নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, নোবিপ্রবি শাখা। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুটি অধিবেশনে নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬ আয়োজন করে সংগঠনটি।
এ সময় প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থীকে আল-কুরআন, ফুল, সাংগঠনিক বই ও উপহারসামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেয় সংগঠনটি। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ আয়োজন শুরু হয়ে দুটি অধিবেশনে সম্পন্ন হয় অনুষ্ঠানটি।
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সকাল ১০:০০ টায় ১ম অধিবেশন এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, আইন অনুষদ, শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদ, আইআইএস ও আইআইটি-র শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুপুর ২:০০ টায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকতের সভাপতিত্বে ১ম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
২য় অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বিলাল হোসাইন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমীর ইসহাক খন্দকার, নোবিপ্রবির ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল করিম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মিয়াজী ও তাহফিমুল মারুফ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রস্তুতি, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ২য় অধিবেশনে প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, "যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন এবং আল্লাহ প্রদত্ত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একজন সফল মানুষ হতে, একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।"
ক্যাম্পাসগুলোতে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদকে স্মরণ করেন তিনি।
নবীনদের পক্ষ থেকে অনুভূতি প্রকাশ করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, "দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমরা আজ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসেছি। আমরা ভবিষ্যতে নিজেদেরকে আলোকিত অভিযাত্রী হিসেবে গড়ে তুলবো। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে অসংখ্য ধন্যবাদ, শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটা সুন্দর আয়োজন করে বরণ করে নেওয়ার জন্য।"
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের সময় নয়, বরং নিজেকে দক্ষ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, দক্ষতা অর্জন, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে মনোযোগী হতে হবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না; শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা এবং সময় ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়েও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "ক্যাম্পাসজীবনে মতের ভিন্নতা থাকলেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। সহনশীলতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে।"
শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। এছাড়াও তিনি দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনা পর্বের পাশাপাশি 'ফুনুন শিল্পীগোষ্ঠী' মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপহার দেয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বাংলা অর্থসহ পবিত্র কুরআন, নোটপ্যাড, কলম, চাবির রিং ও উপহার ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাঁদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
JCD লিখাকে ঘিরে সংঘাত, আহত এক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলের দেয়ালে ‘JCD’ লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরে ‘JCD’, ‘407’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা লেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসব লেখার প্রতিবাদ করেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ। বিষয়টি নিয়ে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপে তার সঙ্গে আইন বিভাগের ফয়সাল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশী এবং ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ পরস্পরকে ‘ছাত্রলীগ’ ও ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দিয়ে মন্তব্য করেন।
এর জেরে ৫০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে মামুনুর রশীদকে মারধরের অভিযোগ ওঠে সোহাগ চৌধুরী, ফয়সাল ও আকাশ রাজবংশীর বিরুদ্ধে। মামুনের অভিযোগ, ইংরেজি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদও তাকে মারধরে অংশ নেন।
তবে অভিযুক্তরা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা মামুনের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে গিয়েছিলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মামুন তাদের ধাক্কা দেন। পরে তিনি ফুলের টব ও দা নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তবে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়ার পর দা নিয়ে হামলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদ দাবি করেন, প্রথম দফার মারামারির সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে হল প্রভোস্টের কক্ষে বৈঠক চলাকালে বাইরে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ইংরেজি বিভাগের শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদের হাতাহাতি হয়। এতে মারুফ আহমেদের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর তাদের বিছানাপত্র কক্ষ থেকে বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজি বিভাগের শনব দেবনাথ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের রাফসান সামি এবং মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকেরের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে এবং সদস্যসচিব সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসেনকে। অপর দুই সদস্য হলেন হাউজ টিউটর খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ ও জহিরুল ইসলাম বাবর। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট বলেন, “হলের দেয়ালে ‘JCD’ লেখা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের নিয়ে প্রভোস্ট কক্ষে বসেছিলাম। কিন্তু উভয় পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রক্টর অফিসে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আলোচনা চলাকালে প্রভোস্ট কক্ষের বাইরে হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। এতে একজন শিক্ষার্থী আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
দেশে গ্যাসের তীব্র সংকটে টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও উৎপাদন কমে গেছে, আবার কোথাও কারখানা বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি) বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আইটিইটি বাংলাদেশের অফিস সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার ফারুকুল ইসলাম জনির স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারছে না। এতে টেক্সটাইল ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।
