শাকিব খান ও সাবিলা নূর। ছবি: সংগৃহীত
প্রেক্ষাগৃহে এখন চলছে আজমান রুশোর সিনেমা ‘রকস্টার’। ছবিতে জুটি হয়েছেন শাকিব খান ও সাবিলা নূর। ‘রকস্টার’ নিয়ে সাবিলা নূর বলেন, ‘এটা অনেক ব্যতিক্রমী সিনেমা হতে যাচ্ছে। কারণ, এখানে যেভাবে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে একেবারেই আলাদা। সিনেমার জনটাও অন্য রকম—এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়ন এক্সপ্লোর করার অনেক জায়গা ছিল।
সম্প্রতি ক্যাপিটাল ইন্টারটেইনমেন্টের ‘টক অব দ্য ক্যাপিটাল’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন সাবিলা। অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলার সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানের ‘রকস্টার’ সিনেমা ও নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন সাবিলা।
সাবিলা আরো বলেন, আমি খুবই সৌভাগ্যবান কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি এ ধরনের একটা ছবিতে সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরা চরিত্রের সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা কেমেস্ট্রি। দর্শকেরা এটা কীভাবে নেন, সেটা জানার জন্য মুখিয়ে আছি। কারণ, এটা একেবারে অন্য রকম একটা সিনেমা।’
গত বছর পবিত্র ঈদুল আজাহায় রায়হান রাফীর ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম জুটি বাঁধেন সাবিলা। এরপর চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল ফিতরে তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ শরীফুল রাজের সঙ্গে দেখা যায় তাঁকে। আর এবারের ঈদুল আজহায় এল ‘রকস্টার’; অর্থাৎ টানা তিন ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল সাবিলার সিনেমার।
বিষয়টি নিয়ে সাবিলা বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি সেভাবে আলাদা করে ভাবিনি। যখন সবাই বলছিল, নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে হচ্ছিল। আরেকটা বিষয় হলো, তিনটাই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন “তাণ্ডব” বাণিজ্যিক সিনেমা, সেখানে “লিচুর বাগানে” ধরনের গান ছিল। একদম আলাদা হলো “বনলতা এক্সপ্রেস”; আগের সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে কোনো মিল নেই। “বনলতার এক্সপ্রেস”–এর চিত্রের চেয়ে “রকস্টার”–এর মীরা একেবারে আলাদা।’ পরপর তিন ঈদে ভিন্নধর্মী তিন চরিত্রে সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্য হিসেবেও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
দীর্ঘদিন নাটকে কাজ করে সিনেমায় আসা প্রসঙ্গে সাবিলা বলেন, তাঁর ইচ্ছা ছিল, নাটকে তাঁর ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ টাইপ ইমেজ যেটা হয়েছিল, সিনেমায় যেন সেটা ভেঙে যায়। দর্শকেরা যেন চমকে যান। ‘তাণ্ডব’ দিয়ে, বিশেষ করে সিনেমার গান ‘লিচুর বাগানে’ দিয়ে সেটা করতে পেরেছেন বলেও মনে করেন সাবিলা।
সিনেমায় শাকিব খানকে দেখা গেছে এক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে। আজমান রুশোর গল্পে নির্মিত ছবিতে একজন সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রাম, উত্থান-পতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। আজমান রুশো জানান, নির্মাণে আসার আগে তিনি নিজেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের নানা অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি এই গল্প তৈরি করেছেন। সিনেমাটিতে শাকিবের সঙ্গে আরও আছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।
সিনেমাটির বেশির ভাগ গানের কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। গানগুলোয় কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব। অঞ্জন চৌধুরী নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি। সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়া। সিনেমাটির এক্সক্লুসিভ স্ট্রিমিং পার্টনার চরকি। সিনেমাটির সব গান মুক্তি পাচ্ছে এসভিএফ মিউজিক, চরকি, বিলিং মিউজিকের অফিশিয়াল চ্যানেলে।
স্বরা ভাস্কর। ছবি: ফেসবুক
বলিউডে যৌন হয়রানি বা কাস্টিং কাউচ দীর্ঘদিনের গুরুতর সমস্যা। বিষয়টি নিয়ে এর আগে মুখ খুলেছেন বহু তারকা অভিনেত্রী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। এবার নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এমন এক ঘটনা তুলে ধরলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর।
