• প্রকাশ : শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:১৯ পিএম

আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২৬কে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়ছে উন্মাদনা। ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলা এই আসর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে মোট ১০৪টি ম্যাচের এই বিশ্বকাপকে ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। প্রিয় দল ও সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে আলোচনা থেকে পিছিয়ে নেই জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তাদের প্রত্যাশা ও বিশ্বকাপ ভাবনা তুলে ধরেছেন ইকবাল মাহমুদ।


ফ্রান্স ও ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তুর্জয় বলেন, বিশ্বকাপের ফুটবল হোক কিংবা বিশ্বমানের ক্লাব ফুটবল হোক, ফরাসি ফুটবলারদের জয়জয়কার যেন চোখে পরে ফরাসি বিপ্লব হয়ে। বলছি আমার প্রিয় দল ফ্র‍ান্সের কথা। ফ্রান্সের নেই কী? বিশ্বকাপ জয়, ব্যালন ডি'অর বিজয়ী কিংবদন্তি, আর গতিময় ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের এক বিশাল সমাহার।  টানা দুই বিশ্বকাপে বিশ্ববাসী ফ্রান্সের অসাধারণ প্রতিভা ও সামর্থ্যের সাক্ষী হয়েছে। আমি এবারও আশাবাদী, ফ্রান্স তাদের অতীতের সব অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও লড়াকু মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়ে ছিনিয়ে আনবে এবারের বিশ্বকাপ।



স্পেন সমর্থক ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী সাহাবির হোসেন সাব্বির বলেন,  আমি একজন স্পেনের সমর্থক। ২০১০ সালের  ট্রফি জয়ের পর দীর্ঘদিন স্পেনের বিশ্বকাপ পথচলা কিছুটা মলিন ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ইউরো জয় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে মাঝমাঠের  রদ্রি, আর আক্রমণভাগের লামিন ইয়ামাল ও গতিময় নিকো উইলিয়ামসের হাত ধরে এই দলটা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা।


তিনি আরো বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের সময় পুরা ক্যাম্পাস জুড়ে অন্য রকম একটা আমেজ ছিলো, হলের নিচে বড় পর্দায় সবাই সহ খেলা দেখা, প্রিয় দলের পক্ষে জয় এলে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে মিছিল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো, বিল্ডিংগুলাতে বড় পতাকা টাঙানো এই আনন্দঘন পরিবেশ ছিলো। 


আর্জেন্টিনা সমর্থক ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা ইতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ উপভোগ করতে যাচ্ছি যেটা আসলেই আনন্দের। সেই আনন্দ আরো বাড়িয়ে দেয় কারণ আমি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সমর্থক। গতবারের তুলনায় এবারের অনুভূতিগুলো আলাদা কারণ মেসির হাত ধরে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় দেখেছি, তাই চাপমুক্ত বিশ্বকাপ উপভোগ করবো এবার। এছাড়াও আর্জেন্টিনার এবারের দলটি গোছানো, যদিও কয়েকজন ইনজুরিতে রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনা জিতে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। ঘরের কোণ ছেড়ে এবার ক্যাম্পাসের বড় পর্দায় হাজারো শিক্ষার্থীর সমবেত চিৎকারে খেলা দেখার রোমাঞ্চ হবে অনন্য। সব দলের সমর্থকদের জন্য রইল শুভকামনা।


জার্মানি সমর্থক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী বিল্লাল হোসাইন বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে 'ডাই মানশাফট' বা জার্মানি ফুটবল দলের একজন কড়া সমর্থক। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির ট্যাকটিকাল ফুটবল, শৃঙ্খলা আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে। গত কয়েকটি আসরে আমাদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হলেও, এবার তরুণ ও অভিজ্ঞদের নিয়ে দল যেভাবে গুছিয়ে উঠছে, তাতে জার্মানিকে নিয়ে আমার প্রত্যাশা আগের রূপে ফিরবে। 


তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি, তাই জার্মানির সমর্থক হিসেবে রাইভালদের (প্রতিপক্ষ দল) উদ্দেশ্যে এটুকুই বলব, মাঠে ফুটবলীয় লড়াই হবে, আর মাঠের বাইরে হবে সুস্থ ট্রোল ও আনন্দ। সবার জন্য শুভকামনা, কাপ এবার জার্মানিই জিতবে।


