বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রাজস্ব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একটি সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশে একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই কথা বলেন।
সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সকলের এখন প্রয়োজন দেশপ্রেম এবং আন্তরিকতা। আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি। আরও সমৃদ্ধ, আরও বিনিয়োগ এবং আরও ব্যবসাবান্ধব একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশায় আমি এই রাজস্ব সম্মেলনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।”
রাজস্ব আহরণে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী এক আশা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। এটিই প্রমাণ করে আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন ইনশাআল্লাহ।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এই আয়োজনকে কেবল একটি সাধারণ সম্মেলন হিসেবে দেখছি না। কারণ এনবিআরের সফলতার ওপরই সরকারের সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা বহুলাংশে নির্ভর করে। বিগত সময়ে দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের ফলে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করায় জনগণের আস্থা বিনষ্ট হয়েছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। দেশের মানুষ এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশকে ঋণনির্ভর বা আমদানি নির্ভরতার বোঝা থেকে বের করে নিয়ে এসে অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস ও ক্ষেত্র সম্প্রসারণে বদ্ধপরিকর। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে ডিজিটালি আধুনিক ও ডাটা-ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার তাগিদ দেন, যাতে শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর বারবার বোঝা না চাপিয়ে নতুন কর সক্ষম ব্যক্তিদের করের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরে তিনি ভ্যাট, কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও এনবিআরের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। সম্মেলনে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর অনুবিভাগের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইএমএফ
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। তবে দেশে তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এশিয়ার শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলে ধরে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না।
আবার যারা কাজ করছেন, তাদের অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। শিক্ষাব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে ব্যবধানকে এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, দেশের শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিপত্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত অনেক শ্রমিকের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত আয় ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ সীমিত। ফলে কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকলেও অনেকের কর্মপরিবেশ ও জীবিকা অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাড়বে।
এই জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প ও সেবা খাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি বলে প্রতিবেদনের তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এ ছাড়া এশিয়ার শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবও বিশ্লেষণ করেছে আইএমএফ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশাগুলোতে নিয়োগের চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশাগুলোর চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, এআই-সংক্রান্ত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একদিকে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে। ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-ভ্যাট সিস্টেমে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো সুদ ও জরিমানা ছাড়াই এসব কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন করদাতারা।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব শেখ মো. মাসুদুর রহমানের (মূসক: মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়) সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ ভ্যাট রিটার্ন দাখিলসংক্রান্ত বিধান সংশোধন করে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে এনবিআরের ই-ভ্যাট সিস্টেমে কিছু প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন।
এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ বিবেচনায় মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা (২)-এ দেয়া ক্ষমতাবলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর। বর্ধিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত করদাতারা সুদ ও জরিমানা ছাড়াই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
এদিকে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত, নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ দিন। অর্থাৎ এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
মতিঝিলের দিলকুশা শাখার প্রবেশপথে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন ব্যাংক কর্মীরা
নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর প্রথম দিনে গ্রাহকদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে ব্যাংকটির দিলকুশা শাখায় সরেজমিন দেখা যায়, বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শাখাটি। প্রবেশপত্রে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ব্যাংকের কর্মীরা গ্রাহকদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন।
অনেকটা উৎসবের আমেজে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। টাকা তুলতে আসা গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। আজ যাঁরা টাকা তুলছেন, তাঁদের মূলত নতুন টাকার নোট দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংটির ওই শাখাটির কর্মকর্তারা জানান, ১১ অক্টোবর যারা টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন, আজ তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় অন্য গ্রাহকদেরও অর্থ দেওয়া হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ কেউ তুলতে চাইলে তাঁকে কয়েক দিন পর আসতে বলা হয়েছে। সকালে এই শাখায় কথা হয় মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া শাখার এক গ্রাহক মোহাম্মদ হান্নান দেওয়ানের সঙ্গে। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচের জন্য ৪০ হাজার টাকা তুলেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এই শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা করে তুলেছি। আজ ৪০ হাজার টাকা তুলেছি। বাবা হাসাপাতালে ভর্তি; তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রতি সপ্তাহে ২০ হাজার টাকা লাগে। এর আগে একসঙ্গে বেশি টাকা তুলতে চেয়েছিলাম; কিন্তু পাইনি।’
দিলকুশার শাখা ব্যবস্থাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, ১১ অক্টোবর যাঁরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন, তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য গ্রাহকদেরও টাকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, এই শাখায় মোট ৩৩ জন গ্রাহক প্রথম দিনে ১ কোটি টাকার বেশি আমানত ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ঘণ্টায় মোট ৪০ জন গ্রাহককে ৩২ লাখ টাকার মতো ফেরত দেওয়া হয়েছে। টাকা তোলার পাশাপাশি টাকা জমাও নেওয়া হচ্ছে এই শাখায়। অনেক গ্রাহক আজ টাকাও জমা দিয়েছেন।
নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরু
আজ নতুন করে স্বাভাবিক ব্যাংকিং শুরুর এই কার্যক্রমকে ব্যাংকের নবযাত্রা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ৮ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংক জানায়, তাদের গ্রাহকেরা ১৫ অক্টোবর থেকে সব ধরনের স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন।
গ্রাহকেরা সারা দেশে ব্যাংকটির সব শাখা ও এটিএম বুথ থেকে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। একই দিন থেকে কাউন্টার সেবা, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ ব্যাংকের সব ডিজিটাল ও অনলাইন সেবা পূর্ণমাত্রায় চালু হবে।
জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ১৯ অক্টোবর সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরের শুক্র-শনি মিলিয়ে এই ছুটি হতে যাচ্ছে পাঁচ দিন। তবে ছুটির আগের শনিবার অর্থাৎ ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এদিকে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে হবে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিন এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।
এলপিজি সিলিন্ডার দুইদিন বিক্রি বন্ধ ঘোষণা
এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে সারা দেশে দুই দিন সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান।
আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে সব সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ থাকবে।
সভাপতি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সাপ্লাই নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসবের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সব দোকান বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের যেসব দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, শুধু ৫টি কোম্পানির হাতে এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের বিপণন জিম্মি। তাদের হাত ধরে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির হচ্ছে বলে ক্ষোভ জানান তিনি।
প্রসঙ্গেত, সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি ছাড়াও সব ওজনের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়।
তবে সব সময়ের মতো সরকার নির্ধারিত এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস। ২ হাজার থেকে ২২০০ কিংবা ২৪০০ টাকা দিলে মিলিয়ন পাওয়া যায় ১২ কেজির সিলিন্ডার।