• প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানারের পাল্টা ‘সরকারের প্রথম ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম ও উদ্যোগ’ শীর্ষক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখা। 


গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট, গ্যারেজ, শান্তিনিকেতনসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়।


ছাত্রদলের টাঙানো ব্যানারে সরকারের প্রথম ছয় মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ভোলায় বিদ্যুৎ ও সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো, খাল খনন, চীনা বিনিয়োগ, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার, বনায়ন কর্মসূচি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, নারী শিক্ষা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।


এ ছাড়া খাদ্যনিরাপত্তা, নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন, জাতীয় এলএনজি টার্মিনাল, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, মাদ্রাসায় ‘মিড-ডে মিল’, চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য রেইনকোট বিতরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও ব্যানারে তুলে ধরা হয়েছে।


ব্যানারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে বাঁধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ‘স্মার্ট ও গ্রিন ঢাকা’, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য হেলথ কার্ড, সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি, আধুনিক বাজার সংযোগ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ।


এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্ত বলেন, “বিগত ছয় মাসে দেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকার অনেক কাজ করেছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা ও জনবান্ধব কার্যক্রম দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন করতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।”


এর আগে গত বুধবার রাতে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙিয়েছিল জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখা। পরে এসব ব্যানার খুলে ফেলা ও পুনরায় টাঙানোকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন করে টাঙানো ব্যানারগুলোও দেখা যায়নি।


এরপরই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব পাল্টা ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। এতে সরকারের কার্যক্রম ও ব্যর্থতা নিয়ে দুই রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


তবে ছাত্রদলের ব্যানারে উল্লেখ করা বিভিন্ন কার্যক্রম, পরিসংখ্যান ও দাবির উৎস এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।




  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৩ পিএম

মাত্র এক মাসের ব্যবধানে বিশ্বের ছয়টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের ১০ শিক্ষার্থী। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক এমন সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বসিত পুরো বিভাগ।


সাফল্যের ধরনও বিচিত্র—কেউ পেয়েছেন পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ, কেউ মাস্টার্সে ভর্তি ও বৃত্তি, কেউবা পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে ও জাপান—এই ছয় দেশে ইএসডিএম বিভাগের ৮ম থেকে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এসব সুযোগ পেয়েছেন। বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন এই অর্জন নিয়ে চলছে আনন্দের রেশ।


বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী আসমা আক্তার সোচি চলতি বছরের আগস্ট মাসে নরওয়ের ইনল্যান্ডেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন।


গত ৪ সেপ্টেম্বর ৪র্থ  ব্যাচের ফাতেমা আক্তার লিমা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়, এল পাসোতে পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।


বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিদান রহমান যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থ সিস্টেমস অ্যান্ড জিওইনফরমেশন সায়েন্সেস প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি বৃত্তি পেয়েছেন। গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।


একই ব্যাচের গোলাম মো. সবুর গত ৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে পরিবেশ প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগের পাশাপাশি পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আইআরটিপি) স্কলারশিপ।


এছাড়া এই ব্যাচের মো. ফজলুল করিম মামুন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, টুইন সিট ক্যাম্পাসে বায়োপ্রোডাক্টস অ্যান্ড বায়োসিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স (এমএস) প্রোগ্রামে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পড়াশোনা শুরু করেছেন।


৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাফল্যের ধারা সবচেয়ে বেশি।৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান জিহাদ গত ২৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংসাং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের (জিকেএস) আওতায় বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।


একই ব্যাচের আবু সুফিয়ান সোহাগ দক্ষিণ কোরিয়ার হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোইকা-হালিম ইউনিভার্সিটি নেক্সট ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় পূর্ণ অর্থায়নে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স করবেন ক্লাইমেট এআই কনভার্জেন্স প্রোগ্রামে। গত ২৫ আগস্ট তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।


৮ম ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী সিথী ধর বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্ট ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির পাশাপাশি পেয়েছেন গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (জিটিএ)। গত ২২ আগস্ট তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। এই বছর ফল সেমিস্টারে শুরু হবে তাঁর এই পড়াশোনা।


৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তরিকুল ইসলাম পেয়েছেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রস্তাব। ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ভিন্ন প্রোগ্রামে, যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি, জার্মানির হার্টি স্কুল বার্লিনে ফুলি ফান্ডেড ক্লাইমেট অ্যাকশন স্কলারশিপসহ মাস্টার অব পাবলিক পলিসি, জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাকশন বিষয়ে মাস্টার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটর ল্যাবে ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড কোস্টাল ইনফরমেটিক্স বিষয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি—এই পাঁচটি সুযোগের মধ্যে ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি।


তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বেছে নিয়েছেন ইতালির পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ প্রকৌশল—সয়েল প্রোটেকশন অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ট্র্যাকে মাস্টার্স করার সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে তিনি পেয়েছেন ইনভেস্ট ইওর ট্যালেন্ট ইন ইতালি (আইওয়াইটি) স্কলারশিপ। গত ১০ সেপ্টেম্বর উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্সের পড়াশোনা শুরু করেন।


সবশেষে, বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ আবু জোহানি জাপানের কুমামোতো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর সেশনে তাঁর পড়াশোনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


দক্ষিণ কোরিয়ার হালিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে মাস্টার্সের সুযোগ পাওয়া আবু সুফিয়ান সোহাগের কাছে এই অর্জন এসেছে বিশেষ এক মুহূর্তে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। স্নাতক শেষ করার পরপরই শুরু করেন সেই লক্ষ্যে কাজ।


সোহাগ বলেন, "স্কলারশিপ পাওয়া নিঃসন্দেহে একটা বড় অর্জন ছিল। কিন্তু বিয়ে করার দুদিনের মাথায় যখন মেইল পাই, সেই আনন্দ তখন দ্বিগুণ হয়ে ধরা দিয়েছিল। আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। একই সঙ্গে আমার সুপারভাইজার ও পরিবারের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ, তাঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।"


এই ধারাবাহিক সাফল্যে উদ্দীপ্ত হচ্ছেন বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীরাও। ইএসডিএম বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে একই বিভাগের এতজন শিক্ষার্থীর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার খবর তাঁদের নতুন করে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।


তিনি বলেন, "তাঁদের সাফল্য আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে, নোবিপ্রবি থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। তাঁদের অর্জন আমাদের মতো জুনিয়র শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য আরও বেশি আগ্রহী করে তুলছে।" মেহেদী আরও জানান, সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে এখন থেকেই নিজেদের একাডেমিক প্রোফাইল, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিতে চান তাঁরা।


মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১০ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। 


এ বিষয়ে ইএসডিএম বিভাগের ২য় ব্যাচের অ্যালামনি ও বর্তমান সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদ বলেন, "বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর বিদেশে স্কলারশিপ অর্জন আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়। একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে তাঁদের সাফল্যে আমি অনুপ্রাণিত এবং আশাবাদী—তাঁরা জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে দেশ ও বিভাগের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবেন।"


শিক্ষার্থীদের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়মিত উৎসাহ ও দিকনির্দেশনার বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন ইএসডিএম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহিনুজ্জামান।


তিনি বলেন, "আমি আমার বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটা কথা সব সময় বলি—তোমাদের জব সেক্টর শুধু বাংলাদেশ নয়, তোমাদের জব সেক্টর পুরো পৃথিবী। এই বিষয়টি আমাদের শিক্ষার্থীদের মোটিভেশন হিসেবে কাজ করেছে।"


শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও বলেন, "আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের এ ক্ষেত্রে অনেক বড় একটা ভূমিকা আছে। আমাদের শিক্ষকরা সব সময় শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে উৎসাহিত করেন।"


আন্তর্জাতিক গবেষণায় শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মহিনুজ্জামান বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আমাদের শিক্ষকেরা আন্তর্জাতিক অনেক শিক্ষকের সঙ্গে গবেষণা করেন। ফলে তাঁরা যখন আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রিফার করেন, তখন সেটা আমাদের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ পেতে সহায়তা করে।"


বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায় আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক গবেষণা-সম্পৃক্ততা এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ—এই তিন উপাদানই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার দরজা খুলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার গণ্ডি ছাড়িয়ে জলবায়ু, ভূ-পরিবেশ, পরিবেশ প্রকৌশল, বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আন্তবিষয়ক ক্ষেত্রেও এখন সুযোগ তৈরি হচ্ছে বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়—বরং নোবিপ্রবির ইএসডিএম বিভাগের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ এএম

