• প্রকাশ : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ১০:১৩ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদল করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো মাহবুবুর রহমান এ প্রজ্ঞাপনে সই করেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয় জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে সোমবার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারি করে এসপি নির্বাচন করা হয়। লটারির সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বদলি হওয়া পুলিশ সুপারদের নামের তালিকা বিভাগভিত্তিক দেওয়া হলো:

ঢাকা বিভাগ
দিনাজপুরের এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোঃ মিজানুর রহমানকে ঢাকা জেলার এসপি, ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের এসপি মোঃ হাবীবুল্লাহকে গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের এসপি মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারকে টাঙ্গাইল, নরসিংদীর এসপি মোঃ মেনহাজুল আলমকে মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুরের এসপি মোঃ নজরুল ইসলামকে ফরিদপুর, পঞ্চগড়ের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে নারায়ণগঞ্জ, রাঙ্গামাটির এসপি এস এম ফরহাদ হোসেনকে কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালীর এসপি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুককে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি এহতেশামুল হককে মাদারীপুর, ঝিনাইদহের এসপি মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদকে রাজবাড়ী, যশোরের এসপি রওনক জাহানকে শরীয়তপুর, বরিশালের এসপি মোঃ শরিফ উদ্দীনকে গাজীপুর ও গাইবান্ধার এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ সারওয়ার আলমকে মানিকগঞ্জ জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগ
কুমিল্লার এসপি মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁনকে চট্টগ্রাম, চাঁদপুরের এসপি মুহম্মদ আব্দুর রকিবকে রাঙ্গামাটি, ঢাকা জেলার এসপি মোঃ আনিসুজ্জামানকে কুমিল্লা, ডিএমপির ডিসি (পুলিশ অধিদপ্তরে এআইজি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মোঃ শফিকুল ইসলামকে ফেনীর এসপি, নেত্রকোনার এসপি মির্জা সায়েম মাহমুদকে খাগড়াছড়ি, গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার মোঃ রবিউল হাসানকে চাঁদপুর, ডিএমপির ডিসি শাহ মোঃ আব্দুর রউফকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি, খুলনার এসপি টি, এম, মোশাররফ হোসেনকে নোয়াখালী, পিবিআইয়ের এসপি মোঃ আবদুর রহমানকে বান্দরবান, পাবনার এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত এ, এন, এম, সাজেদুর রহমানকে কক্সবাজার ও সিআইডির এসপি মোঃ আবু তারেককে লক্ষ্মীপুর জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ
মাদারীপুরের এসপি মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানকে রাজশাহী, নাটোরের এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে নওগাঁ, জয়পুরহাটের এসপি মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে নাটোর, পিবিআইয়ের এসপি মোঃ শাহাদাত হোসেনকে বগুড়া জেলার এসপি, চট্টগ্রামের এসপি মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতুকে সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জের এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত গৌতম কুমার বিশ্বাসকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরার এসপি মিনা মাহমুদাকে জয়পুরহাট ও পটুয়াখালীর এসপি মোঃ আনোয়ার জাহিদকে পাবনা জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

খুলনা বিভাগ
সিলেটের এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে খুলনা, কিশোরগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীকে বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে কুষ্টিয়া, জামালপুরের এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে যশোর, খাগড়াছড়ির এসপি মোঃ আরেফিন জুয়েলকে সাতক্ষীরা, ফেনীর এসপি মোঃ হাবিবুর রহমানকে মাগুরা, বগুড়ায় ৪ এপিবিএনের এসপি মোঃ মাহফুজ আফজালকে ঝিনাইদহের এসপি, ঝালকাঠির এসপি উজ্জ্বল কুমার রায়কে মেহেরপুর, সাতক্ষীরার এসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামকে চুয়াডাঙ্গা ও বরগুনার এসপি মোহাম্মদ আল মামুন শিকদারকে নড়াইল জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগ

রাজশাহীর এসপি ফারজানা ইসলামকে বরিশাল, পিবিআইয়ের এসপি মোঃ আবু ইউসুফকে পটুয়াখালী, বান্দরবানের এসপি মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছারকে ভোলা, গোপালগঞ্জের এসপি মোঃ মিজানুর রহমানকে ঝালকাঠি, মেহেরপুরের এসপি মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীকে পিরোজপুর ও পিবিআইয়ের এসপি মোঃ কুদরত ই খুদাকে বরগুনা জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

