অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে না নেওয়া এবং ফলাফল প্রকাশে বিলম্বের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভাগে তালা ঝুলিয়ে বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ উত্থাপন করেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রকৌশল অনুষদের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে নিজেদের দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগটিতে প্রায় আট মাসের সেশনজট বিদ্যমান। অনেক সময় পরীক্ষার আগের রাতে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয় এবং পর্যাপ্ত ক্লাস না নিয়েই কোর্স সম্পন্ন করা হয়। কারণ ছাড়াই অনলাইন ক্লাস নেওয়া, ইনকোর্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ না করা ইত্যাদি।
এছাড়া শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একই কোর্সে একাধিক শিক্ষক দায়িত্ব পালন করায় সেমিস্টার দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বিভাগে কোনো সুস্পষ্ট একাডেমিক রোডম্যাপ না থাকা, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা, নির্ধারিত সময়ে ক্লাস গ্রহণ না করা এবং বারবার পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে তা পেছানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, কখনো কখনো একই দিনে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করতে গেলে পদত্যাগের ভয় দেখানো, সনদপত্র আটকে রাখার হুমকি দেওয়া এবং মামলা করার ভয় প্রদর্শনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
কর্মসুচিতে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবি সমূহ হলো -
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স রেজাল্ট প্রকাশ করতে হবে, ৭ মাসের মধ্যে বাকি ২ সেমিস্টার শেষ করার সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স ও ফাইনাল পরীক্ষার পূর্ণ একাডেমিক রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে, পরীক্ষা শেষের ৮ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে, শিক্ষক সংকট থাকলে গেস্ট টিচার দিয়ে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখতে হবে ও এসব বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং আন্দোলনের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর ফলাফল বা একাডেমিক ক্ষতি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আইন বিভাগ ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা সেলিম ছোঁয়া বলেন, 'আমাদেরকে বলা হয়েছিলো ইনকোর্স পরীক্ষার এক সপ্তাহ পর আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল হবে। সেই হিসেবে আগামীকাল (২৪ তারিখ) আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল হবার কথা। কিন্তু আজকে এসে উনারা বলছেন ১টা কোর্সের প্রথম মিডটার্ম আবার দিতে হবে। আমরা যে বাকি ডিপার্টমেন্টের থেকে পিছিয়ে আছে, সেখানে ওনারা আমাদের সেমিস্টার পিছিয়ে নিচ্ছেন শুধু।'
বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া তাবাসসুম বলেন, “গত কয়েক মাসে আমাদের বিভাগে একাধিকবার বিভাগীয় প্রধান পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন শিক্ষক ছুটিতে থাকায় তাদের নেওয়া কোর্সগুলোর ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কয়েক মাসের সেশনজটে পড়েছে।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে পুরো বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। এত কমসংখ্যক শিক্ষক নিয়ে বিভাগ পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভাগীয় কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষক সংকট নিরসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”
শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রো-ভিসি ম্যাডাম বিভাগে এসে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনেছেন। আগামী সোমবার থেকে তাদের পরীক্ষা শুরু হবে। এছাড়া পরবর্তী দুই সেমিস্টারের একাডেমিক রোডম্যাপ আগামীকালের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।”
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া শুনেছি। এর মধ্যে যেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভাগের শিক্ষক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো ভিন্নধর্মী নবীন বরণ অনুষ্ঠান ‘ফ্রেশারস হালাকাহ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম প্র্যাকটিশনারস সোসাইটি (আইপিএস) এর উদ্যোগে ২১তম ব্যাচের নবীন মুসলিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। নতুন ক্যাম্পাসে নবীন শিক্ষার্থীদের যাত্রাকে অর্থবহ ও সুন্দর করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসাতুস সুন্নাহর উস্তাদ ও গবেষক মাওলানা আফসার উদ্দিন এবং লেখক ও অনুবাদক ইমরান রাইহান। তারা ইসলামোফোবিয়া ও সালাফদের নিয়ে আলোচনা করেন এবং নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও অধ্যাপকরাও আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
আয়োজনটিতে নবীন শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ গিফট হ্যাম্পার, কুইজ ও পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়।
আয়োজকরা জানান, এটি শুধু নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি বা বরণ করার অনুষ্ঠান নয়; বরং ক্যাম্পাস জীবনে দ্বীনের সঙ্গে পথচলা, নিজেদের চিন্তা ও বিশ্বাসকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলা এবং একটি সুস্থ ইসলামিক ক্যাম্পাস সংস্কৃতির অংশ হওয়ার পথে এটি একটি ছোট্ট উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেনশন ও বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কমিটির সুপারিশে পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যারের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে পেনশনভোগীদের প্রতি মাসে পৃথকভাবে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশে অবস্থান করেন। ফলে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে হিসাব শাখায় বিল ফরম জমা দিতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সমস্যা দূর করতেই পেনশন ব্যবস্থাকে অটোমেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সুপারিশে পেনশনভোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে একটি সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেনশনভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অবস্থান করেও অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ সম্পন্ন করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
গত বছরের ২৭ মে উপাচার্যের আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুককে সভাপতি, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো. সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্ট্রার মো. সাহেবুল ইসলাম খানকে সদস্য করা হয়। হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো. দেলোয়ার হোসেন কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক এবং গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে দেওয়া যায় এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অটোমেশন পদ্ধতি চালু হলে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল হবে।
শরতের আগমন ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পদচিহ্ন’।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাডে এ আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রাণবন্ত ফ্ল্যাশ মবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে হেলিপ্যাড প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।
