ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) থেকে। পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। এ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের সময়েই পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪টি বিশেষ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছিল।
রুটিন, অর্থাৎ কবে কখন কোন পরীক্ষা হবে, সেই সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলা দিয়ে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। আগামী ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ জুনের মধ্যে হাতে লেখা নম্বরপত্র, ব্যবহারিক উত্তরপত্র, আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ও স্বাক্ষরলিপি বিভাগ অনুযায়ী রোল নম্বরের ক্রমানুসারে সাজিয়ে হাতে হাতে মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় জমা দিতে হবে।
এদিকে ১৮ এপ্রিল যানজট ও জনদুর্ভোগ লাঘবের জন্য মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে সাড়ে আটটার থেকে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ–সংক্রান্ত আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে।
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতি বোর্ডের ১৪ নির্দেশনার। পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনাগুলো হলো—
১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।
৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
জাবি ছাত্রদল নেত্রী সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। ছবি: সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চারুকলা বিভাগের ৫২তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া।
এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘একজন সচেতন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজের বিবেক ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে আমি মনে করছি, এই মুহূর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রাখাই আমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।’
এই বিবেচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যপদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন বলে জানান তিনি।
তবে তার এই পদত্যাগকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানো হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘আমি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি, আদর্শ থেকে নয়। শহিদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি আমার বিশ্বাস ও ভালোবাসা আগের মতোই অটুট থাকবে।’
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস ধারণ করে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। এসব আদর্শের প্রতি তার শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা কোনও ব্যক্তিগত পদ বা সাংগঠনিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তিনি বলেন, এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে তার সাময়িক বিরতি, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে অবসর নয়। যতদিন পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি তার কাছে সুশৃঙ্খল, আদর্শনিষ্ঠ ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে না হবে, ততদিন তিনি এই সাংগঠনিক রাজনীতিতে ফিরবেন না।
ভবিষ্যতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শহিদ জিয়ার আদর্শ, শৃঙ্খলা, নীতি ও সাংগঠনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানান তিনি।
সুমাইয়ার ভাষ্য, ‘আমার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিজের বিবেক, রাজনৈতিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধের জায়গা থেকে নেয়া। ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ, পদ-পদবি কিংবা সুযোগের প্রত্যাশা থেকে নয়। পদত্যাগ করছি একটি পদ থেকে, পদত্যাগ করছি না আমার আদর্শ থেকে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমার বিশ্বাস, শহিদ জিয়ার আদর্শ আমার রাজনৈতিক চেতনার ভিত্তি। এই বিশ্বাস নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
তবে সুমাইয়ার পদত্যাগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘তার পক্ষ থেকে আমি বা আমার দপ্তর এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পদত্যাগপত্র পাইনি।’
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছবিঃ সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে চার সাংবাদিকসহ গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (০৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত সাংবাদিকেরা হলেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এছাড়া আরও কয়েকজন সাংবাদিক এ হামলায় আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে হামলাকারীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশে তারা সেখানে এসেছিলেন। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।
খবর পেয়ে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পেয়ে দৈনিক সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামকে মারধর করা হয় বলে। এতে জাহিদুলের মাথা ফেটে যায়। এছাড়াও অন্যান্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে তাদের পুঁতে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘বিষয়টি আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ। আমাদের দ্বারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।
ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে।’
এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রুমির গ্রেফতার ও আদালতের কিছু দৃশ্য
২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়ে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে যাওয়ার স্মৃতি ১২ বছর পরও ভুলতে পারেননি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রুমি। কারাবাসের সেই সময়কে নিজের রাজনৈতিক জীবনের ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, কারাগারের অন্ধকার তাকে দুর্বল করেনি, বরং নিজের আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি আরও দৃঢ় করেছে।
আজ রবিবার (৪ অক্টোবর) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২০১৪ সালের ওই দিনের স্মৃতিচারণ করেন মুস্তাফিজুর রহমান রুমি।
তিনি জানান, ০৩ অক্টোবর ২০১৪ইং, একটি দিন, যা আজও ভুলতে পারিনি। ওই দিন তিনি ষষ্ঠবারের মতো গ্রেপ্তার হন এবং দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে যেতে হয়। কারাগারের সেই সময়ের স্মৃতি মনে পড়লে এখনো তার বুক ভার হয়ে আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কারাবাসের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রুমি বলেন, শত অত্যাচার-নির্যাতন, ভয় ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ, দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থেকে সরে আসেননি। বরং কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নতুন উদ্যমে রাজপথে নেমেছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কারাগারে থাকার সময়ের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কঠিন সময় কখন শেষ হবে, তা নিয়ে অনেকবার তার মনে প্রশ্ন জেগেছে। ওই সময়ে প্রিয়জন ও রাজপথের সহযোদ্ধাদের কথাও মনে পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে নিজের বিশ্বাস, আদর্শ এবং যে পথকে সত্য মনে করে রাজনীতিতে এসেছিলেন, সেই পথের কথা।
