ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২১ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

'মা'কে নিয়ে যে পরিমাণে গান তৈরি হয়েছে বা যত পরিচিতি পেয়েছে, সে তুলনায় 'বাবা' নিয়ে গান সেভাবে কমই দেখা যায়। তবে আধুনিক সময়ে 'বাবাকে' নিয়ে তৈরি হওয়া বেশ কিছু গানই মানুষের মনে ছাপ ফেলেছে। জনপ্রিয়তা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং দীর্ঘ দিন ধরে শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেওয়ার মতো বিষয় বিবেচনায় কয়েকটি গান বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। এসব গান তৈরির পেছনের গল্প বা ইতিহাস সম্পর্কে কী জানা যায়?


'বাবা' - জেমস

বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে নগর বাউলখ্যাত জেমসের কণ্ঠে গাওয়া 'বাবা' গানটির অবস্থান অনেক এগিয়ে। "বাবা কতদিন, কতদিন দেখিনা তোমায়, কেউ বলেনা তোমার মত কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়" এই গানটিকে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে বাবাকে নিয়ে সবচেয়ে আবেগঘন আধুনিক গানের একটি হিসেবেও দেখেন অনেকে।গানটির গীতিকার এবং সুরকার প্রিন্স মাহমুদ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ফারুক মাহফুজ আনাম বা জেমস নাকি এই গানটি গাইতেই আগ্রহী ছিলেন না। শিল্পী ও সুরকার তানভীর তারেকের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে সেটি উল্লেখ করেন তিনি।


সাক্ষাৎকারটি তানভীর তারেকের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। "রেকর্ডিং-এ জেমস ভাই গানটি শুনে… এই কয়েকদিন আগে মা বললাম, এখন কী বাবা... কেমন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে প্রিন্স। তখন আমি বললাম জেমস ভাই, এটা গাইতে হবে। জেমস ভাই বলে কী, আরেকটা গান দে আমারে," সে সাক্ষাৎকারে বলছিলেন মি. মাহমুদ। তখন স্টুডিওতে প্রয়াত শিল্পী হাসান আবেদুর রেজা জুয়েলও ছিলেন এবং প্রিন্স মাহমুদ তাকে বলার পর তখন তিনি গানটি গাইতে রাজি হন। "জুয়েল ভাই তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' এটা গেয়ে ফেলছে, তখন আমি জুয়েল ভাইকে বললাম আপনি বাবা গানটি গান, জেমস ভাইকে এটা দিয়ে দেই" বলছিলেন তিনি।


পরের দিন আবারও স্টুডিওতে আসেন তারা তিনজন। জেমস তখন 'বিদায় শব্দটা কেন এত যন্ত্রণাময়' গানটা শুনে রেকর্ডিং শুরুর ঠিক আগে আবার বাবা গানটা শুনতে চান। "এদিকে জুয়েল ভাই তো বাবা গানটা মোটামুটি বোধহয় তুলে ফেলছে, কিন্তু জুয়েল ভাই এত ভালো মানুষ ছিল… পরে জেমস ভাই এসে বলে ঠিক আছে এটাই গাই।" নব্বই দশকের শেষদিকে এসে প্রকাশিত সেই গান এখনও বাবা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বাবাকে হারানোর বেদনা আর স্মৃতিমেশানো সেই গান অনেকের জন্য গভীর আবেগের কারণ হয়।


'আয় খুকু আয়':  হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদার

বাবাকে নিয়ে বাংলা গানের ইতিহাসে বড় সাড়া জাগানো গান 'আয় খুকু আয়'। গানটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে। এর গীতিকার ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুরকার ছিলেন পণ্ডিত ভি. বালসারা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের কণ্ঠে গানটি জনপ্রিয়তা পায়। গানটি পরবর্তীতে আরও অনেকেই নতুন করে গেয়েছেন। কিন্তু সত্তরের দশকের সেই গানটিই আবেদন ধরে রেখেছে মানুষের মনে।


