হাইকোর্ট ভবন। ছবি : সংগৃহীত
দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে না, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বিধানই যথেষ্ট বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে। কেননা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।
এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মানসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও তানিম খান।
অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের ৬ ধারা অনুযায়ী কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্যর অনুমতি নিয়ে করতে পারতো। সেই আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আমরা রিট করেছিলাম। আদালত রুল জারি করে পরে শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রুল বাতিল করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবো।
ইশরাত হাসান বলেন, ‘পবিত্র কোরানে আল্লাহর বিধান রয়েছে, তোমরা চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী ও সমতা বিধান করতে পারলে চার চারটি বিয়ে করতে পারো। যদি সমতা করতে না পারো তাহলে একজন স্ত্রীই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। এ ধর্মীয় বিধানে পুরুষের শারীরিক মানুষিক আর্থিক সামর্থ্য নির্ধারণ করবে কে? আমাদের দেশে বেশির ভাগ পুরুষ সমতা বিধান করতে পারে না। তাছাড়া পুরুষ আরবিট্রেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে টাকা দিয়ে বিয়ের অনুমতি নিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য আমরা মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ সালের ৬ ধারায় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলাম।’
প্রকাশিত রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা ছিল গুরুতর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন। আদালত বলেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পন্ন হবে। কেননা মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো অস্তিত্ব নেই।
২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।
হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, রিটকারি আইনজীবীরা চেয়েছিল, ১৯৬১ সালের ৬ ধারা বাতিল করে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার জন্য একটি নীতিমালার বিধান প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। ১৯৫৭ সালে তিউনিসিয়া বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে। অন্য দেশটি হল তুরস্ক যা বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে। ১৯২৬ সালে তুরস্ক ছিল প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ যারা বহুবিবাহ আইনত নিষিদ্ধ করেছিল। হাইকোর্ট বিভাগ ৬ ধারা বাতিল করে এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য ইসলামী আইনের ওপর জোর দিয়েছিল। সরকার এখনও উপরোক্ত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাই উপরোক্ত পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকার কর্তৃক গঠিত একটি ফোরাম যদি ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে বহুবিবাহকে অনুমোদন করে অথবা হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ অনুসারে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করে, তাহলে বাংলাদেশে বহুবিবাহ সম্পর্কিত সমস্ত বিতর্ক দূর করতে পারে।
রায়ে বলা হয়, এটি স্বচ্ছ যে; ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারার অধীনে অন্য বিবাহের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বৈষম্যমূলক বা স্বেচ্ছাচারী নয়। আইনটি পক্ষগুলোর (পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের) কোনও অধিকার হ্রাস করে না বা হরণ করে না এবং বহুবিবাহের অনুমতি নিশ্চিত করার বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য সালিশ পরিষদের ওপর কোনও বাধা আরোপ করে না।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, আরবিট্রেশন কাউন্সিল বিবাহের পক্ষগুলোর ওপর কোনও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। তাই আমরা সমতা ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় বর্ণিত ন্যায়বিচার ও সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের অধীনে সমতা ও বৈষম্য। বরং এই বিধানটি সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের পরিপূরক, যা আইনের অধীন ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। এর অর্থ এই নয় যে আইন দ্বারা ধর্ম পালন, অনুশীলন এবং প্রচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যেতে পারে। এর অর্থ কেবল সংসদ আইন দ্বারা ধর্মীয় বিশ্বাস পালন, অনুশীলন এবং প্রচারের পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এইভাবে সাংবিধানিক বৈষম্যের যুক্তি অনুপস্থিত। ধর্মীয় কার্যকলাপ এবং পালনের ক্ষেত্রে কোনও স্পষ্ট হস্তক্ষেপ নেই। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬-এর বিভিন্ন দিকের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ বিচারিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে। তবে এর প্রযোজ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে শুধু দুটি বিএলসি (১৯৯৭) ২৩৩ (এইচসিডি) ধারা ৬ মুছে ফেলা এবং বহুবিবাহের ইসলামিক নিয়মকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শুধু একটি বিবাহকে সীমাবদ্ধ করে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করা।
রায়ে ধর্মীয় অধিকার নিয়ে রায়ে আদালত বলেন, বহুবিবাহের কারণে একজন নারীর অধিকার লঙ্ঘন করার জন্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং পালনের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব হস্তক্ষেপ থাকতে হবে। কিন্তু আবেদনকারী আমাদের সামনে এই ধরনের যুক্তি প্রমাণ করতে পারবেন না। খ্রিস্টান দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের মামলায়, উচ্চ আদালত বিভাগ বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি নিশ্চিত করার সময়, একটি সুপারিশ করেছে যে ‘আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সংসদ কর্তৃক সকল নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন বিবাহ এবং বিবাহবিচ্ছেদ আইন প্রণয়ন করা উচিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসলামিক ল রিসার্চ সেন্টার এবং লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ ছুটির আবেদন দায়ের করে। আপিলের শুনানি শেষে বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ বাতিল করে দিয়েছে। উল্লেখ করে যে, ‘সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদের বিধানের পটভূমিতে আমাদের অভিমত যে, যে আবেদনের বিরুদ্ধে আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশ বাতিল করা প্রয়োজন...’ (ইসলামিক সেন্টার ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ বনাম ইভা চৌধুরী, (২০০৩) ১১ বিএলটি (এডি) ১৮০)।
আপিল বিভাগ সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে হাইকোর্ট বিভাগের সুপারিশের সাথে একমত হননি। এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মের স্বাধীনতাই প্রধান বিবেচ্য বিষয়, তাদের ধর্ম নির্বিশেষে। এটিকে কোনওভাবেই সীমাবদ্ধ বা কেড়ে নেওয়া যাবে না। উপরে উল্লিখিত মামলায় আপিল বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, হাইকোর্ট বিভাগের ইচ্ছা রাষ্ট্র কর্তৃক বাস্তবায়িত হতে পারে। পর্যবেক্ষণটি নিম্নরূপ: ‘বিশেষ বিষয়ে বিজ্ঞ বিচারকদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে এবং রাষ্ট্র কর্তৃকও তা বাস্তবায়ন করা হোক, তা গুরুত্বের সাথে চাইতে পারেন।’
রায়ে আদালত বলেন, আমরা উপরে উল্লিখিত একই মতামতও প্রকাশ করেছি (পৃষ্ঠা ১৯-এ)। ওপরে আলোচিত কারণ এবং পরিস্থিতির জন্য, আমাদের বিবেচ্য মতামত হল যে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৬ বাংলাদেশের নারী নাগরিকদের কোনও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে না বহুবিবাহ। অতএব, নিয়মের সমর্থনে যে যুক্তিগুলো বলা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। তাই নিয়মটি অবশ্যই প্রযোজ্য ও বাতিল করা হবে।
সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করতে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।
রিটকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হবে।
রিট করার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল জানান, আবদুল হান্নান মাসউদের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।
রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে সরকারের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’
আইনজীবী জানান, ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজন বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট জারি করা পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়।
এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ডনের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করে সংস্থাটি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।
সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।
পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।