এজেন্টদের অসহযোগিতার বিষয়টিও জানিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
আজ বুধবার সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে তার হিসাব খোলার ফরম, হালনাগাদ লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। আধাঘণ্টার মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য চাওয়া হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
গত শনিবার শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে সালমানের স্টুডিওতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুট হয়। পরে তিনি অভিযোগ করেন বিএনপির লোকজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের অনেকে প্রতিক্রিয়া জানান। এখন লেনদেন ক্ষতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিল সরকার।