টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গোপনেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিশ্বখ্যাত পপ সুপারস্টার টেইলর সুইফট ও মার্কিন ফুটবল তারকা ট্রাভিস কেলসি। নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ব্যাপক উৎসবের প্রস্তুতির মাঝেই তাদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে।
ম্যাডিসনেই শুক্রবার জমকালো উদযাপনে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। টেইলর সুইফটের দীর্ঘদিনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ট্রি পেইন তাদের বিয়ের ঘোষণার একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে বর ও কনে দুজনেই বিয়ের বিশেষ পোশাক পরেছিলেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার পর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে টেইলর ও ক্যালিসের নামের আদ্যাক্ষরসহ বিয়ের খবর দিয়ে একটি সাইনবোর্ড তুলতে দেখা যায়। ওই সাইনবোর্ডে ‘জাস্ট টিঅ্যান্ডটি, ম্যারিড’লেখা দেখা গেছে। সেখানে সুইফটের জনপ্রিয় গানের কথা ‘একটি প্রেমের গল্প’ও লেখা ছিল।
ট্রি পেইন জানিয়েছেন, বিয়েতে বর-কনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা ছিলেন না। টেইলর সুইফটের ভাই অস্টিন সুইফট তার ‘ম্যান অফ অনার’ এবং কেলসির ভাই জেসন তার ‘বেস্ট ম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এতে বলা হয়েছে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পরিবার একত্রিত হয়েছে। বন্ধু কৌতুক অভিনেতা অ্যাডাম স্যান্ডলার বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
শুক্রবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের চারপাশের রাস্তাগুলোতে সুইফট-কেলসির নানা বয়সের ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাধারণ পথচারীর ভিড় করেন। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের সামনের সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বৃহস্পতিবার থেকে। জমকালো এই আয়োজনকে বিবিসি, সিএনএনসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে ‘রাজকীয় বিয়ে’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। শতাব্দীর সেরা আয়োজনের বিয়ে হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে। অনুষ্ঠান দুইদিনব্যাপী-বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার। প্রথমদিন অতিথি ছিলেন ১০০ জন, কিছুটা ঘরোয়া আয়োজনে। অর্থাৎ যাদের সুইফট ও কেলসি ভাবেন ঘনিষ্ঠজন, তারাই ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে। আর শুক্রবার সেই সংখ্যা বেড়ে হাজারজনে দাঁড়ায়। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম একটি শহরের কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই বিশাল অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে অবিশ্বাস্য পর্যায়ের গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এর মধ্যে খবর আসে যুক্তরাষ্ট্রের পপসংগীতের তারকা টেইলর সুইফট ও আমেরিকান ফুটবলার তারকা ট্রাভিস কেলসি নাকি বিয়ে আগেই গোপনে সেরে নিয়েছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী এই দম্পতি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ‘অল্প কিছু প্রিয়জনের’ উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন। তবে ঠিক কবে বা কোথায় এই বিয়ে হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সুইফটের ব্যক্তিগত জেট বিমানটি সম্প্রতি ন্যাশভিলে দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় সেখানেই হয়তো গোপন এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছিল
নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে জমকালো উদযাপনের প্রস্তুতির মধ্যেই নিউইয়র্ক পোস্টের পেজ সিক্স এই তথ্য জানালো। এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ৩৬ বছর বয়সী এই তারকা জুটি ইতিমধ্যেই খুব সীমিত পরিসরে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন। গত বছরের ২৬ আগস্ট বাগদান সারেন টেইলর ও কেলসি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায় দুজনকে।
তানজিন তিশা
প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ১২ জুলাই তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকার আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশন’ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছিলেন তানজিন তিশা। ওই শাড়িটির প্রচারণা করবেন এবং এর মূল্য পরিশোধ করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে শাড়িটির মূল্য পরিশোধ না করে তানজিন তিশা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলা দায়েরের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দেন আদালত। পরে ডিবির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়।
ডিবির তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। একই সঙ্গে তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