স্বরার দাবি, বিগ বাজেটের একটি সিনেমায় কাজ করার সময় ওই সিনেমার পরিচালক মাঝরাতে মদ্যপ অবস্থায় তার দরজায় কড়া নেড়েন। এমনকি দরজা খুললে তাকে জড়িয়ে ধরার আবদারও করেন পরিচালক।
স্বরা জানান, ‘তনু ওয়েডস মনু’ সিনেমার সাফল্যের পর একটি বড় বাজেটের সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ওই সিনেমার পরিচালক তাকে নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছেন। সিনেমার দৃশ্যের মহড়ার কথা বলে পরিচালক তাকে একা ডেকে পাঠাতেন। ব্যক্তিগতভাবে তাকে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি কবিতাও পাঠাতেন। একদিন একটি রোমান্টিক দৃশ্যের মহড়ার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়।
স্বরা বলেন, “আমি আগে জিজ্ঞেস করি, মহড়ার সময় আর কারা থাকবেন? ওই পরিচালক আমাকে বলেন, ‘তুমি আর আমি, আমরা দুজনে আলোচনা করব।’ আমি বলেছিলাম—না। আপনি অভিনেতা ও ক্যামেরাপারসনকে ডেকেছেন। যদি মহড়া হয়, তাহলে সবার সেটা করা উচিত। আমরা একা কেন মহড়া করব?”
এরপরও পরিস্থিতি বদলায়নি। স্বরা জানান, একটি অতিথিকক্ষে গিয়ে তিনি দেখেন, পরিচালক ও সিনেমাটোগ্রাফার সেখানে বসে মদ্যপান করছেন। সেখানে চিত্রনাট্য পড়েন তিনি। এরপর কোনোভাবে পরিস্থিতি সামলে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
তবে ঘটনার শেষ সেখানেই হয়নি। সেদিন মাঝরাতে ওই পরিচালক তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল- পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারেন।
স্বরা বলেন, “মাঝরাতে ওই পরিচালক আমার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটা ভয়ানক হয়ে উঠেছিল যে, আমার মনে হয়েছিল, পরিচালক হয়তো দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়বেন। শেষ পর্যন্ত দরজা খুলতে বাধ্য হই। এরপর মদ্যপ অবস্থায় ওই পরিচালক আজব আবদার করে বসেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘আমি কি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি?”
স্বরা বলেন, ‘সেদিন আমি ওই পরিচালকের সেই প্রস্তাবে সাড়া দেইনি। বরং তাকে কোনোভাবে বুঝিয়ে দ্রুত বিদায় করেছি। পরে তার সঙ্গে অনেকবার দেখা হয়েছে।’ সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সাদিয়া জাহন প্রভা
দেশের আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। কালেভদ্রে পর্দায় দেখা গেলেও স্যোশাল মিডিয়ায় নিয়মিতই সরব এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বেড়ে ওঠার সময়কার নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন প্রভা। জানিয়েছেন, একসময় তার পছন্দ ছিল গরিব ছেলে।
পডকাস্টে নিজের পছন্দের কথা বলতে গিয়ে সাদিয়া জাহান প্রভা বলেন, ‘আমার সব সময় গরিব ছেলে পছন্দ ছিল এক সময়, আমাকে অভাবের কথা বললে, না খেয়ে ছিলাম কষ্টে বড় হয়েছি বাবা ভাই বোনদের এভাবে মানুষ করেছে। মিথ্যা কথা এটা আরও বেশি দুষ্টু হয়। আমি বেশ আল্মাদী ছিলাম, এরকম একটা সময় ছিল প্রপারলি কথা বলতে পারতাম না।
তিনি আরও বলেন, ‘এতো কিউট হয়ে আমতা আমতা করে কথা বলতাম। কথা অর্ধেক বোঝা যেত। প্রত্যেকটি জায়গাতে আমাদের আত্মীয় থেকে শুরু করে, আমার বাবা-মা একটা সময় গিয়ে আমি যখন বড় হচ্ছি আমার বন্ধুদের বাবা-মার অবধি আদর করতো, সেজন্য আমার ম্যাচিউরিটি অনেক পরে এসেছে, স্পষ্ট কথা বলতে শিখেছি অভিনয় করতে এসে।’
এদিকে, অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও নতুন সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা রয়েছে প্রভার। কিছুদিন আগে নতুন দুটি সিনেমায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে একটি সাদেক সিদ্দিকীর ‘দেনা পাওনা’। সিনেমাটির অনেকখানি শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের শুটিং এ সপ্তাহে হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘দুই পয়সার মানুষ’ নামের আরও একটি সিনেমা রয়েছে প্রভার হাতে। দুটি সিনেমাই সরকারি অনুদানে নির্মিত হচ্ছে।
লালসালু ও চিত্রা নদীর পারে সিনেমার দৃশ্য
দেশীয় চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেলের কালজয়ী দুটি সিনেমা ‘লালসালু’ ও ‘চিত্রা নদীর পারে’ বাংলাদেশ বিমান দীর্ঘকাল ধরে তাদের ফ্লাইটে প্রদর্শন করে আসছিল। হঠাৎ করেই আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই নির্মাতা তার ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানালেন চলচ্চিত্র দুটি এক অজ্ঞাত কারণে প্রদর্শন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয় নির্মাতার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সাড়া মেলেনি। ‘লালসালু’ চলচ্চিত্রটি আটটি ক্ষেত্রে এবং ‘চিত্রা নদীর পারে’ সাতটি ক্ষেত্রে জাতীয় পুরষ্কার লাভ করেছিল। তানভীর মোকাম্মেলের এই দুটি কালজয়ী চলচ্চিত্র দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
