ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৩ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ এএম

সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বানানোসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম। আজ শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবী মানিক বলেছেন, না হলে রোববার থেকে নতুন কর্মসূচি দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।


এদিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত প্লাটফর্মটি।


সেখানে নুর উন-নবী মানিক বলেন, "আমাদের দাবি সুস্পষ্ট, অবিলম্বে খুরশীদ আলমকে অপসারণ করে ব্যাংকিং ক্ষেত্রে দক্ষ, সৎ, পেশাদার ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হবে। এস আলম ও ফ্যাসিস্টের দোসর কাউকে ইসলামী ব্যাংকে ঢুকতে দেওয়া হবে না, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধ্বংস করতে দেওয়া হবে না, ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। ”


আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী থাকতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।


কদিন আগে জাতীয় সংসদে দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে নুর উন-নবী মানিক বলেন, "জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা। সেখানে উপস্থাপিত প্রতিটি তথ্য জনগণ সত্য ও নির্ভরযোগ্য বলে গ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্যগত অসামঞ্জস্যপূর্ণতা শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের সুনাম নয়, সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনে তথ্যগত সংশোধন করা হবে।


"আজ বিকেল ৪টার মধ্যে আমাদের ৭ দফা দাবি না মানলে রোববার (১৪ জুন) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। পাশাপাশি মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।"


৭ দফা দাবি


১. অনতিবিলম্বে দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিবাদ ও ডাকাত এস আলমের দোসরকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করতে হবে।


২. যাদের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো বন্দুকের মুখে দখল করেছিল তাদেরকে ফেরত দিতে হবে। কারণ ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন স্বাভাবিক উপায়ে ছিল না। ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে জোরপূর্বক পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করিয়ে মালিকানা দখল করা হয়। সুতরাং যাদের কাছ থেকে ব্যাংক লুটেরা ও মাফিয়া দখল করেছিল তাদেরকে মালিকানা ফেরত দিতে হবে। প্রকৃত মালিকদের কাছেই এই ব্যাংক নিরাপদ।


৩. ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ বিভিন্ন ব্যাংক ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এস আলমসহ যারা লুট করেছে তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাংলাদেশে এ রকম লুটেরা মাফিয়া গোষ্ঠীর আর জন্ম না হয়।


৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে আতঙ্ক সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।


৫. লুটের অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে বিশেষ সেল গঠন করে লুটেরাদের সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির মাধ্যমে ব্যাংকের দায় পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে লুটেরাদের বিচারের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত থেকে কোনো স্থিতাবস্থা যাতে লুটেরা জারি করতে না পারে এ ব্যাপারে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ এই আদালত থেকে এস আলমের ঋণের কোনো অনিয়ম তদন্ত করা যাবে না মর্মে রুলনিশি জারি করা হয়েছিল।


৬. ব্যাংক লুটেরাদের ফেরার পথ রুদ্ধ করতে হবে। ব্যাংক লুটেরাদের বিচার না করে তাদের পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে ব্যাংকিং রেজুলেশন আইন ১৮/ক ধারা সংযোজন করে। অবিলম্বে এ ধারা বাতিল করে লুটেরাদের ফেরার পথ রুদ্ধ করতে হবে। তারা যাতে ভিন্ন নামে আবার ব্যাংক দখল করতে না পারে এ জন্য লুটেরাদের সন্তান, স্ত্রী, সুবিধাভোগী এবং যে সব প্রক্সি কোম্পানীর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালক নিয়োগ করে অর্থ লুট করেছে তাদেরকে ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।


৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মিথ্যা বক্তব্য’ ও ডাকাত এস আলমের হাতে ব্যাংক তুলে দেওয়ার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।


ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার আগে সেদিন চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করেন। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হয়েছিলেন। 


তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খুরশীদ আলমসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।


চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের নানা ঘটনা ঘটে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির সময়ে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে বেছে নেওয়া হয়।


ঈদের পরে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে ‘গ্রাহক ফোরাম’ নামে ব্যানারে একদল লোক মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে কয়েকদিন বিক্ষোভ করে। খুরশীদ আলমকে এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে তাকে সরানোর দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। তাদের কথা হল, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দখলে যাওয়ার আগে যারা পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন তাদেরকেই ফেরাতে হবে।