ব্রাজিল সমর্থক ও থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ইশরাত জান্নাত বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হলে চারদিকে ফুটবল নিয়ে আলোচনা, বন্ধুদের উচ্ছ্বাস আর প্রিয় দলের জার্সি পরা মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এটি আমার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ, তাই অনুভূতি ও প্রত্যাশা আরও বেশি। ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের ছন্দময় খেলা, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ও আক্রমণাত্মক স্টাইল আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে। এবারও আশা করি ব্রাজিল ভালো খেলবে এবং বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দেবে।


পর্তুগাল সমর্থক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রাকিব বলেন, আমার প্রিয় দল পর্তুগাল, তাই বিশ্বকাপ এলেই তাদের নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। তবে আমার জন্য বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা, আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের মালিক তিনি। বয়সকে হার মানিয়ে এখনও দেশের জন্য লড়াই করে যাওয়া তার প্রতি সম্মান আরও বাড়িয়ে দেয়। আমার কাছে তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার, কারণ প্রতিভার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম দিয়ে তিনি নিজের কিংবদন্তি অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই একজন ভক্ত হিসেবে আমি মনে করি, তার অসাধারণ ক্যারিয়ার একটি বিশ্বকাপ ট্রফি দিয়ে পূর্ণতা পাওয়ার যোগ্য। আর তাকে যদি বিশ্বকাপ হাতে দেখতে পাই, সেটি হবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি।




  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে দুজনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তিনজনকে জরিমানা ও মুচলেকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


সাময়িক বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৈয়দ মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত ও ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিক। তাঁরা যথাক্রমে বুটেক্স ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছে।


এছাড়া ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল হোসাইনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও মুচলেকা এবং ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ মৌলিক চন্দ্রকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও মুচলেকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 


এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে শাস্তিপ্রাপ্ত সুমন সরকারের আইডি ও বিভাগ ভুল এসেছে বলে ঘটনার তদন্ত কমিটি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়। যেখানে সুমন সরকারের বিভাগ অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিবর্তে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখ আছে।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর গেটে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ঘটনার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে শৃঙ্খলা বোর্ডের ১৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুটেক্স শৃঙ্খলা বোর্ড বিধান ২০১৫ এর ধারা ৩(ঘ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


এবিষয়ে ঘটনার ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “শৃঙ্খলা কমিটির নোটিশের পর প্রক্টর স্যার ও রেজিস্ট্রার ম্যামের কাছ থেকে আমি বিস্তারিত জানতে চাই। প্রক্টর স্যার রেসপন্স না করলেও রেজিস্ট্রার ম্যাম আমাকে জানায়, এটি আসলে চূড়ান্ত শাস্তির নোটিশ নয়। এই নোটিশের পরবর্তী তাদেরকে শোকজ করা হবে। সেই শোকজ এর উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় শৃঙ্খলা কমিটির মিটিং বসবে এবং এরপর সিন্ডিকেট সভায় তা পাশ হবে। আমরা সে চূড়ান্ত শাস্তি কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এই সাময়িক বহিষ্কার যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তবে তা আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।”


তিনি আরো বলেন, “এমন ঘটনা যদি আবার ঘটে সেই ক্ষেত্রে প্রশাসন কিভাবে করে কি পদক্ষেপ নিবে বারবার প্রশ্ন করার পরেও এখনো পর্যন্ত তা ক্লিয়ার না, কারণ এই ঘটনার মূলসূত্রই ছাত্ররাজনীতির কারণে। সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্তে আমরা কেউ সন্তুষ্ট না। আমরা চাই, ভিসি স্যার পূর্বে ক্যাম্পাসের ভিতর কেউ ছাত্ররাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে তার ছাত্রত্ব বাতিল করার যে নিয়মের কথা বলেছিল, সেটি যত দ্রুত সম্ভব সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে।”


চূড়ান্ত শাস্তির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার আরেক ভুক্তভোগী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, “প্রশাসন সাময়িক বহিষ্কার বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছেন, তা নোটিশে স্পষ্ট নয়। তার মতে, যারা সরাসরি হামলায় জড়িত, তাদের তুলনায় আশপাশে থাকা কয়েকজন বেশি কঠোর শাস্তি পেয়েছেন।”


শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান বলেন, “শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে দুইজনকে প্রাথমিকভাবে একটি সাময়িক বহিষ্কার দেওয়া হয়েছে, পরে তাদের শোকজ পত্র দেওয়ার মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে তাঁরা সেটার উত্তর দিবে এবং সেটি পুনরায় আরেকটি কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। তারপর শৃঙ্খলা বোর্ডে তাঁদের শাস্তি চূড়ান্ত হবে। যেকোনো গঠনমূলক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এটিই আইনি নিয়ম। এর আগে ক্যাম্পাসে মাঠে সংগঠিত মারামারি ঘটনায়ও এমন আইন অনুসরণ করা হয়েছে। আর কেউ যেকোনো পর্যায়ে ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রিট করতে পারে যা হাইকোর্টের বিষয়। আর এখানে শাস্তিপ্রাপ্তরা রিট করলে বিশ্ববিদ্যালয় কি করবে, সেটা পরের বিষয়। এখন বিশ্ববিদ্যালয় যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা আগে নিয়মমাফিক অনুসরণ করা হবে।”


উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বুটেক্সের ৪৯তম ব্যাচের চার শিক্ষার্থী হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন  ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলনে হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সারাদেশে অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল।


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে ক্যাম্পাসের ধর্মতত্ত্ব অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে সমবেত হয়। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে সংগঠনটি।


মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদসহ ছাত্রদলের অন্য নেতাকর্মীরা।


এ সময় তাদের ‘লীগ পাব যেখানে, ধোলায় হবে সেখানে’, ‘বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান’, ‘ভারত যদি বন্ধু হও, শেখ হাসিনারে ফেরত দাও’, ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভেঙে দাও গুরিয়ে দাও’, ‘ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।


সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তারা দীর্ঘ দিন অন্যায় অত্যাচার করেছেন তাদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং চাকরিচ্যুত করতে হবে। সবার উদ্দেশে বলতে চাই ফ্যাসিস্টের ঠিকানা বাংলাদেশের মাটিতে ও এই ক্যাম্পাসে হবে না, হবে না, হবে না।’


  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মোকাম্মেল করিম তৌফিক।




অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “তোমাদের এই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তোমরা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং দায়িত্ব পালন করবে। তোমাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তোমরা বড় স্বপ্ন দেখবে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবে। একই সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা পোষণ করবে।”


তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার জন্য তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার সফলতা কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মোকাম্মেল করিম তৌফিক বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং তাদের শিক্ষা ও পথচলায় শিক্ষকদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও নোবিপ্রবি উপাচার্য, অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ এএম

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।


সাক্ষাৎকালে নোবিপ্রবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান আরও উন্নত করা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নোবিপ্রবির সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।


এ সময় অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।


সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।


সৌজন্য সাক্ষাতে নোবিপ্রবির শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে উভয়ের মধ্যে মতবিনিময় হয়।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের কক্ষে হট্টগোল, ভাঙচুর, হেনস্তা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে গতকাল ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান ছাত্রদল।


আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, টিএসসিসি ও কয়েকটি বিভাগে এসব ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা ফেসবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ও তিন কর্মকর্তাকে হেনস্তা এবং তাদের কক্ষ ও অফিসে ভাঙচুর করেছেন।


এদিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসন ভবনের সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার ইব্রাহিম হোসেন সোনার কক্ষে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সেখানে তার কক্ষ ভাঙচুর ও তাকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদের কাছে গিয়ে তাকে হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। এরপর টিএসসিসি'র সহকারী রেজিস্ট্রার বিপুল আহমেদের কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়। 


পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতির কক্ষে গিয়ে সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করে দলটির নেতাকর্মীরা। ধারাবাহিকভাবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও চিহ্নিত আওয়ামীপন্থি শিক্ষক ড. মাহবুবুর রহমানের কক্ষে গিয়ে তাকে হুমকি, হেনস্তা ও টেবিল ভাঙচুর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে না আসারও হুমকি দেওয়া হয়। 