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সচেতনতামূলক র‍্যালি আয়োজন করেছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংগঠন "স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক, নোবিপ্রবি"।


১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে শহিদ মিনারে  গিয়ে শেষ হয়।


র‍্যালিতে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্লাকার্ড বহন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— "আমি আছি— কষ্টের কথা বলুন, সাহায্য নিন", "একটি সহানুভূতিশীল কথা কারও কঠিন দিনকে সহজ করে দিতে পারে", এবং "বন্ধুর কষ্ট ছোট করে দেখবেন না"-এর মতো জীবনমুখী আহ্বান।




উক্ত র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান  উদ্দীন।


সংক্ষিপ্ত বক্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, "আত্মহত্যা একটি সামাজিক ব্যাধি। সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেক সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হার আশঙ্কাজনক। আমাদের ক্যাম্পাসের মেন্টাল হেলথ ক্লাবগুলোকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও বাড়াতে অনুরোধ রইল।"


তিনি আরও  বলেন, "ক্লাবের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদেরও আশপাশের মানুষের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারো মধ্যে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিবেন তিনি উপযুক্ত পদক্ষেপ নিবেন। এছাড়া ক্যাম্পাসে একজন নারী মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর নিয়োগের জন্য ইউজিসির (UGC) সঙ্গে কথা হয়েছে,আমি আবারও কথা বলবো যাতে দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হয়।"


নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "মানুষের মানসিক অনুভূতির ভারসাম্যহীনতা এবং বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) থেকেই মূলত সুইসাইডাল থট তৈরি হয়। কিন্তু সমাজ বা বন্ধুদের অবহেলা, কটূক্তি বা কাউকেই 'পাগল' আখ্যা দিয়ে টিজ করার কারণে এই নেগেটিভ থিংকিং আরও বেড়ে যায়। এটি কোনো নিরাময়অযোগ্য ব্যাধি নয়; মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের সাময়িক ভারসাম্যহীনতার কারণে এমনটি ঘটে, যা সঠিক চিকিৎসা, একটু সুন্দর ব্যবহার ও সহানুভূতির মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের টিজ না করে বুঝিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে পারলেই একটি জীবন বেঁচে যাবে।"


র‌্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, চীফ মেডিকেল অফিসার (প্রশাসনিক) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। র‌্যালি আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করেছে নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টার, ব্লাড ব্রিগেড ও স্পন্দন মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট নেটওয়ার্ক।


উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত স্লোগান হলো ‘আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা ভেঙে কথা বলা শুরু করুন’।


নোবিপ্রবিতে ‘ব্যানারকাণ্ড’: খুলে ফেলার পর ফের টাঙাল ছাত্রশক্তি, রাত পেরোতেই আবার উধাও

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৮ এএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙানো ও খুলে ফেলা নিয়ে ‘ব্যানারকাণ্ডের’ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার টাঙানো ব্যানার প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা খুলে ফেলার পর সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ফের নতুন ব্যানার টাঙান। তবে রাত পেরোতেই সেই ব্যানারও ক্যাম্পাস থেকে উধাও হয়ে যায়।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙায় জাতীয় ছাত্রশক্তি, নোবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা।


সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব ব্যানার দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি, ব্যাংক খাত, আইনশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।


ব্যানার দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে ১২টি, জ্বালানি খাতে পাঁচটি, বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে তিনটি, ব্যাংক দখল ও লুটপাট নিয়ে তিনটি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে পাঁচটি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে চারটি এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য নিয়ে তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়।


এ বিষয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তি শাখার পক্ষ থেকে বিএনপি সরকারের গত ১৮০ দিনের ব্যর্থতার জাতীয় নাগরিক পার্টি যে প্রতিবেদন পেশ করেছে, আমরা তারই ধারাবাহিকতায় নোবিপ্রবি ছাত্রশক্তি শাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শন করছি।”


তিনি বলেন, “দেশের জ্বালানি সংকট, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতে যে লুটপাট চলছে, সরকার বিভিন্ন দপ্তরে দলীয়করণ করার উদ্দেশ্যে ভাইভা বা কোটার বিভিন্ন ডেফিনিশনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা প্রতিবাদস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ও গঠনমূলক আলোচনার সাপেক্ষে পোস্টারিং করেছিলাম। আশা করি, বর্তমান সরকার তাদের ভুলগুলো সংশোধন করে নেবে।”