লালসালু চলচ্চিত্রটি ২০০১ সালে মুক্তি পায়। এটি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একই নামের ধ্রুপদী উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এতে অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, মুনিরা ইউসুফ মেমী, চাঁদনী, রওশন জামিল, আমিরুল হক চৌধুরী, চিত্রলেখা গুহ, আলী যাকের, তৌকীর আহমেদ, মৌসুমী, তামান্না ইয়াসমিন, মাসুদ আলী খান, সাইদুর রহমান বয়াতি প্রমুখ। পরিচালকের ‘চিত্রা নদীর পারে’ সিনেমাটি মুক্তি পায় নব্বইয়ের শেষের দিকে। এতে অভিনয় করেনে মমতাজউদ্দীন আহমেদ, আফসানা মিমি, তৌকির আহমেদ, রওশন জামিল, সুমিতা দেবী প্রমুখ।
অভিনেত্রী পরীমনি
জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে চিত্রনায়িকা পরীমনির দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। পডকাস্টটির সঞ্চালক রুম্মান রশীদ খানের সঙ্গে আলাপকালে নিজের অতীত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও সাবেক স্বামী শরীফুল রাজকে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
বিচ্ছেদের প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, রাজকে বিয়ে করা বা জীবনের কোনো সিদ্ধান্তকেই তিনি ‘ভুল’ হিসেবে দেখেন না। তার কাছে জীবনের প্রতিটি ঘটনা একেকটি অভিজ্ঞতা।
পরীমনি জানান, এর আগে অন্য প্রাক্তনদের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার সময়ও অসৌজন্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই সেসব সম্পর্কের ইতি টেনেছেন তারা। ফলে পরবর্তী সময়ে কোথাও দেখা হলেও মুখোমুখি হতে অস্বস্তিতে পড়তে হয়নি।
তবে শরীফুল রাজের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানান পরীমনি।
তার ভাষ্য, যার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা পাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রাক্তনের কাছ থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি অপমানিত হয়েছেন। অথচ তাদের বিচ্ছেদ আরও সুন্দর ও সম্মানজনকভাবে হতে পারত বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিয়ে করেন শরীফুল রাজ ও পরীমনি। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হয়ে যান তারা।
বিচ্ছেদের পর ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পুণ্যকে একাই লালন-পালন করছিলেন পরীমনি। পরে সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম নামে একটি কন্যাসন্তান দত্তক নেন এই অভিনেত্রী।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন। পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ গঠনের শুনানিও পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে নতুন তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সকাল পৌনে ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছান তানজিন তিশা। কিছুক্ষণ পর মামলাটির শুনানি শুরু হলে তিনি প্রথমে বেঞ্চের সামনে বসেছিলেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কথা বলেন। এরপর কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান অভিনেত্রী।
তিশার পক্ষে আইনজীবী খোরশেদ আলম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে বলেন, তার মক্কেল আগেও আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
এ সময় আসামিপক্ষ থেকে তিশাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। আইনজীবী বলেন, তাকে অপমান করার উদ্দেশেই এভাবে দাঁড় করানো হয়েছে। জবাবে বিচারক বলেন, তিনি যেহেতু আসামি, তাই এ বিষয়ে কথা না বলাই ভালো।
শুনানির একপর্যায়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে জামিনের শর্তের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, জামিনে থাকার সময় তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভেরিফায়েড পেজ থেকে আইনজীবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
তখন বিচারক অভিযোগটি লিখিত পিটিশন আকারে দাখিল করতে বলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মামলার অভিযোগ গঠনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে তিশার আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, মামলাটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য সময় দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
