ছবি: সংগৃহীত।
২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি (রুটিন) প্রকাশ করা হয়েছে। রুটিন অর্থাৎ কবে কখন কোন পরীক্ষা হবে, সেই সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল। পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে।
রুটিন অনুযায়ী বাংলা দিয়ে শুরু হবে এবারের পরীক্ষা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে। ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ জুনের মধ্যে হাতে লেখা নম্বরফর্দ, ব্যবহারিক উত্তরপত্র, আনুষঙ্গিক কাগজপত্র ও স্বাক্ষরলিপি বিভাগ অনুযায়ী রোল নম্বরের ক্রমানুসারে সাজিয়ে হাতে হাতে মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় জমা দিতে হবে।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতি বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনাগুলো হলো—
১.পরীক্ষা শুরুর ৩০ (ত্রিশ) মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।
২.প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
৩.প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪.পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সংগ্রহ করবে।
৫.শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে প্রেরণ করবে।
৬.পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর (OMR) ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭.পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮.প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়গুলোর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করা যাবে না।
৯.পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের ভেতর প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০.পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১.কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২.সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩.ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪.পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের ৭ (সাত) দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকা ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর বিষয়ে দেশের উপাচার্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সহজ করতেই এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদারও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভাষা কেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যমান সক্ষমতা ও রিসোর্স ম্যাপিং এবং প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদা সম্পর্কে দ্রুত ইউজিসিকে অবহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তৃতীয় ভাষা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। একই সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ভাষা চালুর প্রয়োজন নেই বলেও মতামত উঠে আসে।
সভায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বাকৃবিতে ইতোমধ্যে 'ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার বিএইউ' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের মাধ্যমে জার্মান, চীনা ও জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ পোর্টাল চালুর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এ পোর্টালে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আবাসন, বৃত্তি ও ইন্টারন্যাশনাল অফিসসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার বিষয়টি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষিবিদ গেস্ট হাউস থেকে ইয়াবাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ব্যবসা ও বিতরণ বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী লাবিব হাসান মিথুন, সামিউল আলীম, সামিউল ইবনে আশিকুর রহমান ও সোয়াদ। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় অভিযুক্তরা ইয়াবার কিছু অংশ টয়লেটে ফ্লাশ করে নষ্ট করার চেষ্টা করেন বলেও জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা।
গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষে আজ সন্দেহজনক চলাফেরা নজরে আসে বলে জানান কৃষিবিদ গেস্ট হাউসের অফিসার ইন-চার্জ সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার। তিনি বলেন, অফিশিয়াল কাজ শেষ করে বাসায় যাওয়ার পর গেস্ট হাউসের স্টাফদের কাছ থেকে ফোন পাই। তারা জানান, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের স্টাফ মিথুনের নামে গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি বুকিং করা ছিল। ওই কক্ষে কিছু অপরিচিত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত আসা-যাওয়া, মোটরসাইকেল রাখা ও সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যাচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, গেস্ট হাউসে অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিরাও অবস্থান করছিলেন। তাই কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্টাফদের একা একা বিষয়টি মোকাবিলা না করার জন্য বলি। পরবর্তীতে সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তিনি প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রক্টরিয়াল ভিজিল্যান্স টিমসহ দ্রুত ৬ নম্বর কক্ষে উপস্থিত হন। কক্ষটি খোলার পর ভেতরে চারজনকে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে বুকিংধারী স্টাফের পাশাপাশি একজন এসি মেকানিক এবং বাকি দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কক্ষের ভেতর তীব্র উৎকট গন্ধ ছিল এবং তাদের আচরণও অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। পরে পুলিশ বাথরুমে তল্লাশি চালিয়ে ৪-৫টি ইয়াবাসহ একটি কিট আলামত হিসেবে জব্দ করে।
