ইতিহাস
কালের গহ্বরে হারিয়ে যায় সময়। আর এই সময়ে ঘটে চলে নানা ঘটনা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ইতিহাস চিন্তা, চেতনা ও প্রেরণার উৎস।
ইতিহাসই আমাদের পথ দেখায় নতুন নতুন দিগন্তের। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন অনেক জ্ঞানী-গুণী। বিশ্বজুড়ে ঘটেছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা। তবে সব ঘটনার ইতিহাসে ঠাঁই হয় না।
আজ শুক্রবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম-মৃত্যুদিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
ঘটনাবলি
১৩০৯ - পোপ ক্লিমেন্ট ভি ভেনিসের উপর বহির্গমন এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ভেনিসের সঙ্গে সব বাণিজ্যিক মিলনের একটি সাধারণ নিষেধাজ্ঞা, যা পাপাল ফিফডম ফেরারার উপর ধরা পড়েছিল।
১৩২৯ - পোপ জন চতুর্দশ জন তার ইনগ্রো ডোমিনিকো মিস্টার একহার্টের কিছু লেখাকে বিদ্বেষমূলক বলে নিন্দা করে।
১৫১৩- স্পেনীয় এক্সপ্লোরার জুয়ান পোনস দে লেন তার প্রথম ভ্রমণে ফ্লোরিডায় বাহামাসের উত্তর প্রান্তে পৌঁছেছেন।
১৬২৫ - চার্লস প্রথম ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের কিং হন এবং পাশাপাশি ফ্রান্সের কিং পদক দাবি করেন।
১৬৬৮ - বোম্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে আসে।
১৭৮২- দ্বিতীয় রকিংহ্যাম মন্ত্রণালয় ব্রিটেনে অফিস গ্রহণ করে এবং আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনা শুরু করে।
১৭৯৪ - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নৌবাহিনী স্থাপন করে এবং ছয়টি ফ্রিগেটের বিল্ডিংয়ের অনুমোদন দেয়।
১৮০৯ - উপদ্বীপ যুদ্ধ : সিউদাদ রিয়েলের যুদ্ধে একটি সংযুক্ত ফ্রাঙ্কো-পোলিশ বাহিনী স্প্যানিশদের পরাজিত করেছিল।
১৮১৪-১৮১২ এর যুদ্ধ : সেন্ট্রাল আলাবামায়, জেনারেল অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের নেতৃত্বে মার্কিন বাহিনী হর্সশি বেন্ডের যুদ্ধে ক্রিককে পরাস্ত করেছিল।
১৮৩৬ - টেক্সাস বিপ্লব : জেনারেল আন্তোনিও ল্যাপেজ ডি সান্তা আন্নার নির্দেশে মেক্সিকান সেনাবাহিনী টেক্সাসের গোলিয়াদে টেক্সাসের 342 জন গণহত্যা চালায়।
১৮৫৫ - আব্রাহাম গেসনার কেরোসিন পেটেন্ট করেন।
১৮৬৬ - আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি অ্যান্ড্রু জনসন ১৮৮৬ সালের নাগরিক অধিকার আইনকে ভেটো দিয়েছিলেন। তার ভেটো কংগ্রেস দ্বারা বাতিল করা হয়েছে এবং ৯ এপ্রিল বিলটি আইনটিতে পাস হয়েছে।
১৮৭১- স্কটল্যান্ড রায়বার্ন প্লেসে এডিনবার্গে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক রাগবি ফুটবল ম্যাচ।
১৮৮৪ - ওহাইওয়ের সিনসিনাটি শহরে একটি জনতা জুরির সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছিল যেহেতু হত্যার সুস্পষ্ট মামলার হিসাবে দেখা হওয়ায় হত্যাচক্রের রায় ফিরিয়ে দিয়েছিল; পরের কয়েকদিন ধরে জনতা দাঙ্গা শুরু করবে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতটি ধ্বংস করে দেবে।
১৮৮৬- অ্যাপাচি যুদ্ধের প্রধান জেরোনিমো মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে, অ্যাপাচি যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ করে।
১৮৯৯ - মেরিলাও নদীর যুদ্ধে ফিলিপাইন-আমেরিকান যুদ্ধের সময় এমিলিও আগুইনাল্ডো একমাত্র ফিলিপিনো বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৯১৫- যুক্তরাষ্ট্রে চিহ্নিত প্রথম রোগের স্বাস্থ্যকর ক্যারিয়ার টাইফয়েড মেরিকে দ্বিতীয়বারের জন্য পৃথকীকরণ করা হয়, যেখানে তিনি তার সারাজীবন থাকতেন।
১৯১৮ - বেসারাবিয়া জাতীয় কাউন্সিল রোমানিয়ার কিংডমের সাথে ইউনিয়নের ঘোষণা দেয়।
১৯১৯ - আমানুল্লাহ কর্তৃক আফগানিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
১৯৩৮- দ্বিতীয় চীন-জাপানিজ যুদ্ধ: তাইয়েরজুয়াংয়ের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, বেশ কয়েক সপ্তাহ পরে জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম বড় জয় লাভ করেছিল।
১৯৪১ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: যুগোস্লাভ এয়ার ফোর্সের আধিকারিকরা একটি রক্তহীন অভ্যুত্থানে সরকারপন্থি অ্যাকসিস সরকারকে পরাস্ত করেছিলেন।
১৯৪৩ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ : কোমন্ডারস্কি দ্বীপপুঞ্জের যুদ্ধ: আলেউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জে যুদ্ধ শুরু হয় যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জাপানিদের কিস্কায় একটি চৌকি জোরদার করার প্রচেষ্টা জাপানিদের বাধা দেয়।
১৯৪৫ - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ : অপারেশন স্টারভেশন, জাপানের বন্দর ও নৌপথের বিমান খনন শুরু হয়। অ্যাক্সিস পাওয়ার্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আর্জেন্টিনা।
১৯৫৮ - নিকিতা ক্রুশ্চেভ সোভিয়েত ইউনিয়নের মন্ত্রিপরিষদের চেয়ারম্যান হন।
১৯৬৪ - গুড ফ্রাইডে ভূমিকম্প, উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ৯.২ মাত্রার দক্ষিণ দক্ষিণ আলাস্কারে আঘাত হানার ফলে ১২৫ জন নিহত এবং অ্যাংরেজ শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
১৯৬৮ - রুশ নভোচারী, তিনি ছিলেন মহাকাশচারী প্রথম ব্যক্তি জারস্লাভ হেয়রোভস্ক্য প্রশিক্ষণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। ১৯৬৯ - মেরিনার ৭ উদ্বোধন করা হয়।
১৯৭১ - চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবের পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
১৯৭১ - আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে যায় ও পরে তার খোঁজ মেলেনি।