সিলেট বিভাগ

ময়মনসিংহের এসপি কাজী আখতার উল আলমকে সিলেট, মানিকগঞ্জের এসপিকে মোছাঃ ইয়াছমিন খাতুনকে হবিগঞ্জ, পিবিআইয়ের এসপি আবু বসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে সুনামগঞ্জ ও নীলফামারীর এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনকে মৌলভীবাজার জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগ

ফরিদপুর জেলার এসপি হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত মোঃ মারুফাত হুসাইনকে রংপুর, বাগেরহাটের এসপি মোঃ আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট, নড়াইলের এসপির মোঃ রবিউল ইসলামকে পঞ্চগড়, বগুড়ার ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের এসপি মোঃ বেলাল হোসেনকে ঠাকুরগাঁও, বগুড়ার এসপি মোঃ জেদান আল মুসাকে দিনাজপুর, এসপিবিএনের এসপি মোঃ জসিম উদ্দীনকে গাইবান্ধা, ডিএমপির ডিসি খন্দকার ফজলে রাব্বিকে কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি শেখ জাহিদুল ইসলামকে নীলফামারী জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ

টাঙ্গাইলের এসপি মোঃ মিজানুর রহমানকে ময়মনসিংহ, গাজীপুরের এসপি ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেককে জামালপুর, রাজবাড়ীর এসপি মোঃ কামরুল ইসলামকে শেরপুর ও লালমনিরহাটের এসপি মোঃ তরিকুল ইসলামকে নেত্রকোনা জেলার এসপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার পুলিশ সুপার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে অতীতে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কর্মকর্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি ফিট লিস্ট প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে ৬৪ জনকে নির্বাচন করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা কমিটির হাতে দেওয়া হয় এবং লটারির মাধ্যমে জেলাওয়ারি পদায়ন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ কারণে সম্প্রতি ৬ জেলায় দেওয়া নতুন এসপি নিয়োগের যোগদান স্থগিত রাখা হয়।

গত শনিবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ২ ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনকালে পুলিশের নিয়োগ ও বদলিসংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়। সে আলোচনার ধারাবাহিকতায় লটারি করে ৬৪ জেলার এসপি নির্বাচন করা হলো।



সর্বশেষ সব খবর

আরাফাত সিদ্দিকী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৭ পিএম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান চালানোর সময় বালুঘাটের এক কর্মচারীকে মারধরের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ড. গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

ঘটনার পরদিনই ইউএনওকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদায়নের কপি তারা পেয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে বুধবার সকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান। তারা বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা, বালিপাড়া বালুর মোড়ের মরাখলা, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীর বাজার ও কানিহারী ইউনিয়নের ঝিলকি এলাকায় অভিযান চালান।

পরে অভিযানকারী দল কানিহারী ইউনিয়নের কুলু বাড়ি মোড় এলাকার একটি বালুঘাটে যায়। সেখানে বালুর স্তূপ ত্রিশাল অংশে থাকলেও ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সীমানায় বলে দাবি করেন ঘাটের কর্মচারীরা। তাদের দাবি, বালুবাহী ট্রাক ত্রিশালের সড়ক ব্যবহার করলেও ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জের সীমানায় পড়েছে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সামনে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের নিয়ে বালুঘাটের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইজারার বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে ঘাটের কর্মচারী জোবায়ের হোসেন জানান, কাগজপত্র সেখানে নেই।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, জোবায়ের হোসেন ইউএনওকে নিজের পরিচয় দিতে বলেন। ইউএনও নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর আরাফাত সিদ্দিকী জোবায়েরকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং বেত দিয়ে কয়েকবার আঘাত করেন বলে ফুটেজে দেখা যায়। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি থামিয়ে দেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে বালুমহালের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বৈঠকে উভয় পক্ষ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন।

তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীকে বদলি করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ জারি করে।

ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও অভিযানের সময় সরকারি কর্মকর্তার আচরণ এবং বালুঘাটের সীমানা ও ইজারার বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ এএম

