জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৪:৩২ এএম

  • ২৯৩ উপজেলার তথ্য যাচাইয়ে মাধ্যমিক স্তরেই ৮৮ লাখ ৪২ হাজার অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদার প্রমাণ পাওয়া গেছে।


  • সব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেলে এ সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি হতে পারে। 


  • এখন যাচাই করে চাহিদা সংশোধন করা হচ্ছে; সে অনুযায়ী বই ছাপা হবে।


বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি বই চেয়ে পাঠাচ্ছেন বিদ্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। এতে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে।


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য বলছে, এরই মধ্যে ২৯৩টি উপজেলার তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, কেবল মাধ্যমিক স্তরেই প্রকৃত চাহিদার তুলনায় ৮৮ লাখ ৪২ হাজার বেশি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। 


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেলে এ সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি হতে পারে। এখন যাচাই করে চাহিদা সংশোধন করা হচ্ছে; সে অনুযায়ী বই ছাপা হবে। প্রতিবছরই বিনা মূল্যের পাঠ্যবই প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি ছাপানোর অভিযোগ ওঠে। এনসিটিবির মতে, বিদ্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া অতিরিক্ত চাহিদার কারণে প্রতিবছরই অর্থের অপচয় হচ্ছে।


শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ও প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা নির্ধারণের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দেওয়া তথ্যের যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতিবছরই অপচয় ঘটতে থাকবে।


এনসিটিবির সূত্রগুলো জানায়, পাঠ্যবইয়ের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় প্রায় এক বছর আগে। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য শিক্ষার্থী ধরে চাহিদা পাঠায়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, এই অনুমান বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না; বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চাহিদা দেওয়া হয়। আগে এই চাহিদা খুব বেশি যাচাই করা হতো না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বেশি বই ছাপা হলেও সব বই কাজে লাগত না। 


তবে গতবার থেকে এনসিটিবি চাহিদা নির্ধারণে বেশি যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। কর্মকর্তারা কিছু এলাকায় সরেজমিনেও যাচাই করছেন।


এনসিটিবির সূত্র জানায়, চলতি বছরের জন্য মাধ্যমিক স্তরে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য চাহিদা ছিল ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি বই। কিন্তু আগামী বছরের জন্য এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৩১৮ কপিতে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সন্দেহ হলে এনসিটিবি ৩৪টি দল গঠন করে মাঠপর্যায়ে যাচাই শুরু করে।


যাচাইয়ে গিয়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে চাহিদা পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, তিনি ঢাকার একটি এলাকায় গিয়ে দেখেছেন, একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের গুদামে বিপুল সংখ্যক বই মজুত আছে, যার অনেকগুলো গত তিন বছরের।


এনসিটিবির আরেকটি সূত্র জানায়, ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯৩টি উপজেলার তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, মাধ্যমিকে ৮৮ লাখ ৪২ হাজারের বেশি বইয়ের অতিরিক্ত চাহিদা ছিল, যা পরে সংশোধন করে কমানো হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় যাচাই করা ১১০টি উপজেলায় গড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা থেকে তুলনামূলক বেশি অতিরিক্ত চাহিদা এসেছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানে তা কম।


এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, এবার চাহিদা পাওয়ার পরই মনে হয়েছে, এটি প্রকৃত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তখন তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি উপজেলায় বিষয়টি যাচাই করেন এবং বেশি চাহিদার প্রমাণ পান। পরে ৩৪টি দলকে ৬৪ জেলায় পাঠানো হয়; তারা ১৬৮টি উপজেলা পরিদর্শন করেছে। সব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেলে বইয়ের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি কমবে বলে তাঁদের ধারণা। এতে সরকারের বড় অঙ্কের অপচয় রোধ হবে।


১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করার লক্ষ্য


সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সুযোগ পেলেও একবারও বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো যায়নি। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সব বই সরবরাহে সময় লেগেছিল প্রায় তিন মাস। আর চলতি শিক্ষাবর্ষ (২০২৬) শুরুর এক মাস সাত দিনের মাথায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ বই সরবরাহ করা হয় বলে এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়। বই দেরিতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ে।


চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ করা হয়েছে।


এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, তারা আগামী বছরের পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া (দরপত্রসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম) এখন থেকেই শুরু করছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। এতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।




  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) “পর্যটন পুনর্গঠনে ডিজিটাল এজেন্ডা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা” বিষয়ক বিশেষ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। 


আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।


​অনুষ্ঠানে ​ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলি, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শহীদ মিয়া, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (TOAB) পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সেলিম, দিশা টাওয়ার কুষ্টিয়ার ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. রবিউল ইসলাম এবং গোয়িং ফ্লাই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা কনসালটেন্সি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহকারী পরিচালক তারিন তৌহিদা এবং রহিমআফরোজ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিয়াজ রহিম।  


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের সিইও এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের (BIRBA) নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ।  


উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “পর্যটন এখন আর কেবল বিনোদন বা ভ্রমণের মাধ্যম নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।”


তিনি বলেন, “প্রাকৃতিকভাবে বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনাময় হলেও অবকাঠামোগত ঘাটতি, সঠিক প্রচারের অভাব ও নিম্নমানের সেবার কারণে আমরা এর পূর্ণ সুযোগ নিতে পারছি না।”


পর্যটনে ​প্রযুক্তির (AI) ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন প্রযুক্তির যুগে। স্মার্ট প্ল্যানিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ডেটাভিত্তিক পর্যটন সেবার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আধুনিক, আন্তর্জাতিক ও পর্যটকবান্ধব করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার অপরিহার্য। প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো এবং মানবিক সহানুভূতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”


এসময় ​শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য উপাচার্য অধ্যাপক ড.  মতিনুর রহমান বলেন, “​শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে AI, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং স্মার্ট হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও গবেষণার মাধ্যমে কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে যুক্ত করে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা যায়, সেই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।”


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ পিএম

স্তন ক্যান্সার সচেতনতার মাস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ক্যান্সার অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের (ক্যাপ) ‘গোলাপী সড়ক শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা মঞ্চ থেকে শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


শোভাযাত্রা শেষে বাংলা মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান।


শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশেষ বক্তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফিরোজ আল মামুন ও ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা।


আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টারের অনকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তৌসিফুর রহমান।


র‍্যালীর উদ্বোধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, “ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে যে সচেতনতা সৃষ্টি হবে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে, তা ক্যান্সারের মতো একটি ভয়াবহ রোগ থেকে আমাদেরকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।”


তিনি আরও বলেন, “সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি শুধু এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আমি এই কমিটিকে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি এবং এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের জন্য তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।”


প্রধান বক্তা সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তৌসিফুর রহমান ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ক্যান্সারের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি বলেন, “স্তন ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এজন্য নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগে মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।”


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৭ এএম

কৃষি ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (বিআইই) ডিগ্রি প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বিআইই কার্নিভাল’-এর প্রথম দিনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের কম্পিউটার ল্যাবে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগ এ কার্নিভালের আয়োজন করে। এতে বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তাগীজ বিল্লাহ, সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।


আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিযোগিতায় তিন সদস্যের ১৩টি দল অংশ নেয়। প্রতিটি দলকে সমাধানের জন্য দেওয়া হয় নয়টি সমস্যা। সমাধান করা সমস্যার সংখ্যার ভিত্তিতে সেরা তিনটি দল নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বর্ষ থেকে একজন করে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।


প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে প্রোগ্রামিংয়ের কার্যকর সমন্বয় ঘটানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিই প্রথম প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যতে এর পরিসর বাড়িয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের কম্পিউটার বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করে জাতীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, এবারের প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানের কিছু সমস্যা রাখা হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা আরও বিকশিত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।