পরে আদালত তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আসামিপক্ষের আবেদনও গ্রহণ করেন।
এদিকে আদালতে শুনানি শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের মামলাটিকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। তানজিন তিশা বলেন, ভক্ত ও বিভিন্ন অনলাইন পেজ থেকে তিনি প্রায়ই উপহার পান। উপহার পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্টোরিও দেন। এই শাড়িটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, তিনি শাড়িটি কিনতে চেয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী তাকে ফোন করে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরিচিত এক বড় বোনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট কথা হয়। পরে সুসম্পর্কের জায়গা থেকেই শাড়িটি পরে ছবি দেওয়ার কথা জানান তিনি। তিশা বলেন, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শাড়িটি পরে ছবি দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এর জন্য ব্লাউজ বানিয়ে রেখেছিলেন এবং এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাড়িটি নিয়ে স্টোরিও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা না বলে হঠাৎ সংবাদমাধ্যমে তাকে ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এতে তার সম্মানহানি ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
তিশা আরও বলেন, তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর পেছনে চলচ্চিত্র অঙ্গনের কোনো বিরোধ বা কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সেটিও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এ সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিশা। একই শাড়ি নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে আরেকটি মামলা করানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি ‘সিন্ডিকেটের’ মতো মনে হচ্ছে। তিশা বলেন, কেউ নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করুক এটি তিনি সমর্থন করেন না। সাধারণ নাগরিক হিসেবেও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি তিনি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তানজিন তিশা বলেন, তার কাছে প্রকৃত ক্ষমতা হলো দর্শক ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। মামলাটির বিষয়ে আদালতের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করেন অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, পেজটি থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেওয়ার পর সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করে।
মামলার পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রতারণা করেননি।
সালমান শাহ
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ অগাস্টের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।
এ মামলায় গত ৯ অগাস্ট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল সিআইডি পুলিশ। রিমান্ড শেষে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গেল বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। সেই সময় চলচ্চিত্র জগতে তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর পর অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছিলেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।
তখন অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগটি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি বলেছিল, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন।
সিআইডির সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরপর মামলাটি তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ মামলাটি র্যাবকে আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের তরফে কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে; তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে রমনা মডেল থানাকে হত্যা মামলার নির্দেশ দেয়।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেডিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
তারাসহ অচেনা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করে বলে এজাহারে বলা হয়েছে। মামলার তদন্তভার শুরুতে রমনা থানা পুলিশের থাকলেও পরে সেই দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়।