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এসকল ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ তৌফিক, আব্দুল্লাহ আল মামুন; সদস্য রেজাউল ইসলাম রাকিব, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহরিয়ার রশিদ নিলয়, খালেদ সাইফুল্লাহ; কর্মী রাহি, সাবিক, উল্লাস মাহমুদ, নাঈম, সিজান ও সাগর আলীসহ প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মীর জড়িত ছিলেন।


হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা লুনা বলেন, আমার কক্ষে এসে তারা এই ঘটনা করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে তারা আমার কিছু শিক্ষার্থীকেও হেনস্তা করেছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি।


হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি গতকাল ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আমি বঙ্গবন্ধুর একটা ছবি যুক্ত করে বিনম্র লিখে একটা ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম। কয়েকজন এসে আমাকে আমার পার্সোনাল রুমে যেতে বলে। তখন আমি তাদেরকে বলি যেহেতু একটা মিটিংয়ে আমি তোমাদের যা বলার এখানে বলো। তখন তাদের একজন বলল চেয়ার ধরে নিয়ে চলো। তারপর দুইজন আমার চেয়ার ধরে উঁচু করার চেষ্টা করেছিল। তারপর বলে নিচে গেলে দেখবো, কালকে থেকে যেন ডিপার্টমেন্টে না আসা হয়।


কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শাখা কর্মকর্তা টিটুল আহমেদ বলেন, দুপুরের সময় আমি অফিসে বসে ছিলাম। তারা হঠাৎ এসে বলে- তুই মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকীতে শোক জানিয়ে পোস্ট দিছিস কেন? তুই আর এখন থেকে ক্যাম্পাসে আসবি না। এরপর তারা আমার দিকে একটি প্লেট ছুড়ে মারে।


অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, যেহেতু ঘটনাটি প্রক্টরের বিভাগে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়ে ভালো জানেন। তার সাথে কথা বলেন। 


এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, গতকাল ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিয়ে পোস্ট করে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তা রুখে দিতে ছাত্রদল সবসময়ই প্রস্তুত আছে। যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে, আমরা সেগুলোর বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। 


তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে প্রয়োজনে আমরা আইন হাতে তুলে নেব। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদেরই আইন হাতে তুলে নিতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর সাহস কোথায় থেকে পায় এই ফ্যাসিস্ট শিক্ষরা?


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনার পরপরই নিরাপত্তা কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিছু চিহ্নিত আওয়ামীপন্থী শিক্ষক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়েছিল। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এমনটা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে ডেকে কথা বলেছি। তারা বিষয়টিতে ভুল স্বীকার করেছে। আমি আশা করছি, তারা ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আইন রয়েছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার ওপর চড়াও হতে পারে না।


তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে কেউ পোস্ট দিয়ে থাকলে এবং তা প্রমাণিত হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ পিএম

ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।


আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হল প্রাঙ্গণে একটি বকুল গাছ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন ইসলামী ব্যাংক হেড অফিসে কর্মরত ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এফএভিপি) মো. শওকত আলী।


শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলীর পরিচালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা: কামরুজ্জামান, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, অ্যাডভোকেট ওয়ালীউল্লাহ্ এবং শাখা ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


আয়োজকরা সূত্রে জানা গেছে, শহীদ আব্দুল মালেকের স্মরণে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় আম, লিচু, কদবেল, জাম, পেয়ারা, আমড়া, জলপাই, লটকন ও নিমসহ বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি গাছের প্রায় দুই হাজার চারা রোপণ করা হবে। যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতে রোপণ করা হবে।


শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, “শহীদ আব্দুল মালেক আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ইসলামের পক্ষে ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলতে হয় এবং প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হয়। তাঁর সেই অনুপ্রেরণাকে সামনে রেখে আমরা ইসলামী শিক্ষা দিবস উপলক্ষে এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তাঁর স্মৃতি ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”


এসময় তিনি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে নৈতিকতাসম্পন্ন ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।


কর্মসূচির পৃষ্ঠপোষক মো. শওকত আলী বলেন, “এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার ফলজ ও ঔষধি চারা রোপণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেন ভবিষ্যতে এসব গাছের সুফল ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চারা রোপণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “দেশে ইসলামী শিক্ষা বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আন্দোলন করছে, সেই আন্দোলনের পাশাপাশি তারা বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশকে সুন্দর ও সবুজ করে তুলতে চায়। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”