ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত-২০১০) এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে এম.এ ডিগ্রি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও নোবিপ্রবি উপাচার্য, অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে নোবিপ্রবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান আরও উন্নত করা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নোবিপ্রবির সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
এ সময় অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাতে নোবিপ্রবির শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে উভয়ের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের কক্ষে হট্টগোল, ভাঙচুর, হেনস্তা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে গতকাল ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ছাত্রদল।
আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসি ও কয়েকটি বিভাগে এসব ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তাকে হেনস্তা এবং তাদের কক্ষ ও অফিসে ভাঙচুর করেছেন।
এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে তার কক্ষ ভাঙচুর ও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদের কাছে গিয়ে তাকে হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এরপর টিএসসিসি'র সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদের কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করে দলটির নেতাকর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও চিহ্নিত আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে হুমকি, হেনস্তা ও টেবিল ভাঙচুর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসারও হুমকি দেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এসকল ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন; সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ; কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলীসহ প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মীর জড়িত ছিলেন।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, আমার কক্ষে এসে তারা এই ঘটনা করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে তারা আমার কিছু শিক্ষার্থীকেও হেনস্তা করেছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।
হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি গতকাল ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আমি বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি যুক্ত করে বিনম্র লিখে একটা ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম। কয়েকজন এসে আমাকে আমার পার্সোনাল রুমে যেতে বলে। তখন আমি তাদেরকে বলি যেহেতু একটা মিটিংয়ে আমি তোমাদের যা বলার এখানে বলো। তখন তাদের একজন বলল চেয়ার ধরে নিয়ে চলো। তারপর দুইজন আমার চেয়ার ধরে উঁচু করার চেষ্টা করেছিল। তারপর বলে নিচে গেলে দেখবো, কালকে থেকে যেন ডিপার্টমেন্টে না আসা হয়।
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে- তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না। এরপর তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে।
অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যেহেতু ঘটনাটি প্রক্টরের বিভাগে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়ে ভালো জানেন। তার সাথে কথা বলেন।
এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, গতকাল ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল সবসময়ই প্রস্তুত আছে। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর সাহস কোথায় থেকে পায় এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষরা?
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনার পরপরই নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিছু চিহ্নিত আওয়ামীপন্থী শিক্ষক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়েছিল। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এমনটা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে কেউ পোস্ট দিয়ে থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হল প্রাঙ্গণে একটি বকুল গাছ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন ইসলামী ব্যাংক হেড অফিসে কর্মরত ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি) মো. শওকত আলী।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলীর পরিচালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা: কামরুজ্জামান, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, অ্যাডভোকেট ওয়ালীউল্লাহ্ এবং শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকরা সূত্রে জানা গেছে, শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় আম, লিচু, কদবেল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, লটকন ও নিমসহ বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছের প্রায় দুই হাজার চারা রোপণ করা হবে। যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতে রোপণ করা হবে।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, “শহীদ আব্দুল মালেক আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ইসলামের পক্ষে ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলতে হয় এবং প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হয়। তাঁর সেই অনুপ্রেরণাকে সামনে রেখে আমরা ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”
এসময় তিনি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে নৈতিকতাসম্পন্ন ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষক মো. শওকত আলী বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার ফলজ ও ঔষধি চারা রোপণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে এসব গাছের সুফল ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চারা রোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “দেশে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনের পাশাপাশি তারা বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশকে সুন্দর ও সবুজ করে তুলতে চায়। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”
নবনিযুক্ত সহকারী প্রক্টর হালিমা আক্তার ও মঞ্জুর হোসেন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেন এবং ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হালিমা আক্তার।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুর হোসেনকে এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শাহিনুর আক্তারের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হালিমা আক্তারকে সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের বিষয়ে ড. মো. মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চাই। সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবং সবার মতামতকে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করব। আমার ভুল-ত্রুটিগুলো অবশ্যই আপনারা ধরিয়ে দেবেন।’