পরে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। শরতের আবহ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
এ ছাড়া আয়োজনকে ঘিরে হেলিপ্যাড এলাকায় সুগন্ধি, জুয়েলারি ও খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের মোট ছয়টি স্টল বসানো হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর এমন বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় না। তাই এ ধরনের আয়োজন আমাদের একঘেয়েমি দূর করার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে। দীর্ঘদিন পর এমন একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।
মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর এমন আয়োজন ক্যাম্পাসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আশা করি ভবিষ্যতে পদচিহ্নসহ অন্যান্য সংগঠন আরও বেশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
পদচিহ্নের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুর হোসেন নীরব বলেন, এই শরতের হাত ধরেই আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি ও আনন্দের আবহ আবার ফিরে আসুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রায় দুই বছর পর পদচিহ্নের পক্ষ থেকে এত বড় পরিসরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন শরতের শুরু। শরতের শুভ্র কাশফুল, নীল আকাশ ও সাদা মেঘের সৌন্দর্যকে সামনে রেখেই আমরা অনুষ্ঠানের নাম ‘শরৎ মেঘের ছায়ায়’ রেখেছি। শরতের এই স্নিগ্ধতার সঙ্গে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসকে মিলিয়ে একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠান সফল করতে সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পদচিহ্নের সাবেক সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আয়োজন সফল করার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি পদচিহ্নের অ্যালামনাইদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় পরিসরে এবং আরও ভালো ভালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সক্ষম হব।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ২৯তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কোর্সে দেশের ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ২৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছিলেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় বাকৃবির গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) শ্রেণিকক্ষে এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে এবং জিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনায় এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়।
জিটিআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির।
২৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের কর্মদক্ষতা বিবেচনায় দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে দলগত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন ৫ জন, রানার্সআপ ৫ জন। ব্যাক্তিগত পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ২ জন, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ২ জন এবং প্রথম স্থান অধিকার করেন ১ জন। এছাড়াও অংশগ্রহনকারী প্রশিক্ষণার্থী সবাইকে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আপনারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাবেন। আমরা বিশ্বাস করি কর্মে, কাজে, সেবায় ও সততায়। এই মূল্যবোধগুলো যদি আপনারা বহন করেন এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন, সেটিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
মাছের শুক্রাণু সংরক্ষণ ও জিন ব্যাংক স্থাপনে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় মৎস্যপদক-২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার।
মৎস্য সম্পদ গবেষক ও বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে তাকে এ পদক প্রদান করা হয়। গত ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, ২০০২ সাল থেকে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে আমি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের দেশীয় ও বিদেশী কার্প, সিলভার কার্প, ব্রিগেড, গ্রাস কার্প ছাড়াও শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা ও গুলশার মতো গুরুত্বপূর্ণ মাছ।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে দুটি জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। একটি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর হ্যাচারিতে এবং অন্যটি সিরাজগঞ্জের নিমগাছি ফিশ হ্যাচারিতে। এখান থেকে মানসম্মত ব্রুড উৎপাদন ও ব্রুড স্টক উন্নয়নের কাজ পরিচালিত হচ্ছে।
পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি ও পুরস্কার প্রাপ্তিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি মনে করি, আমার বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমার বিভাগও এই গৌরবের সমান অংশীদার। বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে গবেষণার সুযোগ, ল্যাব সুবিধা ও প্রয়োজনীয় প্রজেক্ট না দিলে আমার পক্ষে এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না। তাই আমার এই সম্মাননা আমি আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎসর্গ করছি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি দেন ক্যাম্পাসে কর্মরত ৩৩ জন সাংবাদিক।
এশিয়া পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তৌফিক আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। এতে গতকাল ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মীর হাতে দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাদমান রাকিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান সাংবাদিকরা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার দেশের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরির পেছনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উভয় পক্ষই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা দূর গড়াত না বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে এটি তাদের সাংগঠনিক ও দলীয় ব্যর্থতা।”
তিনি আরও বলেন, “গতকালই যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তখনই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, “ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের হামলা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও উদ্বেগজনক। গত ১৭ বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের যে স্বৈরাচারী ভূমিকা আমরা দেখেছি, এখন যদি একই ধরনের ভূমিকা ছাত্রদলের কাছে চলে যায়, তাহলে বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাবো, তারা যেন ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ার এবং অতীতের মতো স্বৈরাচারী পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।”
সাদমান রাকিন বলেন, “আমাদের কাছে এ ঘটনায় যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তাই এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সাজিদ খান, ভোরের বাণীর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাঈমুর রহমান, চ্যানেল ২৪-এর প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ, মুক্ত কলমের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাইজা আফরোজ প্রমি।
পরে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ক্যাম্পাসে কর্মরত ৩৩ জন সাংবাদিকের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়