ছবি: সংগৃহীত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণপূর্বক উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে মানতে হবে যত শর্ত
প্রকাশিত ফলাফলের কোনো পর্যায়ে কোনো প্রকার ভুল-ভ্রান্তি/ত্রুটি-বিচ্যুতি/মুদ্রণজনিত ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে, তা সংশোধন করার বা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট ফলাফল বাতিল/সংশোধন করার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। নির্বাচিত কোনো প্রার্থী কোনো প্রকার ভুল তথ্য প্রদান করেছেন কিংবা কোনো তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান/প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ তার ঘোষিত ফলাফল বা নির্বাচন বাতিল করতে পারবে।
নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে আগামী ২২ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ/প্রত্যয়ন ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করতে হবে। স্বাস্থ্যগত সনদে প্রার্থী কোনো দৈহিক বৈকল্যে ভুগছেন কিংবা উল্লিখিত পদে নিয়োগযোগ্য নয় মর্মে উল্লেখ থাকলে তিনি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না।
নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে পরিচিতি প্রতিপাদন ও সব ডকুমেন্টস যাচাইয়ের নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ (সকল সনদের মূলকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ৩ (তিন) কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ/প্রত্যয়ন এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটার সনদসহ) সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
কোনো প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে পূর্ব কার্যকলাপ সন্তোষজনক না হলে কিংবা নাশকতা/সন্ত্রাসী/জঙ্গি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোন কার্যক্রমে লিপ্ত ছিলেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি চাকরিতে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ প্রদান, সকল মূল সনদসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হতে না পারলে এবং পূরণকৃত পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্ম প্রদানে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে তিনি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা বাদে) এক হাজার ৪০৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৯৫টি আবেদন জমা পড়ে এবং ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
এরপর গত ২১ জানুয়ারি রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৬৯ হাজার ২৬৫ জনকে উত্তীর্ণ করা হয়। গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ব স্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ফলাফলে নির্বাচিত প্রার্থীদের ফলাফল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন বক্তারা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এবং বারসিক (BARCIK)-এর সহযোগিতায় ‘খাদ্য ব্যবস্থা, আঞ্চলিক বাস্তবতা ও এগ্রোইকোলজির পথ: ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই ভ্যাবষ্যতের সন্ধানে’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বুধবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এর ডিন ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আওয়াল চৌধুরী, প্রভাষক তহমিনা খাতুন ও অমিত দত্ত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভাগের বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থীরা
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব, জলবায়ু সহনশীল এবং ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এগ্রোইকোলজিভিত্তিক উদ্যোগের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিকের এগ্রোইকোলজি অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি ইউনিটের পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ্বাস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান কৃষিব্যবস্থায় কৃষক ও পরিবেশ নানা সংকটের মুখোমুখি। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও ঋণের ওপর অতিনির্ভরশীলতার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির ক্ষয়, পানির সংকট ও জীববৈচিত্র্যের হ্রাস খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।”
তিনি আরও বলেন, “এগ্রোইকোলজি কেবল রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর ধারণা নয়; এটি কৃষক ও স্থানীয় মানুষের জ্ঞানকে ভিত্তি করে টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি কার্যকর পথ। দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, বহুমুখী ফসল চাষ, মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং কৃষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিতে নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।”
বিশেষ বৃত্তির অর্থ এখনো না পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসন। যেসব শিক্ষার্থী পূর্বে অনলাইনে ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেননি এবং ফলে বিশেষ বৃত্তির অর্থ পাননি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে বলা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অদ্য অনুষ্ঠিত বিশেষ বৃত্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে ব্যাংক হিসাবের তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন। আগামী ২৬ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আইডি নম্বর, নাম, ব্যাংকের নাম, নিজস্ব ব্যাংক হিসাব নম্বর, শাখার নাম এবং ব্যাংক রাউটিং নম্বর সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীর নাম ও ব্যাংক হিসাবের নাম অবশ্যই এক হতে হবে। ব্যাংক হিসাব নম্বর ১৩ থেকে ১৭ সংখ্যার মধ্যে হতে হবে এবং এতে কোনো স্পেস বা ড্যাশ ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া রাউটিং নম্বর ৯ সংখ্যার হতে হবে এবং ব্যাংক হিসাব সচল থাকতে হবে।
এছাড়াও অনলাইনে তথ্য আপলোডে কোনো সমস্যা হলে ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রেজিস্ট্রার দপ্তর জানিয়েছে এটি এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি। পরবর্তীতে বিশেষ বৃত্তির জন্য ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত কোনো নতুন তথ্য গ্রহণ করা হবে না।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ অনেকদূর এগিয়েছে এবং আগামী ২০২৭ সালে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত 'নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "এটি নিয়ে অনেক ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা হলেও এর কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। এত বড় একটি বৃহৎ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আগে হাওয়ার ওপর বক্তব্য দেয়া হতো। এখন বড় বড় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তারা রিপোর্ট জমা দিলে শিগগিরই আমরা কাজ শুরু করব ইনশাআল্লাহ।"
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই একটিমাত্র প্রকল্পের মাধ্যমেই লালমনিরহাটের সার্বিক চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তার অন্যান্য বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আগামী দিনে লালমনিরহাটের নেতৃত্ব তোমাদেরই দিতে হবে। নিজেদের জেলার ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে লজ্জিত না হয়ে তা নিয়ে গর্ববোধ করতে হবে।"
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে তিনি বাস মালিক সমিতির সাথে কথা বলে ঈদের সময় ভাড়া নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দেন এবং ছাত্রীদের আবাসিক হলের ব্যাপারে উপাচার্যের সাথে কথা বলেছেন বলে জানান।
এছাড়াও, এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুবিধার্থে তিনি ছাত্রকল্যাণ সমিতির ফান্ডে ৫ লাখ টাকার অনুদান ঘোষণা করেন এবং সবাইকে মাদক, জুয়া, যৌতুক ও বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ গড়ার সামাজিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল।
আনিসুর রহমান খোকন ত্রাণমন্ত্রীকে সারা দেশের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য একজন অনুকরণীয় সংগঠক ও অভিভাবক হিসেবে আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, রোকন উদ্দিন বাবুল শিক্ষার্থীদের শেকড় না ভোলার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে লালমনিরহাট জেলার তিনজন সংসদ সদস্যই প্রধানমন্ত্রীর নিকট ডিও লেটার দিয়েছেন। এছাড়া ফোরলেন সড়কটি লালমনিরহাট হয়ে বুড়িমারী পর্যন্ত নিতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনিও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সমিতিতে অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন তার বক্তব্যে মন্ত্রীকে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ১৫-১৬ বছর মানুষ যখন ভয়ে কথা বলতে পারত না, তখন আসাদুল হাবিব দুলু ছিলেন সাহসের একটি বাতিঘর।" তিনি লালমনিরহাটের মানুষদের অত্যন্ত সাদা মনের ও নীতিবান হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
লালমনিরহাট ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি আজিজুল হাকিম (আকাশ)-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সুজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা সমিতির সাবেক প্রধান উপদেষ্টা জনাব এম এ কাদের সরকার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মুনমুন মাশরাফীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীবৃন্দ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আটটি বিভাগে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে মোট ১৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) থেকে শুরু করে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সহকারী অধ্যাপক পদে দুজন এবং প্রভাষক পদে ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। সহকারী অধ্যাপক পদে সমাজকর্ম বিভাগে একজন এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে একজন নিয়োগ পাবেন।
প্রভাষক পদে সংগীত বিভাগে দুজন, নাট্যকলা বিভাগে দুজন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে একজন, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে দুজন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে একজন, ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগে একজন, প্রিন্ট মেকিং বিভাগে একজন এবং ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা বিভাগে একজন নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতিটি পদের বিস্তারিত যোগ্যতা ও শর্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের প্রথমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ফরমের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে হবে। আবেদন ফি হিসেবে ৬০০ টাকা নগদ অথবা রকেটের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
অনলাইনে আবেদন শেষে শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ ও নম্বরপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা পাসপোর্ট আকারের তিন কপি সত্যায়িত রঙিন ছবি এবং অনলাইনে দাখিল করা আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপিসহ পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্রের আট সেট জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তরে সরাসরি, ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো যাবে। কর্মরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদন করার শেষ সময়। শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, বেতন স্কেল, সাধারণ শর্তাবলি ও আবেদনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী পদসংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী পরিবহনের বাসে যাত্রী উপস্থিত না থেকেও খাতা, শিট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন 'রিজার্ভ’ করে রাখায় আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকা সত্ত্বেও বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এই প্রচলিত নিয়ম বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় পরিচালিত বাস রয়েছে। প্রতিদিন এসব বাসে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। আসনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। তবে সম্প্রতি বাসে বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন দখল করে রাখার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ বাসে নিজের উপস্থিতি না থাকলেও আগে থেকেই খাতা, শিট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন জিনিস আসনে রেখে সেটিকে নিজের জন্য সংরক্ষিত করে রাখছেন। ফলে পরে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা খালি আসন থাকলেও সেখানে বসতে পারছেন না।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “অনেকে বাস থেকে নামার সময় বাসে খাতা রেখে যান। যার কারণে আমরা পরে আগে এসেও বাসে সিট পাই না। অনেক দূর থেকে যাতায়াত করলেও বাধ্য হয়ে পুরোটা পথ দাঁড়িয়ে যেতে হয়।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “আমরা দ্রুতই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করব। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা থাকবে বাসে খাতা, কলম, বোতল বা অন্য কোনো কিছু রেখে আসন দখল করা যাবে না। এভাবে সিট রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। বাসের আসন বণ্টন হবে সম্পূর্ণভাবে আগে আসার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, যিনি সশরীরে উপস্থিত থাকবেন, তিনিই আসনে বসার অগ্রাধিকার পাবেন।”
তিনি আরও বলেন, “পরিবহন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়োজিত গাড়িচালক ও সহকারীরা বিষয়টি তদারকি করবেন। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করে অনিয়ম অব্যাহত রাখলে ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।
আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।
আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।