রুমি আরও বলেন, ব্যক্তিগত কষ্ট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সেই বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। যতবারই কারাগারে যেতে হয়েছে, কারাগারের অন্ধকার তাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং নিজের অবস্থান, আদর্শ ও প্রতিশ্রুতির প্রতি আরও দৃঢ় করেছে।
নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে কাটানো সময়কে শুধু কারাবাসের স্মৃতি হিসেবে দেখেন না জানিয়ে রুমি বলেন, এটি তার রাজনৈতিক জীবনের একটি কঠিন পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা তাকে আরও দৃঢ় ও প্রত্যয়ী করে রাজপথে ফিরিয়ে এনেছিল বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনে কর্মীদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের মতো হাজার হাজার কর্মীর শ্রম, ঘাম, রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সরফরাজ নেওয়াজ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুলসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে সচেতন করা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু এক দিনের কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এখন শুধু ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।’’
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। একাডেমিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। নিজ নিজ আঙিনা, ঘরের ভেতর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে নিজ দায়িত্বে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী এক মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি। পরিচ্ছন্নতার এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও রিমোট সেন্সিং বিষয়ে ছয় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৯টায় এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের স্ট্যাটিস্টিক্যাল, জিআইএস অ্যান্ড ক্রপ মডেলিং ল্যাবে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।
উচ্চশিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ ও রূপান্তর (হিট) প্রকল্পের আওতায় ‘ট্রেনিং অন অ্যাডভান্সড লেভেল অব জিআইএস অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং’ শীর্ষক প্রশিক্ষণটি চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বাকৃবির কৃষি অনুষদের যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষা বিভাগের ২০ জন শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।
‘কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের গুণগত মান উন্নয়নে কৃষি শিক্ষার রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আধুনিক কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় জিআইএস ও রিমোট সেন্সিংয়ের উন্নত ব্যবহার, শিক্ষা কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষ কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরির বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। হিট প্রকল্পের উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক মাসুম আহমাদের সভাপতিত্বে ও অধ্যাপক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক জি. এম. মুজিবর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক এম. হাম্মাদুর রহমান এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও স্মার্ট কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের বিকল্প নেই। জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং বিষয়ে এ ধরনের উন্নত প্রশিক্ষণ শিক্ষক ও গবেষকদের আধুনিক গবেষণায় দক্ষতা বাড়াবে। এর মাধ্যমে বিশ্বমানের কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।’
জবি প্রেসক্লাব
প্রগতিশীলতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও নিরপেক্ষতা মূলমন্ত্রকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রেসক্লাব। গৌরবময় পথচলার এক যুগ পূর্ণ করে ১৩তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার, দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড দেশ-জাতির সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংগঠনটি।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর একদল তরুণ শিক্ষার্থীর উদ্যোগে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ, শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের সংবাদ তুলে ধরে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, টিউশন ফি, প্রশাসনিক বিভিন্ন অনিয়ম, হল আন্দোলন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছে জবি প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থীদের অর্জন ও সাফল্যের সংবাদ জাতীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ভূমিকা রেখেছে সংগঠনটি।
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা, হুমকি ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও সংগঠনটির সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি। বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ন্যায্য দাবির পক্ষে আরও দৃঢ়ভাবে কলম ধরেছেন। জাতীয় বিভিন্ন সংকট ও আন্দোলন-সংগ্রামেও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ঝুঁকি উপেক্ষা করে মাঠে থেকে ঘটনাপ্রবাহের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন তারা। ফলে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহেরও সাক্ষী হয়ে উঠেছে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীদের দাবি আবাসন ভাতা'র জন্য যমুনা আন্দোলনে জবি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা মাঠে থেকে ঘটনাপ্রবাহের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছেন। এবং এই আন্দোলনে জবি প্রেসক্লাবের অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বিকাশের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কার্যক্রম আয়োজন করে আসছে সংগঠনটি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রেসক্লাবের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজের মাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিকতা দক্ষতারও পরিচয় দিয়েছেন।
জবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম বলেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন অনিয়ম-অসংগতির বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তবে এই পথ সবসময় সহজ নয়। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সময়মতো তথ্য পাওয়া, নানা চাপ ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এসবই ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো পক্ষের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ নয়, বরং সত্য ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।”
জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি মুসফিকুর রহমান বলেন,"জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের দীর্ঘ ১৩ বছরের পথচলায় এই সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, সাফল্য ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।"
তিনি বলেন,"আমরা বিশ্বাস করি সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, এটি সত্য ও ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা। তাই আমাদের প্রত্যেক সদস্যকে বস্তুনিষ্ঠতা, সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তির এই সময়ে গুজব ও অপতথ্য থেকে দূরে থেকে যাচাই করা তথ্য পরিবেশন করাই আমাদের অঙ্গীকার।
জবি প্রেসক্লাব আরো সমৃদ্ধ ও পেশাদার হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশায়।"