ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’ সিনেমার ‘লাগে উরাধুরা’ ও ‘দুষ্টু কোকিল’ শিরোনামের দুই গান।
ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছে রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তুফান’ সিনেমার দুই গান। শাকিব খান অভিনীত এ ছবির ‘লাগে উরাধুরা’ ও ‘দুষ্টু কোকিল’ শিরোনামের দুই গান ইউটিউবে ১ বিলিয়ন অর্থাৎ ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক পার করেছে। গত বছরের ২৮ মে ইউটিউবে প্রকাশ পায় ‘তুফান’ সিনেমার প্রথম গান ‘লাগে উরাধুরা’। ‘লাগে উরাধুরা’ গানটির কোরাস অংশ লেখা শরীফ উদ্দিনের, বাকি গানটি লিখেছেন রাসেল মাহমুদ, সুর ও সংগীত প্রীতম হাসানের। এতে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রীতম হাসান ও দেবশ্রী অন্তরা। চরকি ও এসবিএফের ইউটিউব চ্যানেল মিলিয়ে এ গানের ভিউ ৪৪ কোটি ৯৫ লাখের বেশি। এর মাঝে চরকির ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৩৩ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজারের বেশি আর এসবিএফে ভিউ ছাড়িয়েছে ১১ কোটি ২৬ লাখ ৩১ হাজারের বেশি।
গত বছরের ২০ জুন অফিশিয়ালি দুটি ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় এ ছবির গান ‘দুষ্টু কোকিল’। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ঢাকার দিলশাদ নাহার কনা ও কলকাতার আকাশ সেন। গানটির গীতিকার ও সুরকারও আকাশ সেন। গানটির চিত্রায়ণে দেখা যায়, একটি পানশালায় এই গানে পারফর্ম করছেন মিমি চক্রবর্তী, তাঁকে দেখেই প্রেমে পড়ে যান নায়ক শাকিব খান। চরকি ও এসবিএফের ইউটিউব চ্যানেল মিলিয়ে এ গানের ভিউ ৫০ কোটির বেশি। এর মাঝে চরকির ইউটিউবে গানটি দেখা হয়েছে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ৪৮ হাজার বারের বেশি আর এসবিএফ ইউটিউবে ১৬ কোটি ৪০ লাখ বারের বেশি।
দর্শকের প্রতিক্রিয়া
প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই গান দুটি ভাইরাল হয়। দেশ-বিদেশের কয়েক শ ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মেতে ওঠেন ‘তুফান’ সিনেমার দুই গান নিয়ে। সেখানে তাক লাগানোর মতো ছিল গানটি নিয়ে ইউটিউবারদের উচ্ছ্বাস। যাঁরা মূলত হিন্দি বা দক্ষিণী সিনেমা, সিরিজের রিভিউ করেন, এমন অনেক ইউটিউবারের প্রশংসা পায় গানটি। ইউটিউব শর্টস, ফেসবুক রিলস, টিকটকসহ নানা মাধ্যমে হয়ে ওঠে বহুল চর্চিত বিষয়। ইউটিউবের মন্তব্যেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্রোতারা। গান দুটিতে মন্তব্য জমা হয়েছে লাখের বেশি।
উচ্ছ্বসিত শিল্পীরাও
এই মাইলফলকে সংগীতশিল্পী কনা বলেন, ‘অবশ্যই অনেক অনেক ভালো লাগার খবর। গানটি নিয়ে মানুষের এত এত ভালোবাসা পেয়েছি, তা বলে শেষ করা যাবে না। মঞ্চে যখন পারফর্ম করি, দর্শকের মাঝে এত উচ্ছ্বাস দেখি, অনেক ভালো লাগে। এ গান ছাড়াও আমার আরও কিছু সিনেমার গান মানুষের সাড়া পেয়েছে, শিল্পী হিসেবে এটা অনেক বড় পাওয়া। যদিও ভিউয়ের জন্য গান করি না, তবে ভিউকে অস্বীকার করার সুযোগও নেই। মানুষ ভালোবাসে বলেই ভিউ হয়।’
চলতি বছরের জুলাইয়ে ইউটিউবে ৫০ কোটি ভিউ পার করে ‘দুষ্টু কোকিল’। এত কম সময়ে ইউটিউবে দেশি বাংলা সিনেমার কোনো গানে এটি নতুন রেকর্ড। প্রথম আলোর কাছে এ মাইলফলকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন আকাশ সেন। কলকাতা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে জানান, এত কম সময়ে এত মানুষের ভালোবাসা, যেকোনো সংগীতশিল্পীর জন্যই অনেক বড় পাওয়া। আকাশ সেন বলেন, ‘দেখুন, একদিন আমি থাকব না। গানটা থাকবে। এত মানুষের ভালোবাসার উত্তর দেওয়ার ভাষা আমার নেই। গানটি শুধু বাংলাদেশে নয়, কলকাতাসহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মানুষও পছন্দ করেছেন। এমনকি ব্যাংকক থেকেও বন্ধুরা কল করে জানিয়েছেন, সেখানকার নানা পার্টিতে এ গান বেজেছে। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে।’
গানটি তৈরির পেছনের গল্পও শুনিয়েছিলেন আকাশ সেন। বলেছিলেন, ‘আমার বাড়ির পাশে একটি আমগাছ আছে। বসন্তকালে সেখানে সারা দিন কোকিল ডাকাডাকি করে। এক কোকিল আরেক কোকিলকে মুগ্ধ করতেই এভাবে ডাকাডাকি করে। এভাবে সবার সামনে কোকিল প্রেম নিবেদন করে বলেই তাকে দুষ্টু বলা হয়েছে। এই মজা থেকেই গানের জন্ম।’
গানটি কিন্তু অন্য একটি সিনেমার জন্য তৈরি করেছিলেন আকাশ। কিন্তু সে সিনেমার প্রযোজকের পছন্দ না হওয়ায় গানটি নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। গায়িকা কনা গানটি রায়হান রাফীকে শোনান। পরিচালক সিনেমার জন্য গানটি পছন্দ করেন।
এ মাইলফলকের পুরো কৃতিত্ব দর্শকদের দেন আকাশ সেন। তাঁর কথায়, ‘শ্রোতারাই সবকিছু।’ তিনি বলেন, ‘জীবনে প্রথম গান যখন বানিয়েছিলাম, সেদিনও মনে হয়েছিল, একটা মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেক শ্রোতাকে গানটি শোনাচ্ছি। শ্রোতারা নতুন গানটি শুনে রোমাঞ্চিত হচ্ছেন। তো আমি যে গানই বানাই না কেন, পরিচালক-প্রযোজক থেকে হয়তো আইডিয়াটা নিই, কিন্তু আমার সামনে থাকেন সেই লাখো কোটি শ্রোতা; তাঁদের আবেগ, পছন্দই আমার মাথায় কাজ করে। গানটির মাধ্যমে এত শ্রোতার কাছে যে আমি পৌঁছাতে পেরেছি, এটাই আমার কাছে বড় আনন্দের।’
বাংলা সিনেমার এ জোয়ার অব্যাহত থাকুক
শুধু গানেই নয়, বক্স অফিসেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে ‘তুফান’। বলা যায় এরপর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলা কমার্শিয়াল সিনেমার বাজার। ১০০ কোটির মাইলফলকে উচ্ছ্বসিত নির্মাতা রায়হান রাফীও। প্রথম আলোকে এ নির্মাতা বলেন, ‘“তুফান” সিনেমার পর বাংলাদেশের সিনেমার একটা জোয়ার অব্যাহত আছে। মানুষ হলে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযোজকেরা ইন্ডাস্ট্রিতে আসছেন। এ জোয়ার অব্যাহত থাকুক।’
গত বছরের ১৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’। দেশের বাইরেও ‘তুফান’ তোলে এ সিনেমা। আদনান আদিব খান, রায়হান রাফীর গল্পে, আদনান আদিব খানের চিত্রনাট্যে ‘তুফান’ সিনেমায় শাকিব খানকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যায়। নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভারতের মিমি চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের নাবিলা। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে আলফা-আই স্টুডিওজ লিমিটেড; ডিজিটাল পার্টনার চরকি এবং ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর এসভিএফ।বাংলা সিনেমার এ জোয়ার অব্যাহত থাকুক।
শুধু গানেই নয়, বক্স অফিসেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে ‘তুফান’। বলা যায় এরপর ঘুরে দাঁড়ায় বাংলা কমার্শিয়াল সিনেমার বাজার। ১০০ কোটির মাইলফলকে উচ্ছ্বসিত নির্মাতা রায়হান রাফীও। প্রথম আলোকে এ নির্মাতা বলেন, ‘“তুফান” সিনেমার পর বাংলাদেশের সিনেমার একটা জোয়ার অব্যাহত আছে। মানুষ হলে যাচ্ছে। নতুন নতুন প্রযোজকেরা ইন্ডাস্ট্রিতে আসছেন। এ জোয়ার অব্যাহত থাকুক।’
