হাসনাত আবদুল্লাহ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে মতামত প্রকাশ করায় ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার ঘটনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।


আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ উদ্বেগের কথা জানান।


ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, কারণ তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে কিছু মতামত লিখেছিলেন। এই জায়গাটাই সবচেয়ে চিন্তার। 


বিচারকদের নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা করার জায়গাটাও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?


তিনি আরও লেখেন, স্ক্রিনশট নিয়ে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এটা স্পষ্টভাবে একটা ভয় দেখানোর চেষ্টা। 


বার্তাটা খুব পরিষ্কার: ‘চুপ থাকুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন।’


কুমিল্লা-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ৫ আগস্টের পর একটা সময় মনে হয়েছিল, বিচারকরা অন্তত কিছুটা সাহস নিয়ে ভাবতে, লিখতে পারছেন এবং ভবিষ্যতেও লিখবেন। এখন যা হচ্ছে, তাতে সেই পরিবেশটা আবার ধীরে ধীরে ভয়ের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিচার বিভাগে যদি এই ধরণের চাপ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার জায়গাটাও দুর্বল হয়ে যায়।


এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, এটা কোনো ব্যক্তির বিষয় না, এটা একটা সিস্টেমের বিষয়। বিচারকদের কণ্ঠ যদি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতিপূরণ পুরো দেশকেই দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তটা অন্তত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।


সবশেষ তিনি লেখেন, বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে শক্তিশালী করা যায় না, বরং দুর্বল করে ফেলা হয়।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪১ এএম

যে সরকার জনগণকে শান্তি দিতে পারে না, তাদের দরকার নাই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণ যাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে এবং নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।


তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলে থাকলেও দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।


রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনগণ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শুধু শাস্তি-শৃঙ্খলার ব্যবস্থাই নয়, কার্যত দেশের সব প্রতিষ্ঠান এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিনে-দুপুরে এবং রাতের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে নানা ধরনের অপকর্ম ঘটছে। রাজধানী যেহেতু সরকারের কেন্দ্রীয় অবস্থান, তাই রাজধানীর পরিস্থিতি থেকেই সারা দেশের অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়।


মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, একটি মেডিকেল সেন্টার ভেঙে চুরমার করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুষ্কৃতিকারীদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ আড়ালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান এ সময় দাবি করেন একজনকে জনগণের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করানো হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এখনো দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি এবং গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায়ও আনা হয়নি। একই ঘটনায় আরও যারা দুষ্কৃতকারী, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


জনগণকে বোকা বা অন্ধ মনে না করার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন কোনো কিছু আড়াল করার সময় নয়। তার ভাষায়, মুহূর্তের মধ্যেই সবকিছু জনগণের কাছে পৌঁছে যায় এবং মানুষ সবকিছু পরিষ্কারভাবে দেখতে পায়।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর। রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।


সকালে রাজধানীর মগবাজারের মধুবাগ খেলার মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।


এর আগে রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে দলটি।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ পিএম

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


রাজধানীর মিরপুরে ৫০ বছরের পুরোনো একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকা এবং তাতে একজন এমপির ইন্ধন থাকার অভিযোগ ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল সম্প্রতি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৬শে সেপ্টেম্বর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সালমান মুক্তাদির এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে এসে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।


এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ ছাড়তে বলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। একজন এমপির পদত্যাগ, বিএনপির বিভিন্ন কমিটিতে পরিবর্তন আনা এবং পুলিশের গ্রেফতার কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলা হলেও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা, একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ থামছে না। বরং, বাংলাদেশের 'অবনতিশীল' আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পেছনে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, আবার বিএনপি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে তা নিয়েও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-সমালোচনা হচ্ছে।


যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যেই বলেছেন, যা ঘটছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পর বেসরকারি সংস্থা টিআইবি এক বিবৃতিতে দখল, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছিল। সরকারের দিক থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেগুলোকে 'তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া' হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, "ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে; সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য সারাদেশ দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না"।



আবার, সরকারের নির্দেশনা তার দলেরই একটি অংশ মানছে না, বরং অপরাধমূলক ঘটনার পৃষ্ঠপোষক বা ইন্ধনদাতা হিসেবে যাদের নাম আসছে তা দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে বলে মত অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হকের। যদিও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলছেন যে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামগ্রিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। "প্রধানমন্ত্রীও সরকারের দিক থেকে কিছু ব্যবস্থা নিয়ে কঠিন বার্তা দিয়েছেন। দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে কেউ রেহাই পাবে না- এ বার্তা সবাই পেয়েছে," বলেছেন তিনি।



মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এলে, গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন যে, তার সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটা তদন্তাধীন। তবে ওইদিনই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয় তখন। যদিও এসব কমিটি বিলুপ্ত কেন করা হয়েছে তা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।



