সুপ্রিম কোর্ট।
বাংলাদেশের পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল কে হচ্ছেন—এ প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের আদালতপাড়ায় চলছে নানান গুঞ্জন।
বিশেষত বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন—এমন ঘোষণার পর থেকে সেই গুঞ্জন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে আইনাঙ্গনের বাতাসে। এরপর থেকেই সামনে আসছে অনেকের নাম। বিদ্যমান অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে কাউকে এ পদে উন্নীত করা হবে, নাকি নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে—আছে এমন প্রশ্নও।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এক্ষেত্রে কয়েকজনের নাম খুব জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে আছেন—অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। এছাড়া বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী আইনজীবীদের নামও শোনা যাচ্ছে। যাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকও রয়েছেন।
সংবিধানের ৬৪ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।’
বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন—এমন খবর এখন সর্বত্র। তিনি যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তাই, এ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন অনেক আইনজীবী।
সূত্রের তথ্য, পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের জন্য যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল মনোনয়ন নিশ্চিত হলে পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তাই আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল?
সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন অ্যাটর্নি জেনারেল। সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করবেন।’ উপ-অনুচ্ছেদ ৪-এ বলা হয়েছে, ‘তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষ অনুযায়ী স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী জাগো নিউজেকে বলেন, তফসিল ঘোষণা এবং মনোনয়নপত্র কেনার পর রাষ্ট্রের বর্তমান প্রধান আইন কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করলেই হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেবেন।
বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন, মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার ভুঁঞা, মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক আর হক। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন তারা। সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে নিয়োগ দেওয়ার মতো নাম শোনা যাচ্ছে অনেকের। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন, ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে থেকে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট বারে তার সুনাম রয়েছে। তিনি সাবেক বিচারপতি ও সাবেক সফল প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুর রউফের ছেলে। ব্যারিস্টার রউফ বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যারিস্টার অনীক আর হক
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক বর্তমানে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সমন্বয়কদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার অনীক আর হকের নামও আলোচনায় রয়েছে।
ব্যারিস্টার এম. বদরুদ্দোজা বাদল
বিএনপিপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়কও। দলীয় আদর্শ থাকলেও সব মত ও পথের আইনজীবীদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুলা) কমিটির আহ্বায়ক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল রিটের অন্যতম আইনজীবীও।
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
ব্যারিস্টার কাজল বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত মুখ। অভিজ্ঞ ও মেধাবী আইনজীবী হিসেবেও পরিচিত। বিএনপির প্যানেল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের দুইবারের নির্বাচিত সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিভিন্ন আলোচিত মামলার শুনানিতে তিনি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুসের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।
আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া
সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাদের একজন অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুঁইয়া। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বারের সুপরিচিতি আইনজীবী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলায়ও তিনি ছিলেন আসামিদের আইনজীবী। সর্বশেষ, গ্রামীণফোন তথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরও আইনজীবী ছিলেন।
ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন
সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাহউদ্দিন দোলন ‘সার্ভিস ম্যাটার’ সংক্রান্ত মামলার জন্য খ্যাতি পান। বেশ কিছু মামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আলোচনায় আসেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, ১৭ বছর আগে অনুষ্ঠিত ২৭তম বিসিএস উত্তীর্ণদের নিয়োগবঞ্চিত এক হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দিতে আপিল বিভাগ থেকে রায় পাওয়া। চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা মো. শরীফউদ্দিনের আইনজীবীও তিনি।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে আইনি লড়াই চালান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কট্টর সমালোচকও তিনি।
শরীফ ভূইয়া
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে ১৪ বছর আগে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়ার নামও রয়েছে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে।
বিএম ইলিয়াস কচি
সুপ্রিম কোর্ট বারের সুপরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস কচি। তিনি সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তবে ২০১৭-১৮ মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন।
এছাড়া বিচারপতি ফয়সাল মাহমুদ ফয়েজীও অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
২০২৪ সালের জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া পলাতক সাত আসামির মধ্যে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান ছাড়া অন্যদের অর্ধেক সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।পাশাপাশি তাদের সম্পদ জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার সময় এই আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছে। সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিলি বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি আজ ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
আগের দিন সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
এ বছরের জানুয়ারিতে শীর্ষস্থানীয় এই সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একইসঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন এবং ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পড়ে শোনান।
অন্যদিকে পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানি করেন। শুনানিতে তারা দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে এসব অভিযোগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যথাযথ তথ্যপ্রমাণ না থাকায় তারা আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে অভিযোগ গঠন না করার আবেদন জানান।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর গত ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ছবি : সংগৃহীত
জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় সাত নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে মঙ্গলবার।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ আজ সোমবার এই তারিখ ঠিক করেন। ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
আজ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়েছিল।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এই মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
হাইকোর্ট
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি। ফলে এ সময়ে দায়েরকৃত মামলার তুলনায় ১ হাজার ৯৯৭টি মামলা বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে মোট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৮৫৯টি, ৫ হাজার ৪০৬টি, ৫ হাজার ৩৪৯টি, ৫ হাজার ৩১২টি ও ৭ হাজার ৫৫৩টি। অর্থাৎ এ পাঁচ বছরে গড়ে বছরে প্রায় ৬ হাজার ৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর বিপরীতে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসেই ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়েরের পরিসংখ্যানেও উল্লেযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আপিল বিভাগে নতুন মামলা দায়ের হয়েছিল যথাক্রমে ৭ হাজার ৮০৬টি, ২৯ হাজার ১৬২টি, ১১ হাজার ৯৩৮টি, ২৯ হাজার ৯১৫টি এবং ১৭ হাজার ৯৮৪টি। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে ৯ হাজার ১৩৯টি।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির ধারাবাহিকতা স্পষ্ট। জানুয়ারি মাসে ২০ কর্মদিবসে ২ হাজার ৭০৫টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ১৮ কর্মদিবসে ২ হাজার ৭২৪টি, মার্চ মাসে ১০ কর্মদিবসে ১ হাজার ১০৭টি এবং এপ্রিল মাসে ১ হাজার ৩২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া মে মাসে ১৫ কর্মদিবসে ৬৩৮টি, জুন মাসে ১৮ কর্মদিবসে ১ হাজার ৩২১টি, জুলাই মাসে ২২ কর্মদিবসে ৬৮৭টি এবং আগস্ট মাসে ১৯ কর্মদিবসে ৬৩৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। উল্লিখিত আট মাসে আপিল বিভাগে মোট ১৩২ কর্মদিবসে ১১ হাজার ১৩৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৫৫১টি। প্রথম আট মাসে দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তি বেশি হওয়ায় ৩১ আগস্ট শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৫৪টিতে।
হাইকোর্ট বিভাগে ৮ মাসে নিষ্পত্তি ৮৭ হাজারের বেশি
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) মোট ৮৭ হাজার ৫৯৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৯৫০টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে যা চলতি বছরে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচারপ্রাপ্তি ও মামলা জট নিরসনে উল্লেখযোগ্য গতিশীলতার প্রতিফলন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৩৯টি, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৭ হাজার ৫৬০টি, শুধু জুলাই মাসে ৩২ হাজার ২১১টি এবং শুধু আগস্ট মাসে ২০ হাজার ৮৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে মামলা নিষ্পত্তির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে যথাক্রমে ২২ হাজার ৯৯৯টি, ২৭ হাজার ৮০৩টি, ১০ হাজার ২৩২টি এবং ১৩ হাজার ৫৭৩টি।
মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে ২০২১ সালে ২৩ হাজার ৬৫৪টি, ২০২২ সালে ৮৭ হাজার ৪৭৪টি, ২০২৩ সালে ৭৪ হাজার ২৭৮টি, ২০২৪ সালে ৩৮ হাজার ২৯৭টি এবং ২০২৫ সালে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছিল। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসের (জানুয়ারি-আগস্ট) নিষ্পত্তি করা মামলার সংখ্যা বিগত পাঁচ বছরের যেকোনো পূর্ণ বছরের নিষ্পত্তি করা মামলার তুলনায় বেশি। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের পুরো বছরে নিষ্পত্তি হওয়া ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলার তুলনায় এ সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩১ হাজার ৮৪০টি বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি। প্রথম আট মাসে দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তি বেশি হওয়ায় ৩১ আগস্ট শেষে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৬ টিতে। অর্থাৎ বছরের প্রথম আট মাসে বিচারাধীন মামলা কমেছে ১২ হাজার ৯৮০টি।
ডেথ রেফারেন্স মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ বেঞ্চ
হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) সংক্রান্ত বেঞ্চের পাশাপাশি নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং সংশ্লিষ্ট আপীলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে হাইকোর্ট বিভাগে একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।
চলতি বছরের জুন মাসে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর এ পর্যন্ত ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন গুরুতর ফৌজদারি মামলাগুলো নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
হাইকোর্ট
আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হরতাল বা ধর্মঘট কর্মসূচি ডাকাকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের কোন ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত আগের জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রায় দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জৈষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসদ। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব, বিআরটিসির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আসিবুল হক ও বিআরটিএর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. রাফিউল ইসলাম।
২০১১ সালের আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি গাড়ির আরোহী তারেক মাসুদ মিশুক মনির সহ পাঁচজন নিহত হয়। ওই নিহতের ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হলে ২০১৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ড্রাইভারকে সাজা দেন।
ওই সাজার প্রেক্ষিতে বাস মালিকরা পরিবহন ধর্মঘট ও হরতাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে।
ওই রিট শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১ মার্চ রুল জারি করে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান ।
আজ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে শুনানি শেষে আজ রুল মঞ্জুর করে রায় দেন এবং স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআরটিএ, বিআরটিসিকে নির্দেশনা দেন যে আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল ডাকলে আইনগত ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি আইনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদালত রায়ে বলেন, সংবিধানের ১১২ অনুসারে আদালতের রায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকলেও রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল বা ধর্মঘট আহ্বান করা অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি।
ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট যথাযথভাবে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন এ রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষে আইনজীবী ইউনূস আলী।
রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১২ মের প্রজ্ঞাপনটির কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।