খুলে ফেলার পর ফের ব্যানার


ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের টাঙানো ব্যানারগুলো খুলে ফেলেন। এ সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয়।


পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা চলে গেলে রাত ১টার দিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা নতুন ব্যানার এনে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে টাঙান।


তবে বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, রাতে নতুন করে টাঙানো ব্যানারটিও আর নেই। ব্যানারটি কে বা কারা সরিয়ে নিয়েছে বা ছিঁড়ে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


প্রশাসনের অস্বীকার, ছাত্রশক্তির অভিযোগ


এ বিষয়ে ছাত্রশক্তি নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যানার খুলে দেওয়ার পর আমরা পুনরায় লাগাই। সকালে আমাদের ব্যানার না দেখতে পেয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, তারা খুলেন নাই।”


প্রশাসনের বক্তব্যের পর ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তারা ভিন্ন একটি পক্ষের সংশ্লিষ্টতা ধারণা করছেন বলে জানান শহিদুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ‘দলীয় বাহিনী’র মাধ্যমে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার কাজ করিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।


তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার যেমন বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে তাদের ব্যর্থতা লুকাতে চায়, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পোষা বাহিনীর মাধ্যমে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে দমন করার উদ্দেশ্যে এরকম ন্যক্কারজনক কাজ করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।”


তবে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রশাসনের কোনো পক্ষ বা কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার সরিয়ে নিয়েছেন—ছাত্রশক্তির এমন অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৫ এএম

তথ্যের সত্যতা যাচাই থেকে শুরু করে সংবাদ লেখার কাঠামো, সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা নিয়ে হাতে-কলমে ধারণা নিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন সাংবাদিকতা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায়। কর্মশালায় বক্তারা মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেকের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সেমিনার রুমে জবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 


দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখার কৌশল, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তথ্য যাচাই, পেশাগত নীতি-নৈতিকতা, সংবাদমূল্য এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান।


কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শতাধিক শিক্ষার্থীকে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিগত তিন মাসে প্রকাশিত সংবাদ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ত্রিমাসিক সেরা সাংবাদিক সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বস্তুনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও অনুসন্ধানী সংবাদ পরিবেশনের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা পান দৈনিক ইনকিলাবের মোঃ রোকুনুজ্জামান গোলাম রাব্বী, বাংলাদেশ বুলেটিনের আকাশ আহমেদ রুপম, পাবলিক নিউজের হাসনাত হাবিব ও স্টুডেন্ট জার্নালের রাকিব খান।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনবির ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, "সাংবাদিকতায় আসার আগে প্রত্যেককে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে আমি কেন সাংবাদিক হতে চাই? সাংবাদিকরা ক্ষমতাবান হলেও এই ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্ব রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থে সাংবাদিকতার ক্ষমতা ব্যবহার করা হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহারে পরিণত হয়।"


তিনি বলেন, "ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সেবা করা। জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা করতে হলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।"


তিনি আরও বলেন, "সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো কোনো ঘটনা যেভাবে ঘটেছে, তা কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়াই যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। এ জন্য সাংবাদিকদের নিউজ লেখার মৌলিক বিষয়গুলো জানতে হবে।"


সংবাদ লেখার কৌশল তুলে ধরে আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর বলেন, "একটি সংবাদে প্রথমেই ঘটনার মূল সারাংশ তুলে ধরতে হবে। সেই সারাংশ থেকেই ইন্ট্রো ও হেডলাইন তৈরি হয়। হার্ড নিউজ লেখার ক্ষেত্রে ইনভার্টেড পিরামিড কাঠামো অনুসরণ করে শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে হয়।"


ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান বলেন, "ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় প্রশাসন, শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে জটিলতা তৈরি হয়। পাশাপাশি একটি তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে প্রকাশ করলে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের সাহসের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।"


প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শফিক আহমেদ বলেন, "সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি শেখার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সাংবাদিকতায় এগিয়ে যেতে হলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ভুল করতে করতে, শিখতে শিখতেই একজন সাংবাদিক অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন।"