গত বছরের ১৭ জুন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’। দেশের বাইরেও ‘তুফান’ তোলে এ সিনেমা। আদনান আদিব খান, রায়হান রাফীর গল্পে, আদনান আদিব খানের চিত্রনাট্যে ‘তুফান’ সিনেমায় শাকিব খানকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যায়। নায়কের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ভারতের মিমি চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশের নাবিলা। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে আলফা-আই স্টুডিওজ লিমিটেড; ডিজিটাল পার্টনার চরকি এবং ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিবিউটর এসভিএফ।
ছবি : সংগৃহীত
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব গত বছরই কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এ খবর অবশ্য এখন পুরোনো। কিন্তু মেয়ের ছবি প্রকাশ্যে আনেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
কিন্তু ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, গত ১২ ডিসেম্বর অভিনেতার মেয়ে আনায়ার জন্ম হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয়।
এবার প্রায় এক বছর পর সেই ভুল ভাঙালেন অভিনেতা অপূর্ব। জানালেন, আজ (১৫ অক্টোবর) তার মেয়ের বিশেষ দিন, অর্থাৎতার মেয়ের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেয়ের দুটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার মেয়ে গত বছরের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল।
এ অভিনেতা মেয়ের বিশেষ দিনে বিশেষ বার্তায় লিখেছেন, ‘তোমাকে ভালোবাসার ৩৬৫ দিন। আমাদের ছোট্ট রাজকন্যার প্রথম জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সত্যিই বুঝতে পারিনি, দেখতে দেখতে কীভাবে সময়টা পেরিয়ে গেল। ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে তুমি পৃথিবীতে এসেছিলে, আর মুহূর্তেই অপার সৌন্দর্যে বদলে দিয়েছিলে সবকিছু।’
রাজকন্যার বেড়ে ওঠা দেখতে পারাই যেন অভিনেতা এবং তার স্ত্রী শাম্মা দেয়ানের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। এ ব্যাপারে অপূর্ব লিখেছেন, ‘তোমার বেড়ে ওঠা, নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা, আর তোমার মিষ্টি হাসি ও আনন্দে আমার ঘর ভরিয়ে তোলা, এসব দেখা এই জীবনের বড় প্রাপ্তি। আজ তোমার মাথায় হয়তো ছোট্ট একটি মুকুট শোভা পাচ্ছে, কিন্তু জন্মের সেই প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাদের হৃদয়ের রানির মুকুট পরে আছো তুমি।’
সবশেষ মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জীবন যেন সবসময় তোমার মতোই উজ্জ্বল, মায়াময় ও অমূল্য হয়ে থাকে।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা অপূর্ব। এর আগে ২০১১ সালে অদিতিকে বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে ছেলে আয়াশ রয়েছে। এরও আগে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। যদিও সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি।
করণ জোহর ও সালমান খান
ভারতের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিতর্কের নানা বিষয় উঠে এসেছে প্রযোজক ও পরিচালক করণ জহরের এই অনুষ্ঠানের আড্ডায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ তথা নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমোতেই বেশ বোঝা গেল যে, দর্শকমহলের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। অতিথি বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রচারঝলকের গোড়াতেই ভাইজানের সঙ্গে সঞ্চালককে রসিকতায় মাততে দেখা গেল।
আর সেখানেই করণ জোহরের প্রশ্নবাণে স্তম্ভিত ভাইজান!
সালমানকে স্বাগত জানিয়ে করণকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন জ্ঞানী মানুষ একবার বলেছিলেন, ‘ইটস ডান, ব্রো’। তাই আমার শেষ সিজন শুরু করার জন্য এই মানুষটির থেকে ভালো আর কে-ই হতে পারেন!’
বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের আড্ডা-গসিপ, বিতর্ক আর নানা আলোচনার ঠেক হয়ে উঠেছে করণ জোহরের টকশো। ‘কফি উইথ করণ’ মানেই নতুন সম্পর্ক, নতুন ব্রেকআপ আর নতুন গুঞ্জন!
শুধু তাই নয়, খুনসুটি করে তাকে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণের পর এবার শুরু হচ্ছে কফি উইথ সালমান।’ এরপরই বলিউড সুপারস্টারকে সরাসরি করণ জোহর জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘তুমি কি এখনও ভার্জিন (চিরকুমার)?’
এটাই অবশ্য প্রথম নয়! অতীতে একবার ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভাইজানকে। তবে এবার আর থামেননি। পালটা করণ জোহরকে সীমাজ্ঞানের পাঠ দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো।’
টিজারটি প্রকাশ্যে আসতেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এর আগেও ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে অতিথি হয়ে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির নবম মরশুমের প্রথম পর্বটি শিগগিরই প্রচার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে
শাকিব খান ও স্বামী নেহালের সঙ্গে সাবিলা নূর
শোবিজ দুনিয়ায় বইছে তারকাদের বিচ্ছেদের বাতাস। এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের বিচ্ছেদগুঞ্জন।
২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারই চলছিল তার। কিন্তু এখন নাকি একসঙ্গে থাকছেনও না তারা! বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে অনেক আগেই, যা গোপন রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে।
বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে এমন কথা। পরে বিষয়টি আসে সংবাদের শিরোনাম আকারেই! এ গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে মিলি সুলতানা নামের এক একটিভিস্ট-এর একাধিক পোস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সাবিলার অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেট থেকেই নাকি অভিনেত্রীর সংসার ভাঙার বীজ বোনা হয়েছিল। মিলি সুলতানা পোস্টে উল্লেখ করেন, শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় সাবিলা নূরের। শুধু তাই নয়, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দেশের নায়িকাদের কাছে শাকিব খান নাকি এক ভয়ানক ব্যধি। যার ভুক্তভোগী সাবিলার স্বামী নেহাল সুন্দর তাহের। সাবিলা নূর নাকি নেহালের নিয়ন্ত্রণে আর নেই, এমনটাও উল্লেখ করেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট আরও বিস্ফোরক কিছু বিষয় তুলে দাবি করেন, সাবিলা নূর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। রিহ্যাবেও ছিলেন বেশ কয়েকদিন।
নেহালের মনে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, শাকিব খানের পাল্লায় পড়ে সাবিলা নিজেকে আরও উঁচুতে ওঠাতে চেয়েছিলেন। বাসায় নাকি মদ্যপ অবস্থায়ও ফেরেন। নেহাল দেখলেন সাবিলা আর তার কবজায় নেই। এরপর মিলি সুলতানা উল্লেখ করেন, এ সকল ঘটনার কারণে নাকি সাবিলার সংসার ভেঙেছে; বিচ্ছেদ ঘটেছে। আর বিষয়টি গোপন রেখেছেন সাবিলা নূর।
সব মিলিয়ে, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে শোবিজ অঙ্গনের ভেতরে নায়িকাদের অফস্ক্রিন স্টোরির কথা তুলে ধরেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু এই পোস্টে শুধু শাকিবের দিকে আঙুল তুলে থেমে থাকেননি তিনি, পরবর্তী এক পোস্টে রকস্টার সিনেমার ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার) আবদুল মামুনের সাথে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই নাকি ভেঙে যায় সাবিলা-নেহালের সাত বছরের সংসার।
অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানা সবশেষ উল্লেখ করেন, ‘যদিও সাবিলা শাকিবের সাথে ধামাকা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন এটা সত্যি। কিন্তু তার ঘর ভাঙার জন্য রকস্টারের ক্যামেরাম্যন আব্দুল মামুনই দায়ী। এই কথাটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’
এখন কথা হলো, এই অ্যাক্টিভিস্ট-এর এই পোস্ট কেন এত সাড়া ফেলল, কেন বিষয়টি মানুষ কানে নিলো সেটা নিয়েও ভাবছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ এটাকে বানোয়াট-মনগড়া গল্প বলছেন। আবার কেউ কেউ শাকিব খানের অতীতের বাস্তবতা টেনে এটিকে সম্ভাব্য সত্যি বলেও ভাবছেন। শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা যে একটা 'রোজকার বিষয়' তা মনে করেন অনেক নেটিজেনই। কাজেই, সমালোচক, লেখক মিলি সুলতানার এই পোস্ট নানা ধরনের জল্পনা উস্কে দিলেও, শোবিজ অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও তার উল্লেখিত পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