দলের ভেতরে কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে ধারণা পাওয়া গেছে যে, রাড্ডা হামলার ঘটনাতেই এসব সিদ্ধান্ত এসেছে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনিয়মের সঙ্গে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এমন কিছু নেতাকর্মীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও ধারণা দিয়েছেন তারা। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিকভাবে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অভিযান পরিচালনা করার প্রয়োজন আছে কি-না তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে সরকারের ভেতর থেকে।



পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এসময়ে সারাদেশে ছোট-বড় বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে। "সরকারের সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে" এবং "সকল অপরাধের পেছনে মদদ দিচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মী ও মন্ত্রীরা" এই অভিযোগ তুলে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর একটি বিবৃত দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দলীয় নেতারা রাড্ডার ঘটনাসহ একাধিক হামলা-ভাঙচুর-বিশৃঙ্খলার পেছনে বিএনপির কর্মীদের দায়ী করে প্রায় নিয়মিতই বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন।



আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দল সামাল দেওয়াই এখন বিএনপির জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি দলটির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য। দুজনই  বলেছেন, এ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না। 


দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অবশ্য বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে যে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার ও দল। তার মতে, সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির "আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে" বলে দল মনে করছে। "আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মী। গুটিকয়েকের অপকর্মের দায় দল নেবে কেন? প্রধানমন্ত্রী যে বার্তা দিয়েছেন তাতে এটি স্পষ্ট যে, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ অপকর্ম করতে পারবে না। সাংগঠনিক ও আইনগত সব ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে। সে কারণে ঢালাওভাবে সরকার বা দলকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই," বলছিলেন তিনি ।


প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের ব্যাপক অভিযোগ উঠেছিল। তখন প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। এর মধ্যে প্রায় নয়শ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তখন। এর বাইরে যুবদল, ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব বহিষ্কারাদেশ বা সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আদৌ কোনো কাজে লেগেছে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।



টিআইবির ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই দল কিংবা দলের নেতাকর্মীদের সামলানোটাই বিএনপি নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। "এরপর সংকট ক্রমাগত বেড়েছে। কারণ সত্যিকার অর্থে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে কিছু ঘটনা দল ও সরকারকে বিব্রত করার পর তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এগুলোও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ। যেসব ঘটনা সারাদেশে ঘটছে তার বেশিরভাগের সাথেই সরকারি দলের নেতাকর্মীদের নাম আসছে। কিন্তু দলকে সামলানোর কার্যকর কৌশল তো দেখছি না। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর বারবারই আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গটি। পরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সভাগুলোতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এবং চাঁদাবাজিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তদের জড়িয়ে পড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বড় কারণ। চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ছাড়াও আলোচনায় ছিল কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, শিশু অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার মতো ঘটনা।



মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসেও রাজনৈতিক সহিংসতা, কারা হেফাজতে মৃত্যু, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, সাইবার আইনে গ্রেফতার ও মামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি জানায়, এ সময়েই মব সহিংসতার কমপক্ষে ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও ধর্ষণের ৬৯টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি এই সংস্থাটি। গত ১ অক্টোবর ঢাকার তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, "যৌথবাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা আছে সবাই সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে"।



ড. তৌহিদুল হক বলছেন, নিজের নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডই সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সরকার না পারছে কঠোর হতে, আবার না পারছে এড়িয়ে যেতে। "কিন্তু অপরাধের ইন্ধনদাতা ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাদের নাম আসছে তা সরকারকে বিব্রত করছে। সেজন্যই বহিষ্কার কিংবা এমপির পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সরকার যদি দল থেকে পূর্ণ সহযোগিতা না পায় তাহলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়। দল ও সরকার মিলেমিশে যাওয়ার কারণে অপরাধ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা ঘটনা ঘটছে।  ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, পদত্যাগ বা দল থেকে বহিষ্কার প্রয়োজন ছিল, তবে যথেষ্ট নয়। যেসব অভিযোগে পদত্যাগে বাধ‍্য বা বহিষ্কার করা হলো, আইনি প্রক্রিয়ায় তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় নাগরিক পার্টির লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ এএম

দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলীয় কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে (১৫ অক্টোবরের মধ্যে) বাকি উপজেলাগুলোতেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।


গতকাল বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পরে এ পোস্টের বক্তব্য দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বার্তা হিসেবে পাঠানো হয়।


এনসিপির বার্তায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৫০০টি উপজেলার মধ্যে ২৭৬টিতে দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার দুই মহানগর ছাড়া অন্য ১১টি মহানগরের ৬১টি থানার মধ্যে ৩৪টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৫০০ উপজেলাতেই এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি থাকবে।


পাশাপাশি ৩০ অক্টোবরের মধ্যে দেশের ৩৩০ পৌরসভা এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। 


আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে মিনিট পাঁচেক তিনি অবস্থান করেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।


বের হওয়ার সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বেরোলে সাংবাদিকেরা জানতে চান ভেতরে কী কথা হলো। এ প্রশ্নের উত্তরে মিষ্টি বলেন, ‘আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।’


এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, আপনি পদত্যাগ করেছেন কি না? এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি দ্রুত চলে যান। এ প্রসঙ্গে স্পিকারের অফিস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


গাড়িতে ওঠার পরও সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।’ 


পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত হোক।’ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।’


জাতীয় সংসদ ও বিএনপির সূত্র বলছে, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার জন্যই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। স্পিকার সম্ভবত বিএনপির দলীয় পর্যায়ে বিষয়টি আরও একটু নিশ্চিত হতে চান। এ জন্যই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হচ্ছে না।


রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার রাতে ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও বলছে, পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও সংসদ সদস্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন। হামলা ও ভাঙচুরে কারা জড়িত ছিলেন, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং নেপথ্যে কারা ভূমিকা রেখেছেন-এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া নিয়েছেন। তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দলীয় ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গতকাল জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তদন্তে যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।


বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, রাড্ডার ঘটনাটি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় বিষয়টি নিয়ে সরকার বিব্রত। ঘটনার সঙ্গে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকা ও রাজনৈতিক দায়ও আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যের বিষয়েও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

উমামা ফাতেমা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

জুলাইয়ের ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তিনি বলেছেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় সকল ছাত্র সংগঠনকে মাইনাস করে শিবির ও ছাত্রশক্তি কোরামের (গুপ্তশিবির) লোকজনকে সমন্বয়ক কমিটির অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তার কারণে ৫ আগস্টের পরে যদু-মধু-কদু এসে সর্বেসর্বা হয়ে গেছে।”


রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার যে একসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ ছিলেন তা জামায়াতের ছাত্রসংগঠনটি স্বীকার করার পর আজ বৃহস্পতিবার রাতে ফেইসবুক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান উমামা।


তিনি লিখেছেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা মানুষ উড়ে এসে নেতা হয়েছে। সালাউদ্দীন আম্মার তাদের অন্যতম।”


গতকাল বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথি পদ বাতিল করে। এর আগের দিন রাকসু নির্বাচনে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামের একটি প্যানেল ঘোষণা করে সাবেক সমন্বয়করা। এটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ বা ‘ছায়া দল’ কি না, সাংবাদিকরা সেদিন এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন সাবেক সমন্বয়কদের কাছে।


তখন সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছিলেন, “আমার কাছে এই কথাগুলোকে অযাচিত বলে মনে হয়। কারণ আমার বিশ্বাস, শিবির কখনোই এমন কোনো প্যানেল গঠন করবে না যেটা তাদের নিজেদের নয়।


“তারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে। আমরা আলাদা দিয়েছি। এখানে ‘ডামি’ বা ‘ছায়া দল’ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।”


ছাত্রশিবির এমন এক সময়ে আম্মারকে বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে, যখন রাকসুর মেয়াদ আছে আর এক মাস। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি পদপ্রার্থী উমামা ফাতেমা লিখেছেন, জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ‘ভাই-ব্রাদার কোরাম আর শিবিরের’ হাতে বন্দি করা হয়েছে।


“দেশকে নিয়ে আন্দোলনের পর যারা ছেলেখেলা করছে তারা সব দখল করতে চাইছিল।”


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির পরিচিত হলেও ছাত্রসংগঠনটি তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। শিবিরের পাশাপাশি জামায়াতকেও তোপ দেগেছেন ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সময়ের সদস্য সচিব উমামা।


তিনি লিখেছে, “বাংলাদেশের জার্নি এতদিন ছিল ৫০ বছরের। এখন তো জামায়াতের কারণে হিস্ট্রি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে শুরু করতে হয়। একদল মোনাফেকের হাতে পড়ছে দেশের রাজনীতি।”


“জামায়াত আর আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই। জামায়াত তাদের গণহত্যার কালিমা ঢাকতে দেশকে যেকোনো পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাজি আছে।”


দেশকে অস্থিতিশীল করতে সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ উমামার।


তিনি বলছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার কন্টেন্টগুলোকে আমি মোটেও নিরীহভাবে দেখিনা। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফেসবুক ম্যানিপুলেশন যথেষ্ট, তাই পর্দার আড়ালের ইন্টারেস্ট গ্রুপগুলা সময়ে সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই এর নামে ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট জেনারেট করে।


“তরুণদের মধ্যে হিরো হিসেবে ম্যানুফ্যাচারড ফিগার আছে অনেক, যারা তরুণদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে বন্দি করতে কাজ করছে।”


উমামা লিখে চলেছেন, “আমি মায়ানমারের দিকে তাকালে ভয় পাই। রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য ফেসবুক অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট টুল ছিল।


“এগুলা সম্ভব হইছে আমাদের মধ্যবিত্তের-I hate politics থেকে জুলাইএ হঠাৎ চোখ ফুটার কারণে, আর সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানিপুলেট করে আজকে একে তো কালকে ওকে হিরো বানানোর কারণে।”

সর্বশেষ সব খবর