তিনি বলেন, "বর্তমানে মিসইনফরমেশন, ডিজইনফরমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের জ্ঞান রাখতে হবে। যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করা জরুরি। সাংবাদিকদের শুধু ক্যাম্পাসের খবরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। অর্থনীতি, ব্যাংক, শেয়ারবাজার, রাজস্ব, যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। একজন সাংবাদিক যত বেশি বিষয়ে জ্ঞান রাখবেন, তার সাংবাদিকতা তত সমৃদ্ধ হবে।"


সাংবাদিকতা ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ক্ষমতাবান কোনো ব্যক্তি অনাচার করলে সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করবেন। তবে মোবাইল হাতে নিয়ে কাউকে শুধু প্রশ্ন করলেই সাংবাদিকতা হয় না। সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো তথ্য, যুক্তি, অনুসন্ধান ও বস্তুনিষ্ঠতা।"


অনুষ্ঠানে জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, জবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও জবি'র গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, জবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা মোঃ আরমান ইসলাম সহ সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


জবির ক্যাফেটেরিয়া-হল নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ৫ দফা দাবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান ও পরিবেশ উন্নয়ন, খাবারে ভর্তুকি, ছাত্রী হলের খাবার ও পানির সমস্যা সমাধান এবং লিফটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাশহীদ রফিক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।


সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রী হলের খাবার ও পানির ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ভবনের লিফট নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।


জাতীয় ছাত্রশক্তির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আগামী রবিবার থেকে ক্যাফেটেরিয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং খাবারের মান বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি খাবারের আইটেম বাড়িয়ে কমপক্ষে ১০ ধরনের ভর্তা-ভাজি রাখার দাবি জানানো হয়।


তৃতীয় দাবিতে আগামী অক্টোবর থেকে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে মাসিক পাঁচ লাখ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে বিনা মূল্যে খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করার কথাও বলা হয়।


চতুর্থ দাবিতে ছাত্রী হলগুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন বন্ধ এবং পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, পানির ট্যাংক পরিষ্কার না করায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।


এ ছাড়া শহীদ সাজিদ ভবনের ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকা লিফট দ্রুত মেরামত এবং ছাত্রী হলের লিফটের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।


জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ক্যাফেটেরিয়া ও হলের খাবার-পানির বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ফেলে না রেখে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “শুধু খাবারের মান উন্নয়ন নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পানির ট্যাংক পরিষ্কার রাখা এবং লিফটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।”


সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ক্যাফেটেরিয়া, হলের খাবার, পানি ও লিফট নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।”


তিনি বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভর্তুকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করতে হবে। ছাত্রী হলের খাবার ও পানির ব্যবস্থাপনা এবং লিফটের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে হবে।”


সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


জবি প্রেসক্লাবের ত্রৈমাসিক সেরা সাংবাদিক হলেন বাংলাদেশ বুলেটিনের আকাশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৪ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাবের ত্রৈমাসিক সেরা সাংবাদিক নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি মো. আকাশ আহমেদ রুপম।


আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫৫২ নম্বর কক্ষে জবি প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিকতা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় তাকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।


এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালায় সাংবাদিকতার মৌলিক ধারণা, সংবাদ সংগ্রহ ও লেখার কৌশল, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা এবং গণমাধ্যমে কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের সিওও ও হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনবির ডেপুটি এডিটর আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর ও দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার কামরুল হাসান। এছাড়া জবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম ও মো. রায়হান হোসেন, সভাপতি মুশফিকুর রহমানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


একই অনুষ্ঠানে জবি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ত্রৈমাসিক সেরা সাংবাদিক হিসেবে আকাশ আহমেদ রুপম, রোকনুজ্জামান গোলাম রাব্বি, রাকিব খান ও হাসনাত হাবিবকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা যেন তাদের কাজে আরও উৎসাহিত হন এবং ভবিষ্যতে ভালো কাজ করেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সাংবাদিকতা করেন, কষ্ট ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, তাদের এই সম্মাননাটুকু দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’


সম্মাননা পেয়ে আকাশ আহমেদ রুপম জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত আছি। এখানে অনেক সময় কাটিয়েছি এবং নিজের সাধ্য অনুযায়ী পরিশ্রম করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জবি প্রেসক্লাব আমাকে এই সম্মাননা দেওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি, উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতে যেন আরও ভালো কাজ করতে পারি, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।’