১৯৭৫ - ট্রান্স-আলাস্কা পাইপলাইন সিস্টেমের নির্মাণ শুরু হয়।
১৯৭৭- টেনেরিফ বিমানবন্দর বিপর্যয়: ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফের একটি কুয়াশাচ্ছন্ন রানওয়েতে দুটি বোয়িং 74৪ a বিমানের সংঘর্ষে ৫৮৩ জন (সমস্ত কেএলএম-এ 248 এবং পান এম এ 335) নিহত হয়েছিল। প্যান অ্যামের ফ্লাইটে ষাটজন বেঁচে গিয়েছিল। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা।
১৯৮০- নরওয়েজিয়ান তেল প্ল্যাটফর্ম আলেকজান্ডার এল। কিল্যান্ডল্যান্ড উত্তর সাগরে ধসে পড়ে এবং তার ২১২ ক্রুদের ১২৩ জন মারা যায়। রৌপ্য বৃহস্পতিবার: হান্ট ব্রাদার্স রূপালীতে বাজারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে রূপার দামের এক তীব্র পতনের ফলে পণ্য এবং ফিউচার এক্সচেঞ্জে আতঙ্ক দেখা দেয়।
১৯৮১- পোল্যান্ডের সংহতি আন্দোলন একটি সতর্কতা ধর্মঘট শুরু করেছে, যাতে কমপক্ষে ১২ মিলিয়ন পোল চার ঘণ্টা তাদের চাকরি ছেড়ে চলে যায়।
১৯৮২- বিচারপতি আহসান উদ্দীন চৌধুরীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
১৯৮৬- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে রাসেল স্ট্রিট পুলিশ সদর দফতরের বাইরে একটি গাড়ি বোমা ফেটে এক পুলিশ অফিসার নিহত এবং ২১ জন আহত হয়।
১৯৯০- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টিভি মার্টে কিউবার কাছে কাস্ত্রোবিরোধী প্রচার শুরু করে।
১৯৯৩- জিয়াং জেমিন চীন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। ইতালির প্রাক্তন মন্ত্রী এবং খ্রিস্টান গণতন্ত্রের নেতা জিউলিও আন্দ্রেওট্টির বিরুদ্ধে প্লের্মোর ট্রাইব্যুনাল মাফিয়ার আনুগত্যের অভিযোগ আনে।
১৯৯৬- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হন।
১৯৯৮- খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন পুরুষ পুরুষত্বহীনতার চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভায়াগ্রাটিকে অনুমোদন দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে এই শর্তটির জন্য অনুমোদিত প্রথম বড়ি।
১৯৯৯- কসোভো যুদ্ধ : আমেরিকান লকহিড এফ -১১৭ এ নাইটহককে যুগস্লাভ এসএএম দ্বারা গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, যিনি যুদ্ধে পরাজিত প্রথম এবং একমাত্র নাইটহক।
২০০০- টেক্সাসের পাসাদেনায় ফিলিপস পেট্রোলিয়ম প্লান্ট বিস্ফোরণে একজন নিহত এবং ৭১ জন আহত হযন।
২০০২- নিস্তারপর্ব গণহত্যা : ইসরায়েলের নেতানিয়ায় একটি ফিলিস্তিনি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২৯ জন নিহত হন।
জন্ম
৪৫- রোমান কবি স্টাটিউস।
১৭৮৫- ফ্রান্সের রাজা সপ্তদশ লুই।
১৮৪৫- ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন, জার্মান পদার্থবিদ।
১৮৪৭- অটো ভালাখ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ।
১৮৬৩- মোটর গাড়ির নকশাকার প্রণেতা স্যার ফ্রেডরিখ হেনরি রয়েস।
১৮৭১- জার্মান লেখক ও কবি হাইনরিখ মান।
১৮৯৯- গ্লোরিয়া সোয়ানসন, মার্কিন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেত্রী ও প্রযোজক।
১৯০১- এইসাকু সাতো, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাপানি রাজনীতিবিদ ও ৬১ তম প্রধানমন্ত্রী।
১৯১২- জেমস ক্যালাহান, ইংরেজ লেফটেন্যান্ট, রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী।
১৯১৭- কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, বাঙালি কবি ও শিশু সাহিত্যিক। নবেন্দু ঘোষ, ভারতীয় বাঙালি লেখক ও চিত্রনাট্যকার।
১৯৪১- স্লোভাকিয়া আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ৩য় প্রেসিডেন্ট ইভান গাস্পারভিক।
১৯৪২- জন এডওয়ার্ড সালস্টন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ জীববিজ্ঞানী।
১৯৬০- মল্লিকা সেনগুপ্ত, বাঙালি কবি ও সমাজকর্মী।
১৯৬৩- কোয়েন্টিন টারান্টিনো, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অভিনেতা।
১৯৭২- জিমি ফ্লয়েড হ্যাসেলবেইংক্, হল্যান্ডের একজন কৃতী ফুটবল খেলোয়াড়।
১৯৮৭- রাশিয়ান গায়ক, গীতিকার ও অভিনেত্রী পলিনা গ্যাগারিন।
১৯৮৮- আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা ব্রেন্ডা সং।
১৯৮৮- জাপানি ফুটবলার আটসুটো উচিদা।
১৯৯০- নেসার বারাযাইত, নেদারল্যান্ড এর পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়।
মৃত্যু
১৪৬২- মস্কোর যুবরাজ দ্বিতীয় ভাসিলি।
১৮৯৮- শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক স্যার সৈয়দ আহমদ।
১৯১৮- হেনরি অ্যাডাম্স, একজন মার্কিন ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
১৯৪৪- লোকগীতি সংগ্রাহক ও কবি আশুতোষ চৌধুরী।
১৯৬৬- পান্নালাল ভট্টাচার্য প্রখ্যাত বাঙালি শ্যামাসঙ্গীত শিল্পী।
১৯৬৭- নোবেল পুরস্কার বিজয়ী চেক রসায়নবিদ জারস্লাভ হেয়রোভস্ক্যা।
১৯৬৮- ইউরি গ্যাগারিন, রুশ নভোচারী, মহাকাশচারী প্রথম ব্যক্তি প্রশিক্ষণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।
১৯৭১- জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী।
১৯৭২- এম. সি. এশ্যর, একজন ওলন্দাজ চিত্রলেখ শিল্পী।
১৯৭৩- ভূপতি মজুমদার স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিপ্লবী ও রাজনৈতিক নেতা।
১৯৮২- ফজলুর রহমান খান, বাংলাদেশের বিশ্ববিখ্যাত স্থপতি ও পুরকৌশলী।
১৯৮৬- আবদুল হাই আরিফী, আশরাফ আলী থানভীর শিষ্য।
১৯৮৯- শান্তি ঘোষ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী।
২০০৭- নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ পল ক্রিশ্চিয়ান লতেরবার।
দিবস
আজ বিশ্ব নাট্য দিবস।
প্রতীকী ছবি
অনেকেরই কাজের ফাঁকে বা মনের অজান্তে আঙুল 'মটকানো'-র অভ্যাস আছে। কাজের মাঝে একটানা টাইপ করতে করতে যখনই ক্লান্ত লাগে তখন আঙুল ফোটালে ‘কট’ করে এক ধরনের শব্দ হয়। এতে অদ্ভুত এক ধরনের শান্তি পাওয়া যায়। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন আঙুল ফোটানোর সময় অস্থিসন্ধির ভেতরে আসলে ঠিক কী ঘটে?
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আমাদের প্রতিটি জয়েন্টে 'সাইনোভিয়াল ফ্লুইড' তরল থাকে। আঙুলে চাপ দিলে বা বাঁকালে এই তরলে বুদবুদ তৈরি হয়ে ফেটে যায়, যাকে ডাক্তারি ভাষায় 'ক্রিপিটেশন' বলা হয়। এই গ্যাস বাবল ফেটে যাওয়ার ফলেই শব্দ তৈরি হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মাঝে মাঝে আঙুল ফোটালে বা হালকা শব্দ করলে জয়েন্ট বা হাড়ের কোনো বড় ক্ষতি হয় না। অনেকেই ক্লান্তি দূর করতে বা মানসিক তৃপ্তির জন্য আঙুল মটকান। কিন্তু চিকিৎসকরা বলেন, সবসময় নিয়মিত এটা না করলে ভয়ের কোনও কারণ নেই। এর সঙ্গে সরাসরি অস্থিসন্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্পর্ক নেই। তবে অনেক সময় দেখা যায় আঙুল ফাটাতে গিয়ে আঙুলে ব্যথা রয়েছে, সেটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে মাঝে আঙুল ফাটানো ঠিক হলেও বদঅভ্যাসে পরিণত করলেই মুশকিল। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে আঙুল মটকালে, খুব জোরে মোচড় দিলে বা অন্য কাউকে দিয়ে জোর করে ফোটালে লিগামেন্ট আলগা হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত এমন করার ফলে হাতের গ্রিপ বা আঁকড়ে ধরার শক্তি কমে যায়। এমনকি লিগামেন্টে আঘাত লাগার সম্ভাবনাও থাকে। তাই আঙুল মটকানোকে বদঅভ্যাসে পরিণত না করে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভালো। তবে যদি ব্যথা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে কাশি এ ধরনের উপসর্গকে অনেকেই সরাসরি অ্যাজমার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু সবসময় এর কারণ অ্যাজমা নয়। কখনও কখনও এসব উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে হার্টের বা ফেইলিউর।
হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুসে তরল জমতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও শোঁ শোঁ শব্দের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক সময় ‘কার্ডিয়াক অ্যাজমা’ বলা হয়। তবে এটি প্রকৃত অর্থে অ্যাজমা নয়। হিন্দুস্তান টাইমসে কার্ডিওলজিস্ট ডা. বিনয় কুমার জানিয়েছেন, হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে হওয়া এসব উপসর্গকে সাধারণ অ্যাজমা ভেবে ভুল করা বিপজ্জনক হতে পারে।
ডা. বিনয় কুমারের মতে, কার্ডিয়াক অ্যাজমা কোনো আলাদা ধরনের অ্যাজমা নয়। বরং হার্ট ফেইলিউরের কারণে তৈরি হওয়া শ্বাসকষ্টের একটি অবস্থা। বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের বাম পাশ দুর্বল হয়ে গেলে ফুসফুসে রক্ত ও তরল জমতে শুরু করতে পারে। রাতে শুয়ে পড়লে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কাশি হয় এবং বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যেতে পারে। অর্থাৎ, উপসর্গগুলো দেখতে অ্যাজমার মতো হলেও মূল সমস্যা হতে পারে হৃদযন্ত্রে।
সাধারণ অ্যাজমা থেকে কীভাবে আলাদা
সাধারণ অ্যাজমার ক্ষেত্রে শ্বাসনালিতে সংকোচন বা স্প্যাজম তৈরি হয়। ফলে বাতাস চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় এবং শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে। অ্যালার্জি, পরাগরেণু, বায়ুদূষণ, ঋতু পরিবর্তন বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অ্যাজমার সমস্যা বাড়তে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াও শ্বাসনালি মাঝে মাঝে সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে, কার্ডিয়াক অ্যাজমার মূল কারণ হলো হার্ট ফেইলিউর এবং ফুসফুসে তরল জমা হওয়া।
কার্ডিয়াক অ্যাজমার লক্ষণ
কার্ডিয়াক অ্যাজমার উপসর্গ সাধারণ অ্যাজমার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যেতে পারে। ফলে অনেক সময় এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
> শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
> বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া
> দ্রুত শ্বাস নেয়া
> দীর্ঘস্থায়ী কাশি
> রক্ত মেশানো বা ফেনাযুক্ত কফ
> শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া
> শুয়ে পড়লে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
> রাতে ঘুম থেকে উঠে হাঁসফাঁস করে শ্বাস নেয়া
> ফুসফুসে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা
বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পা ফুলে যাওয়া, বুকে অস্বস্তি বা ব্যথা কিংবা হৃদস্পন্দনের অনিয়ম থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ডা. কুমারের পরামর্শ, এমন উপসর্গ থাকলে শুধু অ্যাজমা ধরে না নিয়ে হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা উচিত।
কারা বেশি ঝুঁকিতে: যাদের হৃদরোগ বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বেশি, তাদের মধ্যে কার্ডিয়াক অ্যাজমার সম্ভাবনাও বেশি হতে পারে। ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
> উচ্চ রক্তচাপ
> ডায়াবেটিস
> হৃদ্স্পন্দনের অনিয়ম
> হাইপোথাইরয়েডিজম
> অন্যান্য হৃদযন্ত্রের রোগ
সাবধানতা : কার্ডিয়াক অ্যাজমা যেহেতু হার্ট ফেইলিউরের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ডা. বিনয় কুমার হার্ট ভালো রাখতে যেসব পরামর্শ দিয়েছেন:
> রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
> নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং সুষম খাবার খান।
> চিকিৎসকের দেয়া হৃদযন্ত্রের ওষুধ নিয়মিত সেবন করুন।
> নিজের ইচ্ছায় ডাইইউরেটিক, রক্তচাপের ওষুধ বা অন্য কোনো হার্টের ওষুধ বন্ধ করবেন না।
> হার্ট ফেইলিউর বা শরীরে পানি জমার সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলুন।
> ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকুন।
> চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।
> শ্বাসকষ্টকে হালকাভাবে নয়
শ্বাসকষ্ট, কাশি বা বুক থেকে শোঁ শোঁ শব্দ হলেই যে অ্যাজমা এমনটা ধরে নেয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে এসব উপসর্গের সঙ্গে পা ফুলে যাওয়া, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম কিংবা শুয়ে পড়লে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলে হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করানো জরুরি। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
ঘরের ভেতরে বা অফিসে সুরক্ষিত থেকেও, প্রতিদিন অজান্তে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে চলেছে, সে বিষয়ে হয়ত অনেকেই সচেতন নয়।
আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবনে সারাদিন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার কিংবা এলইডি টিভির স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার কারণে, সেখান থেকে অনবরত নির্গত হচ্ছে এক ধরনের উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন দৃশ্যমান নীল আলো, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ব্লু লাইট’ বা ‘হাই এনার্জি ভিজিবল (এইচইভি) লাইট নামে পরিচিত।
চর্মরোগ বিজ্ঞানীদের মতে, এই কৃত্রিম নীল আলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতোই ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত প্রবেশ করে অকাল বার্ধক্য এবং পিগমেন্টেশনের মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিসাধন করছে।
স্ক্রিনের নীল আলো যেভাবে ত্বকের ক্ষতি করে
বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জার্নাল অফ ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলজি’-তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ব্লু লাইট বা নীল আলো ত্বকের গভীরে ঢুকে কোষের ডিএনএ কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হসপিটালের কসমেটিক ও ক্লিনিক্যাল রিসার্চের পরিচালক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোশুয়া জেইচনার স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেল্থলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন যে, “নীল আলোর কারণে ত্বকের ভেতরে ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ তৈরি হয়, যা প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল উৎপন্ন করে। এই ফ্রি-র্যাডিক্যালগুলো ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখা প্রধান দুটি প্রোটিন ‘কোলাজেন’ এবং ‘ইলাস্টিন’ খুব দ্রুত ভেঙে ফেলে।
ফলে বয়স ৩০ পার হওয়ার আগেই মুখে বলিরেখা পড়া, চামড়া ঝুলে যাওয়া এবং এক ধরনের কালচে ছোপ ছোপ দাগ বা ‘ডিজিটাল পিগমেন্টেইশন’ দেখা দেয়।”
স্ক্রিনের আলো থেকে ত্বক সুরক্ষার ৪টি নিয়ম
মোবাইল ও ল্যাপটপের এই অদৃশ্য ক্ষতি থেকে ঘরের ভেতরেও ত্বককে নিরাপদ রাখতে এই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়মগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন।
জিঙ্ক অক্সাইডযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার
সাধারণ কেমিক্যাল সানস্ক্রিনগুলো মোবাইলের নীল আলো পুরোপুরি আটকাতে করতে পারে না।
ডা. জোশুয়া জেইচনারের মতে, “ঘরের ভেতরে থাকার সময়ও এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত যাতে ‘জিঙ্ক অক্সাইড’ বা ‘টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড’ উপাদান থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘মিনারেল বা ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন’ বলে এগুলোকে। এই উপাদানগুলো ত্বকের ওপর একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করে আয়নার মতো ব্লু লাইটকে প্রতিফলিত করে বাইরে ফিরিয়ে দেয়।”
আয়রন অক্সাইড যুক্ত টিন্টেড সানস্ক্রিন, নীল আলো প্রতিরোধে বেশি কার্যকর।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেরামের ব্যবহার
নীল আলোর কারণে তৈরি হওয়া ফ্রি-র্যাডিক্যালগুলোকে ধ্বংস করতে ত্বকে প্রতিদিন সকালে ভিটামিন-সি বা ভিটামিন-ই যুক্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সেরাম ব্যবহার করা উপকারী।
এই উপাদানগুলো ত্বকের কোষে এক ধরনের অদৃশ্য রক্ষাকবচ তৈরি করে কোলাজেন ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে। আর অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়তে দেয় না।
‘ডিভাইস’-এ নাইট মোড ও ডার্ক ফিল্টার চালু করা
শুধুমাত্র প্রসাধনী মাখাই যথেষ্ট নয়, সরাসরি উৎসের আলো কমানো প্রয়োজন।
প্রতিটি স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের সেটিংসে গিয়ে ‘নাইট লাইট’, ‘আই কমফোর্ট শিল্ড’ বা ‘ডার্ক মোড’ সার্বক্ষণিকভাবে চালু করে রাখা উচিত।
এগুলো স্ক্রিন থেকে বের হওয়া ক্ষতিকর নীল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে কমিয়ে একটি মৃদু হলুদ আলোতে রূপান্তর করে, যা চোখ এবং ত্বক উভয়ের জন্যই নিরাপদ।
কোষের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা ও পানি পানের নিয়ম
ডিজিটাল স্ক্রিন দীর্ঘ সময় ব্যবহারে ত্বক খুব দ্রুত তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা পানি হারিয়ে শুষ্ক ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
এর প্রতিকারে মস্তিস্ক ও ত্বকের কোষ সতেজ রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ দূষণ দূর করতে সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক।
পরামর্শ
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে মোবাইল বা ল্যাপটপ পুরোপুরি বর্জন করা সম্ভব নয়। তবে সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল ক্ষতির হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে।
‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ ডার্মাটোলজি’র চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিন থেকে অন্তত এক হাত বা ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রেখে, ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করা এবং স্ক্রিন টাইম কিছুটা পরিমিত করে এই ডিজিটাল ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
মারওয়া খায়ের
মারওয়া খায়েরের বাংলা শুনলে মনে হয়, সারাটা জীবন বুঝি বাংলাতেই কাটিয়েছেন। অথচ তাঁর জন্ম সৌদি আরবে, বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যে। তারপরও কী সুন্দর ঝরঝরে বাংলা বলেন, গিটার বাজিয়ে পছন্দের বাংলা গানে সুর তোলেন। তাঁর গান কিংবা বাংলাচর্চা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার মতো সময় অবশ্য পাওয়া গেল না।
কেননা কিছুক্ষণ পরই তাঁকে প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্টদের (পিএসএ) প্রশিক্ষণ দিতে ছুটতে হবে। তার আগেই তাঁর পিএসএ থেকে প্রশিক্ষক হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাই।
২০১০ সালের দিকে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকে চাকরি করতেন মারওয়া খায়ের। তার আগে ওষুধের দোকান আর মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেছেন। ব্যাংকে যোগ দেওয়ার পর ভেবেছিলেন, এই চাকরিতেই থিতু হবেন। কিন্তু ২০০৮–০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে ব্যাংকিং খাতের চাকরিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে নতুন কোনো পেশা খুঁজতে শুরু করেন।
সে সময় ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়েতে (ডিএলআর) কাজ করতেন এক বন্ধু। তিনিই মারওয়াকে রেলওয়েতে আবেদন করার পরামর্শ দেন। তুলনামূলক ভালো বেতন ও দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিশ্চয়তা তাঁকে এই পেশার প্রতি আগ্রহী করে।
আন্ডারগ্রাউন্ড, ওভারগ্রাউন্ড ও ডিএলআর—মূলত এই তিন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলে লন্ডনের মেট্রোরেলব্যবস্থা। এর মধ্যে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করেছে ৪৫টি স্টেশনে বিস্তৃত ডিএলআর। প্রায় ৪০ বছর আগে চালু হওয়া এই স্বয়ংক্রিয় রেলব্যবস্থা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করে। স্বয়ংক্রিয় প্রতিটি ট্রেনে চালকের বদলে একজন করে পিএসএ থাকেন। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামার পর আবার যাত্রা শুরুর আগে দরজা নিরাপদে বন্ধ করা এবং ট্রেনকে পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা পিএসএর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কাস্টমার সার্ভিস দেওয়াও তাঁর কাজের অংশ। ট্রেনে নিয়মিত ঘোষণা দেওয়া, যাত্রীদের গন্তব্য খুঁজে পেতে সহায়তা করা, ম্যাপ বুঝিয়ে দেওয়া—এসবও করতে হয়।
লন্ডনে বিভিন্ন দেশের মানুষ বসবাস করেন, পর্যটকের সংখ্যাও কম নয়। বিশেষ করে ইস্ট লন্ডনে অনেক যাত্রী আছেন, যাঁদের কেউ কেউ ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ নন কিংবা লন্ডনের ম্যাপ বুঝতে সমস্যায় পড়েন। তাঁদের গন্তব্যে যাওয়ার পথ বুঝিয়ে দেওয়াও প্যাসেঞ্জার সার্ভিস এজেন্টের দায়িত্ব। খোঁজখবর নিয়েই ডিএলআর পদে আবেদন করেন মারওয়া। ‘এখানে কাজ করতে টেকনিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজনীয় সবকিছুই চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখানো হয়,’ বলছিলেন মারওয়া।
প্রায় চার মাসের প্রশিক্ষণ। এরপর আরও দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন। এ সময় লিখিত ও ব্যবহারিক—দুই ধরনের পরীক্ষাই দিতে হয়। সব ধাপ সফলভাবে শেষ করার পর মেলে ট্রেন পরিচালনার লাইসেন্স। ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএলআরে ট্রেন অপারেটর হিসেবে যোগ দেন মারওয়া।
প্যারালিম্পিক মশাল বহনকারী ট্রেন
রেলওয়েতে কাজ করার সিদ্ধান্তটা অবশ্য সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় বাধাটি নিজের পরিবার থেকেই এসেছিল। পরিবারের ধারণা ছিল, এটা ছেলেদের কাজ। মেয়েরা এ ধরনের কাজ করে না। একসময় পরিবারের মনোভাব বদলে যায়। তাঁরাই এখন মারওয়ার সবচেয়ে বড় সমর্থক।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরের বছরই মারওয়ার কর্মজীবনে আসে স্মরণীয় এক মুহূর্ত। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের সময় ক্যানারি ওয়ার্ফ থেকে প্যারালিম্পিক মশাল বহন করে স্ট্র্যাটফোর্ডে নিয়ে যাওয়া ডিএলআর ট্রেনটির অপারেটর হিসেবে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়।
অনেক পিএসএর মধ্য থেকে মারওয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ—যাত্রীদের উদ্দেশে তাঁর ঘোষণা দেওয়ার ধরন। তাঁর ঘোষণার কণ্ঠস্বর তত দিনে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছিল। প্যারালিম্পিক মশাল বহনের সেই বিশেষ যাত্রায় বিবিসিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উপস্থিত ছিল। যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করার পাশাপাশি ডিএলআরের প্রতিনিধিত্বকারী কণ্ঠ হিসেবে মারওয়ার ঘোষণাও সেই আয়োজনের অংশ হয়ে ওঠে।