গানটি মূলত শ্রাবন্তী মজুমদারের অ্যালবামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর সুরকার ভি. বালসারার প্রাথমিকভাবে গানটি পছন্দ হয়নি, কারণ এতে কিছু ইংরেজি শব্দ বা আধুনিক ধাঁচের রূপ ছিল সেটার তেমন প্রচলন সেসময় ছিল না; কলকাতার ডিডি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে এভাবে বর্ণনা করেছিলেন মিজ মজুমদার। তার আগ্রহেই সুরকার বালসারা রাজি হন এবং তিনি চেয়েছিলেন গানটি তার সাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গাইবেন। তারা একসাথে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কাছে যান।


"আমার বুক দুরু দুরু করছে যদি হেমন্তদা বলেন আমি করবো না… হেমন্তদা পড়েই বললেন- আমি গাইবো" বলেন মিজ মজুমদার। তিনি ভি. বালসারাকে অনুরোধ করেন যেন সুরটা খুব 'সিম্পল ও মনোটনাস' হয় যেন সবাই সহজে গাইতে পারে। এরপর বাধা হয়ে দাঁড়ালো গানটা লম্বা হয়ে যাওয়া। "গানটা এত বড়, আমাদের তো তখন সাড়ে ছয় মিনিটের বেশি করা যাবে না। তো মি. বালসারা, আমি আর পুলকদা গেলাম হেমন্তদার কাছে। মি. বালসারা গিয়ে বললেন যে হেমন্তদা, যদি শেষের দুটা ভার্স (লাইন) বাদ দিয়ে দেওয়া যায় তাহলে গানটা ঠিকমতো মিউজিকে আসে"।


এভাবে বেশ অনেকগুলো সাক্ষাৎকারেই বর্ণনা করেন মিজ মজুমদার। তার ভাষায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন "গানের ওই ভার্স যদি বাদ দাও তাহলে আর গানটা দাঁড়ায় না, তুমি তোমার মিউজিক বাদ দিয়ে দাও, ফেলে দাও। এই দুটো ভার্স থাকতেই হবে"। পরে সেসব রেখেই মিউজিক কম্পোজ করেন মি. বালসারা। সেসময় গানের রেকর্ডিং এখনকার মতো বারবার করার সুযোগ ছিল না। সবাই মিলে একসাথে এক-দুইবারে যেমন হয়। এইটা তিনবার রেকর্ড করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গানটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পায়।


'বাবার মুখে শুনেছিলাম গান':  এন্ড্রু কিশোর

"আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, সেদিন থেকে গানই জীবন, গানই আমার প্রাণ" গানটি ১৯৮৪ সালের নয়নের আলো চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

গানটির সুরকার ও গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল এবং গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। নয়নের আলো চলচ্চিত্রের শুধু এই গানটিই না, প্রায় সবগুলো গানই ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। যেমন আমার বুকের মধ্যেখানে, আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, এমন বেশ কিছু গান।


প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২০১৪ সালে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এই চলচ্চিত্রের গানের কাজ পাওয়া 'হিমালয় পর্বতের চূড়ায় ওঠা'র মতো ছিল। সে সময় অনেকের মাঝে বসিয়ে কড়া মন্তব্যের মুখে তাকে পড়তে হতো বলছিলেন তিনি। "ঐ সময় তো সাউন্ডপ্রুফ রুম ছিল না, আমার বাসায় বসে বসে টিউন করতাম, ক্যাসেট রেকর্ডারে গানগুলো ধারণ করতাম। তো কখন মুরগি ডাকলো কখন কুকুর ডাকলো সেটা আমি শুনতে পেতাম না। ওরা ঠিকই গান শুনতে গিয়ে বলতো, এই মুরগী ডাকলো কেন, কুকুর ডাকলো কেন? গান আবার ঠিক করে নিয়ে আসো। এটা করতে করতে আমার জীবন বার হয়ে গেছে, এটা আমার মনে পড়ে" বলেছিলেন তিনি। আগে দেশাত্মবোধক গান করলেও নয়নের আলো'র জন্য গান তৈরিকে নিজ ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট বলে জানান তিনি।


সুরকার ও সংগীত পরিচালক ইমন সাহা বলছিলেন, ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার সময়ে মি. বুলবুল তার বাবা সত্য সাহার কাছ থেকে নানা ধরনের পরামর্শ নিতেন। "বাবা বলছে দেখ, যেটাই, করিস না কেন, আমাদের গ্রামীণ অডিএন্সটাকে, মাথায় রাখিস। ফিল্মের অডিএন্স কিন্তু গ্রামের অডিএন্স, ফোক বেজ যদি কিছু করিস তাহলে দেখবি যে জিনিসটা খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। নয়নের আলো ছবির গানগুলি শুনলেই বুঝবেন যে কোথায় জানি, একটা মাটির গন্ধ আছে" বলছিলেন ইমন সাহা। ব্যক্তিগতভাবে বাবা নিয়ে নয়নের আলো চলচ্চিত্রের গানটি ছোটবেলা থেকেই গুনগুন করে গাইতেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


সরাসরি বাবা নিয়ে না, কিন্তু

এমন বেশ কিছু গান রয়েছে যেগুলো ঠিক বাবাকে নিয়ে গান না, কিন্তু মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত। এর মাঝে প্রথমেই থাকবে মান্না দের 'তুই কি আমার পুতুল পুতুল সেই ছোট্ট মেয়ে' যেটি মেয়েকে নিয়ে বাবার গান। গানটি নিয়ে মান্না দে তার আত্মজীবনী 'জীবনের জলসা ঘরে' বইতে উল্লেখ করেছেন, গীতিকার মিল্টু ঘোষের লেখা গানটি সুপর্ণকান্তি ঘোষকে গানটি সুর করতে বলেছিলেন তিনি সঙ্গীত পরিচালক নচিকেতা ঘোষের ছেলে সুপর্ণকান্তিকে তিনি খোকা বলতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই খোকার গানটির কথা সেভাবে পছন্দ হয়নি। কিন্তু সেটা অবিবাহিত তরুণ খোকার জন্য স্বাভাবিক বলেই বর্ণনা করেন তিনি।


"মেয়েকে বিদায় দেওয়ার নাড়ী-ছেঁড়া অসহ্য যন্ত্রণার সে অভিজ্ঞতা আমার আছে। দু'-দু'বার সেই নাড়ী-ছেঁড়া যন্ত্রণায় কেঁদেছি আমি। তাই আমি জানি ভাষাটা সত্যিই মনের কথা থেকেই হয়েছে" মান্না দে লেখেন। দুই জন কন্যাসন্তানের পিতা হিসেবে মান্না দে'র মন ছুঁয়েছিল সেই গান। আরেকটি 'গান বাবা বলে গেল আর কোনোদিন গান করো না' যেটি লিখেছেন আমজাদ হোসেন, সুর করেছেন আলাউদ্দিন আলীর ও গেয়েছেন শামীমা ইয়াসমিন দিবা। বাবার শাসন থেকে শুরু হওয়া এই গানটির মূল থিম অবশ্য 'গান গাওয়া', বাবা নয়। তবে 'জন্ম থেকে জ্বলছি' চলচ্চিত্রের এই গানটি অনেক বেশি পরিচিত।


বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ: তানভীর ইভান

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব পরিচিত হয়ে ওঠা গান 'বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ, বলো তোমার মতো করবে কে শাসন'। পিরান খানের সুরে গাওয়া এই গানটি মূলত 'আপন' নামের একটি নাটকের জন্য গাওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে শিল্পী তানভীর ইভান দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন নাটকটির "পরিচালক অমি ভাই পিরানকে ফোন করে বলেন, বাবাকে নিয়ে একটা গান লাগবে। পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমরা বসে গানটা তৈরি করি। তানজিব সৌরভের লেখা কথায় সুর করেন পিরান। মেহেদীবাগের (চট্টগ্রাম) স্টুডিওতে গানটা তৈরি করি"।