দুই দিনব্যাপী এ কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনে শ্রবণ প্রতিযোগিতা, ইন্টিগ্রেশন বি, দাবা, ধাঁধা সমাধান, পিলো পাসিং ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিনি কনফারেন্স কক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে কার্নিভালের সমাপ্তি হবে।


সভাপতি সিয়াম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুশফিক আহমেদ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫২ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ক্রীড়া সংগঠন ‘সোশিওলজি স্পোর্টস ক্লাব’-এর ২০২৫-২৬ মেয়াদের তৃতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।


নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সিয়াম মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুশফিক আহমেদ মনোনীত হয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান সিদ্দিকী, সহকারী অধ্যাপক শাহানাজ আক্তার, প্রভাষক মহিবুল ইসলাম ও প্রভাষক মনির হোসেনের স্বাক্ষরে কমিটিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।


কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সহ-সভাপতি মো. সায়েম হোসেন সাব্বির, আরমান মিয়া ও তানভীর আহমেদ রাফে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, মেফতাহুল জান্নাত উষা, তাজকীর আহসান তামিম, মো. রেদওয়ান মিয়া ও লাবণী আক্তার।

সাংগঠনিক সম্পাদক তাওফিক মারুফ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারহানুন আদনান, রাকিব হোসেন ও নাসিফ ইকবাল তন্ময়। কোষাধ্যক্ষ মাহতাব চৌধুরী এবং সহ-কোষাধ্যক্ষ একখাঁন রুদ্র ও শান্তা আক্তার সিমা।


ডিজাইন ও ডকুমেন্টেশন সম্পাদক আমরিণ আক্তার মুনা এবং সহ-ডিজাইন ও ডকুমেন্টেশন সম্পাদক মো. রাফি ভূঁইয়া ও জুয়েল। মিডিয়া ও পাবলিকেশন সম্পাদক ইমতিয়াজ কাওসার এবং সহ-সম্পাদক আতিকুর রহমান ও সাইমুন ইসলাম।


দপ্তর সম্পাদক আশিকুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান নাহিদ ও ইউশা মোবিন। জনসংযোগ সম্পাদক প্রীতম দে এবং সহ-জনসংযোগ সম্পাদক মো. রুবেল ও ফারজানা ইয়াসমিন।


স্পন্সরশিপ ও লজিস্টিকস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আকরাম হোসেন। এ বিভাগের সহ-সম্পাদক হয়েছেন মো. রবিউল হোসেন ও মো. মিনারুল ইসলাম।


এ ছাড়া নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফাইজা কাদের চৌধুরী, নাজিফা নাওয়ার, সাহিদা সুলতানা বিথী, আবৃতা গুপ্তা ও সুমাইয়া বিনতে আজাম।

নবগঠিত কমিটির সদস্যরা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দলগত কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


বিশাল চক্রবর্তী, আহসান হাবিব ও হাসিবুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫০ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ছাড়া আরও চার নেতার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তিন নেতাকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম। 


সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া নেতারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং উসকানিমূলক ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) আরিফুল ইসলাম। 


এ ছাড়া রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ছাত্রদল কর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করা করা হয়েছে।


উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই তিনটি সিদ্ধান্ত আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেটে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সিন্ডিকেটে এটি পাস করে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর সাময়িকভাবে বহিষ্কৃতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে এবং যাদের ছাত্রত্ব নেই, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে।’


গত রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তৈরি করা লিখিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম আজ তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া তিন শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা এবং আরও চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম তার সম্মেলনকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন।


প্রতিবেদনে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিব, আরিফুল ইসলাম, হাসিবুল হাসান ও বিশাল চক্রবর্তীর সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।


একই ঘটনায় বুলবুল রহমান, শরিফুল ইসলাম ও শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এ ছাড়া রাকিবুল ইসলাম, তাকবির আহমেদ ইমন, সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।


এ ঘটনার পরদিন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওই দিন উপাচার্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার সকালে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।


প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় ক্যাম্পাসের সংবাদকর্মীরা জানান, প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ মামলা না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংবাদ বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান তারা।