আবদুল মোনায়েম মুন্না ও নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন—
১. সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ২. সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল ৩. সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া ৪. সহ-সভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদ ৫. সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ৬. সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দুলাল ৭. সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী ৮. সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান ৯. সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু ১০. সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার খান ১১. সহ-সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম ১২. সহ-সভাপতি শরীফ উদ্দীন জুয়েল ১৩. সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ ১৪. সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার ১৫. সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু ১৬. সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ ১৭. সহ-সভাপতি মাহমুদুস সালেহীন ১৮. সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক ১৯. সহ-সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল ২০. সহ-সভাপতি এইচ এম তসলিম উদ্দিন ২১. সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজু ২২. সহ-সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক ২৩. সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র) ২৪. সহ-সভাপতি রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য) ২৫. সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না ২৬. সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু ২৭. সহ-সভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৮. সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ২৯. সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আকন্দ ৩০. সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে) ৩১. সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ৩২. ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক ৩৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ৩৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সোহাগ ৩৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু ৩৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন রুমন ৩৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ভূইয়া ৩৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেল ৩৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মিলন ৪০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট ৪১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির ৪২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন ৪৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ ৪৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ রাসেল ৪৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম সরকার ৪৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ৪৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ৪৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক ৪৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন ৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ৫১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন ৫২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক উজ জামান তারেক ৫৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব খন্দকার ৫৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবু ৫৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ৫৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহাব ৫৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব) ৫৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদ ৫৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম ৬০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে) ৬১. সহ সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন লিমন ৬২. সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ ৬৩. সহ সাধারণ সম্পাদক এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জল ৬৪. সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ ৬৫. সহ সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মামুন ৬৬. সহ সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন ভূইয়া ৬৭. সহ সাধারণ সম্পাদক রাহাদুল আলম খান ৬৮. সহ সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলাম মনি ৬৯. সহ সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান ৭০. সহ সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক পাভেল ৭১. সহ সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন ৭২. সহ সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চয়ন ৭৩. সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ ৭৪. সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ ৭৫. সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ: কামরুল হাসান খান সাইফুল ৭৬. সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ৭৭. সহ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সেলিম ৭৮. সহ সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ভূইয়া সবুজ ৭৯. সহ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মেহেদী হাসান জুয়েল ৮০. সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদুল হক ৮১. সহ সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মুন্না ৮২. সহ সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রানা ৮৩. সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী ৮৪. সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জুয়েল ৮৫. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ গাফফার ৮৬. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হীরা ৮৭. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন ৮৮. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ৮৯. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আলম ৯০. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার শাওন ৯১. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম ৯২. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ৯৩. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহেল ৯৪. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম ৯৫. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রিয়াজ ৯৬. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রাশেদুল ইসলাম রিপন ৯৭. প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার ৯৮. সহ প্রচার সম্পাদক তারেকুর রহমান ৯৯. সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশরাফ জালাল খান মনন ১০০. সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল ১০১. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন ১০২. কোষাধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন ১০৩. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মুর্তজা কামাল মোস্তাক ১০৪. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. ইউনুস আলী রবি ১০৫. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ১০৬. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তানভীর হাসান সোহেল ১০৭. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. গাজী মোঃ মাসকুরুল আলম সৌরভ ১০৮. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম ১০৯. সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন ১১০. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল ১১১. শিল্প বিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম ১১২. যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু ১১৩. ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি ১১৪. সহ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মেজবাহউদ্দিন মেজু ১১৫. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম রুমন ১১৬. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন রাজু ১১৭. সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল ১১৮. বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী ১১৯. সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম ১২০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ১২১. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু ১২২. ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ ১২৩. সহ ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার ১২৪. সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুর রহমান মাহী ১২৫. সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোঃ বেলাল হোসেন ১২৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কে এস এম মুসাব্বির শাফী ১২৭. তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স ১২৮. মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি ১২৯. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসান ১৩০. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম ১৩১. সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন ১৩২. সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল ১৩৩. সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জাহিদ হাসান ১৩৪. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিঙ্কন (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) ১৩৫. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) ১৩৬. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) ১৩৭. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মাহবুবুল আলম আকতার ১৩৮. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান ১৩৯. পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূইয়া ১৪০. সহ পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন শুভ ১৪১. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) আমিনুল ইসলাম খান ১৪২. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মাহবুব শিকদার ১৪৩. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মহসীন বিশ্বাস ১৪৪. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) জহিরুল ইসলাম বিপ্লব ১৪৫. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ১৪৬. সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ ১৪৭. সদস্য নাজিম উদ্দিন মিঠু ১৪৮. সদস্য মাহমুদুল করিম সজল ১৪৯. সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন ১৫০. সদস্য মো. এমরান হোসেন শাহীন ১৫১. সদস্য ফখরুল বিন খালেক।
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শুরু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সালাহউদ্দিন আহমেদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে এক শোকবার্তায় বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একজন লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা ছিলেন। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ তার রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় কর্মকাণ্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিএনপির এই ত্যাগী নেতার মৃত্যুতে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল, যা দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
তিনি বলেন, ‘শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে আমি প্রার্থনা করেছি।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে ঢাকা-৪ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বিএনপির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক।
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে। দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে শীর্ষ দুই পদ-আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন বহাল থাকছেন।
এনসিপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার কিংবা আগামীকাল বুধবার এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হবে। কমিটির এই পুনর্গঠনের পেছনে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দক্ষতা (পারফরম্যান্স) বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পাচ্ছেন; আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে এনসিপিতে ১১টি শীর্ষ পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। পুনর্গঠনের পর তা ‘সুপার সিক্সে’ রূপ নেবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। ওই দিন থেকেই দলের মুখ্য সমন্বয়ক পদে পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে সারজিস দায়িত্ব পালন করে আসছেন; আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, এনসিপির এবারের পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেওয়া। দল গঠনের পর, গত জাতীয় নির্বাচনে এবং সাম্প্রতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে এই নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এটার প্রতিফলন দলীয় পদেও দেখা যাবে।
শীর্ষ ফোরামে যাঁরা থাকছেন
দলের কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে এনসিপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সংখ্যা ১৬। দলের আহ্বায়ক-সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এই ফোরামের সদস্য৷ তাঁদের দুজনের সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে পাটওয়ারী, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ শীর্ষ পদে থাকছেন।
পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম৷
উল্লেখ্য, বর্তমান সংসদে এনসিপির আটজন সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁরা হলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান, হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম ও নুসরাত তাবাসসুম। এর মধ্যে মাহমুদা ও নুসরাত সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।
এনসিপি সূত্র জানায়, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হবে। তারা মূলত সহযোগী সংগঠন ও দলের বিভিন্ন সেল দেখভাল করবেন।
সুপার ইলেভেন থেকে সুপার সিক্স
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন); মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন); জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক-এই ১১টি পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। পুনর্গঠিত কমিটিতে ‘সুপার ইলেভেনের’ পরিবর্তে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন ছয়জন। অর্থাৎ ‘সুপার ইলেভেন’ হচ্ছে ‘সুপার সিক্স’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতে এনসিপির দলীয় কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা প্রথম সামনে আসে। সে সময় বলা হয়েছিল, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে গতিশীলতা বাড়াতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন দরকার। এ ছাড়া ২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনাও তখন জানা গিয়েছিল; কিন্তু সে সময় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়নি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘এনসিপি আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কাজ শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। অনেককে অ্যাকোমোডেট করার জন্য পরে কিছু পদ তৈরি করা হয়েছিল। এত দিন ধরে চলে আসা এই কাঠামো এখন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে দলের কাছে মনে হচ্ছে।’
এই পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নেতাদের পারফরম্যান্সকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মনিরা শারমিন বলেন, নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে এনসিপির অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন, অনেকে আবার সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাবেক এমপি শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খুব ভোরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। এরপর ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় চলে যান।
শাহরিয়ার বর্তমানে ভারতের কলকাতার নিউটাউনে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফুটের আলিশান একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনিকে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। সেখানে গড়েছেন স্থায়ী নিবাস। তার জন্য হুন্ডির মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তার বিশাল ফ্ল্যাটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্র এবং রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করছেন। দেশকে অস্থিতিশীল করতে নেওয়া হচ্ছে নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন।
রাজশাহীতে শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরই রাজশাহীর তিনটি থানায় শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। এছাড়া শাহরিয়ারের ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শাহরিয়ার বাঘার পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে ২০১৯ সালের দিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। মন্ত্রিত্বের দাপট, দলীয় ক্ষমতা আর প্রভাব খাটিয়ে লেনির মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে ২০২১ সালে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র বানান শাহরিয়ার। লেনিকে লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি করে দেন। এছাড়া ঢাকার গুলশানে তাকে ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের রাজকীয় একটি ফ্ল্যাট উপহার দেন।
দেশে বর্তমানে শাহরিয়ারের ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য এবং আর্থিক বিষয়টি সামলাচ্ছেন তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ব্যবসায়িক পার্টনার বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।
যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
শাহরিয়ারের গার্মেন্ট ব্যবসা দেখছে শক্তিশালী চক্র
২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শাহরিয়ারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কৌশলী শাহরিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার শুরু করেন। ঘটতে থাকে তার অর্থনৈতিক উত্থান। দ্রুত তার গার্মেন্ট ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপ। তবে বর্তমানে গ্রুপটির মূল পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে (মালিকানায়) কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী। আর পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম মুহাম্মদ সাঈদ। এ প্রতিষ্ঠানটিতে শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখভাল করছেন এমডি বাশার এবং পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ।
ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক হলেন চারজন। এ প্রতিষ্ঠানটির এমডি শাহরিয়ার আলম। এই প্রতিষ্ঠানটিতেও শাহরিয়ারের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী।
ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেড। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এখানেও তার পক্ষে আর্থিক বিষয় দেখভাল করেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী। এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য তার (নাঈমুল) দুটি নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘শাহরিয়ার আলম শেয়ারহোল্ডার। উনি এখন নেই। ব্যবসা চলছে। লোকজন কাজ করছেন।’ শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্যবসাতে অনেকদিন থেকেই নেই। ব্যবসা আমরা চালাচ্ছি। এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’
শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদ দেখছেন বাবা, ভাই ও রাজনৈতিক সহযোগীরা
আওয়ামী লীগ শাসনমালে অংশীদারত্বে ব্যবসা ছাড়াও শাহরিয়ার ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলেন নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান দেখভাল করছেন শাহরিয়ারের বাবা মো. শামসুদ্দিন, তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রাজশাহী জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহরিয়ার গড়ে তোলেন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এমডি শাহরিয়ারের বাবা হলেও এখন বিএনপিপন্থি সংগঠন ড্যাবের চিকিৎসকরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। চাউর রয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলের ফান্ডে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন শাহরিয়ার।
রাজশাহীর বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ২০২০ সালে গোলাম হোসেনের শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতা আর প্রতারণার মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নিয়ে নেন শাহরিয়ার। এরপর সেখানে গড়ে তোলেন বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম। গোলাম হোসেন সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জমি উদ্ধার করতে পারেননি।
শাহরিয়ার এছাড়া কিনেছেন শতাধিক বিঘা জমি। রাজশাহী এবং ঢাকায় রয়েছে তার কয়েকটি প্লট ও ফ্ল্যাট। বাঘা ও চারঘাট উপজেলা সদরে শতকোটি টাকার মূল্যবান জমি কিনেছেন তিনি। পার্শ্ববর্তী লালপুর ও ঈশ্বরদীতে নামে-বেনামে শাহরিয়ারের জমি কেনার আরও তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার গুলশানে নিজের নামে দুটি এবং ছেলের নামে একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি।
শাহরিয়ারের বাবা শামসুদ্দিন এবং ভাই সাইফুল ইসলাম বাদলসহ তার রাজনৈতিক সহযোগীরা ঢাকা ও রাজশাহীতে এসব সম্পদ দেখভাল করছেন। এ ব্যাপারে শামসুদ্দিন ও তার ছেলে বাদলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা সাড়া দেননি।
হামলায় ভেঙে গেছে বাড়ির জানালা
রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার ব্যাপারে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘সকালে নাশতা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করে চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়। সকালবেলা হওয়ার কারণে তখন বাসায় তেমন কেউ ছিল না। জানালার কাচ ভেঙে ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। বাসার গেটে তালা লাগানো থাকায় কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর। তিনি বলেন, আজ বেলা ১১টার দিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, জি এম কাদেরের বাসায় হামলা হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গিয়েছি। তবে কাউকে পাইনি। সাধারণ জনতার ব্যানারে ৩০-৪০ জন ওই বাসায় হামলা চালিয়েছে। তারা বাইরে থেকেই ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে। তবে ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল
জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার দাবিতে তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে কিছু লোকজন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁর দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর বিচার দাবি করেন।
এ সময় ব্যানারে জিএম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল—‘জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সাথে যোগাযোগ; জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পরও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
তারা বলেন, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি বিগত সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো দোসরকে রাজনৈতিক পুনর্বাসন পেতে দেওয়া হবে না। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে জিএম কাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এনসিপি লোগো
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটি জানিয়েছে, এ হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পবিত্র ধর্মীয় সফরে যাওয়া যাত্রী থাকার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছে দলটি। রোববার (১১ অক্টোবর) এনসিপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও শোক জানানো হয়।
বিবৃতিতে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এনসিপি।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে আটকে পড়া হজ-ওমরাহযাত্রীসহ সব যাত্রীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে এনসিপি আরও বলেছে, বেসামরিক নাগরিক, ধর্মীয় সফরকারী ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে দলটি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
ভারতে ছড়িয়ে পড়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের পর তাদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা থেকে তাদের পাশে থাকার কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বাংলাদেশে চব্বিশের আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা এই নেতা শনিবার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, ‘‘এই লড়াই আপনাদের একার না। ঢাকা থেকে আমরাও আপনাদের পাশে আছি। ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ।’’
ভারতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে গণগ্রেপ্তারের দিনে তিনি লেখেন, ‘‘ইন্টারনেট বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানানো ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এমন দমনপীড়ন চলতে পারে না।’’
ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ লেখেন, ‘‘আপনাদের এই লড়াই আমাদের পরিচিত। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জবাবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেসময় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সেই অভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি দেখিয়েছিল, তা আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ ও সম্মান করি।
‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। শাহীনবাগের নারী সমাজ, জেএনইউ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে। আমাদের জুলাইয়ের মত ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সম্মুখ সারথি হয়ে উঠেছেন।’’ পোস্টে তিনি ভারতের শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের মুক্তি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “তাদের বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটকে রেখেছে ভারত সরকার। আজ তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। ভারতের এসব তরুণ আন্দোলনকারী ও রাজনৈতিক বন্দিরা আমাদের সহযোদ্ধা। তাদের সাহস পুরো দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। আমরা অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি লেখেন, ‘‘ভারতের গণতান্ত্রিক জনগণের উদ্দেশে আমাদের বার্তা: বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম আপনাদের পাশে আছে। শক্ত হোন, একে অপরকে রক্ষা করুন, সাম্প্রদায়িক ঘৃণাকে প্রত্যাখ্যান করুন এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে রক্ষা করুন।’’