সে সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ছুড়ে ও জলকামান দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। এরপর সংসদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:২০ পিএম

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।


বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা। অথচ বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে নির্ধারিত দামের তুলনায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের।


বিইআরসি ও এলপিজি আমদানিকারক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।


এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু আমদানি ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে বাস্তবে বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে লোহিত সাগর, হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজের সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। বাংলাদেশের এলপিজির প্রধান আমদানি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়েছে।


মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কার্গো পাওয়া। একটি নৌপথ বন্ধ থাকলে আগে বিকল্প পথে পণ্য আনা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েও খোলাবাজার থেকে কার্গো সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।


আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো প্রিমিয়াম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিইআরসির মাসিক মূল্য নির্ধারণে পুরোপুরি সমন্বয় করা হচ্ছে না।


এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে কার্গো প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করে অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। লোকসান এড়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।


ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজীম চৌধুরী বলেন, সেপ্টেম্বরে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটে উৎপাদকদের দিক থেকে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।


বাংলাদেশে বছরে এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশ গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। মোট চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।


বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে সরবরাহ ঘাটতির পেছনে কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোর বিষয়টিও রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।


তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা দ্রুত না কাটলে এবং প্রয়োজনীয় কার্গো সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও এলপিজির সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান।


ফলে একদিকে নির্ধারিত দামের তুলনায় বাড়তি অর্থ দিয়ে রান্নার গ্যাস কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের, অন্যদিকে আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সামনে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

তিন বছরে প্রায় ৬২১ কোটি টাকা বিক্রির তথ্য গোপন করা হয়েছে। যাতে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অবস্থিত জে আই ইমপেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে এই বিপুল পরিমাণ বিক্রির তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার তথ্য পেয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)। 


সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানে অভিযানের পর এই ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা কমিশনারেটের সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রিভেন্টিভ দল জে আই ইমপেক্স লিমিটেডে অভিযান চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, ক্লিপ ফাইল, প্লাস্টিক ফোল্ডার, সিপিইউ, টালি খাতা, রেজিস্টার, ট্রাক ভাড়া সংক্রান্ত কাগজপত্র, মেমো ফাইল, ট্রাকচালকদের খরচের বিবরণী এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সই করা কম্পিউটার প্রিন্টেড বিক্রয় দলিল জব্দ করা হয়।


জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথি পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকার বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রতিষ্ঠান গোপন করেছে। যার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মূসক ফাঁকির মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।


ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন-এই তিন ‘আর’ (থ্রি-আর) কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এ কৌশলের আওতায় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।


সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ড. তিতুমীর।


তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


ড. তিতুমীর প্রবাসী পেশাজীবীদের তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।


পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, আপনাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগও বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। আসুন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তর করি।


আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ।


যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা সম্মেলনে অংশ নেন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

চলতি ২০২৬ পুঞ্জিকা বর্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিকডা-BIWTA/সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ)-এর দফায় দফায় চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং ও নৌ-পরিবহন খাতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এক বছরে তিনবার চার্জ নির্ধারণের মতো নজিরবিহীন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট সাধারণ কর্মী ও ব্যবসায়ীরা।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের গত ৪ জানুয়ারি প্রথম দফায় চার্জ নির্ধারণ করে বিকডা। এরপর ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় পুনরায় চার্জ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ, নতুন করে আরও ১০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে।


সাধারণ কর্মী ও ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—একটি পুঞ্জিকা বর্ষে কীভাবে তিনবার চার্জ নির্ধারণ করা সম্ভব এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন সেক্টর বা এসোসিয়েশনগুলো কীভাবে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে?


এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স এসোসিয়েশন (বাফা) এবং বিভিন্ন শিপিং এসোসিয়েশন বা তাদের অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর জোরালো ভূমিকা বা দৃশ্যমান প্রতিবাদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ কর্মী মহলে একধরনের নীরবতা ও হতাশা কাজ করছে।


একজন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কর্মী আক্ষেপ করে বলেন, "একটি বছরে তিনবার চার্জ বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। আমরা বাফা এবং শিপিং এসোসিয়েশনগুলোকে অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা বিকডার এই ১০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির অযৌক্তিক প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণ করবেন না।"


খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে বছরে একমবারের বেশি কোনো ধরনের চার্জ বা ট্যারিফ নির্ধারণ করা উচিত নয়। লাগামহীন এই চার্জ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে পণ্যের পরিবহন খরচ বাড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো সরবরাহ চেইন ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।


তাই অবিলম্বে বিকডার এই ১০ শতাংশ চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা এবং এক বছরে একাধিকবার চার্জ নির্ধারণের নীতি থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।


মোংলা সমুদ্রবন্দর

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ পিএম

রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৯ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয়ের পাশাপাশি আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০৮ কোটি ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা গত অর্থ বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া বেড়েছে জাহাজ, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংও।


মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অডিটরিয়ামে বন্দরের সাম্প্রতিক অগ্রগতির এ তথ্য তুলে ধরেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি জানান, এ সময়ে বন্দরে এসেছে ৮১৫টি জাহাজ। কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন, আর কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ। এছাড়া আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। 


বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ও বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। ২৫ হাজার টিইইউজ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউজ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ৮ হাজার ২৫৮ টিইইউজ বা ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি।


বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তবে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা ধরে রাখা এখনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে ব্যবহারকারী, স্টেকহোল্ডার, শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডর ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাহাজ আগমন বাড়াতে 'ইন্টারনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি'র মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও কার্যক্রমে গতি আনতে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত সভা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।


চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।


মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ হাজার ৫০০টি, কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন, কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ লাখ টিইইউজ এবং গাড়ি হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ২০ হাজার ইউনিট। বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সহায়ক জলযান সংগ্রহ, মোংলা বন্দরের আপগ্রেডেশন এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


মোংলা বন্দরে জাহাজ ও শিল্পকারখানা থেকে উৎপন্ন বর্জ্য সংগ্রহ এবং নিঃসৃত তেল অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হয়। এ ব্যবস্থার ফলে জাহাজের বর্জ্য নদী ও সমুদ্রে ফেলা বন্ধ করার পাশাপাশি পশুর চ্যানেল ও আশপাশের নদ-নদীর দূষণ কমানো এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা করবে।


বন্দরের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি ও তা ধরে রাখা। একই সঙ্গে নিরাপদ ও দূষণমুক্ত নৌপথ নিশ্চিত করা, পুরোনো সহায়ক জলযান প্রতিস্থাপন, নতুন জলযান সংগ্রহ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের আরও বেশি করে মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মোংলা বন্দরকে সরাসরি 'ফার্স্ট কলিং পোর্ট' হিসেবে প্রতিষ্ঠা, কনটেইনারবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো, সিঙ্গাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে সরাসরি ফিডার জাহাজ চলাচল এবং খুলনা-মোংলা ও খুলনা-ভাঙ্গা সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার মহাপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। 


ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের চেয়ে কমিয়ে ৪ শতাংশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গত জুলাই মাসে দেওয়া পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। 


আজ বুধবার প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ অনুসারে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীর হয়ে গিয়েছিল। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এর প্রভাব সীমিত হতে পারে।


তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এলেও, জ্বালানি ঘাটতি, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্যের দামের ওপর এল নিনোর প্রভাবের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। 


এছাড়া, রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতি (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট) জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


এডিবি জানায়, ২০২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষি খাত মূলত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সত্ত্বেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকবে, যা বেসরকারি ভোগ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং উচ্চতর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সঙ্গে মিলে বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। 


তবে উচ্চ ঋণগ্রহণের ব্যয়, ঋণের সীমিত প্রাপ্যতা, জ্বালানি ঘাটতি ও দুর্বল বাহ্যিক চাহিদার কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি তেলের উচ্চমূল্য, বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন, ব্যাংকিং খাতে চাপ, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব এবং জলবায়ু সংক্রান্ত ধাক্কা দেশের প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি (ডাউনসাইড রিস্ক) তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


সার্বিক বিষয়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিয়াংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হতে শুরু করলেও এটি এখনও বাহ্যিক ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কাছে অরক্ষিত। 


তিনি বলেন, ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে সংস্কার ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করতে, মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে এসব সংস্কার অপরিহার্য।’ 


সংস্কারগুলোকে দেশের মানুষের জন্য দৃশ্যমান বা বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করতে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।