ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস উপলক্ষে ইবি তালামীযের আলোচনা সভা

  • প্রকাশ : বুধবার ০৬ মে, ২০২৬, সময় : ১১:২০ এএম

ঐতিহাসিক বালাকোট দিবস উপলক্ষে  আযাদী আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এর স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা।


আজ বুধবার (৬ মে) দুপুর দুইটায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট সংলগ্ন ‘ট্রেন্ডি টেবিলে’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এর জীবনসংগ্রাম, আত্মশুদ্ধি ও উত্তরাধিকার বিষয়ের উপর আলোচনা করা হয়। 


এ সময় তালামীয ইবি শাখার সভাপতি কাজী আহবাব দস্তগীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান


সভায় আমন্ত্রিত অতিথিরা ঐতিহাসিক বালাকোটের ময়দানে সংঘটিত ইতিহাস স্মরণ করে সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের লড়াই-সংগ্রাম ও এতে মুসলমানদের জন্য শিক্ষা সমূহ বর্ণনা করেন। অতিথিবৃন্দের বক্তব্য শেষে, “শহীদে বালাকোট সাইয়্যিদ আহমাদ শহীদ বেরলাওয়ী রাহিমাহুল্লাহ: জীবন, সংগ্রাম ও উত্তরাধিকার” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইবি তালামীযের নেতা মোহাম্মদ যাকারিয়া। সমাপনী বক্তব্যে সভার সভাপতি কাজী আহবাব দস্তগীর বালাকোটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সবশেষে দোয়া পরিচালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৮ পিএম

সবুজ ও নির্মল ক্যাম্পাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি।


আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরের অনুষদ ভবনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।


এর আগে মীর মুগ্ধ সরোবর ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিলাতি গাব ও আমের চারা রোপণ এবং খালেদা জিয়া হল ও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হল নিকটস্থ পেয়ারা বাগানে বিলাতি গাবের বীজ বপন করে সংগঠনটি। পাশাপাশি শাহ আজিজুর রহমান হলেও বীজ বপন ও গাছ লাগান তারা।


আনুষ্ঠানিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী, সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সৈয়দ মাকসুদুর রহমান বলেন, ''বৃক্ষ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বিশুদ্ধ বায়ু নিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপিত গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও আমাদের সবার দায়িত্ব। গাব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে, তারা যেন রোপিত গাছগুলোর পরিচর্যা করে। আমরা আশা করি, খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।" 


খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, "খুলনা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির এই মহতী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আমরা আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি, এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পরিবেশের সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি আরও ব্যাপকভাবে এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।"


জেলা কল্যাণের সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, "আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ এলাকায় আমরা বিলাতি গাব গাছ দেখিনি। অথচ এই গাছটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর ফল খুবই সুস্বাদু। তাই খুলনা থেকে আমরা এই বিলাতি গাব গাছ এনেছি। ক্যাম্পাসের পরিবেশ রক্ষা ও সুস্বাদু এই ফল মানুষ ও পশু-পাখির আহারের জন্য আমরা এই গাছ লাগিয়েছি। আমরা আশাবাদী এ বৃক্ষ আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। আমাদের বৃক্ষরোপন কর্মসূচি এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

সর্বশেষ সব খবর

জোহা ও মোজাহিদ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৫ পিএম

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার ২০২৬–২৭ কার্যবর্ষের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রবিউস সানি জোহা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোজাহিদ হোসেন মনোনীত হয়েছেন।


আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দায়িত্ব পাওয়ার পর নব-মনোনীত সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম সবসময় তরুণ লেখকদের নিয়ে কাজ করে। কেননা তরুণ সমাজই দেশের মূল চালিকাশক্তি। সেই জায়গা থেকে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থী এবং যারা লিখতে ভালোবাসেন ও লেখালেখিতে আগ্রহী, তাদের সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তার লেখক হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা। যাতে আমরা সবাই আমাদের লেখনীর মাধ্যমে দেশ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারি। এ জন্য আমি সংগঠনের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”


নব-মনোনীত সভাপতি মো. রবিউস সানি জোহা বলেন, “সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রয়াসে লেখক ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পথে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। সৃজনশীলতা, মননশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে আমাদের শাখাকে একটি প্রাণবন্ত, আলোকিত ও সম্ভাবনাময় সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সকলের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমাদের এই পথচলা আরও সমৃদ্ধ ও সফল হবে-এই প্রত্যাশা রাখি।”


প্রসঙ্গত, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। 


তরুণ লেখকদের পরামর্শ দেওয়া, জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় লেখা প্রকাশে সহযোগিতা, লেখালেখিবিষয়ক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে সংগঠনটি।


বর্তমানে দেশের ২২টিরও বেশি পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে তরুণ লেখকদের এই সংগঠনটি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৯ পিএম

গৌরব ও ঐতিহ্যের ৬৫ বছর পেরিয়ে ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কবুতর অবমুক্ত করার মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর আগে সকাল ১০টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হেলিপ্যাডে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে কবুতর অবমুক্ত ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করা হয়।


উদ্বোধন শেষে হেলিপ্যাডসংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর উপাচার্যের বাসভবনসংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।


দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় সব মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক ও সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যবৃন্দসহ সকল বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো.শহীদুল হক বলেন, কোনো গবেষণা সফল করতে হলে কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে কাজ করে যেতে হয়। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর পর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেসব প্রযুক্তির প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো এখন থেকেই নির্ধারণ করে উন্নয়নের কাজ করতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে গত ৬৫ বছর ধরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পুষ্টি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে আসছে। তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে এই দায়িত্ব পালনের করে যেতে হবে।


‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬১ হাজার ৬৯৯ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশ বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশ সদস্য, শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসন, শিক্ষকতা সহ গবেষণা ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

‎তিনি আরও বলেন, দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অর্জন কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও গবেষক সবার আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল। এই অর্জন শেষ নয়, বরং এটি একটি সূচনা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার নিজস্ব মহিমা ও গৌরব নিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যেতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তিনজনকে জরিমানা ও মুচলেকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


সাময়িক বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত ও ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিক। তাঁরা যথাক্রমে বুটেক্স ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছে।


এছাড়া ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল হোসাইনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা এবং ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ মৌলিক চন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও মুচলেকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 


এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তিপ্রাপ্ত সুমন সরকারের আইডি ও বিভাগ ভুল এসেছে বলে ঘটনার তদন্ত কমিটি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। যেখানে সুমন সরকারের বিভাগ অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবর্তে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখ আছে।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর গেটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে শৃঙ্খলা বোর্ডের ১৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুটেক্স শৃঙ্খলা বোর্ড বিধান ২০১৫ এর ধারা ৩(ঘ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


এবিষয়ে ঘটনার ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “শৃঙ্খলা কমিটির নোটিশের পর প্রক্টর স্যার ও রেজিস্ট্রার ম্যামের কাছ থেকে আমি বিস্তারিত জানতে চাই। প্রক্টর স্যার রেসপন্স না করলেও রেজিস্ট্রার ম্যাম আমাকে জানায়, এটি আসলে চূড়ান্ত শাস্তির নোটিশ নয়। এই নোটিশের পরবর্তী তাদেরকে শোকজ করা হবে। সেই শোকজ এর উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় শৃঙ্খলা কমিটির মিটিং বসবে এবং এরপর সিন্ডিকেট সভায় তা পাশ হবে। আমরা সে চূড়ান্ত শাস্তি কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এই সাময়িক বহিষ্কার যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে তা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”


তিনি আরো বলেন, “এমন ঘটনা যদি আবার ঘটে সেই ক্ষেত্রে প্রশাসন কিভাবে করে কি পদক্ষেপ নিবে বারবার প্রশ্ন করার পরেও এখনো পর্যন্ত তা ক্লিয়ার না, কারণ এই ঘটনার মূলসূত্রই ছাত্ররাজনীতির কারণে। সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে আমরা কেউ সন্তুষ্ট না। আমরা চাই, ভিসি স্যার পূর্বে ক্যাম্পাসের ভিতর কেউ ছাত্ররাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে তার ছাত্রত্ব বাতিল করার যে নিয়মের কথা বলেছিল, সেটি যত দ্রুত সম্ভব সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে।”


চূড়ান্ত শাস্তির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার আরেক ভুক্তভোগী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, “প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কার বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছেন, তা নোটিশে স্পষ্ট নয়। তার মতে, যারা সরাসরি হামলায় জড়িত, তাদের তুলনায় আশপাশে থাকা কয়েকজন বেশি কঠোর শাস্তি পেয়েছেন।”


শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিকভাবে একটি সাময়িক বহিষ্কার দেওয়া হয়েছে, পরে তাদের শোকজ পত্র দেওয়ার মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে তাঁরা সেটার উত্তর দিবে এবং সেটি পুনরায় আরেকটি কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। তারপর শৃঙ্খলা বোর্ডে তাঁদের শাস্তি চূড়ান্ত হবে। যেকোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এটিই আইনি নিয়ম। এর আগে ক্যাম্পাসে মাঠে সংগঠিত মারামারি ঘটনায়ও এমন আইন অনুসরণ করা হয়েছে। আর কেউ যেকোনো পর্যায়ে ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রিট করতে পারে যা হাইকোর্টের বিষয়। আর এখানে শাস্তিপ্রাপ্তরা রিট করলে বিশ্ববিদ্যালয় কি করবে, সেটা পরের বিষয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয় যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা আগে নিয়মমাফিক অনুসরণ করা হবে।”


উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন  ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সারাদেশে অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল।


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের ধর্মতত্ত্ব অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সমবেত হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে সংগঠনটি।


মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদসহ ছাত্রদলের অন্য নেতাকর্মীরা।


এ সময় তাদের ‘লীগ পাব যেখানে, ধোলায় হবে সেখানে’, ‘বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান’, ‘ভারত যদি বন্ধু হও, শেখ হাসিনারে ফেরত দাও’, ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুরিয়ে দাও’, ‘ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।


সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দীর্ঘ দিন অন্যায় অত্যাচার করেছেন তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং চাকরিচ্যুত করতে হবে। সবার উদ্দেশে বলতে চাই ফ্যাসিস্টের ঠিকানা বাংলাদেশের মাটিতে ও এই ক্যাম্পাসে হবে না, হবে না, হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মোকাম্মেল করিম তৌফিক।




অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “তোমাদের এই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তোমরা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং দায়িত্ব পালন করবে। তোমাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তোমরা বড় স্বপ্ন দেখবে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবে। একই সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা পোষণ করবে।”


তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার জন্য তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার সফলতা কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মোকাম্মেল করিম তৌফিক বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং তাদের শিক্ষা ও পথচলায় শিক্ষকদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর