জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় প্রতীক
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র, ৬৭টি উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ঈদুল আজহার আগে ২০ মে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম, কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মনজিলা ঝুমা এবং এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন, মো. আতাউল্লাহ ও এস এম সুজা সাংগঠনিক বিভাগওয়ারি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময় সারজিস আলম জানান, ঈদের আগে ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে। দেশের ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভা থেকে প্রথম ধাপে নাম প্রকাশের জন্য হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলোকে বারবার যাচাই-বাছাই ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। শিগগিরই অন্য আটটি সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় সালামত উল্লাহ রনিকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আহনাফ সাঈদ খান, তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ইকরাম হোসেন ও করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে খায়রুল কবির দলটির প্রার্থী। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় মো. আরিফুল ইসলাম ও দৌলতপুর উপজেলায় মো. আবু আবদুল্লাহকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে এনসিপি। টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মেহেদি হাসান। একই জেলার টাঙ্গাইল পৌরসভায় মাসুদুর রহমান, ভূঞাপুর পৌরসভায় হাসান ইমাম তালুকদার ও সখীপুর পৌরসভায় মাওলানা আনছার আলীকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। নরিসিংদী জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী সাইফ ইবনে সারওয়ার। গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. শোয়েব মিয়া। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. তুহিন মাহমুদ। মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় দলটি প্রার্থী করেছে আলী নেওয়াজকে। ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। একই জেলার নগরকান্দা পৌরসভায় মুহাম্মাদ নাজমুল হুদা ও ফরিদপুর পৌরসভায় সাইফ খানকে মেয়র পদে প্রার্থী করেছে দলটি। মাদারীপুর জেলার মাদারীপুর পৌরসভায় মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহ। গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী ফেরদৌস আমিনা।
রংপুর বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় মো. হাবিবুর রহমান ও বোদা উপজেলায় শিশির আসাদকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দেবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাসুদ পারভেজ। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী গোলাম মূর্তজা সেলিম। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইমরান চৌধুরী ও বোচাগঞ্জ উপজেলায় মাওলানা এম এ তাফসীর হাসানকে মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার ফুলবাড়ি পৌরসভায় শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট পৌরসভায় মো. আব্দুল মান্নান ও হাকিমপুর পৌরসভায় মো. রায়হান কবিরকে মেয়র প্রার্থী করেছে দলটি। নীলফামারী জেলার সদর উপজেলায় মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ ও জলঢাকা উপজেলায় আবু সাঈদ লিয়নকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করেছে এনসিপি। কুড়িগ্রাম জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মাসুম মিয়া। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া রংপুর সদর উপজেলায় কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ ও গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মো. খাদেমুল ইসলামকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেছে দলটি।
রাজশাহী বিভাগে প্রার্থী কারা
রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী মো. আতিকুর রহমান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী আবু মাসুদ। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় নিশাদ আহমেদ, বদলগাছি উপজেলায় আসাদ নওশের ও পোড়শা উপজেলার চেয়ারম্যান পদে গোলাম মোস্তাফাকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। একই জেলার ধামইরহাট পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী মাহফুজর রহমান চৌধুরী। বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় মো. জাহাঙ্গীর আলম ও বগুড়া সদর উপজেলায় এ এম জেড শাহারিয়ারকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি। একই জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ফকির। নাটোর জেলার সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল মান্নান। পাবনা জেলার চাটমোহর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে খন্দকার আক্তার হোসেন লেবুকে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোশারফ আদনান আর উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন লিয়ন।
সিলেট বিভাগে কারা এনসিপির প্রার্থী
হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে কামাল আহমেদ ও হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মেয়র পদে মাহবুবুল বারি চৌধুরী মুবিনকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলায় খালেদ হাসান ও কুলাউড়া উপজেলায় আবু রুকিয়ান, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উবায়েদ আহমেদ, কানাইঘাট উপজেলায় বুরহান উদ্দিন ইউসুফ, ওসমানীনগর উপজেলায় হাজি মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী, জৈন্তাপুর উপজেলায় মো. জাকারিয়া লাদেন ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় মনসুরুল হাসান নগরীকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে দলটি।
ময়মনসিংহ বিভাগে এনসিপির প্রার্থী কারা
শেরপুর জেলার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. লিখন মিয়া ও সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. নূর ইসলাম। জামালপুর জেলার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী আবু সাইদ মো. শামিম। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু, খালিয়াজুরি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান ও নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া প্রীতম। ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে শহিদুল ইসলাম, ভালুকা উপজেলায় নুরুল ইসলাম, হালুয়াঘাট উপজেলায় মো. আবু রেহান ও ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহকে।
খুলনা বিভাগ
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলায় আবুল হাশিম ও ভেড়ামারা উপজেলায় মো. জান্নাতুল ফেরদাউস চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলায় ইশতিয়াখ হোসেন ও ফকিরহাট উপজেলায় লাবিব আহমেদ এনসিপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। একই জেলার বাগেরহাট পৌরসভায় সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার ও মোংলা পোর্ট পৌরসভায় মো. রহমাতুল্লাহ এনসিপির মেয়র প্রার্থী। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ইয়াহিয়া জিসান, একই জেলার নোয়াপাড়া পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী মো. শাহজাহান কবির। খুলনা জেলার চালনা পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী এস এম এ রশিদ। চুয়াডাঙ্গা জেলার চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী খাজা আমিরুল বাশার, একই জেলার জীবননগর পৌরসভার মেয়র পদে তাদের প্রার্থী সোহেল পারভেজ। মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি প্রার্থী করেছে সাকিল আহমেদকে। আর ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী তারেকুল ইসলাম।
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির প্রার্থী ফরিদ আহমেদ। ভোলা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তাদের প্রার্থী জিয়াউর রহমান। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় খান মো. বাকী বিল্লাহ ও জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মো. নাজমুল ইসলাম এবং সদর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপি মনোনীত করেছে মো. মাইনুল আহসান মুন্নাকে। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান।
কুমিল্লা বিভাগ
কুমিল্লা জেলার হোমনা পৌরসভার মেয়র পদে মো. রাজু সরকার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে মো. জহিরুল ইসলাম সরকারকে প্রার্থী করেছে এনসিপি। চাঁদপুর সদর উপজেলায় মো. জসিম গাজী ও মতলব উত্তর উপজেলায় মো. ইদ্রিস আলী প্রধানীয়াকে প্রার্থী করেছে দলটি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় মো. আমিনুল হক চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন ও আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমিরুল ইসলাম ডালিমকে প্রার্থী মনোনীত করেছে এনসিপি।
চট্টগ্রাম বিভাগ
কক্সবাজার সদর উপজেলার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এনসিপির শফিকুল ইসলাম। উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মো. হোসাইন। আর কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র পদে দলটির প্রার্থী রাইয়্যান কাশেম। চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলায় এনসিপির মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল আলম মানিক। নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ইউসুফ রেজা, হাতিয়া পৌরসভার মেয়র পদে মুহিবুর রহমান ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী কাজী মাইনুদ্দিন তানভীর। ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলটির প্রার্থী মো. সুজা উদ্দিন। আর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌরসভার মেয়র পদে এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মাদ ইব্রাহীম খলিল।
প্রার্থী ঘোষণার সময় সারজিস আলম বলেন, সারা দেশে যাঁরা আগ্রহী, এনসিপি ও দেশের মানুষের জন্য যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি, যাঁরা কখনো মানুষের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না, যাঁদের সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বা তাদের ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না, তাঁরা অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই হোন না কেন, তাঁরা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকেও যদি কেউ আসতে চান, সার্বিকভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদেরও সুযোগ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য এনসিপি পর্যাপ্ত সময় পায়নি উল্লেখ করে সারজিস বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও তখন সব জায়গায় প্রত্যাশা অনুযায়ী শক্তিশালী ছিল না। সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা স্থানীয় নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছি। জোটগতভাবে নির্বাচন হবে নাকি এককভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হবে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে যে দল ২০৩৬ সালের মধ্যে সংসদে সরকারি দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখে, সেই দল জোটের আশায় বা জোট হবে কি না—এই দ্বিধা নিয়ে বসে থাকতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমরা এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।’
বিএনপির লোগো
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার পর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও সরকারে দায়িত্ব বণ্টনে একাধিক পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে রুহুল কবির রিজভীসহ চার নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শূন্য হওয়া মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হওয়া অন্য তিন নেতা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম (ডোনার)। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১৩ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রার্থিতার এক দিন পর স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হলো। যদিও সদস্যদের কারও কারও অন্তর্ভুক্তি দলের অনেকের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই চার নেতাকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হওয়া রুহুল কবির রিজভী দীর্ঘদিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হালিম জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন চার সদস্যকে নিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। তাঁরা হলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কবির রিজভী, আমানউল্লাহ আমান, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ফরহাদ হালিম।
এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিবের পদসহ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়। অসুস্থতার কারণে বহু বছর ধরে তাঁকে দলের সভা ও কর্মসূচিতে দেখা যায় না।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত বলে গণ্য হন। তাঁদেরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৯ জন। চেয়ারম্যান স্বয়ং এ কমিটির প্রধান থাকবেন।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এরপর সদস্যদের মৃত্যু, পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে কমিটির কয়েকটি পদ শূন্য হয়। বিভিন্ন সময়ে এসব পদে নতুন সদস্য যুক্ত করেছে দলটি। এবার একসঙ্গে চারজনকে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করা হলো।
স্থায়ী কমিটির সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নামও আলোচনায় ছিল।
আসাদুজ্জামান রিপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি (দলের প্রধান) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যশীল এবং আস্থাবান।’
মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হওয়ায় তাঁর দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ায় মন্ত্রিসভার কাজ পর্যালোচনা করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা কম। তবে কয়েকজন নতুন মুখকে যুক্ত করে সীমিত পরিবর্তন আনা হতে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আনার আলোচনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সরকার ও বিএনপির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, এমন অন্তত কয়েকজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা আছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে এই প্রতিবেদক গত দুই দিনে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কেউ মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদলের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মহাসচিব পদে কে
