আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
আইন মন্ত্রনালয়ে লিয়াকত আলী মোল্লা আইন সচিব হিসেবে যোগদানের পর মুখ থুবড়ে পড়েছে মন্ত্রনালয়ের সকল কার্যক্রম। নেয়া হচ্ছেনা অভিযুক্ত দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম ও থমকে গেছে। নিয়োগ বাণিজ্য ঘুষ দুর্নীতি নারী নির্যাতন ও নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধেও নেয়া হচ্ছেনা কোন ব্যবস্থা।
বর্তমান আইনসচিব জনাব লিয়াকত আলী মোল্লা চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা জজ থাকাকালে গোমস্তাপুর থানার মামলা নাম্বার-২ (২/১২/২০১৯ তারিখে) জিআর নং-২৯৪/১৯ (গোমস্তাপুর) ১০ কেজি পরিমাণ হেরোইন সহ গ্রেফতারকৃত আসামী হিরা ওরফে হিরো ওরফে প্রিন্স খানকে ২৬/২/২০২০ তারিখে ফৌজদারি মিস ৩৬৬/২০২০ মোকদ্দমায় জামিন প্রদান করেন।
এরআগে অপর আরো একটি হেরোইন মামলায় ৩কেজি২০০গ্রাম হেরোইন ও ৩২ প্যাকেট ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত আসামী শফিকুল ইসলাম ওরফে লাদেনকে ৫/১১/১৮ ইং তারিখে জামিন দেন আলোচ্য জেলা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা। যার জি আর নং-৪৪৩/১৬ (চাঁপাই) ফৌজদারি মিসকেস নং-১৪৭৭/১৮ আদেশ নং-২ তারিখ ৫/১১/২০১৮।
এভাবে মাদক মামলার বহু আসামীকে নির্দ্বিধায় জামিন দিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জজ কোর্ট প্রাঙ্গণের দোকান-পাট, হোটেল ও গ্যারেজ ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত ১৪ লক্ষ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন তৎকালীন জেলা জজ লিয়াকত আলী মোল্লা।
এছাড়া, কোর্টের নতুন ভবনের নথি সংরক্ষণের জন্য সরবরাহকৃত নতুন ৩০টি লোহার র্যাক (যার একেকটির ওজন ২০০ থেকে ২৫০ কেজি ) গোপনে রাতের আঁধারে তৎকালীন নায়েব নাজির মাহবুব আলমের যোগসাজশে মাহবুব ফার্নিচার মার্টের নিকট চড়া মূল্যে বিক্রি করে দেয়। র্যাক বিক্রির টাকাও তিনি সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ।
১০ কেজি হেরোইন সহ গ্রেফতারকৃত আসামী দীর্ঘদিন জেলে আটক মর্মে অজুহাত দেখিয়ে ৪২ দিনের মধ্যে জামিন দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পাত্র হয়ে উঠেন লিয়াকত আলী।
এনিয়ে, ২০২০ সালের ২ মার্চ নওরোজ এ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হলে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে শাস্তিমূলক বদলী হিসেবে রাজশাহী মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হয়।
পরবর্তীতে “জয় বাংলা” গান গেয়ে স্বৈরাচার হাসিনা ও সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হককে খুশি করে ঢাকার নিম্নতম মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান হন তিনি। এরপর তিনি মানিকগঞ্জের জেলা জজ হিসেবে পদায়ন পান।
অতঃপর ৫ই আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ভোল পাল্টিয়ে নিজেকে বিএনপির লোক হিসেবে জাহির করে বিচারপতি হবার জন্য প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে ভাইবা বোর্ডে উপস্থিত হন। কিন্তু তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক, ঘুষ-দুর্নীতি সহ অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারপতির হওয়া থেকে বাদ করে দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ভাইভা বোর্ড।
এতেও তিনি থেমে থাকেন নি। অবশেষে, খোদ আইন মন্ত্রনালয়ের আইন সচিবের মত গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই জেলা জজ, যে ১০ কেজি হেরোইন মামলার আসামিকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জামিন দিয়েছিলেন সেই মূল আসামীকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে সাজা প্রদান করেন তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু পরবর্তী জেলা জজ আদিব আলী।
তিনি সেই আদিব আলী যার জন্মস্থান চাঁপাইনবাবগঞ্জে। পৈতৃক বাসস্থান ভিটে মাটি আত্মীয় স্বজন সবাই বসবাস করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
তার পিতার কর্মস্থল পার্শ্ববর্তী জেলায় হবার সুবাদে ওই জেলার পরিচয়েই তিনি নিজ জেলায় পরপর ৪বার পদায়ন নেন। যুগ্ম জেলা জজ থেকে শুরু করে অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজ হিসেবে তিনি প্রায় এক যুগের মত চাকরি করেছেন নিজ জেলাতেই।
নিজ এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে আদালতে উকিল থেকে শুরু করে নিকট আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন অবলীলাক্রমে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথমার্ধে বিশাল অংকের নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা দুর্নীতির অভিযোগে আদিব আলীকে ওএসডি করা হয়। মন্ত্রণালয়ে তাকে ওএসডি করার পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রসিডিং শুরুর প্রক্রিয়া চলমান থাকাবস্থায় তারই ঘনিষ্ট বন্ধু লিয়াকত আলী মোল্লা আইন মন্ত্রণালয়ের আইন সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। লিয়াকত আলী মোল্লার সচিব হিসেবে যোগদানের পর থেমে গেছে আদিব আলীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রম।
লিয়াকত আলী মোল্লাকে নিয়ে নওরোজ এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইন উপদেষ্টাও বিব্রত বোধ করেন, জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৩ এর প্রধান মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান।
তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, “উপদেষ্টা স্যার সচিবালয়ে তার কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে বলেন সচিবকে নিয়ে কেনো নওরোজে এতো লেখালেখি হচ্ছে? আপনারা মানা করতে পারেন না?”
তিনি এও বলেন, “আমি সচিব স্যারের সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার অধীনে চাকরি করেছি। স্যার সম্পূর্ণ নির্দোষ। এসব জামিন বাণিজ্য স্যার করেন নি, করেছেন তার স্ত্রী। ভাবিকেই দেখতাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে জামিন টামিন করাতে।”
মনিরুজ্জামানের এই সরল স্বীকারোক্তি কি প্রমান করেনা যে তিনি (সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা) ধোঁয়া তুলসী পাতা নন?
সুধী পাঠক, আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর জানতে চোখ রাখুন নওরোজের আগামী পর্বে।
নিউজ করায় ফাঁসানো হয়েছে আমাকে: নওরোজ সম্পাদক
হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)
হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজন বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট জারি করা পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়।
এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
আদালত প্রাঙ্গণে খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ডনের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করে সংস্থাটি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।
সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা
সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।
নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।
পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়ার সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ কে এম সামিউল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর ৭ মাস।
এ কে এম সামিউল হক ১৭তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচার বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বাঁ থেকে ইলিয়াস আলী ও সাইফুর রহমান সাইফ। ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।
গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।
এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।