এ প্রসঙ্গে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। অতঃপর, অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
শাহরুখ খান ও সোহানা খান
শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘কিং’ সিনেমা মুক্তির আর মাত্র দুই মাস বাকি। ছবিটির কাজও প্রায় শেষের পথে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের শুটিং। এই পর্বে শাহরুখের অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি তার মেয়ে সুহানা খানের একটি নতুন গানের শুটিং করবেন পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ।
প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নতুন করে কাজ শুরু করেন। ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্টের একটি স্টুডিওতে শাহরুখকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের ধারণ শুরু হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব দৃশ্যের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন যুক্ত হওয়া গানটির চিত্রগ্রহণে মনোযোগ দেবেন পরিচালক।
‘কিং’ সিনেমায় সুহানা খানের নাচের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে একটি বিশেষ গানের আয়োজন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে বিশাল সেট তৈরি করে এর শুটিং করা হবে। গানটির কোরিওগ্রাফিতে থাকছেন পীযূষ ভগত ও শাজিয়া সামজি।
একদিকে শুটিংয়ের শেষ পর্বের ব্যস্ততা, অন্যদিকে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
শাহরুখ খান ও সুহানা খান ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও জয়দীপ আহলাওয়াত।
নাসিমা খানম
বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম।
জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।'
অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা।
রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'
নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি।
শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা।
বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন।
সিডনিতে শাবনূর ও রবি চৌধুরী
নায়িকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে, পাশের আসনে বসে খালি গলায় গাইছেন গায়ক—ছুটির দিন শুক্রবারে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ও গায়ক। সিডনির রাস্তায় সেই গাড়ি চালাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান। গাড়ি ছুটছে, গান চলছে, সঙ্গে জমেছে আড্ডাও। নব্বইয়ের দশকের এই দুই জনপ্রিয় তারকার বন্ধুত্ব যে এত বছর পরও আগের মতোই আছে, তাই দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।
সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন রবি চৌধুরী। তাঁর আসার খবর আগেই পেয়েছিলেন শাবনূর। তাই ঠিক করে রেখেছিলেন, সময় করে একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিল। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবি চৌধুরীকে ঘুরিয়ে দেখালেন শাবনূর। আর গাড়িতে বসে বন্ধুকে গান শোনানোর দায়িত্বটা নিলেন রবি।
গাড়ি চলতে চলতে শাবনূরের অনুরোধে তাঁর খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’। একসময় যে গান পর্দায় রিয়াজ–শাবনূরের ঠোঁটে দর্শকের মন জয় করেছিল, এত বছর পর সেই গানটি ফিরে এল পুরোনো দিনের স্মৃতি।
ঘোরাঘুরির ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। উচ্ছ্বসিত শাবনূর বললেন, ‘অসাধারণ সময় কাটছে। অনেক দিন পর দেখা আমাদের। রবি ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ মজা হচ্ছে। আমরা ঘুরছি, আমি গাড়ি চালাচ্ছি আর রবি ভাইয়ের কণ্ঠে গান—দারুণ, দারুণ।’
পরে শাবনূরের ফোনে কথা বলেন রবি চৌধুরী। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষজন তো কত কী ভাবে। অথচ আমরা ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই বন্ধু। শাবনূর একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তাঁর সিনেমা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন। আর বন্ধুত্বের কারণে আমি দেখেছি, কী অসাধারণ একজন মানুষ শাবনূর।’
বন্ধুর প্রশংসা শুনে চুপ থাকেননি শাবনূরও। বললেন, ‘রবি ভাই ভালো মানুষ না হলে তো আমাদের এত বছরের বন্ধুত্ব টিকত না। বন্ধুত্বের এই সম্পর্কটা টিকে থাকুক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।’
শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।
সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান “অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন” যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা। প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।