এই গানটির ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া ছাড়াও গানটি শুনে মি. ইভানের বাবা-মা আবেগে কেঁদেছেন, সেটা তার জন্য একটা বড় পাওয়া। আরও অনেক গানই আছে বাবা নিয়ে যেগুলো মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। যেমন গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা সৈয়দ আব্দুল হাদীর গাওয়া 'বাবার কথা মনে পড়ে,' আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে 'বাবা তোমার কথা মনে পড়ে' আসিফ আকবরের 'বাবা নেই', গীতিকবি মিল্টন খন্দকারের 'আমি যাচ্ছি বাবা' (গেয়েছেন ঝিনুক) বা 'বাবা তোমার ছেলে আজ বড় হয়েছে' (গেয়েছেন মনির খান), এমন অনেক গানই রয়েছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে 'জংলি' চলচ্চিত্রে প্রিন্স মাহমুদের পরিচালনায় 'বাবা তোমায় ছাড়া' গানটিও বেশ পরিচিতি পেয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব গত বছরই কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এ খবর অবশ্য এখন পুরোনো। কিন্তু মেয়ের ছবি প্রকাশ্যে আনেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। 


কিন্তু ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, গত ১২ ডিসেম্বর অভিনেতার মেয়ে আনায়ার জন্ম হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয়।


এবার প্রায় এক বছর পর সেই ভুল ভাঙালেন অভিনেতা অপূর্ব। জানালেন, আজ (১৫ অক্টোবর) তার মেয়ের বিশেষ দিন, অর্থাৎতার মেয়ের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেয়ের দুটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার মেয়ে গত বছরের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল।


এ অভিনেতা মেয়ের বিশেষ দিনে বিশেষ বার্তায় লিখেছেন, ‘তোমাকে ভালোবাসার ৩৬৫ দিন। আমাদের ছোট্ট রাজকন্যার প্রথম জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সত্যিই বুঝতে পারিনি, দেখতে দেখতে কীভাবে সময়টা পেরিয়ে গেল। ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে তুমি পৃথিবীতে এসেছিলে, আর মুহূর্তেই অপার সৌন্দর্যে বদলে দিয়েছিলে সবকিছু।’


রাজকন্যার বেড়ে ওঠা দেখতে পারাই যেন অভিনেতা এবং তার স্ত্রী শাম্মা দেয়ানের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। এ ব্যাপারে অপূর্ব লিখেছেন, ‘তোমার বেড়ে ওঠা, নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা, আর তোমার মিষ্টি হাসি ও আনন্দে আমার ঘর ভরিয়ে তোলা, এসব দেখা এই জীবনের বড় প্রাপ্তি। আজ তোমার মাথায় হয়তো ছোট্ট একটি মুকুট শোভা পাচ্ছে, কিন্তু জন্মের সেই প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাদের হৃদয়ের রানির মুকুট পরে আছো তুমি।’


সবশেষ মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জীবন যেন সবসময় তোমার মতোই উজ্জ্বল, মায়াময় ও অমূল্য হয়ে থাকে।’


প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা অপূর্ব। এর আগে ২০১১ সালে অদিতিকে বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে ছেলে আয়াশ রয়েছে। এরও আগে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। যদিও সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি।

সর্বশেষ সব খবর

করণ জোহর ও সালমান খান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৫ পিএম

ভারতের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিতর্কের নানা বিষয় উঠে এসেছে প্রযোজক ও পরিচালক করণ জহরের এই অনুষ্ঠানের আড্ডায়।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ তথা নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমোতেই বেশ বোঝা গেল যে, দর্শকমহলের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। অতিথি বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রচারঝলকের গোড়াতেই ভাইজানের সঙ্গে সঞ্চালককে রসিকতায় মাততে দেখা গেল।


 আর সেখানেই করণ জোহরের প্রশ্নবাণে স্তম্ভিত ভাইজান!


সালমানকে স্বাগত জানিয়ে করণকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন জ্ঞানী মানুষ একবার বলেছিলেন, ‘ইটস ডান, ব্রো’। তাই আমার শেষ সিজন শুরু করার জন্য এই মানুষটির থেকে ভালো আর কে-ই হতে পারেন!’


বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের আড্ডা-গসিপ, বিতর্ক আর নানা আলোচনার ঠেক হয়ে উঠেছে করণ জোহরের টকশো। ‘কফি উইথ করণ’ মানেই নতুন সম্পর্ক, নতুন ব্রেকআপ আর নতুন গুঞ্জন!


শুধু তাই নয়, খুনসুটি করে তাকে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণের পর এবার শুরু হচ্ছে কফি উইথ সালমান।’ এরপরই বলিউড সুপারস্টারকে সরাসরি করণ জোহর জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘তুমি কি এখনও ভার্জিন (চিরকুমার)?’