সহকারী প্রক্টর হিসেবে কবে দায়িত্বে যোগ দেবেন জানতে চাইলে তিনি জানান, নিয়োগের পরবর্তী কার্যদিবসেই তিনি দায়িত্বে যোগ দেবেন।
অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হালিমা আক্তার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যোগ্য মনে করেছে। এজন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি সবসময় বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের, সবার আগে শিক্ষার্থী, এরপর সহকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখার বিষয়ে দায়িত্বে না থেকেও মতামত দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রক্টরসহ প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করব।’
উল্লেখ্য, উভয় শিক্ষকই যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্র্যাক ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা এবং উদ্ভিদ ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘তরুপল্লব’-এর সার্বিক সহযোগিতায় ৩ হাজার ৫০০টি দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বরে চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, ব্র্যাক ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ আলম, ‘তরুপল্লব’-এর সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন ও সংগঠক হেনা সোলতানা।
জানা যায়, রোপণ করা চারাগুলোর মধ্যে রয়েছে কনকচাঁপা, স্বর্ণচাঁপা, ম্যাগনোলিয়া, পলাশসহ বিভিন্ন ঔষধি ও ফলজ গাছ। এসব চারার মধ্যে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গাছের সংখ্যাই বেশি।
ব্র্যাক ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ‘প্রকৃতির উন্নয়ন ও সবুজায়নে ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় বিশ্বাসী। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও আর্থিক সহায়তায় ৩ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। সারাদেশের ১৪টি প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ব্র্যাক ব্যাংকের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।’
‘তরুপল্লব’-এর সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘তরুপল্লব’ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে মোট ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা এসব চারার মধ্যে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গাছই বেশি।’
তিনি বলেন, ‘উপাচার্য কনকচাঁপার চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা স্বর্ণচাঁপার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে এ প্রজাতির চারা পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক ও ‘তরুপল্লব’-এর সহযোগিতায় রোপণ করা ৩ হাজার ৫০০টি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও দেখাশোনা করা হবে। গাছগুলো বেড়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।’
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) অনুষ্ঠিত 'পঞ্চম ন্যাশনাল রিসার্চ প্রজেক্ট কনটেস্ট-২০২৩' এর 'এ' ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন সদস্যের একটি গবেষণা দল। রবিবার (১৬ আগস্ট) বিইউপির বিজয় অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিইউপি রিসার্চ সোসাইটি
রিসার্চ প্রজেক্ট কনটেস্টে বাকৃবি চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলে- বাকৃবির কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাশমিন ফেরদাউস, একই অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চপল কুন্ডু এবং মুশফিকুর ইবনে জাহিদ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনলাইনে মোট ২৫০টি গবেষণা প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ (অ্যাবস্ট্রাক্ট) জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাই শেষে এর মধ্য থেকে ৩২টি গবেষণা অফলাইন উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়।
ফাইনাল পর্বে নির্বাচিত গবেষণা দলগুলো বিচারকমণ্ডলীর সামনে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। উপস্থাপনার মান, গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাকৃবির দলটি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয়। পরে বিজয়ী দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ প্রতিযোগিতায় দুটি পৃথক সেগমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়- রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার ও ক্রিটিক্যাল অ্যাসে রাইটিং। বাকৃবির দলটি রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার সেগমেন্টের 'রিসার্চ ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি' ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়।
চূড়ান্ত পর্বে তারা ‘অ্যাক্টিভেশন অফ অটোফ্যাগি মিটিগেটেড দ্য সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে।
গবেষণাটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইফেক্টস অফ অটোফ্যাগি অ্যাক্টিভেটর অ্যান্ড ইনহিবিটর অন সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’ শীর্ষক প্রকল্পের ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। প্রকল্পটির প্রধান গবেষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আরিফ শাকিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থী ওই গবেষণা প্রকল্পে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যুক্ত থেকে গবেষণাকাজে অবদান রাখেন।
বিজয়ী দলের সদস্য নাশমিন ফেরদাউস অনুভূতি প্রকাশে বলেন, 'এই কম্পিটিশনে বিজয়ী হতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। গবেষণার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকেই আমরা প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রান বিজ্ঞান বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. মো: আরিফ সাকিল (পল্লব) স্যারের কাছে যাই এবং স্নাতক পর্যায়েই গবেষণায় সংযুক্ত হবার আগ্রহের কথা জানাই। তিনি আমাদেরকে তাঁর সাথে কাজ করার সুযোগ করে দেন।'
তিনি আরও বলেন, 'এই কম্পিটিশনের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এবং তাঁর গবেষণা দলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ আমাদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান ও সহযোগিতা করেছেন। তাদের নিরন্তর সহযোগিতা, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সবমিলিয়ে দারুণ একটা অনুভূতি নিজের ঝুলিতে ধারণ করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।'