ছবি: সংগৃহীত।
'চলতি সপ্তাহেই' প্রকাশিত হতে যাচ্ছে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল। এ বছর ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হবেন। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বা মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
বুধবার এ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার 'সম্ভাবনা' রয়েছে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার জানিয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, যা শেষ হয় ৫ জানুয়ারি। ২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর পরীক্ষার ফল প্রক্রিয়া করছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার সোমবার দুপুরে বলেন, "বৃত্তি পরীক্ষার ফল চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হওয়ার কথা আছে। আমরা ইতোমধ্যে বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে দ্রুতই ফল বা বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করা হবে।"
৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জুনিয়র বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার সোমবার দুপুরে বলেন, "১৪ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি ও ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সাধারণ বৃত্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বৃত্তির কোটা বণ্টন করা হয়েছে।
"মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে এককালীন ৫৬০ টাকা ও প্রতিমাসে ৪৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবেন। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে ৩৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা পাবেন। আগামী দুই বছর তারা এ সুবিধা পাবেন। বুধবার বৃত্তি পরীক্ষার ফল বা বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকাসহ গেজেট প্রকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে।"
বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডের ৩ হাজার ৬৩৫ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৭ হাজার ৭৯০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন। ময়মনসিংহ বোর্ডের ৯৬৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি রাজশাহী বোর্ডের ১ হাজার ৯২৬ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৪ হাজার ১২৮ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, কুমিল্লা বোর্ডের ১ হাজার ৬৭৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, সিলেট বোর্ডের ৯৪৮ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৩০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং বরিশাল বোর্ডের ৮৭৩ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ১ হাজার ৮৭১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
এছাড়া যশোর বোর্ডের ১ হাজার ৬৬২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, চট্টগ্রাম বোর্ডের ১ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং দিনাজপুর বোর্ডের ১ হাজার ৮০২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবেন।
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষা হলেও বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা হয় একসঙ্গে। বৃত্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ৪০০। বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ১০০, গণিতে ১০০, বিজ্ঞানে ৫০ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা হয় ৩ ঘণ্টা সময়ে।
গত ২৮ ডিসেম্বর বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৫ জানুয়ারি বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নোবিপ্রবি ছাত্রদল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের অনুমোদনক্রমে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। শিগগিরই উক্ত ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার বিষয়টি এমন সময়ে এলো, যখন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করছেন কুবি উপাচার্য
শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া বৈঠকে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি চাকরিতে কুবি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ল্যাব সুবিধা বিনিময়েরও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। এছাড়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী বিষয় চালুর পরামর্শ দেন তারা।
বৈঠক শেষে ছয়টি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এমওইউ স্বাক্ষরে সম্মতি জানায়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা শুরু থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করার কথা বলে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির উৎসাহেই আজকের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ ৪২টি প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। এসব এমওইউর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরি করা, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, পারস্পরিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ল্যাব পারস্পরিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে, সামনে আরও হবে। আজ ইউজিসির সদস্য জানিয়েছেন, দুই মাস পর এ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। আমরা কতটুকু করতে পেরেছি, তা দেখা হবে। আমরা অবশ্যই আমাদের মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মযোগ্যতা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ করে যাব।’
ইউজিসির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন। এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে যেসব সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এমওইউর উদ্দেশ্যের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আমরা যে জব লার্নিং পিরিয়ড নির্ধারণ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কের মাধ্যমে সেটিও যেন ফলপ্রসূ হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটি এ ধরনের ১২তম আয়োজন।’
উল্লেখ্য, ৪২টি প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নিলেও এমওইউ স্বাক্ষর করেছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্মার্ট সলিউশন, বাংলাদেশ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিক), ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস অ্যান্ড উইল্যাব এবং ফ্লোরিনা কসমেটিকস।
ঢাকা এসোসিয়েশনের নবীনবরণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত ঢাকাস্থ শিক্ষার্থীদের আঞ্চলিক সংগঠন ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে নবীনবরণ ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এছাড়াও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও প্রভাষক মশিউর রহমানসহ ঢাকা অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে পরিচিতি ও মতবিনিময়সহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সাফিন বলেন, “মিলনমেলার উদ্দেশ্যে আয়োজিত আমাদের এই আয়োজনটি ছিল প্রাক্তন, নবীন এবং বর্তমানে ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি সুন্দর সেতুবন্ধন তৈরি করার প্রয়াস। সবার সঙ্গে দেখা হওয়া, পরিচিত হওয়া এবং একসঙ্গে কিছু সুন্দর মুহূর্ত কাটানোর লক্ষ্যেই আমরা এই আয়োজন করেছি। সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ ও ভালোবাসাই আমাদের আয়োজনকে সফল করেছে। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও এমন আরও সুন্দর ও বড় আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে পথ চলতে চাই।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম হল এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন শান্তর গ্রুপ বহিরাগতদের এনে হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সালাম হলের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। এছাড়াও , নোবিপ্রবির সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়।
পরবর্তীতে, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোটে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গড়ায় অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয় পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন।
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এ নিয়ে তাতক্ষনিক তদন্ত কমিটি গঠন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের দেখে জানান, আমরা এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ,কর্মচারীরা এখানে আছেন। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা অতিদ্রুত এ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
উল্লেখ্য, গতকাল গভীর রাতে ছাত্রদলের দু পক্ষের মধ্যে মালেক হল এবং পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় দু পক্ষের সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘর্ষের জেরে আজ দুপুরে আবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে আহত হয় প্রায় ৫ জন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘটিত এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত তিনটার দিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি পকেট গেটের দিকে চলে যান।
এরপর পকেট গেট এলাকায় সামিউল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ঠোঁট ফেটে যায় এবং পরে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনা থামাতে গেলে হলের ভেতরে মারধরের শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, “সিট নিয়ে তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অন্যায়ভাবে আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়, বিশেষ করে ফিশারিজের রায়হান কবির রাশেদ ও ইকোনমিক্সের তানভীর ভুইঁয়া।”
নিজের ওপর হামলাকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগস্টের ১০ তারিখও ওরা ছাত্রলীগ করেছে, এখন বড় ছাত্রদল হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি চলে না। আর ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গুপ্ত শিবিরকে দিয়ে যখন কমিটি দেওয়া হয় আর ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি করা হয় তখন তাদের থেকে এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করতে পারি।”
ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, “আমি ঐ রুমে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। একটা সিট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার হয়, পরে সেটার একটা সমাধান হয় এবং সবাই চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা পরিকল্পিতভাবে এসে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল এক নেতার ওপর এমন হামলা করে। যা সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি কেন্দ্রে জানিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে যতটা জানি এটা সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যকার ঝামেলা কোনো পলিটিক্যাল বিষয় নয়। আমি বিষয়টি ভালোভাবে খুঁজে দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।”
এদিকে, এ বিষয়ে একাধিকবার কল দিয়েও শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, “আমি এই বিষয়ে অবগত রয়েছি। হলের প্রভোস্ট বডির সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।”
মৎস্য উৎপাদনে দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা।
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) হাবিপ্রবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। ভাইস- চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে র্যালিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা- কর্মচারীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এতে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরতে শিক্ষার্থীরা একটি জনসচেতনতামূলক মৎস্য নাটিকা পরিবেশন করেন। র্যালি-পরবর্তী বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, দেশের অর্থনীতি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ খাতের অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরী। এ জন্য রোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে গবেষণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। হাবিপ্রবির শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্ভাবিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি যাতে মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তাদের কাজে আসে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব উৎপাদন ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. মো. মাসুদুল হাসান খান।এ ছাড়া মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. ফরিদুল্লাহ, সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল কালামসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে একদিকে যেমন মৎস্য খাতের অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, অন্যদিকে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদনে গবেষণা ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।