দেড় বছর ধরে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন চিত্রনায়ক ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবারও লন্ডনে ফিরেছেন তিনি।
আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জামাতার সঙ্গে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এই অভিনেতা। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মিরাজুল মঈন জয়। ৩ আগস্ট চিকিৎসার এক পর্যায়ে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার কারণে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে এই ১০ দিনে পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে। কাকরাইলে নিসচার কার্যালয়েও যান। বাসায় দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে দেখতে এলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডায়ও মেতে ওঠেন।
লন্ডনে ফেরার আগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়ায় নিজের গ্রামের বাড়িতে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে দেখা করেন এবং পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করেন। বেলা দুইটার পর ঢাকায় ফেরেন তিনি।
আজ সকালে তাঁর ফ্লাইট ছিল, তবে নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর বিমানটি ঢাকা ছাড়ে। ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জয় বলেন, ‘এই কয়েকটা দিন আব্বার দারুণ সময় কেটেছে। তাঁর সহকর্মীরা এসেছেন। মন খুলে তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন। এই ব্যাপারগুলো আব্বুকে বেশ আনন্দ দিয়েছে। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান চিকিৎসা প্রসঙ্গে জয় জানান, কেমোথেরাপির ধাপ শেষ হয়েছে। এবার তাঁকে ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে আমার আব্বুর জন্য দোয়া চাই।’
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিল থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকেরা জানান, সেটি ব্রেন ক্যানসার।
অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের দীর্ঘ চিকিৎসা। প্রথম ধাপে টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে ৫ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে তাঁকে। এরপর প্রথম ধাপের তিন মাসের ওরাল থেরাপি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপেও আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নেন তিনি। তিন ধাপে সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক কেমোথেরাপি নিয়েছেন এই অভিনেতা।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এদিকে দেড় বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকতে থাকতে দেশে ফেরার জন্য তাঁর মনও টানছিল। তৃতীয় ধাপের থেরাপি শেষ হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান তিনি। তাঁর সেই ইচ্ছাতেই এবার তাঁকে দেশে আনা হয়।
ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মঈন জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা বলেছেন, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার যে স্থানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও তা ছড়িয়ে পড়েনি। চিকিৎসকেরা এটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। এবার লন্ডনে ফিরে ইমিউনোথেরাপির পরবর্তী ধাপ শুরু হবে তাঁর।
খান আসিফুর রহমান আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত
‘নেটদুনিয়ায় সবার জন্য সব কিছু খোলা থাকায় দেশে ভয়ংকর পরিস্থিতি নেমে এসেছে। নীল ছবি বেশি দেখার তালিকায় পৃথিবীর ২০৬টি দেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমার দেশ’। দেশের সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।
তিনি বলেন, ‘মাসে ৭৫ হাজার কোটি টাকার মদ, দেড় হাজার কোটি টাকার সিগারেটে ব্যয় করে এ দেশের মানুষ। এরপরও অনেকে বড় মুখ করে বলেন - আমার দেশ গরিব। এদেশে এমন লোকও আছে যারা ব্র্যান্ড ছাড়া পোশাক কিনেন না। ব্র্যান্ডের পোশাক কেনার পর আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে সে কথা জানান সবাইকে। আমার এসব আচরণ একদমই অপছন্দ। আমি মনে করি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনকিছুই ভালো না।’
আগুন আরও বলেন, কিছু মানুষের জন্য সমাজে আরও অনেক অসঙ্গতি দেখা যায়। এক স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিশ্বের সবকিছু আজ হাতের মুঠোয়। এটা ভালো দিক। কিন্তু একজন রুচিশীল, শিক্ষিত ওই স্মার্টফোন দিয়ে যা দেখতে বা জানতে চাইবে একজন রুচিহীন বা অশিক্ষিত কেউ কিন্তু তা দেখতে বা জানতে চাইবে না। তারা অশৈল্পিক জিনিসের প্রতিই বেশি ঝুঁকবে। তাই সবার কাছে সব টেকনোলজি খুলে রাখা উচিত নয় বলে আমি মনে করি।
অনেকটা আফসোস করে আগুন জানান, চলচ্চিত্রে এখন ১৮ প্লাস ক্যাটাগরির সিনেমা মানেও অসঙ্গতি। দেশে শিশুদের ‘আদর্শ লিপি’ বই আর পড়ার চল নেই। তাহলে আদর্শ মানুষ কীভাবে তৈরি হবে?