এটাই অবশ্য প্রথম নয়! অতীতে একবার ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভাইজানকে। তবে এবার আর থামেননি। পালটা করণ জোহরকে সীমাজ্ঞানের পাঠ দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো।’


টিজারটি প্রকাশ্যে আসতেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এর আগেও ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে অতিথি হয়ে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির নবম মরশুমের প্রথম পর্বটি শিগগিরই প্রচার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে

সর্বশেষ সব খবর

শাকিব খান ও স্বামী নেহালের সঙ্গে সাবিলা নূর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ পিএম

শোবিজ দুনিয়ায় বইছে তারকাদের বিচ্ছেদের বাতাস। এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের বিচ্ছেদগুঞ্জন। 


২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারই চলছিল তার। কিন্তু এখন নাকি একসঙ্গে থাকছেনও না তারা! বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে অনেক আগেই, যা গোপন রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে।


বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে এমন কথা। পরে বিষয়টি আসে সংবাদের শিরোনাম আকারেই! এ গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে মিলি সুলতানা নামের এক একটিভিস্ট-এর একাধিক পোস্ট।


সেই অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সাবিলার অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেট থেকেই নাকি অভিনেত্রীর সংসার ভাঙার বীজ বোনা হয়েছিল। মিলি সুলতানা পোস্টে উল্লেখ করেন, শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় সাবিলা নূরের। শুধু তাই নয়, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দেশের নায়িকাদের কাছে শাকিব খান নাকি এক ভয়ানক ব্যধি। যার ভুক্তভোগী সাবিলার স্বামী নেহাল সুন্দর তাহের। সাবিলা নূর নাকি নেহালের নিয়ন্ত্রণে আর নেই, এমনটাও উল্লেখ করেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। 


সেই অ্যাক্টিভিস্ট আরও বিস্ফোরক কিছু বিষয় তুলে দাবি করেন, সাবিলা নূর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। রিহ্যাবেও ছিলেন বেশ কয়েকদিন।  


নেহালের মনে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, শাকিব খানের পাল্লায় পড়ে সাবিলা নিজেকে আরও উঁচুতে ওঠাতে চেয়েছিলেন। বাসায় নাকি মদ্যপ অবস্থায়ও ফেরেন। নেহাল দেখলেন সাবিলা আর তার কবজায় নেই। এরপর মিলি সুলতানা উল্লেখ করেন, এ সকল ঘটনার কারণে নাকি সাবিলার সংসার ভেঙেছে; বিচ্ছেদ ঘটেছে। আর বিষয়টি গোপন রেখেছেন সাবিলা নূর। 


সব মিলিয়ে, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে শোবিজ অঙ্গনের ভেতরে নায়িকাদের অফস্ক্রিন স্টোরির কথা তুলে ধরেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু এই পোস্টে শুধু শাকিবের দিকে আঙুল তুলে থেমে থাকেননি তিনি, পরবর্তী এক পোস্টে রকস্টার সিনেমার ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার) আবদুল মামুনের সাথে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই নাকি ভেঙে যায় সাবিলা-নেহালের সাত বছরের সংসার।


অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানা সবশেষ উল্লেখ করেন, ‘যদিও সাবিলা শাকিবের সাথে ধামাকা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন এটা সত্যি। কিন্তু তার ঘর ভাঙার জন্য রকস্টারের ক্যামেরাম্যন আব্দুল মামুনই দায়ী। এই কথাটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’


এখন কথা হলো, এই অ্যাক্টিভিস্ট-এর এই পোস্ট কেন এত সাড়া ফেলল, কেন বিষয়টি মানুষ কানে নিলো সেটা নিয়েও ভাবছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ এটাকে বানোয়াট-মনগড়া গল্প বলছেন। আবার কেউ কেউ শাকিব খানের অতীতের বাস্তবতা টেনে এটিকে সম্ভাব্য সত্যি বলেও ভাবছেন। শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা যে একটা 'রোজকার বিষয়' তা মনে করেন অনেক নেটিজেনই। কাজেই, সমালোচক, লেখক মিলি সুলতানার এই পোস্ট নানা ধরনের জল্পনা উস্কে দিলেও, শোবিজ অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও তার উল্লেখিত পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।