গেস্ট হাউজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, লাবিব হাসান মিথুন অসুস্থতাজনিত বিশেষ কারণ দেখিয়ে তিন দিন আগে এক দিনের জন্য গেস্ট হাউসের ৬ নম্বর কক্ষটি ভাড়া নেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সেখানে তিন দিন অবস্থান করেন। এ বিষয়ে কক্ষটির তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে গেলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হন নি।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে আমার কাছে খবর আসে, গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ আমাদের একজন স্টাফ বুকিং নিয়েছেন এবং তাঁর সঙ্গে বাইরে থেকে কিছু লোক সেখানে আছেন। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ক্যাম্প পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাই। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয় এবং তারাও সেখানে উপস্থিত হন। রুমের বাইরে থেকে বেশ কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট পর তারা দরজা খোলেন। রুমে ঢোকার পরপরই আমরা একধরনের বাজে গন্ধ পাই এবং সেখানে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম দেখতে পাই। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করেন এবং তাদের আটক করে নিয়ে যান। এখন প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব বলেন, তাদের চারজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা থানায় নিয়ে যাচ্ছি। ঘটনার বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমানে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবাসিক হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের প্রতিটি এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত যশোর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘যশোর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি’র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে সভাপতি হিসেবে দা'ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল জুবাইর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আইন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান তুহিন মনোনীত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি মো. সাইফুল্লাহ আল যুবায়ের, ইয়ামিন হুসাইন, প্রভাষ দাস, মো. এখলাছ উদ্দীন সজল এবং মো. শাহরিয়ার জামান রিয়াদ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ অরিথ, আবু হানিফা, বুরহান উদ্দিন, জিহাদুল ইসলাম এবং জান্নাতুল ফেরদৌস বৃষ্টি।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কানিজ ফাতিমা অনন্যা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রায়হান কবির, অর্থ সম্পাদক ফারদিন মোহাম্মদ, সহ-অর্থ সম্পাদক মো. হাদিউজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. জুবায়ের হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান নিরব, সহ-প্রচার সম্পাদক আহমাদ ইসলাম নুহু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জাকের, সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাতুল, আইন সম্পাদক তাছনিম আলম, সহ-আইন সম্পাদক আরবাজ খান শ্রাবণ, শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক শেখ তাসনিম ফাতিমা, সহ-শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ, ক্রীড়া সম্পাদক সাকিব হাসান সুমন, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহমুদ হাসান যায়েদ, নারী সম্পাদক আলিফ নূর, সহ-নারী সম্পাদক আফিয়া তাসনিম, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সামিউল ইসলাম স্বাধীন, সহ-তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান, ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবু তালহাও রুদ্র ঘোষ।
এছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজনীন সুলতানা নীলা, মো. জাহিদুল, তানজিম জামান তাহসিন, অনন্যা খাতুন, আদিবা মোবাসশিরা এবং মো. আরমান ওহিদ।
কমিটি গঠনের পর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তুহিন বলেন, “যশোরের শিক্ষা, ঐক্য ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা সকল শিক্ষার্থীর পাশে এক হয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যশোরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, উচ্চশিক্ষায় সহায়তার পথ সুগম করা এবং যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠন- ‘যশোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র মূল উদ্দেশ্য। একটি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ও সুশিক্ষিত সমাজ গঠনে আমাদের তরুণ সমাজই চালিকাশক্তি। যশোরের মাটির শেকড় ধরে রেখে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের মাধ্যমে আমরা যশোর জেলাকে একটি অগ্রগামী ও আদর্শ জেলা হিসেবে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আমরা আমাদের আগামী দিনের সকল কর্মসূচি সফল করতে চাই।”
সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল জুবাইর বলেন, “প্রতি বছর যশোরের অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, কিন্তু গাইডলাইনের অভাবে অনেকেই প্রথম বর্ষেই পিছিয়ে পড়ে। এই বাস্তবতা বদলাতে আমরা নবীনদের জন্য একাডেমিক গাইডলাইন, আবাসন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা, পজিশনধারী বিভাগীয় সিনিয়রদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি, এবং নারী শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আলাদা প্যানেল গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি আড্ডা, ক্রীড়া টুর্নামেন্ট আয়োজন ও সমিতির পেজে শিক্ষার্থীদের অর্জনের গল্প তুলে ধরার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্য আরও দৃঢ় করা হবে। যশোরের মাটির শেকড় ধরে রেখে আমরা একটি আদর্শ শিক্ষার্থী সমাজ গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাব। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আমরা আমাদের সকল কর্মসূচি সফল করতে চাই।
উল্লেখ্য, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যশোর জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত বগুড়া জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি’র ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হযরত আলী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রবিউস সানি জোহা দায়িত্ব পেয়েছেন।
গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মোত্তালিব, ডেপুটি রেজিস্ট্রার এ এস এম ইমাম হাসান বাবু, ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল মালেক মিয়া এবং সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটির বাকি দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সহ-সভাপতি ইসরাফিল আলম, মরিয়ম আক্তার চৈতি, সুমন ইসলাম, রেদয়ান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি, আকাশ, আ. আহাদ, মোত্তাকি, দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদ হোসেন, শাকিল, দপ্তর সম্পাদক মোজাহিদ (২৩-২৪), অর্থ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক নাজমুস সাকিব, শিক্ষা সম্পাদক শ্রাবণ, আইন সম্পাদক আয়েশা সিদ্দিকা, উপ আইন সম্পাদক রিতু মনি, সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সাজু মিয়া, বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক জুলেখা তাসনিম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আ. মান্নান ও ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ইরানী।
নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউস সানি জোহা বলেন, ‘বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতিকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের একটি কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবো। সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনের পরিসর আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দায়িত্ব পেয়ে সভাপতি হযরত আলী বলেন, ‘বগুড়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বগুড়ার শিক্ষার্থীদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আমরা কাজ করবো। নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পথচলা সহজ করতে এবং যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকতে চাই। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
ব্রয়লার মুরগির মাংসকে আরও নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ করতে ঔষধি উদ্ভিদ প্ল্যানটেইনভিত্তিক একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি গুণকে কাজে লাগিয়ে তারা তৈরি করেছেন ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ।
গবেষকদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনেই নয়, দেশে প্ল্যানটেইনের উৎপাদন ও ব্যবহারকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতেও ভ‚মিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষাবাদ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরবর্তী সময়ে খামারে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকরণের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন গবেষণাটির প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গবেষণায় সহযোগী হিসেবে রয়েছেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ-এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা। প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে আমরা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধ ‘বাউ-প্লান্টিভ’ বাজারে আনার পাশাপাশি প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।’
ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ে এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়।’
তিনি জানান, গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।
প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গবেষকেরা জানান, প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি। ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছি। ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি। জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। আমাদের তৈরি ‘বাউ-প্লান্টিভ’ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ কোম্পানি, ফিড মিল, পোল্ট্রি শিল্প, এনজিও ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, ব্লাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’
গবেষক জানান, প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।
গবেষক বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পটির সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের (বিএএস) সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএএসের সহসভাপতি ও বিএএস-ইউএসডিএ এনডাউমেন্ট প্রোগ্রামের কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. জেড এন তহমিদা বেগম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা মো বয়জার রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ফিড কোম্পানির প্রতিনিধি, গবেষক, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বলেন, একটি ভালো কৃষি প্রযুক্তি বা উন্নত জাত উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। বিশ^জুড়ে কৃষি উৎপাদনে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলে বহুগুণ ফলন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বে বেসরকারি খাতের অর্থায়নেই সিংহভাগ গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও জিন এডিটিং, হাইব্রিড জাত ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে পাইলটিং ও রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে কৃষকের ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ও সম্প্রসারণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তিন ধাপে কার্যকর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) মিউজিক্যাল রেজিমেন্টের আগামী এক বছরের জন্য নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন রিভু কুমার সাহা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. কাজী ফরহাদ কাদির, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক, অধ্যাপক ড. মো. তানভীর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান মজুমদার ও অধ্যাপক কাজী শেখ ফরিদ।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন আহমেদ রিয়াদ, অদিতি চৌধুরী, নুবাহ নাশিতা ফারিহাত, সুষ্ময় হাজারি, নীলাদ্রি শেখর দাস নোবেল, তনিমা তন্বী, বিশাল সাহা উৎস, আসিফ ইকবাল ও ভাস্বতী মণ্ডল সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফারদিন আহসান প্রিন্স ও মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ আবু হোরায়রা আল রিজন, পুষ্পিতা দাস, জয়িতা সরকার, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী ও মোহাম্মদ ফাহিম।
কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লস্কর মহন্ত। সাংস্কৃতিক ও পরিবেশনা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন সাজিদ শাহরিয়ার রোহান, দীপান্বিতা দীপা, তাজরী সরকার ও পৃথ্বীরাজ সরকার। তথ্য ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন উচ্ছ্বাস সরকার প্রীতম, জবা দেবনাথ ববি ও আল ফুয়াদ বিন হাবিব প্রিয়। বৈদেশিক বিষয় ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন স্যামযোগ শ্রেষ্ঠা, কারান গৌরোচা, প্রবেশ পান্তা ও সুবাশ পান্তা।
এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন রামিছা ইশরাক প্রাপ্তি, ঐশী মণ্ডল, ইমাম মাহবুব, অনন্যা গাইন, উইলিয়াম আবীর, ফাতিন ইশরাক সম, সৌম্য প্রামাণিক, প্রদীপ পান্ডে, মৌমিতা দত্ত ও মুঈন শাহরিয়ার ওরাত।