মিডিয়াতেও উদ্ধত মানুষের অভাব নেই বলে মনে করেন আগুন। তিনি বলেন, এক, দুইটা কাজ হিট হলেই সে ভাব নিয়ে চলতে শুরু করে। মোবাইলে ভারতের শাহরুখ খানের সিনেমা দেখে আর প্রেক্ষাগৃহে তার সিনেমা রিলিজ আটকায়। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সিনেমা আটকাতে চাওয়ার কারণই হলো দেশের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা যে কিছু পারে না, সে গোমর ফাঁস হওয়ার ভয়। এ দোষ তাদের দিয়েও লাভ নেই। সর্বক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় তাদের নামার একটাই কারণ আমি মনে করি। আর তাহলো মুক্ত আকাশ দেখার সৌভাগ্য কখনও হয়নি এদের; আর কখনো হবেও না।
প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমান ও সংগীতশিল্পী নীলুফার ইয়াসমীন দম্পতির একমাত্র ছেলে তিনি। কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ভালো অভিনেতাও। নিজের পরিবার, ক্যারিয়ার ও অর্থ সম্পত্তি নিয়ে কখনও তাকে অহংকার করতে দেখা যায়নি।
সঙ্গীত শিল্পী খান আসিফুর রহমান আগুন।
কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ও চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের পুত্র তিনি। খান আসিফুর রহমান। তবে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত আগুন নামে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। সালমান শাহ অভিনীত বহু গানে তার কণ্ঠ ছড়িয়ে গিয়েছিল দেশের আনাচে-কানাচে।
তবে গত এক-দেড় দশকে গানে নিয়মিত নন আগুন। ২০২১ সালে ‘শত্রু’ সিনেমায় পাওয়া গিয়েছিল তার গান। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবার সিনেমার গানে ফিরলেন এই শিল্পী।
সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘স্বপ্নের নায়িকা’ সিনেমার টাইটেল গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আগুন। গানটির কথা লিখেছেন নিশাত তাসনিম ও সরয়ার হোসেন। সুর ও সংগীত করেছেন আনোয়ার শিকদার টিটন। গানটিতে আগুনের সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেন তানজিনা রুমা।
টিটন জানান, আগুন দেশের চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের গায়ক। গানটি করার সময়ই তার কথা মাথায় রেখেছিলেন তিনি। পরে সুর-সংগীত সাজানোর পর শিল্পীকে পাঠান, তিনিও পছন্দ করেন। আনন্দ নিয়েই সেরেছেন রেকর্ডিং।
উল্লেখ্য, সালমান শাহ ও মৌসুমীর প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর গান দিয়ে অভিষেক হয় আগুনের। প্রথম সিনেমার গানেই বাজিমাৎ। এরপর আগুন গেয়েছেন ‘দোলা’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘দেনমোহর’, ‘আশা ভালোবাসা’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘বিচার হবে’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘আম্মাজান’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘হাছন রাজা’, ‘১ টাকার বউ’, ‘আমার আছে জল’সহ অনেক সিনেমায়।
রাজনীতি আর সংঘাতের জেরে প্রায় এক দশক ধরে ভারতে গান গাওয়া নিষিদ্ধ পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন। ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন।
তাই যারা তাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন, উল্টো তাদেরই ধন্যবাদ জানিয়েছেন আতিফ। ইউটিউবার ক্রিস ফেড-এর টকশোতে সম্প্রতি উপস্থিত হয়ে নিজের মিউজিক ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন ‘তেরে বিন’খ্যাত এই গায়ক।
আতিফ আসলাম বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর হতে চলল ভারতে আমার গান গাওয়া নিষিদ্ধ। এটি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, তারা পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীরা নিষিদ্ধ। তবে এই এক দশকে আমার গান থেমে থাকেনি।’
তার কথায়, ‘ভারতীয় ভক্তরা এখনো ভিপিএন ব্যবহার করে আমার গান শোনেন। তারা সিডি বার্ন করে একে অপরের হাতে পৌঁছে দেন। যদিও আমি পাইরেসি সমর্থন করি না, তবে সত্য এটাই সংগীতের পৌঁছানোর জায়গায় ঠিকই পৌঁছে যায়।’
কাজের জায়গা নিয়ে কোনো আফসোস নেই জানিয়ে আতিফ আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা সবসময় বলতে চেয়েছি আমি ভারতীয় ভক্তদের মিস করি, তবে সেখানে কাজ করাটা মিস করি না। প্লেব্যাক থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু যদি এই নিষেধাজ্ঞা না আসত, তবে হয়তো আমি নিজে স্বাধীনভাবে গান তৈরি করতে পারতাম না। নিজেকে নতুনভাবে চেনার এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে সেখানে নিষিদ্ধ করেছিলেন।’
বলিউডে ‘আদাত’, ‘ওহ লমহো’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরা হোনে লাগা হু’ ও ‘জিনা জিনা’র মতো একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন আতিফ। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকলেও ডিজিটাল দুনিয়া ও কনসার্ট মঞ্চে তার জনপ্রিয়তা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই পাকিস্তানি সংগীত তারকা।
সংগীতশিল্পী হাসান। ছবিঃ ফেসবুক
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্ট কিংবদন্তি শিল্পী হাসানের মাথায় বোতল ছুঁড়ে মারায় বিতর্ক বাড়াতে চাইলেন না হাসান। বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতেই দেখতে চান তিনি। তবে আহ্বান করলেন, শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার না করার।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া তার এক পোস্টে হাসান নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘ঘটনাটি আমার কাছে খুবই অপ্রত্যাশিত। দীর্ঘ সংগীতজীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি কখনো হইনি। বহু বছর ধরে বাংলা ব্যান্ড সংগীত করছি। এই সময়ে বিচিত্র অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু মঞ্চে একজন শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারা হতে পারে, এমনটা কখনো দেখিনি বা ভাবিনি। তারপরও আমি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে চাই। আমি বিশ্বাস করতে চাই, যে এমনটি করেছে, সে হয়তো না বুঝেই করেছে।’
দেশের শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়টি জোর দিয়ে তিনি আরও লেখেন, ‘আমার একটাই অনুরোধ, ভবিষ্যতে আমার দেশের কোনো শিল্পীই যেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন। কনসার্টে আসা মানুষের মনে রাখা উচিত, শিল্পীরা এই দেশের, শিল্পীরা সবার। তারা এ দেশের মানুষের জন্যই গান করেন। বিনিময়ে তারা শুধু মানুষের ভালোবাসা চান। কোনো শিল্পীকে এভাবে অসম্মান করা বা অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করা উচিত নয়।’
শিল্পীদের দলীয় পরিচয়ে বিচার না করার আকুল আবেদন জানিয়ে আর্ক ব্যান্ডের এই শিল্পী লেখেন, ‘আমাদের দেশে অনেক সময় শিল্পীদের রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করা হয়, এটা ঠিক নয়। একজন শিল্পী পাঁচ বা দশ বছরের জন্য শিল্পী নন, তিনি আজীবনের জন্যই শিল্পী। বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক নানা আয়োজনে শিল্পীদের গান গাইতে হয়। তাই বলে তাকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে ফেলে বিচার করা উচিত নয়। শিল্পীরা মানুষকে ভালোবেসে গান শোনান। তাই তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সবার দায়িত্ব।’
হাসানের এই স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে সংগীতাঙ্গনের ছোট-বড় অনেক শিল্পী। তরুণ সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান আক্ষেপ করে মন্তব্যে লেখেন, ‘আমরা এরকমই অশিক্ষিত এবং গন্ড মূর্খ। আমরা গুণীর কদর করতে জানি না ভাইয়া। ক্ষমা করবেন!’ একইভাবে অসংখ্য ভক্ত ও নেটিজেন মন্তব্যে লজ্জিত প্রকাশ করে গুণী এই শিল্পীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
এই কনসার্টে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর কে বা কারা এটি করেছে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে সংগীত ও অভিনয় অঙ্গনের তারকারা এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ফ্রি কনসার্টের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রিন্স মাহমুদ, মীর মাসুম, মিশা সওদাগর, রবি চৌধুরী, লুৎফর হাসান ও তানভীর তারেকের মতো শিল্পীরা ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।