এ প্রসঙ্গে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। অতঃপর, অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

সর্বশেষ সব খবর

শাহরুখ খান ও সোহানা খান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘কিং’ সিনেমা মুক্তির আর মাত্র দুই মাস বাকি। ছবিটির কাজও প্রায় শেষের পথে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের শুটিং। এই পর্বে শাহরুখের অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি তার মেয়ে সুহানা খানের একটি নতুন গানের শুটিং করবেন পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ।


প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নতুন করে কাজ শুরু করেন। ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্টের একটি স্টুডিওতে শাহরুখকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের ধারণ শুরু হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব দৃশ্যের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন যুক্ত হওয়া গানটির চিত্রগ্রহণে মনোযোগ দেবেন পরিচালক।


‘কিং’ সিনেমায় সুহানা খানের নাচের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে একটি বিশেষ গানের আয়োজন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে বিশাল সেট তৈরি করে এর শুটিং করা হবে। গানটির কোরিওগ্রাফিতে থাকছেন পীযূষ ভগত ও শাজিয়া সামজি।


একদিকে শুটিংয়ের শেষ পর্বের ব্যস্ততা, অন্যদিকে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।


শাহরুখ খান ও সুহানা খান ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও জয়দীপ আহলাওয়াত।

সর্বশেষ সব খবর

নাসিমা খানম

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম। 


জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে। 


নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।' 


অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা। 


রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'


নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি। 


শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য। 


উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা। 


বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি। 


স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন। 

সর্বশেষ সব খবর

সিডনিতে শাবনূর ও রবি চৌধুরী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৬ পিএম

নায়িকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে, পাশের আসনে বসে খালি গলায় গাইছেন গায়ক—ছুটির দিন শুক্রবারে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ও গায়ক। সিডনির রাস্তায় সেই গাড়ি চালাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান। গাড়ি ছুটছে, গান চলছে, সঙ্গে জমেছে আড্ডাও। নব্বইয়ের দশকের এই দুই জনপ্রিয় তারকার বন্ধুত্ব যে এত বছর পরও আগের মতোই আছে, তাই দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।


সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন রবি চৌধুরী। তাঁর আসার খবর আগেই পেয়েছিলেন শাবনূর। তাই ঠিক করে রেখেছিলেন, সময় করে একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিল। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবি চৌধুরীকে ঘুরিয়ে দেখালেন শাবনূর। আর গাড়িতে বসে বন্ধুকে গান শোনানোর দায়িত্বটা নিলেন রবি।


গাড়ি চলতে চলতে শাবনূরের অনুরোধে তাঁর খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’। একসময় যে গান পর্দায় রিয়াজ–শাবনূরের ঠোঁটে দর্শকের মন জয় করেছিল, এত বছর পর সেই গানটি ফিরে এল পুরোনো দিনের স্মৃতি।


ঘোরাঘুরির ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। উচ্ছ্বসিত শাবনূর বললেন, ‘অসাধারণ সময় কাটছে। অনেক দিন পর দেখা আমাদের। রবি ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ মজা হচ্ছে। আমরা ঘুরছি, আমি গাড়ি চালাচ্ছি আর রবি ভাইয়ের কণ্ঠে গান—দারুণ, দারুণ।’


পরে শাবনূরের ফোনে কথা বলেন রবি চৌধুরী। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষজন তো কত কী ভাবে। অথচ আমরা ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই বন্ধু। শাবনূর একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তাঁর সিনেমা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন। আর বন্ধুত্বের কারণে আমি দেখেছি, কী অসাধারণ একজন মানুষ শাবনূর।’


বন্ধুর প্রশংসা শুনে চুপ থাকেননি শাবনূরও। বললেন, ‘রবি ভাই ভালো মানুষ না হলে তো আমাদের এত বছরের বন্ধুত্ব টিকত না। বন্ধুত্বের এই সম্পর্কটা টিকে থাকুক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।’


শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।


সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান “অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন” যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা। প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

সর্বশেষ সব খবর