আইটিইটি বাংলাদেশের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. এনায়েত হোসেন ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার এ.এস.এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, টেক্সটাইল শিল্প দেশের রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক ও কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। এতে দেশের রপ্তানি আয় কমে যাওয়া, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এলএনজি সরবরাহে বারবার বিঘ্ন, টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশে গ্যাস সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন কমার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, রপ্তানি ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বায়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম - ডানে কুবি উপাচার্য
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক অভিনন্দন বার্তায় এ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সজ্জন, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ে তাঁর দৃঢ়তা, সাহস, সততা ও দায়িত্ববোধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রাজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি আনন্দিত। তাঁর প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, উন্নত ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’
কুবি উপাচার্য আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্রপতির নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং উদ্ভাবনী জ্ঞান সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) রোভার স্কাউট গ্রুপের ২০২৬-২৭ সেশনের সিনিয়র রোভার মেট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রসায়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ শেখ। একই সেশনে গার্লস ইন সিনিয়র রোভার মেট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা ইন্না।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) কক্ষে নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপের গ্রুপ কাউন্সিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক ও ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিমের নেতৃত্বে এ গ্রুপ কাউন্সিল পরিচালিত হয়।
গ্রুপ কাউন্সিলে নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্যদের সরাসরি ভোটে ২০২৬-২৭ সেশনের সিনিয়র রোভার মেট, গার্লস ইন সিনিয়র রোভার মেট ও রোভার মেট নির্বাচিত করা হয়।
সিনিয়র রোভার মেট নির্বাচিত হয়ে মোহাম্মদ ইউসুফ শেখ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপের সিনিয়র রোভার মেট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। যারা আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে এই দায়িত্বের জন্য নির্বাচিত করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। গত ১৫ বছরের স্কাউটিং জীবনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে গ্রুপকে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা আমার সাবেক সিনিয়র রোভার মেট মমিনুল ভাই ও রিয়া আপুর প্রতি। পাশাপাশি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের শ্রদ্ধেয় গ্রুপ সম্পাদক জনাব আব্দুল করিম স্যারকে তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য। নতুন দায়িত্বে সবার দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
গার্লস ইন সিনিয়র রোভার মেট নির্বাচিত হয়ে উম্মে হাবিবা ইন্না বলেন, সিনিয়র রোভার মেট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ, গর্ব ও একইসঙ্গে একটি বড় দায়িত্বের বিষয়। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে চাই। নতুন প্রজন্মের রোভারদের নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেবার আদর্শকে সামনে রেখে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে আরও বেশি কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। একইসঙ্গে রোভারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, teamwork ও নেতৃত্বের চর্চা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রাখি। এই দায়িত্বের মাধ্যমে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে গ্রুপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক কিছু করার চেষ্টা করব। সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে একটি সক্রিয়, দক্ষ ও মানবিক রোভার স্কাউট গ্রুপ গড়ে তোলাই আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন।
নবনির্বাচিত নেতৃত্ব আগামী ২০২৬-২৭ সেশনে নোবিপ্রবি রোভার স্কাউট গ্রুপের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের নেতৃত্ব প্রদান এবং বিভিন্ন স্কাউটিং কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) এক অভিনন্দন বার্তায় নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নবদিগন্তের সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বার্তায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির বিচক্ষণ দিকনির্দেশনায় দেশের উচ্চশিক্ষা খাত আরও গতিশীল হবে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রায়োগিক ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের গুণগত গবেষণার প্রসার হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপাচার্য।
অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “একজন প্রাজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি আনন্দিত। আমাদের প্রত্যাশা, একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবেন।”
এ সময় নোবিপ্রবি উপাচার্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক ১০ হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশনামা সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদের শহীদ শামসুল হক হলে কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ফজলুল হক হলে ডেয়রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রায়হান হাবিব, আশরাফুল হক হলে উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. কামরুল হাছান, শহীদ জামাল হোসেন হলে পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছাব্বির আহাম্মদ এবং মাওলানা ভাসানী হলের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
এছাড়া ছাত্রীদের সুলতানা রাজিয়া হলের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. কানিজ ফাতেমা, জুলাই ৩৬ হলের এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুক্তা খান, কৃষিকন্যা হলের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক ড. সাবিনা ইয়াসমিন এবং বেগম খালেদা জিয়া হলের ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ ইসমাইল হোসেন প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
আদেশনামা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রভোস্টগণ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে ২১ আগস্ট থেকে কার্যকর সাপেক্ষে প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া হল এবং কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট পরবর্তী ৬ মাসের জন্য এবং বাকি ৮ হলের প্রভোস্ট আগামী দুই বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য আরও ৫ টা হলে পূর্বের স্ব স্ব প্রভোস্টগণ তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন বলে জানা যায়।