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা পোস্ট করা হয়।


বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

সর্বশেষ সব খবর

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন রোববার বরিশালে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’- এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ পিএম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।


আজ রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।


তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশ্যে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।


ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।


রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে। 


বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।


গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।


দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২৩ পিএম

দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


তিনি বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার, এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের দেশকে সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’


আজ রোববার রাতে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।




দেশে কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের উন্নয়নের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা কথা বলার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তারা কী করবে। প্রত্যেক মানুষকে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাজপথে এসে তা বন্ধ করে দিতে চায়, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এটা আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমরা শপথ গ্রহণ করি- দেশের উন্নয়ন ও দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের পথে যারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে, তাদেরকে আমাদের রুখে দিতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদের স্লোগান- করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’


 বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির প্রত্যেক নেতাকর্মী একটি কথা বলে থাকে- আমাদের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। কাজেই জনগণের সমর্থন যেহেতু বিএনপির পক্ষে আছে, জনগণ যেহেতু বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, জনগণ যেহেতু বিএনপির ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করাই এখন আমাদের মূল পবিত্র দায়িত্ব। কারণ ৩১ দফা হচ্ছে জনগণের দফা। কাজেই জনগণের দফা পূরণ ও বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিএনপি দেশ ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাবে।’


মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর


অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন।


 হেফাজতের আমির বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, ‘বিগত কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন তারা কোনোভাবে বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের মতো চলে যাবে, কিন্তু দিনশেষে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’


আজ রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে চট্টগ্রাম জেলার সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সংসদে সরকারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও যদি কোনো পরিকল্পনা থাকে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না এবং জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না। দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছরের বেশি সময় আগে; এখন আর পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই, এখন কাজ করার ও দেশ গড়ার সময়।’


দেশের প্রতিটি পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেছে, তাই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের পাশে থাকা। সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা, মা-বোনদের পাশে থাকা, দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, অসুস্থ মানুষদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তরুণ-যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’


তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা তার বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে মূল কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলাতেও প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।’


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড, যা সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও পাবেন। লবণ চাষীদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ফেরাতে লবণের নতুন মূল্য নির্ধারণের ঘোষণাও শিগগিরই দেওয়া হবে। যার ফলে লবণ চাষী ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।’


চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’


স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।’


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবে- সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।"


 হেফাজতের আমির বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ


তিনি বলেন, আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা বাসাবাড়ি- সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়, এবং গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।


সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চট্টগ্রামের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের চট্টগ্রাম থেকে আমরা দুইজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরকারের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছি- একটি অর্থ মন্ত্রণালয়, আরেকটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যে অঞ্চলের দুইজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ দু’টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই এলাকার উন্নয়ন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর পিছনে পড়ে থাকা যাবে না। এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য, তা হলো জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমরা জনগণের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহন করেছি তাতে আপনাদের সমর্থন থাকতে হবে। কারণ আমরা সবসময় বলি, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস হচ্ছে জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা জনগণের স্বার্থে যতগুলো কর্মসূচি নিয়েছি সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি শ্রমিকের হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে। যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে।’


তিনি বলেন, ‘আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা সেই শপথ গ্রহণ করে প্রতিজ্ঞা করি যে বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে যাবে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে।’


অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। এছাড়া বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন বাসগৃহ নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বাঁশখালীর বাহারছড়া গ্রামের একটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে নতুন বাড়ির চাবি হস্তান্তর করেন।


নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও হাঁস-মুরগি প্রদান করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন। এ সময় কক্সবাজার জেলাও সফর করবেন তিনি।


আগামীকাল (রোববার) সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যাবেন।


প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি আজ (শনিবার) বিকেলে এ কথা জানান।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, কাল সকাল সাড়ে ১০টায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।


এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তারেক রহমান।


দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।


সফরসূচি অনুযায়ী বিকেল পৌনে ৪টায় হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিরতি নেবেন তারেক রহমান। এরপর সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।


সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।


দিনের কর্মসূচি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাতে রাজধানীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

সর্বশেষ সব খবর