মারওয়ার সেই কণ্ঠ এখনো ডিএলআরের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রেন অপারেটরদের জন্য তৈরি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিওতে পরিচালন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার বর্ণনা তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়েছে।
ম্যানুয়াল ড্রাইভিংয়ের দিনগুলো
‘আমি যখন পিএসএ হিসেবে কাজ করতাম, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যালিং সিস্টেম,’ বলেন মারওয়া। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের আগে ডিএলআরের সিগন্যালিং ব্যবস্থা ছিল খুবই অনির্ভরযোগ্য। এমনও হয়েছে, সিগন্যালিং-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে দিনে পাঁচ-ছয়বার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে ম্যানুয়ালি ট্রেন চালাতে হয়েছে। পরে অলিম্পিকের সময় সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হয়। এরপর সিস্টেম হয়ে ওঠে অনেক নির্ভরযোগ্য।
ম্যানুয়ালি ট্রেন চালানোর অভিজ্ঞতা মারওয়ার কাছে একদিকে ছিল রোমাঞ্চকর, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জেরও। ইচ্ছা করলেই ম্যানুয়াল মোডে যাওয়া যায় না। অনুমতি ও নির্দেশনা নিয়ে নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালাতে হয়।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যাত্রীদের সামলানো। এসব ট্রেনে চালকের জন্য আলাদা কোনো কেবিন নেই। ফলে যাত্রীরা সরাসরি চালকের কাছে এসে কথা বলতে পারেন। কিন্তু ম্যানুয়াল ড্রাইভিংয়ের সময় চালককে পুরো মনোযোগ সামনের দিকে রাখতে হয়। ‘তাই আমরা আগে থেকেই ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের জানিয়ে দিতাম যে ট্রেনটি এখন ম্যানুয়াল মোডে চলছে। তাঁদের অনুরোধ করতাম, যেন আমাদের সঙ্গে কথা বলে বা প্রশ্ন করে মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটান। একই সঙ্গে জানিয়ে দিতাম, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার তুলনায় ট্রেনের গতি কিছুটা কম থাকবে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগবে।’
তারপরও অনেক যাত্রী এসে প্রশ্ন করতেন—ট্রেন এত ধীরে চলছে কেন, আরও দ্রুত চালানো যাচ্ছে না কেন। তাঁদের হয়তো কোথাও পৌঁছানোর তাড়া। কিন্তু চালকের কাছে তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল নিরাপত্তা।
রেলওয়ের কাজ করতে গেলে নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে কখনো কেউ ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রেন সরিয়ে নেওয়া বা রিভার্স করার মতো কঠিন দায়িত্বও পিএসএকে পালন করতে হয়। ‘আমার কয়েকজন সহকর্মী এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁরা তখন এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমাকে নিয়ে গিয়ে ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।’
অপারেটর থেকে প্রশিক্ষক
চার বছর ট্রেন পরিচালনার পর নতুন দায়িত্ব পান মারওয়া—অপারেটরদের প্রশিক্ষক। কাজটি ভিন্ন। এত দিন নিজে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, এখন অন্য একজনকে সেই দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। ‘নতুন এই পেশায় টিকে থাকতে আমাকে আরও কর্তৃত্বপূর্ণ হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমার বয়স এবং আমি একজন নারী—এই দুটি কারণে,’ বলেন মারওয়া।
পুরুষ-প্রধান কর্মপরিবেশে কখনো কখনো সরাসরি প্রতিরোধের মুখেও পড়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নারীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে—শুধু এই কারণে কোর্স ছেড়ে দিয়েছিলেন দুজন প্রশিক্ষণার্থী। আরেকজন তাঁকে সরাসরি বলেছিলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমি চাই না কোনো নারী আমাকে কী করতে হবে, তা বলে দিক।’ এসব অভিজ্ঞতা কষ্ট দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। শিখেছেন কোথায় সীমারেখা টানতে হয় এবং কীভাবে নিজের অবস্থানে অটল থাকতে হয়।
বর্তমানে মারওয়া ডিএলআরের একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। তাঁর দাবি, তাঁর বিভাগে কর্মরত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অপারেটর কোনো না কোনো সময়ে তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
শিকড় সিলেটে
মারওয়ার দাদাবাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায়। সুযোগ পেলেই দেশে যান। সর্বশেষ গত অক্টোবরে ঘুরে গেছেন। তবে দেশের মেট্রোরেলে এখনো ওঠা হয়নি—এ নিয়ে তাঁর আক্ষেপ আছে।
তাঁর বাবা প্রকৌশলী হিসেবে পেশা জীবনের বড় সময় কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। খুব অল্প বয়সে লেখাপড়ার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। দক্ষিণ লন্ডনের বিভিন্ন স্কুল ও সিক্সথ ফর্ম কলেজে পড়াশোনা করেছেন। পরে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা শুরু করেন। চাকরির পাশাপাশি এখনো সেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানই এই শিক্ষার ব্যয় বহন করছে।
চার বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা মারওয়া মনে করেন, তাঁর আজকের অবস্থানের পেছনে মা-বাবার বড় অবদান রয়েছে। মেয়েদের জন্য সুযোগ তৈরিতে তাঁরা কখনো ছেলে-মেয়ের পার্থক্য করেননি। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্রসহ নানা বিষয়ে আগ্রহী হওয়ার সুযোগও দিয়েছেন তাঁরা।
তিনি চান, নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মেয়েরা প্রচলিত কয়েকটি পেশার বাইরেও নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখতে শিখুক। ডাক্তার, শিক্ষক কিংবা সংসারের গণ্ডির বাইরেও যে রেলওয়ে, প্রকৌশল, প্রযুক্তিসহ অসংখ্য পেশা তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে—সেটা তাঁরা জানুক।
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষদের মধ্যে একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হচ্ছে, যা মূলত সামাজিক লজ্জা এবং রোগ লুকিয়ে রাখার মানসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ক্যানসারের একটি হয়ে উঠেছে প্রোস্টেট ক্যানসার। বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতে এই রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, জাতীয় অনকোলজি রেজিস্ট্রিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের ক্ষেত্রে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে (মেটাস্ট্যাটিক স্টেজ) গিয়ে ধরা পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো, কারণ সেখানে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়।
সাধারণত ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম বা হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা থাকলেও, পুরুষদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
৪৫ বছর পার হওয়ার পর প্রস্রাবের অভ্যাস বা যৌন স্বাস্থ্যের যেকোনো পরিবর্তনকে বেশিরভাগ পুরুষই ‘বয়স বাড়ার সাধারণ লক্ষণ’ বলে উড়িয়ে দেন।
চিকিৎসকদের মতে, এই ভুল ধারণার কারণেই রোগীরা সঠিক সময়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেশটির শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকেরা এই ট্যাবু ভেঙে পুরুষদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন দিয়েছেন।
প্রোস্টেটের ৩টি বিপজ্জনক লক্ষণ
ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ইউরোলজি এবং রোবোটিক ইউরোলজিক্যাল সার্জারির প্রধান ও পরিচালক ডক্টর বিক্রম শর্মা বলেন, ‘পুরুষেরা চিকিৎসকদের কাছেও প্রস্রাব বা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন। এই নীরবতাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে পিছিয়ে দেয়।’
তিনি মূলত ৩টি প্রধান লক্ষণের দিকে নজর দিতে বলেছেন:
১. রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া
রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। এটি প্রোস্টেটের সমস্যার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই এটিকে রাতে বেশি পানি খাওয়া বা বয়স বাড়ার স্বাভাবিক ফল মনে করেন।
চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাটি মূলত ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাজিয়া’ বা প্রোস্টেটের স্থানীয় টিউমারের কারণে হতে পারে।
ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এর ফলে ঘুম ভেঙে যায়, যা সারাদিনের কাজের ক্ষতি করে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালীকে সংকুচিত করে ফেলে, ফলে মূত্রথলিকে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করতে হয়। একপর্যায়ে মূত্রথলির দেয়াল সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সামান্য প্রস্রাব জমলেই তীব্র বেগ অনুভূত হয়। এটি ক্যানসার নাকি সাধারণ টিউমার-তা কেবল একজন ইউরোলজিস্টই নিশ্চিত করতে পারেন।
২. দুর্বল, ধীর বা থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া
একটি সুস্থ মূত্রথলি খুব সহজেই এবং তীব্র গতিতে একবারে খালি হয়ে যায়। কিন্তু যদি প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়, প্রস্রাব শুরু করতে অতিরিক্ত চাপ দিতে হয় বা শেষ হওয়ার পর ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে মূত্রনালীর স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: দ্য জার্নাল অব ইউরোলজি-তে প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদী তথ্য অনুসারে, প্রোস্টেটের প্রতিবন্ধকতার কারণে মূত্রথলিতে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে বারবার ইউটিআই বা প্রস্রাবের ইনফেকশন, মূত্রথলিতে পাথর এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই লক্ষণ অবহেলা করলে মূত্রথলির পেশি চিরতরে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
৩. হঠাৎ বা ক্রমাগত যৌন অক্ষমতা
ক্যানসারের ভয়, নপুংসকতা বা অপারেশনের আতঙ্কে পুরুষেরা স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করাতে চান না। চিকিৎসকদের মতে, যৌন অক্ষমতা বা ইডি-কে কেবল মানসিক সমস্যা বা হার্টের রোগ ভেবে ভুল করা যাবে না; এটি প্রোস্টেটের মারাত্মক ক্ষতির সংকেত হতে পারে।
চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: প্রোস্টেট গ্রন্থিটি পুরুষাঙ্গের উত্থানের জন্য দায়ী সূক্ষ্ম স্নায়ু এবং রক্তনালীগুলোর খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে প্রোস্টেটে টিউমার বা তীব্র প্রদাহ হলে রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়ুর সংকেত ব্যাহত হয়।
ডক্টর বিক্রম শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে যৌনশক্তি বাড়ানোর ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে মূল সমস্যা বা টিউমারের বৃদ্ধি আড়ালে পড়ে যায় এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়।
কেন ৪৫ বছরের পর নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি?
ভারতে প্রোস্টেট চিকিৎসার উন্নত সুযোগ থাকলেও, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো পুরুষের মানসিক জড়তা। ডক্টর শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। ৪৫ বছর পার হলেই, বিশেষ করে যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শে পিএসএ পরীক্ষা করা উচিত।’
একটি সাধারণ পিএসএ রক্ত পরীক্ষা এবং ডিআরই-এর মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে আক্রান্তদের ৫ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রোস্টেটের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে উন্নত রোবোটিক সার্জারি বা আধুনিক থেরাপির কার্যকারিতাও সীমিত হয়ে পড়ে।
তাই শরীর কোনো সংকেত দিলে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে পুরুষদের জীবন রক্ষা করতে।
সূত্র: এনডিটিভি
ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই কম্পিউটার, মোবাইল অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসে স্ক্রিন ব্যবহার করে। এআই আসার পর ডিজিটাল স্ক্রিন–নির্ভরতা আরও বাড়ছে।
যেমন চোখ শুষ্ক হয়ে আসে, চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি দেখা দেয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসে, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল স্ক্রিন সিনড্রোম।
চোখের শুষ্কতা বা ড্রাই আই
চোখ খুবই স্পর্শকাতর একটি অঙ্গ। সম্মুখভাগে বিদ্যমান স্বচ্ছ পর্দা বা কর্নিয়া খুবই স্বচ্ছ এবং মসৃণ। এর প্রধান কাজ হলো চোখে আলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে দেখতে সাহায্য করা। স্বচ্ছতা ও মসৃণভাবের ব্যত্যয় ঘটলেই সমস্যা। কর্নিয়া মসৃণ রাখার জন্য চোখের পানির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পলক ফেলার মাধ্যমে চক্ষুকোঠরে তৈরি হওয়া পানিকে চোখের উপরিভাগে সমভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করে চোখের পাতা। চোখের উপরিভাগে সমভাবে বিস্তৃত এই চোখের পানির স্তরকে বলে টিয়ার ফিল্ম। কোনো কারণে চোখের পানি কম তৈরি হলে বা টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হলে চোখে দেখা দেয় শুষ্কভাব। তখন চোখ জ্বালাপোড়া করে, দেখা দেয় চুলকানি ইত্যাদি উপসর্গ। এটিই শুষ্ক চোখ।
ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারে কেন চোখে শুষ্কতা দেখা দেয়?
চোখের উপরিভাগে বিদ্যমান টিয়ার বা চোখের পানি স্বাভাবিক নিয়মে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। সাথে সাথে কর্নিয়াতে বিদ্যমান স্নায়ুর মাধ্যমে সিগন্যাল যায় লেক্রিমাল গ্রন্থিতে, যা দ্রুত টিয়ার প্রবাহিত করে ঘাটতি পূরণ করে। এটি চোখের একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। প্রতি মিনিটে ১৫-২০ বারের মতো পলক ফেলে টিয়ার ফিল্মকে সামলে রাখে চোখের পাতা।
ডিজিটাল স্ক্রিনে যখন চোখ থাকে, তখন চোখের পলক ফেলার হার অর্ধেকের বেশি কমে যায়। ফলে টিয়ার ফিল্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চোখে শুষ্কভাব অনুভূত হয়। শুষ্কতার প্রভাবে কর্নিয়ার স্নায়ু কোষগুলো জ্বালাপোড়া ও ব্যথার অনুভূতির সৃষ্টি করে। দীর্ঘক্ষণ অব্যাহত থাকলে একসময় এটি প্রচণ্ড অস্বস্তির জন্ম দেয় এবং কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।
করণীয় কী?
> চোখকে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন থেকে নিরাপদ রাখতে কিছু কাজ অবশ্যকরণীয়।
> স্ক্রিনটি চোখের সমান্তরাল থেকে কিছুটা নিচুতে রাখতে হবে ।
> স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা চোখের জন্য আরামদায়ক হতে হবে।
> ২০ মিনিট পর পর বিরতি নিতে হবে।
> স্ক্রিনটি চোখের খুব কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সাধারণত ২০-২৮ ইঞ্চি দূরে রাখা ভালো।
> চোখকে ভেজা রাখতে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার ব্যবহার করতে হবে।
> অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করতে হবে।
> জীবনশৈলী বা লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে হবে।
> ঘুমের ঘাটতি রাখা যাবে না। রাতে স্ক্রিনের ব্যবহার উচিত নয়।
> ঘন ঘন পানি খেতে হবে।
> নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। ঘাড়ের ব্যায়াম করতে হবে।