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদ শূন্য হবে। এ পদে কে আসবেন, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য মহাসচিব হিসেবে এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনা হয়নি।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করার পর তাঁকে আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উত্তরসূরি কে
রাষ্ট্রপতি হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে মির্জা পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন এবং মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্বের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে। এর সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভায় সীমিত রদবদলের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বিকাল ৪টার দিকে বলেন, “কার্যালয়ে দলীয় কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ভবনটি তালাবদ্ধ করার জন্য পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে।”
জানতে চাইলে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নাই।”
সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা ডেপ্লয়মেন্ট না, কোনো প্রোগ্রাম ঘিরে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
এদিন বিকাল ৫টায় তোপখানা রোডের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি রেখেছিল বাংলাদেশ জাসদ।
১৫ অগাস্ট সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়ে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি বলেছিল, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বর্বর ঘটনা এক অমোচনীয় কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।
“দেশে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জাতির এ কলঙ্ক দূর করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ জাসদ মনে করে।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে দিনটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হত।
২০২৪ সালে ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসাবে ১৫ অগাস্টের ছুটির বাতিল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ
চার নেতাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি। দলের সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের মনোনীত করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মনোনীত নেতারা হলেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
বিএনপির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই চার নেতা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার দ্বারা সুচিন্তিত পরামর্শের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন।
বিএনপির লোগো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় কিংবা স্থানীয় মসজিদে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও অন্যান্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিএনপি এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঘোষিত এসব কর্মসূচিতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব সদস্যকে যথা সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেবিলে। যে কোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের ইতিহাসে ‘রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিটের’ কমিটি দেওয়া রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায় শেষ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, সাক্ষাৎকালে বিগত বৈষম্যবিরোধী ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাদের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান তাদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সংগঠনের গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।
শীর্ষপদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষপদে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহ-সভাপতি - ইজ্জাজুল কবির রুয়েল, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক শরীফ প্রধান শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ইশরাক।
নতুন কমিটি ঘোষণা হলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
দুই বছরের মেয়াদ শেষ
২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময় আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদকাল দুই বছরের প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা লবিং, তদবির ও সিনিয়র নেতাদের মন জোগাতে সময় দিচ্ছেন।
নতুন কমিটিতে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও নারী নেতৃত্বে জোর
পদপ্রত্যাশীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের সংগঠনে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়ন করে বড় দায়িত্ব দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলো। এই পদে কে আসছেন- তা নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা থাকলেও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীই ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এ বিষয়ে দল থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। যদিও সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘মহাসচিব কে হচ্ছেন এই বিষয়ে অপেক্ষা করেন, পরে জানানো হবে।’
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিল হতে পারে। সে পর্যন্ত রুহুল কবির রিজভীই দলের এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারেন। অবশ্য এ বছরে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলে নতুন কোনো মুখ দেখা যেতে পারে। সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। দলের নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই মনে করছেন- আগামীতে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দেখা যেতে পারে।
দলের মহাসচিব পদ ছাড়াও নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও অনেক রদবদল আসতে পারে। এর মধ্যে যেমন শূন্য পদগুলোয় নতুন মুখ দেখা যাবে; তেমনি অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদেরও নতুন জায়গায় দেখা যেতে পারে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, স্থায়ী কমিটির পদসংখ্যা ১৯। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এর আগে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করায় মোট শূন্য পদ রয়েছে ৭টি। এর বাইরে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। রাজনীতি থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
আসন্ন জাতীয় কাউন্সিল ও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনে বেশ কিছু নেতার নাম নতুন মুখ হিসেবে বা পদ পূরণের জন্য আলোচনায় রয়েছে। এসব পদে রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অবঃ) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। এরপর ১০ বছরের বেশি সময় নানা কারণে আর কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাসহ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন নেতারা।