• প্রকাশ : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ এএম

একটি প্রতারণার মামলায় ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন দুই নারী। আদালত জামিন না দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর দুদিন পর বাদী পক্ষে দাবি করা হয়েছে ওই দুই নারী আসামির একজনের বদলে তার ছোট বোন কারাগারে গেছেন। আদালত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় আসামি পক্ষের আইনজীবী নি:শর্ত ক্ষমা চেয়ে এ মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন।


আসামি বড় বোনের পক্ষে ছোট বোনের আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়ার এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার। তবে বৃহস্পতিবার এ আসামির রিমান্ড শুনানিকালে বাদী পক্ষে দাবি করা হয়, কাঠগড়ায় উপস্থিত নারী আসল আসামি নন। তিনি অন্য কেউ। বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।


এটি জানাজানি হয় রোববার; যখন এ মামলার চার আসামির আইনজীবী রাজু আহম্মেদ রাজিব ‘আয়নাবাজি’ কাণ্ডের পর এ মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে আদালতে আবেদন করেন।


আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ‘বড় বোনের বদলে ছোট বোনের’ আত্মসমর্পণ ও কারাগারে যাওয়ার ‘আয়নাবাজির’ মত এ ঘটনা জানা গেছে।


আদালত সংশ্লিষ্টরা বলেন, শারমিন আক্তার একা ও লাইলী শাহনাজ খুশি নামে এ দুই আসামি মঙ্গলবার উত্তরা পূর্ব থানার প্রতারণার ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন তাদের কারাগারে পাঠান বিচারক।


পরে একাকে জিজ্ঞাসাবাদে ১০ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে শুনানি শুরু হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে।


শুনানিকালে একাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার বাদী আজিজুল আলমের বন্ধু বাদল আহম্মেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নারী মামলার আসামি একা নন বলে শুনানিকালে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানান বাদল। এসময় বোরকা ও নেকাপ পরিহিত ছিলেন ওই আসামি।


এমন তথ্যে আদালত ওই নারীকে মুখ দেখাতে বলেন। তখন আসামির জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না কাঠগড়ায় দাঁড়ানো নারীর।


পরে ব্চিারক এই নারী আসামি শারমিন আক্তার একা কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।


মামলার বাদী আজিজুল আলম বলেন, “আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত আমি যাকে আসামি করেছি সেই একা ইনি নন। এটা তার ছোট বোন। তবে নাম জানি না। আদালতের সাথে প্রতারণা করেছে। একা না হয়ে একা সেজে কারাগারে রয়েছে।"


তার বন্ধু বাদল আহম্মেদ বলেন, "সেদিন আমি আদালতে উপস্থিত ছিলাম। ওই আসামি মুখে পর্দা দিয়ে রেখেছিল। বডির স্ট্রাকচার দেখে বুঝি সে একা না। আদালতকে জানাই। আদালত জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের সাথে আসামির চেহারার মিল পাননি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।"


মামলার চার আসামি শারমিন আক্তার একা, লাইলী শাহনাজ খুশি, এ আর রাসেল ও আব্বাসের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতেন আইনজীবী রাজু আহম্মেদ রাজিব।


এ ঘটনার পর ক্ষমা চেয়ে রোববার আদালতে করা আবেদন তিনি বলেন, “আত্মসমর্পণ করার সময় একা ও খুশি বোরকা ও নেকাপ পরিহিত থাকায় আইনজীবী হিসেবে আসামিদের নাম-ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করে সরল বিশ্বাসে আদালতে হাজির করাই। এর আগে আসামিদের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে তাদের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিলাম না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বাদী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করে পরে উপলব্ধি করতে পারি, আসামিরা আমাকে প্রতারিত করেছে।"


আদালত তার আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আতিকুর রহমান। সোমবার একার রিমান্ড বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।


রাজু আহম্মেদ রাজিব বলেন, “এই আসামি যে একা না ঠিক পাইনি। এখন এর বেশি কিছু বলছি না।"


এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আয়নাবাজির মত ঘটনা ঘটেছে। আসামি একার হয়ে একজন প্রক্সি দিয়েছিল। বাদীপক্ষ বিষয়টি আদালতকে জানায়। আদালত বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলেছেন।"


তিনি বলেন, “ওরা একটা চক্র। ওদের কাজই হলো আয়নাবাজির মত ঘটনা ঘটানো, এমন কাজ করা।”


এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মাহবুবুল আলম বলেন, "একজনের হয়ে আরেকজন কারাগারে গেছে। বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ওই আসামি কারাগারে আছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব কিছু জানা যাবে। তারপর আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেব।"


মামলার পূর্বাপর


প্রাচীন পিলারের ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে, ‘কুফরি-কালাম, শয়তানের নি:শ্বাসের’ মাধ্যমে এক ব্যবসায়ী ও প্রবাসীর কাছ থেকে ‘প্রতারণামূলকভাবে’ ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে এ মামলা চলছে।


মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভয়-ভীতি দেখিয়ে চক্রটি ১৪-১৬ কোটি টাকার জমিও লিখে নিয়েছে। এ ঘটনায় আজিজুল আলম নামের ওই ব্যবসায়ী উত্তরা পূর্ব থানায় চক্রের ২৪ সদস্যের নামে মামলা করেন।


মামলার পর শাখাওয়াত হোসেন শিমুল, নাজমুল হাসান, এ আর রহমান ও আবু ইবনে বিন আব্বাস ওরফে তুষারকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে শিমুল ও নাজমুল জামিন পেয়েছেন।


আজিজুল মামলায় অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তার বন্ধু মনিরের মাধ্যমে মিজান তার কাছে যায়। তার বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে কি না জানতে চায়। আজিজুল জানান, আছে। পরে মাজহারুল ইসলাম সোহেল ফকির, নাজমুল হাসান ও কামাল তার অফিসে গিয়ে জানায়, প্রাচীন পিলার বিদেশে বিক্রি করে বিদেশি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন’ টাকা আনবে। যার অর্ধেক আজিজুলকে দেবে।


“সোহেলের সুন্নতি লেবাস ও চটকদার কথাবার্তায় আজিজুল বিশ্বাস অর্জন করেন। এরপর থেকে তার কারসাজি শুরু হয়। বিশ্বাস অর্জনের পর তাকে বিভিন্ন কুফরি কালাম ও শয়তানের নিঃশ্বাস ব্যবহার করে হিপনোটাইজ করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর তারা কোটি কোটি টাকা, স্বর্ণালংকার, জায়গা-জমি হাতিয়ে নেওয়া শুরু করে।


“তাদের কাছে অলৌকিক ও জ্বিনের মাধ্যমে মূল্যবান প্রাচীন পিলার ম্যাগনেট এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আসতে পারে বলে জানায়। এরপর তারা তার অফিসে মাঝে মধ্যে যাতায়াত শুরু করে এবং তাকে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও মিষ্টি খাওয়ায়। খাবার খাওয়ার পর থেকে তার মাথায় কাজ করছিল না। আজিজুল তাদের অনুগত হয়ে যান। তারা যা বলে তারা তাই করে।”


এজাহারে অভিযোগ করা হয়, “কিছুদিন পর আবার জ্বিনের মা পরিচয়ে এক নারী তাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দেয়। তারপর থেকে নাজমুল ও সোহেল এবং অন্যদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিতে থাকে। বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে তারা তার কাছ থেকে নগদ কয়েক কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়।


“পরবর্তীতে জ্বীনের বাদশা (রাসেল) তাকে ফোন করে বলে সোহেল ও নাজমুলকে পাঠিয়েছে। তাদের কাছে ৫ কোটি টাকা দিয়ে দে। যদি না দিস তাহলে তোর ক্ষতি হবে। এভাবে ২০২৫ সালের ১৫ মে পর্যন্ত তারা বিভিন্ন সময় ২০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা প্রতারণা করে নিয়ে নেয়।”


এছাড়া তার উত্তরখান এলাকা ১৪-১৬ কোটি টাকার ২৭ দশমিত ১৫ কাঠা জমি লিখে নেয় বলে অভিযোগ করেন বাদী।




সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৫ হাজার চারশত পাঁচটি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১২ কার্যদিবসে মোট ৫৫ হাজার ৭৩০টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 



এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৬২ হাজার ৬৩৭টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 




বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ছয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং একজন বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।


বুধবার (১২ আগস্ট)  সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।


অন্যদিকে বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে স্থায়ীভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট জারি করা পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়।


এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সালমান শাহ হত্যা মামলা

জামিন পেলেন না ডন


আদালত প্রাঙ্গণে খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ পিএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


আদালত সূত্র জানায়, ডনের আইনজীবীরা আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।


৯ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করে সংস্থাটি। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।


মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।


মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।

সর্বশেষ সব খবর

সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে পিএসসির সদস্যরা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চার সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। পিএসসির নবনিয়োগপ্রাপ্ত এই সদস্যরা হলেন, মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, ড. মো. ফেরদৌস হোসেন ও ইয়াসমিন গফুর।


শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ৬ আগস্ট  এই চারজনকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ দেয়। আজ তাদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হলো।


নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা যোগদানের তারিখ থেকে পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া—যেটি আগে ঘটবে, সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।


নতুন চার সদস্য নিয়োগের ফলে বর্তমানে পিএসসিতে একজন চেয়ারম্যানসহ মোট সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ছাড়া সদস্য রয়েছেন ২০ জন।


পিএসসি দেশের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আয়োজন, ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়োগসংক্রান্ত সুপারিশ প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকে।





সর্বশেষ সব খবর

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিভিল জজ এ কে এম সামিউল হকের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।


সোমবার ভোরে ঢাকা থেকে জামালপুরে যাওয়ার সময় লাহিড়ীকান্দা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন এ কে এম সামিউল হক (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর ৭ মাস। 


 এ কে এম সামিউল হক ১৭তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচার বিভাগে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বাঁ থেকে ইলিয়াস আলী ও সাইফুর রহমান সাইফ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম তাসমিরুল ইসলাম বিষয়টি জানান।


এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।


গত ২১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম ও হত্যার ঘটনায় সাইফুর রহমানের নাম আসে।



এরপর ২৬ জুলাই রাতে তার বাসা থেকে তাকে আটক করে বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।


২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর